13/03/2026
লাইলাতুল কদর (শবে কদর) ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। কোরআন ও হাদিসে এই রাতের অনেক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। সংক্ষেপে প্রধান ফজিলতগুলো হলো—
১. হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন:
“লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”
— সূরা আল‑কদর ৯৭:৩
অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব।
২. এই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে
আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরের রাতে।”
— সূরা আল‑কদর ৯৭:১
এজন্য এই রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।
৩. ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসে
কোরআনে বলা হয়েছে—
“এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে সব কাজ নিয়ে অবতীর্ণ হয়।”
— সূরা আল‑কদর ৯৭:৪
অর্থাৎ সারা রাত রহমত ও বরকত নেমে আসে।
৪. এই রাত শান্তি ও রহমতের রাত
আল্লাহ বলেন:
“এ রাত ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তিময়।”
— সূরা আল‑কদর ৯৭:৫
৫. এই রাতে ইবাদত করলে আগের গুনাহ মাফ হয়
হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
— সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
৬. এই রাত রমজানের শেষ দশকে
রাসুল ﷺ বলেছেন—
“তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।”
— সহিহ বুখারি
অর্থাৎ সাধারণত ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজানের রাতগুলোতে এই রাত খোঁজা হয়।
✅ এই রাতে করণীয় আমল
নফল নামাজ পড়া
কোরআন তিলাওয়াত
বেশি বেশি দোয়া
তওবা ও ইস্তিগফার
দরুদ শরিফ পড়া
বিশেষ দোয়া (রাসুল ﷺ শিখিয়েছেন):
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني
উচ্চারণ: Allahumma innaka ‘afuwwun tuhibbul ‘afwa fa’fu ‘anni
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।”