25/01/2025
৫ই আগষ্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংবিধান, রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন এবং "গণঅভ্যুত্থান" কে ঘার ধরে "বিপ্লব" বানানো নিয়ে ছাত্রদের সাথে বিএনপির যে দ্বন্দ্ব তার মূলে রয়েছে ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের সাথে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের (কর্ণেল তাহের) অতীত দ্বন্দ্ব। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর হঠাৎ "জিয়াবাদ" নামক অদ্ভূত টার্ম আবিষ্কার মূলত সেই ৭৫ এর পর জিয়ার উপর ক্ষোভ থেকেই।
আ. লীগ আর এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের মিল হলো দুই গ্রুপই জনগণের মতামতকে আগ্রাহ্য করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চায়, যেমনটা হয়েছে রাশিয়া এবং চীনে "ফ্যাসিস্ট" বিরোধী বিপ্লবের পর।
বার্তমানে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের গুরু ফরহাদ মাজহার। বর্তমানের প্রভাবশালী ছাত্রনেতারা (মাহফুজ, নাহিদ, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সহ আরো অনেকে) ফরহাদ মাজহারের গঠিত "পাঠচক্র" এর সদস্য। এই অংশের সাথে কৌশলগত সংযোগ রয়েছে প্রভাবশালী ইসলামী ভাবধারার ছাত্রসংগঠন ছাত্র শিবিরের।
অতীতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে সম্পৃক্ত ছিল মূলত নাস্তিকরা। নাস্তিকতার কারণে এই ধারা বাংলাদেশে ধীরে ধীরে অজনপ্রিয় হয়ে উঠে। ফরহাদ মাজহার তা বুঝতে পেরে এদেশের ইসলামের সাথে, তার মতে "নদীয়ার ইসলাম", মিল রেখে সমাজতান্ত্রিক ধারা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা শুরু করেন। বর্তমানের জনপ্রিয় ইউটিউবার ভোল পাল্টানো পিনাকী ভট্টাচার্য এই ধারার লোক।
যেহেতু এটি গণঅভ্যুত্থান ছিল, ফরহাদ মাজহার চেষ্টা করছেন জোর করে এটিকে "বিপ্লব" বানানোর। এই সরকারকে অবৈধ ঘোষনা করা এবং সংবিধান বাতিল করার পায়তারা এরই অংশ। সংবিধানের ১০৬ ধারা মোতাবেক সুপ্রীম কোর্টের মতামত নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এটি একটি সাংবিধানিক সরকার। সাংবিধানিক সরকার হওয়ার কারণে যেহেতু বিপ্লবে রুপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা, তাই ফরহাদ মাজহারদের মূল উদ্দেশ্য এখন সংবিধান বাতিল করা।
আজকে ছাত্রদের পক্ষ থেকে যে "জাতীয় সরকার" এর কথা বলা হচ্ছে এটাও ফরহাদ মাজহারের ব্রেইন চাইল্ড। ২০২৩ সালে বিএনপি যখন সরকার বিরোধী আন্দোলন বেগবান করে, তখন তিনি ডিজিএফআইয়ের সহায়তায় "ইনসাফ কমিটি" নামক গ্রুপ তৈরি করে "জাতীয় সরকারের" প্রস্তাবনা নিয়ে আসেন। এই গ্রুপে নতুন যোগ দিয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম। বর্তমান সেনাপ্রধান যখন আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন, এই গ্রুপটি তখন ২০০-৩০০ লোক ভাড়া করে রাষ্ট্রপতি অপসারণের জন্য পাঠিয়েছিল। উদ্দেশ্যে ছিল সেনাপ্রধানের অবর্তমানে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করে, সংবিধান বাতিল করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা। বিএনপি তখন শক্তহাতে এই গ্রুপকে প্রতিহত করেছিল।
সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীরা তাদের ক্ষমতা দখলের পথের বাধাকে নাম দেয় "গণশত্রু"। বিএনপি একটি জনপ্রিয় এবং গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হওয়ায় বিএনপিকে এখনই " গণশত্রু" আখ্যায়িত করতে পারছেনা। কৌশল হিসবে ফরহাদ মাজহার ও তার শিষ্যরা বিএনপিকে "আওয়ামী লীগ" এর অনুরূপ, "ভারত" পন্থী এরকম টার্মে আখ্যায়িত শুরু করেছে। উপদেষ্টা মাহফুজ ভবিষ্যতে যে "প্রতি বিপ্লব" এবং "গৃহযুদ্ধ" এর কথা বলছেন, সেটা এরই ধারাবাহিকতা।
বাংলাদেশে প্রতি বিপ্লব হবে, তবে সেটা হবে তারেক জিয়ার হাত ধরে জিয়াউর রহমানের "গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ বিপ্লব"। বেগম জিয়া আর তারেক রহমান যেদিন ঢাকাতে পা রাখবেন, সেদিন ঢাকা তার ৪০০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জনসমাগম দেখবে। সেদিনই হবে আসল প্রতি বিপ্লব।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।