12/06/2025
শ্রদ্ধেয় ফাদার এজ্জিও মাস্কারেত্তি পিমে,
ইতালি থেকে একজন বিদেশি মানুষ এসেছিলেন বাংলাদেশে—ভাষা, সংস্কৃতি, মানুষ—সব কিছু অজানা ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু অচিরেই তিনি হয়ে উঠলেন আমাদের আপনজন। তাঁর ভালোবাসা, সেবা, এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ছিল এতটাই নিঃস্বার্থ যে, তিনি আমাদের মাঝে একজন অভিভাবকের মতো জায়গা করে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে কত মানুষ যে তাঁর কাছ থেকে উপকার পেয়েছে, সেই হিসেব রাখা যায় না। তিনি কাউকে বিভাজন করে দেখেননি, জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অসহায়দের পাশে থেকেছেন, তরুণদের সঠিক পথে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন, আর নিজের শ্রম ও অর্থ দিয়ে গড়ে তুলেছেন অনেক কিছু—যার মূল্য আমরা এখন বুঝতে পারছি।
তবে বেদনাদায়ক সত্য হলো, তিনি যেখানে থাকতে চেয়েছিলেন, যেখান থেকে মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গা থেকেই তাঁকে কষ্ট পেয়ে সরে যেতে হয়েছিল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক কাকডাকা ভোরে, নিরবে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
আমরা হারিয়েছি একজন সত্যিকারের লিজেন্ডকে।
২০১৩/১৪ সালের দিকে, যখন গ্রামের অনেক তরুণ এদিক-সেদিক ঘুরে সময় নষ্ট করছিল, তখন তিনি তাঁদের ডেকে বলতেন—“কাজ করো, কিছু একটা শিখো, গির্জার ভিতর, কবরস্থান, পুকুর—এসব পরিষ্কার করো। সময় নষ্ট কোরো না।” বিনিময়ে প্রতিদিন দিতেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে।
সাপ্তাহিক একদিন হাতে দিতেন সেই টাকা।
কেউ সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনা চালাতো, কেউ সংসারের হাল ধরতো, কেউ নিজের ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো পূরণ করতো। কাজের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, তিনি সেটা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন।
আমাদের পাদ্রীশিবপুর গ্রামে তাঁর হাত ধরেই তৈরি হয়েছে নতুন গির্জা, মেয়েদের হোস্টেল, ছেলেদের সেমিনার। শুধু এখানেই নয়—বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তিনি নিজ হাতে ডিজাইন করে, নিজের অর্থ ব্যয়ে গড়েছেন বহু গির্জা, সাইক্লোন সেন্টার, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাঁর কাজের পরিমাণ যত না বেশি, তার চেয়েও বেশি ছিল তাঁর আন্তরিকতা।
আজ সেই মানুষটি আমাদের মাঝে নেই।
তিনি চলে গেছেন,তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ফাদার এজ্জিও, আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের স্মৃতিতে।