23/04/2026
আমরা সবাই কমবেশি নফসের জালে বন্দি। কিন্তু নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল না জানলে আধ্যাত্মিক উন্নতি অসম্ভব। ইমাম ইবনুল জাওযি রহ. নফসকে দমানোর কিছু কার্যকর উপায় উল্লেখ করেছেন।
১.
নফসকে বশে আনতে হলে 'দৃঢ় সংকল্পের চাবুক' ব্যবহার করুন। নফস যখন দেখবে আপনি আপনার সিদ্ধান্তে অটল, তখন সে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে। এমনকি মাঝে মাঝে কিছু বৈধ আনন্দ থেকেও নিজেকে দূরে রাখুন, যাতে হারাম বর্জন করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়।
২.
শয়তান বা দুনিয়া আপনার বাইরের শত্রু, কিন্তু নফস হলো আপনার ভেতরের শত্রু। তাই নফসের বিরুদ্ধে নিজের ভেতর থেকে জিহাদ শুরু করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
নফস যখন পাপে মত্ত হতে চায়, তখন তাকে তাকওয়ার লাগাম দিয়ে টেনে ধরুন।
যখন ইবাদতে অলসতা করে, তাকে মুজাহাদার চাবুক দিয়ে সচল করুন।
যখন সে অহংকার করে, তাকে তার তুচ্ছ উৎপত্তির কথা মনে করিয়ে দিন।
৩.
সালাফগণ বলতেন, নফস হলো একটি মন্দ কুকুরের মতো; পেট ভরলে সে ঘুমিয়ে পড়ে আর ক্ষুধার্ত হলে ঘেউ ঘেউ করে। একে কেবল ত্যাগের মাধ্যমে শাসনে রাখা যায়। মনে রাখবেন, তেতো ওষুধ না গিললে যেমন শরীরে সুস্থতা আসে না, নফসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কষ্ট না সইলে আত্মিক মুক্তি মেলে না।
৪.
হযরত ইউসুফ (আ.) যদি নফসের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে "কারাগার আমার কাছে বেশি প্রিয়" না বলতেন, তবে তিনি মিশরের সিংহাসনের সেই রাজকীয় সম্মান পেতেন না। আপনি যদি ফসল কাটার স্বপ্ন দেখেন, তবে আপনাকে বীজ বপন করতেই হবে। অর্থাৎ, জান্নাত পেতে হলে নফসের সাথে লড়াইয়ের কষ্ট সইতেই হবে।
আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো হলো খালের মতো। যদি খালের পানি (চিন্তা ও কাজ) নাপাক হয়, তবে ফসলে (আমলে) দুর্গন্ধ আসবেই। যারা সারাটা দিন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপের কাজে ছেড়ে দেয়, নামাজের সময় তাদের মনে একাগ্রতা আসবে কোত্থেকে? তাই আগে দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং অন্তরকে আল্লাহর ভয়ে সজাগ রাখুন।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের নফসকে পবিত্র করার তাওফিক দান করুন। আমিন
সূত্র: আল লাতাইফ --- ইমাম ইবনুুল জাওযি রহ.
Follow 👇
H Q Helaluddin Howlader