28/08/2025
🧲 আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়—পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জাহাজ দুর্ঘটনা কোনটি?বেশিরভাগ মানুষই হয়তো চোখ বন্ধ করে বলবেন—“টাইটানিক”।কিন্তু সত্যি হলো, টাইটানিকের সেই করুণ কাহিনীর ধারে কাছেও যায় না ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেরিন ট্র্যাজেডি।
১৯৩৭ সালে জার্মানির তৈরি বিলাসবহুল ক্রুজশিপ MV Wilhelm Gustloff প্রথমবারের মতো পানিতে নামে। প্রথমে এটিকে যাত্রীবাহী জাহাজ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতেই সেটিকে সামরিক কাজে লাগানো হয়।যুদ্ধের শেষ দিকে, যখন জার্মানি বুঝে যায় তাদের পরাজয় অনিবার্য, তখন না*সি কর্মকর্তারা পালানোর পথ খুঁজতে থাকে। ১৯৪৫ সালের ৩০ জানুয়ারি, পোল্যান্ডের গডেনহাফেন বন্দর থেকে Wilhelm Gustloff রওনা হয়। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল সর্বোচ্চ ১,৯০০ জন যাত্রী। অথচ সেদিন বোর্ডে ছিল প্রায় ১০,০০০ মানুষ—যাদের অধিকাংশই সাধারণ নারী-শিশু, আহত সৈনিক এবং শরণার্থী।রাত গভীরে, যখন তারা বাল্টিক সাগর অতিক্রম করছিল, সোভিয়েত সাবমেরিন S-13 রাডারে তাদের শনাক্ত করে। মুহূর্তেই ছোঁড়া হয় ৩টি টর্পেডো—এবং ভাগ্যের নির্মমতায় তিনটিই গিয়ে লাগে Gustloff-এর বুকে। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে বিশাল জাহাজটি সাগরের তলদেশে তলিয়ে যায়।
সেদিন পানিতে হারিয়ে যায় ৯,০০০ এরও বেশি প্রাণ। যাদের মধ্যে অসংখ্য শিশু, বৃদ্ধ, আহত সৈনিক এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষ ছিল। অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছিল শীতল পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে কিংবা হাইপোথারমিয়ায়। কিন্তু কেন এই ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় টাইটানিকের মতো জায়গা পেল না?
কারণ ভুক্তভোগীরা ছিল জার্মান। যুদ্ধোত্তর সময়ে মিত্রশক্তি এই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। তাছাড়া হোলো*কস্ট কিংবা হিরোশিমা-নাগাসাকির ভয়াবহতার আড়ালে এই ট্র্যাজেডি চুপচাপ চাপা পড়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি আসেনি, আর জার্মানি রাজনৈতিক কারণে ঘটনাটিকে সামনে আনতে চায়নি। এমনকি একই বছরের ১৬ এপ্রিল, একই অঞ্চলে আরও একটি জাহাজ MV Goya সোভিয়েত সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায়, যেখানে প্রাণ হারায় প্রায় ৭,০০০ মানুষ। তবুও ঘটনাটি ইতিহাসের আলোচনায় বিশেষ জায়গা পায়নি।
এইসব মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে—যুদ্ধ কখনো কেবল সৈনিকের প্রাণ নেয় না, বরং নিরপরাধ অসংখ্য সাধারণ মানুষকে নিয়ে যায় নিষ্ঠুর মৃত্যুর দিকে। আজও MV Wilhelm Gustloff বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মেরিন দুর্ঘটনার করুণ প্রতীক হয়ে আছে।
Mogoj Dhulai.