19/08/2026
সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও সাবরাংসহ টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার বহু জেলে কয়েক দফায় আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে কিছু জেলে মুক্তি পেলেও পরবর্তী সময়ে আবারও জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এর মধ্যে স্বস্তির সংবাদ হলো, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের আটক জেলেরা সবাই নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। পাশাপাশি শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ২৪ জন জেলে ফিরে এসেছেন বলে সেন্টমার্টিন স্টুডেন্ট ইউনিটি -Saint Martin Students Unity ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আটক জেলে আমানউল্লাহর মেয়ে রুবিনা আক্তার এবং আব্দুল্লাহর স্ত্রী সানজিদা জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আমানউল্লাহর ১৫ বছর বয়সী সন্তান জিল্লুর রহমান, নূর মোহাম্মদের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার সুমাইয়া এবং আব্দুল্লাহর স্ত্রী সানজিদা আমাদের বিশেষ আয়োজন "হাঁর হঁমতা, হাঁর হঁষ্ট— Whose Power, Whose Pain” ওপেন ক্লাসরুমে উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ ও আটক স্বজনদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য নাগরিক সমাজের কাছে উদ্বেগ ও আবেদন তুলে ধরেছিলেন।
যেসব পরিবার আজ তাদের স্বজনকে ফিরে পেয়েছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। কিন্তু এখনও যেসব পরিবার অপেক্ষায় আছেন, তাদের উদ্বেগের অবসান হয়নি।
আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই— শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের যেসব বাংলাদেশি জেলে এখনও আটক রয়েছেন তাদের দ্রুত নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং যেসব জেলেরা ফেরত এসেছেন তাঁদের অনতিলম্বে জরুরি চিকিৎসা ও অর্থনৈতিকভাবে পুর্নবাসন করতে হবে। ভবিষৎতে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ-সংলগ্ন সাগরে বাংলাদেশি জেলেদের জন্য ভয়হীন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।