01/05/2025
কুরআন তিলাওয়াত রিলেটেড ৬ টা টপিক নিয়ে একটু ভাঙা বিশ্লেষণ করলাম। পয়েন্ট গুলো ছিল —
১/ ইজারা - শব্দে শব্দে বানান ও তিলাওয়াত - Spell & Recite
২/ নাজারা - অর্থ পরিপূর্ণ আয়াত দেখে পড়া - Recitation without spell
৩/ মাশক - উস্তাযাহ/ শিক্ষিকা একটি আয়াত শুদ্ধভাবে পড়ে দিবে, ছাত্ররা তাঁর পড়া শুনবে অত:পর ছাত্রীরা তা পুনরাবৃত্তি করবে - listening & Recitation
৪/ ভুল পড়ছি কি না বুঝবো কীভাবে
√ নিজেই নিজের শিক্ষিকা হবো
√ কানকে সজাগ রেখে পড়ব
√ নিজের পড়া নিজে রেকর্ড করে শুনব
√ উস্তায/উস্তাযাহর অনুমতি নিয়ে ব্যাসিক অংশ যতটুকু পড়া আমার আয়ত্বে আছে তা অন্যকে শেখাবো।
৫/ ফ্লুয়েন্সি বাড়াবো কীভাবে?
√ ধারাবাহিক ভাবে তিলাওয়াত শুরু করব
• ১ম ধাপ : বানান না জানলে ইজারা সহ তিলাওয়াত থেকে শুরু করা জরুরি। অর্থাৎ, কাইদা নুরানিয়্যাহ /নাদিয়াতুল কুরআন কাইদা পড়া।
• ২য় ধাপ : কাইদা শেষ হলে যুয আম্মা ও ১ম পারা বানান সহ তিলাওয়াত শেষ করা।
• ৩য় ধাপ : যুয আম্মা ও সুরা বাকারহ শেষ হলে দেখে দেখে তিলাওয়াত কোনো উস্তাযহর কাছে পড়া শুরু করা অন্তত সাপ্তাহিক ৩-৪ দিন ৪-৫ পেইজ করে। ধীরে ধীরে আয়ত্বের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি করতে পাতা সংখ্যা বাড়ানো।
• লাস্ট ধাপ : খাতমা শেষ হলে, এবার চাইলে অন্য উস্তাযাহর কাছে পুনরায় অনলি নাজারা উইদ আউট ইজারা শোনাতে পারি। এক্ষেত্রে ১০ পেইজ বা এক পারা করে শুনানক গেলে গতি বা ফ্লুয়েন্সির প্রাকটিসও হবে ইন শা আল্লহ। এই পর্যায়ে চাইলে একাধিক উস্তাযাহকে এট এ টাইম শোনালেও ভ্যালিড কারেকশন আশা করা যাবে এবং অনেক বড় মাপের উস্তাযাহর কাছে শোনালে তার কারেকশনও ক্যাচ করা নিজের জন্য সহজ হবে। ইন শা আল্লহ।
৬/ কইদা কুরআনে এপ্লাই করবো কীভাবে?
- এক্ষেত্রে মুসহাফ দেখার নজরিয়াতে ফোকাস করতে হবে। মুসহাফের অক্ষর গুলোর অবস্থা কী আছে তা দেখতে হবে। বানান করে ধারাবাহিকভাবে পড়া শুরু করে পরবর্তীতে তাররিল সহকারে পড়লে কইদা অটোমেটিক চোখে ভাসবে ইন শা আল্লহ। নিজস্ব প্রাকটিসের টাইমে ৩০ মিনিট করে হলেও শুধু কইদা গুলোর জন্য সময় দিতে হবে। এরপর কইদা গুলো বুঝে আসলে নাজারা শুনে শুনে প্রাকটিস করতে হবে যতক্ষননা শাইখ/শাইখার মত শোনাচ্ছে ততক্ষন। যার যার সবরশক্তি অনুযায়ী এই সময়ের তারতম্য হতে পারে।
লাস্টে একটা কথা বলার ছিল বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেটা হচ্ছে —
অনেকেই অনেক যায়গায় ফ্রী কারেকশন নেন বা অনেক যায়গায় এট এ টাইম পেইড নাজারার জন্য পড়েন। কারো কাছে হয়ত মাসে ৩ পেইজ পড়া দিচ্ছেন বা কারো কাছে ১ দিনে ১ বা ২ আয়াত বা কারো কাছে ১ পারা করে পড়া দিচ্ছেন; এভাবে ধারাবাহিক ভাবে কোনো একজন উস্তাযাহর কাছে যদি পড়ে কারেকশন নেন সেটা ফলপ্রসূ। একাধিক হালাকায় জয়েন করার পর দিনশেষে নিজের পড়া জাজ করতে বসে যাওয়া বোকামি। জাজ করবেন সুধরানোর জন্য কিন্তু এজন্য না যে, এমন একজনের কাছে পড়া দিয়েছেন যিনি আপনার ধারাবাহিক পড়া নেন না; যদিও তিনি ইজাজাহ প্রাপ্ত কোনো শাইখা হোন। তিনি আপনার শুরু থেকে পড়া নেন না, তিনি আপনার পড়া শোনায় অভ্যস্ত না; কাজেই তিনি মাত্র একদিন এক বা দুই আয়াত বা অর্ধেক আয়াত পড়া নিয়ে একুরেটলি আপনার পড়ার নীট ভুল টা ধরে দিতে পারবেন না বরং যা ধরেছে তা আপনার সাময়িক সময়ে হওয়া ভুল হতে পারে। তো এটা নিয়ে নিজে প্যানিক হওয়া বা "অন্য উস্তাযাহ আমার পড়ায় কেন ভুল ধরছেনা" এই প্রশ্ন মাথায় আনা উচিৎ নয়। এছাড়াও অনেকে ভেবে নেই যে, যে বেশি ভুল ধরেন সে বেশি যোগ্য শিক্ষিকা বা যে অনেক রিনোন্ড তাঁর কাছেই পড়া দিতে হবে নয়ত প্রপার কারেক্ট হবে না আমার পড়া, আমি অযোগ্য, বা আমার শিক্ষিকা কম যোগ্য সুপারিয়র কারো কাছে যাওয়া জরুরি ইত্যাদি। এই টেন্ডেন্সি গুলো সব সময় কল্যান বয়ে আনেনা।
হাইলাইটেড কথা হচ্ছে, ❝ ইলমের মালিক রব্বে কারীম, যদি আমার ইলমের জরুরত হয় আমি ধারাবাহিক ভাবে অর্জন করব এবং আমার শেইখ/শেইখাকে রব্বের পর ভরসার পাত্র হিসেবে দেখব। এই তাওয়াক্কুল ও ইতমিনান সহিত ইস্তিকমাত এর সাথে আগালে ইলম আমার কাছে আসবেই যদি রব্বে কারীম চান।❞
• তাওয়াক্কুল = রব্বের উপর ভরসা
• ইতমিনান = ধীরস্থিরতা
• ইস্তিকমাত = লেগে থাকার জযবা
ইন শা আল্লাহ, চেষ্টা করব যেন নিজের ধারাবাহিক উস্তায/উস্তাযাহ বা কোনো সাধারণ খদিমাতুল কুরআন বোনের প্রতি আমার আস্থা কমে না আসে। কেননা, এটি একটি ওয়াসওয়াসা। যা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে এতে তলিবের অন্তরে তাঁর উস্তাযাহর ভুল খোঁজার প্রবণতা বাড়তে শুরু করে পাশাপাশি নিজের ইলমের উপর সন্দেহ আসে। এক পর্যায়ে তলিব ইলম হতে মাহরুম হয়ে যায়। রব্বে কারীম পানাহ দিক এমন মনোভাব হতে।