যারা বর্তমানে মুখতাসারুল মা‘আনী (مختصر المعاني) পাঠদান করছেন এবং এর বর্ধিত নতুন অংশের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ নিয়ে চিন্তিত, তারা আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন।
আমরা আপনাদের সহযোগিতাকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করব এবং আপনাদের সাথে পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত রেখে পাঠ্যবস্তুর সঠিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সবার সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করব, ইন শা আল্লাহ।
যারা ইতোমধ্যে এ কিতাবটি অধ্যয়ন করেছেন বা পাঠদান করছেন, তাদের নিকট আমাদের এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান
রিবাতুল ইলম - Ribatul ILM
Dedicated to reviving rational, transmitted & spiritual sciences, Ribat empowers individuals through rigorous study, dialogue & publication.
We strive to reconnect with the depth of Islamic wisdom & inspire new generation of scholarly leaders.
13/04/2026
রিবাতুল ইলম — পরিচয় ও লক্ষ্য
রিবাতুল ইলম সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। তাঁদের খেদমতে কিছু কথা।
রিবাতুল ইলমের মূল মাকসাদ উলুমে আকলিয়ার জাগরণ। আকীদা, কালাম, ফালসাফা, মানতেক ও হিকমতসহ উচ্চমার্গীয় শাস্ত্রগুলোর সঠিক চর্চাক্ষেত্র তৈরি করা — যেন নয়া জমানার যেকোনো ফিতনাহ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে রিবাতুল ইলম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে অফলাইন কার্যক্রমও শুরু হবে।
এ ছাড়া প্রাথমিক স্তর থেকেও কোর্স চালু করার পরিকল্পনা আছে — যা শিক্ষার্থীদের সামনে আরবি ভাষা চর্চার একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে ইনশাআল্লাহ। সেই সিলেবাস নিয়ে কাজ চলছে। বিজ্ঞজনদের পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
রিবাতুল ইলম - Ribatul ILM নামের ব্যাখ্যা
ইবনে মানজুর লিসানুল আরব গ্রন্থে রিবাত رباط শব্দের অর্থ ব্যবহারসহ লিখেছেন: সীমান্ত রক্ষা করা, প্রস্তুত হওয়া, অবিচল থাকা, যত্নবান হওয়া ও জিহাদে দৃঢ়পদ থাকা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اصۡبِرُوۡا وَصَابِرُوۡا وَرَابِطُوۡا ۟
"হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন কর, মুকাবিলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন কর এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাক।" (১) এখানে অবিচলতার অর্থে রিবাত ব্যবহার হয়েছে।
মনোযোগী ও যত্নশীল হওয়া অর্থে ব্যবহার আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে। (২)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ألا أدلكم على ما يحمو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات؟ قالوا: بلى يا رسول الله، قال: اصباغ الوضو على المكاره، وكثرة الخطا الى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন (কাজের) কথা বলবো না, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা পাপরাশি দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা উঁচু করে দিবেন? সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, তা হলো অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে উযু করা, মসজিদে আসার জন্য বেশী পদচারণা এবং এক নামাযের পর অন্য নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হল রিবাত (তথা নিজেকে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত রাখা)। (৩)
মোটকথা, রিবাতের মূল অর্থ যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান করা এবং ঘোড়া বেঁধে প্রস্তুত রাখা। উপরিউক্ত প্রতিটি অর্থ মূল অর্থের সাথে কোনদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাই মাজায বা রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেননা সীমান্তে যেমন প্রস্তুতির সাথে দৃঢ়ভাবে অবস্থান জরুরি এভাবে নামাজের সময়সূচির প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি। কুতায়বি বলেন, মুরাবাতার মূল অর্থ: সীমান্তে দুই পক্ষ নিজেকে ও ঘোড়াকে প্রস্তুত রাখা। সুতরাং, সীমান্তরক্ষীকে রিবাত বলা হয়। (৪)
ইলম অজ্ঞতার বিপরীত শব্দ; ইলম বস্তুর এমন কোনো নিদর্শের ওপর নির্দেশ করে যার মাধ্যমে বস্তুটি অন্য সব কিছু থেকে আলাদা হয়। (৫) সা’দুদ্দিন তাফতাযানি বলেন, ইলম (علم) বা জ্ঞান এমন একটি গুণ, যার দ্বারা কোনো বস্তু ওই ব্যক্তির সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়, যার সাহায্যে জ্ঞান প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অর্থাৎ জ্ঞানটি ব্যক্ত করা সম্ভব হয় তা কি বিদ্যমান না অবিদ্যমান—তখন জ্ঞান পঞ্চইন্দ্রিয়ের অনুভূতি ও বিবেকের উপলব্ধি, ইয়াকিনি হোক বা গাইরে ইয়াকিনি সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। (৬) ইবনে মানজুর বলেছেন, যদিও প্রকৃত ইলম আল্লাহ তাআলার গুণ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষকে যে জ্ঞান দান করেন, তা-ও ইলম। এজন্য মানুষের ক্ষেত্রে আলেম ও আলিম শব্দ প্রয়োগ কুরআনে পাওয়া যায়। যেমন, ইউসুফ আ. নিজের সম্পর্কে বলেছেন,
إني حفيظ عليم (৭)
কেননা আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আ. সম্পর্কে বলেছেন
وَکَذٰلِکَ یَجۡتَبِیۡکَ رَبُّکَ وَیُعَلِّمُکَ مِنۡ تَاۡوِیۡلِ الۡاَحَادِیۡثِ
আর এভাবেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে (নবুওয়াতের জন্য) মনোনীত করবেন এবং তোমাকে সকল কথার সঠিক মর্মোদ্ধার শিক্ষা দেবেন। (৮) যারা প্রকৃতপক্ষে জেনেবুঝে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেন, তাদের জন্যেও কুরআনে আলেম শব্দের বহুবচন উলামা প্রয়োগ দেখেছি। (৯) রিবাতের ঐতিহাসিক অর্থ মুজ|হিদ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আশ্রয়স্থল থেকে সুফিদের জ্ঞানচর্চার খানকাতেও বিবর্তিত হয়েছে।
সুতরাং রিবাতুল ইলম অর্থ দাঁড়ায় ইলম অর্জনের প্রস্তুতি নেয়া, ইলমের সুরক্ষা দান করা ও ইলমে নিমগ্ন থাকার এক কেন্দ্রস্থল। প্রতিটি অর্থে রিবাতুল ইলমের স্লোগান—সেগুলো বাস্তবায়ন করার সাধনা ও স্বপ্ন আমাদের, আশা করি আপনারা আমাদের সারথী হবেন।
তথ্যসূত্র:
(১) আলে ইমরান ২৯০
(২) লিসানুল আরব ৪১/৪
(৩) সহিহ মুসলিম হাদীস নং ৪৮০ ইফা
(৪) লিসানুল আরব ৪১/৪
(৫) মাকায়িসুল লুগাহ ৫৯৬
(৬) শরহুল আকাঈদ ১৬৪ অবশ্য নিবরাসের লেখক বলেছেন তাফতাযানি সংজ্ঞাটি ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদি থেকে নিয়েছেন।
(৭) ইউসুফ ৫৫
(৮) ইউসুফ ৬
(৯) লিসানুল আরব ৪১৫/৬
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটি ভুলবশত ডিলিট হয়ে গিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নতুন চ্যানেল খোলা হয়েছে। আশা করি আগের মতোই নতুন চ্যানেলে আমাদের কার্যক্রমে সঙ্গ দিয়ে যাবেন।
جَزَاكُمُ اللهُ خَيْرًا
'রাজনীতিতে ইসলাম আনবেন না' — এক পক্ষ বলেন। 'ইসলাম মানেই রাজনীতি' — অন্য পক্ষ পাল্টা জবাব দেন। দুটি দাবি শুনতে দৃঢ়, কিন্তু দুটিই আসলে একই ভুলের দুটি রূপ। সত্যিকারের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে: ইসলাম ও রাজনীতির সম্পর্কটা আসলে কী?
এই প্রশ্নটি নিয়ে আমাদের সমাজে যে আলোচনা হয়, তার বেশিরভাগই দুটি শিবিরের মধ্যে আটকে আছে। একদিকে সেক্যুলার রাষ্ট্রের সমর্থকরা ইসলামকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরে ঠেলে দিতে চান; অন্যদিকে একদল ইসলামি রাজনীতিবিদ ধর্মের প্রায় সব কিছুকেই রাষ্ট্র ও ক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত করেন। এই দুটি অবস্থানই চরমপন্থী, এবং উভয়ই ইসলামের প্রকৃত চরিত্রকে বিকৃত করে।
বিস্তারিত পড়ুন
10/03/2026
তুরাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যদি তাজদিদ (সংস্কার) এবং হাদাসাহ (আধুনিকতা)-এর প্রসঙ্গ উপস্থিত না থাকে, তবে সেই আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের ভুলবোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কারণ তুরাসকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝার চেষ্টা করলে দুটি বিপরীত প্রবণতা দেখা দিতে পারে। একদিকে কেউ তুরাসকে কেবল অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখে তাকে সম্পূর্ণ অচল ও স্থবির মনে করতে পারে; অন্যদিকে কেউ আবার তুরাসের প্রতি এমন অনমনীয় আনুগত্য প্রদর্শন করতে পারে, যা পরিবর্তিত অবস্থায় বাস্তবায়নের কৌশল অস্বীকার করে।
এই দুই চরম অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে তাজদিদ। তাজদিদ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তুরাসের মূল নীতিমালা ও পদ্ধতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন সময়ের নতুন প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান বের করা হয়। ফলে তাজদিদ তুরাসকে অস্বীকার করে না; বরং তুরাসের ভেতর থেকেই তার নবায়ন ঘটায়। অর্থাৎ তুরাসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ইস্তিম্বাত ও কিয়াসের সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি তাজদিদ।
অন্যদিকে হাদাসাহ (আধুনিকতা) সেই সামাজিক চিন্তা ও বাস্তবতাকে নির্দেশ করে, যার মধ্যে আজকের মানুষ বাস করছে। আধুনিক বিশ্বের নতুন জ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, নতুন সামাজিক কাঠামো এবং নতুন প্রশ্নসমূহ এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যার সাথে সম্পর্ক স্থাপন না করে কোনো ইলম-তুরাস কার্যকর থাকতে পারে না।
এই কারণে তুরাসের আলোচনা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেখানে—তুরাসের মূল ভিত্তি, তুরাস নবায়ন প্রক্রিয়া তাজদিদ, এবং সমসাময়িক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ ও প্রেক্ষাপট বা হাদাসাহ—এই তিনটি বিষয়কে একত্রে বিবেচনা করা হয়।
সায়ীদুল হক : বর্তমানে জেনারেল শিক্ষিতশ্রেণির অনেকের মধ্যে কোরআন বোঝার বেশ আগ্রহ লক্ষ করা যায়। তো সঠিকভাবে কোরআন বোঝার ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কী?
আবদুল মালেক : তাওযীহুল কুরআনের ভূমিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। কিন্তু তারা এর উপর আমল করেন না। তারা সংক্ষিপ্ত উপায় অন্বেষণ করেন। আমার মতে এটা ভুল। সাধারণ শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে কোরআন বোঝার আগ্রহ বেশ ব্যাপক। একে আরো ব্যাপক করার পরিবর্তে নিয়ম-নীতির ভিতরে আনার চেষ্টা করা প্রয়োজন। নিয়ম-পরিপন্থী কাজকর্মের দ্বারা লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। এ বিষয়ে মাওলানা আবু সাবের আবদুল্লাহ দামাত বারাকাতুহুমের মাকালা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, যা বর্তমান সংখ্যায় রয়েছে।
মাসিক আল কাউসার, কুরআনুল কারীম সংখ্যা
15/02/2026
আকীদাতুত তহাবির ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রচ্ছদ উন্মুক্ত করার পর থেকে অনেকেই অগ্রগতি জানতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ন। আমাদেরও প্রাথমিক ইচ্ছা ছিল রমজানের আগেই বইটি প্রকাশ করার। কিন্তু পৃষ্ঠাসংখ্যা একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রুফরিডার কিছু সংশোধনী দিয়েছেন এবং কিছু স্থানে সংযোজন-বিয়োজন ও তাখরিজ সংক্রান্ত মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন সুহৃদজনেরা।
সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আরও একবার বইটি আগাগোড়া সম্পাদনা করবো, প্রয়োজনীয় বিয়োজন, সংক্ষেপণ ও পরিমার্জন করব। এতে হয়তো কিছুটা সময় বেশি লাগবে, কিন্তু পাঠকের জন্য সেটাই কল্যাণকর হবে বলে মনে করি।
আপনাদের সামনে উত্তম কিছু উপস্থাপন করার জন্যই সাময়িক পিছিয়ে আসা—যাতে পরবর্তী সময়ে আপনাদের কষ্ট পোহাতে না হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
04/02/2026
ইলমি জীবনে ধীরস্থিরভাবে সমালোচনা করা তালিবুল ইলমের জন্য জরুরি – উস্তাদ হামযা বাকরি
আমরা তুরস্কে অবস্থানরত আরব শিক্ষকদের সাথে পরিচিত হওয়ার ধারাবাহিকতায় সম্মানিত উস্তাদ হামযা বাকরির সাথে ইসলামি ইলম অর্জন ও তুরস্কে তাঁর আগমন সম্পর্কে কথা বললাম। প্রশ্ন করেছেন আবদুল্লাহ বারদাকচি।
উস্তাদ, আপনার সাথে পরিচিত হতে পারি কি?
জি, আমার নাম হামযা বাকরি। আমি জন্মসূত্রে জর্ডানের তবে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। জর্ডানেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও হাদীসের উপর পিএইচডি সম্পন্ন করেছি এবং আমার থিসিস পেপার এখন প্রকাশিত হয়েছে যার নাম “تعدد الحادثة في روايات الحديث النبوي" ।
পিএইচডি করার আগে থেকেই আমার ইলমে কালাম ও আকীদা অধ্যয়নের প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু পিএইচডির পর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অধিকাংশ কাজ কালাম ও আকীদা নিয়ে।
উস্তাদ, জর্ডানে ইসলামি শিক্ষার পদ্ধতি কেমন?
একাধিক পদ্ধতি আছে। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এবং আধুনিক একাডেমিক পদ্ধতি আছে। আর ২০, ৩০ বছর আগে আমরা যখন পড়াশোনা করি, তখন ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি জর্ডানে দুর্বল ছিল। কিন্তু হালে এটির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলোর ভীত মজবুত হয়েছে। আমার পড়াশোনার সময়ে ইলমি তুরাসি শিক্ষার দুর্বলতার কারণে আমি বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি, তাই আমার অনেক কষ্ট করে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে উস্তাদ বা শায়খ খুঁজতে হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী তুরাসি ইলমিধারায় কী কী অসুবিধা ছিল?
জর্ডানে ওয়াকফসম্পত্তি, মাদরাসা কিংবা ইসলামি ইলম শিক্ষার জন্য বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা ব্যক্তি ছিল না। তবে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ছিল ভিন্ন; অর্থাৎ একাডেমিক শিক্ষাব্যবস্থা সেখানে বেশ শক্তিশালী ছিল। যদিও একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কিছু ইতিবাচক দিক বিদ্যমান আছে, তবু শায়খ-কেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক থেকে তা মাহরুম। সেই অনুপস্থিত দিকগুলোর শূন্যতা আমি গভীরভাবে অনুভব করতাম। একাডেমিক শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ইলমি তুরাসের সেই গুণাবলি যুক্ত করতে প্রবল আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু বাস্তবে একাডেমিক শিক্ষার বাইরের সেই ইতিবাচক দিকগুলো সহজে অর্জন করা সম্ভব হতো না; বরং সেগুলোর সন্ধান পেতে বেশ কষ্ট করতে হতো।
সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার সুযোগ হতো জর্ডানে আগত শায়খ ও আলেমদের থেকে। যেমন—গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন সম্মেলন উপলক্ষে কিছু উস্তাদ ও শায়খ জর্ডানে আসতেন, তখন তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়া যেত। আবার ইরাক অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে সেখানকার কিছু আলেম জর্ডানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন; পরবর্তীতে সিরিয়া থেকেও অনুরূপভাবে বহু আলেম আসেন। এসব ঘটনা আমাদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করেছিল ঐতিহ্যবাহী শায়খ-কেন্দ্রিক ইলমি তুরাস অর্জনের।
উস্তাদ, আপনি কখন থেকে শিক্ষকতা শুরু করেছেন?
ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা-ভিত্তিক শিক্ষকতা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সাল থেকে, তখন আমি স্নাতকোত্তর পড়ছিলাম। ঐতিহ্যবাহী ইলমি তুরাস বেগমান করার লক্ষ্যে সেই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জর্ডানের একজন উস্তাদ। আমি স্নাতকোত্তর পড়ার সময় সেই মাদরাসায় হাদীস ও আকীদার দরস দিতাম। আর একাডেমিক শিক্ষকতা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে ইস্তাম্বুলের সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আমরা জানি এবং আপনিও একটু আগে বলেছেন, আপনি স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সবকিছু হাদীস বিভাগে। অথচ এখন আকীদা ও কালাম বিভাগে পড়ান। এটা কীভাবে হলো, আপনার মধ্যে কি কোনো পরিবর্তন হয়েছিল?
এটি কোনো পরিবর্তন নয়; বরং কিছু রচনা ও তাহকীকের কাজে আমি এখনো হাদীস অধ্যয়নে অব্যাহত আছি। তবে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে আমার অধিকাংশ শ্রম ইলমে কালামের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে এটি পরিবর্তন নয়, বরং সংযোজন—অর্থাৎ হাদীসকে মূল তাখাসসুস হিসেবে রেখে তার সঙ্গে কালামকে আরেকটি তাখাসসুস হিসেবে যুক্ত করেছি। প্রকৃতপক্ষে, হাদীসে স্নাতকোত্তর শুরু করার আগেই কালাম ছিল আমার ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা।
কারণ আমার স্নাতক পর্যায়ের অধ্যয়ন ছিল মূলত উসূলুদ্দীনে; যেখানে হাদীস ও আকীদা—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার সময় জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ে কালাম ও আকীদায় পৃথক তাখাসসুসের ব্যবস্থা ছিল না। সে কারণে হাদীসেই স্নাতকোত্তর শুরু করি। এতে এমন নয় যে পরিস্থিতি আমাকে কালাম থেকে সরিয়ে হাদীসে প্রবেশ করিয়েছিল; বরং হাদীসের প্রতিও আমার যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। প্রকৃত সত্য হলো—হাদীস ও কালাম উভয়ই আমার কাছে সমানভাবে কাম্য ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উস্তাদ, আপনি কীভাবে এবং কখন তুরস্কে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
মূলত আল-ফাতিহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার আগে দুইবার সম্মেলনে তুরস্কে এসেছিলাম। ২০০৮ সালে সিভাসে এবং ২০১০ সালে দিয়ারবাকিরে। এবং উভয় সফরে ইস্তাম্বুল হয়ে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছু সময় বসেছিলাম। তাই কাজের আগে থেকেই তুরস্কের প্রতি টান ও ভালোবাসা ছিল। তারপর কাজের সুযোগ এলো এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই সম্মত হয়েছি।
উস্তাদ, তাহলে তুরস্কে আসার আগ্রহের কারণ কী, অথচ জর্ডানেও ইসলামি শিক্ষা ছিল?
অন্য দেশের তুলনায় তুরস্কের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, তুরস্কের গৌরবময় ইতিহাস। এটি আমাদের হারানো ইসলামি খিলাফতের রাজধানী এবং একটি প্রাচীন, সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক সভ্যতার কেন্দ্র।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান বিশ্বে তুরস্ক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কারণ অনেক আরব দেশে সালাফি ধারার প্রভাব ঐতিহ্যবাহী সুন্নি ধারাকে দুর্বল করে ফেলেছে; আরও নির্ভুলভাবে বললে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাযহাবভিত্তিক সুন্নি ঐক্যে ফাটল ধরেছে। পক্ষান্তরে, তুরস্ক এখনো তার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুন্নি ধারার প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তৃতীয়ত, এটি একটি ব্যক্তিগত কারণও বটে—সম্ভবত মাযহাবগত দৃষ্টিকোণ থেকে। আমি হানাফি, তুরস্কের মুসলমান সমাজও প্রধানত হানাফি। জর্ডানে তুলনামূলকভাবে শাফিয়ি পরিবেশ বেশি পরিলক্ষিত হলেও তুরস্ক স্পষ্টভাবে হানাফি ঐতিহ্যের ধারক। এর সঙ্গে ইমাম কাউসারির সঙ্গে আমার আত্মিক ও চিন্তাগত সংযোগের বিষয়টিও যুক্ত। আমি কাউসারি ধারার অনুসারী এবং তাঁর কিছু গ্রন্থ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সম্ভবত এই আত্মিক রিশতা তুরস্কের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।
তুরস্ককে জ্ঞানগত ও একাডেমিকভাবে কীভাবে পেয়েছেন?
কর্মতৎপরতার দিক থেকে যেমন সম্মেলন, মুহাযারা-সেমিনার, ওয়াকফভিত্তিক খিদমত, মাদরাসার আধিক্য - এটি অন্তত জর্ডান থেকে অনেক বেশি সক্রিয়। এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও বহুগুণ বেশি। তুরস্কে জ্ঞানগত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি বৈশিষ্ট্য হলো— ঐতিহাসিক ইলমি গবেষণার প্রতি যত্ন ও মনোযোগ, জ্ঞানগত বিষয়গুলোর তাহরীরি বা বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়নের তুলনায় প্রবল। অর্থাৎ তারা যখন কোনো শাস্ত্র বা বিষয় অধ্যয়ন করেন, তখন সেই বিষয়কে ঘিরে তার ঐতিহাসিক বিকাশ, পর্যায়ক্রমিক অগ্রগতি ও প্রেক্ষাপটগত আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেন। এই দিক থেকে আমি সেখানে যথেষ্ট গভীরতা লক্ষ্য করেছি।
তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, মতভেদগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, বিভিন্ন চিন্তাধারার প্রবণতা, যুক্তিপ্রদান, এবং সিদ্ধান্তমূলক উপলব্ধি ও ইস্তিনবাতের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ নির্দিষ্ট ইলমি মাসআলাগুলোর তাহরীরি ও নকদের ক্ষেত্রে—সেই তুলনায় গভীরতা তুলনামূলকভাবে কম।
নিশ্চয়ই এই পদ্ধতির একটি ইতিবাচক দিঅ রয়েছে, আবার অন্য দিক থেকে সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমনটি অন্য পদ্ধতির ক্ষেত্রেও দেখা যায়—সেগুলোরও একদিকে ইতিবাচক দিক আছে, আবার অন্যদিকে কিছু নেতিবাচক দিকও অনিবার্যভাবে বিদ্যমান।
সবশেষে উস্তাদ, তালিবুল ইলমদের সাধারণভাবে কী উপদেশ দেবেন?
আমি তাদেরকে প্রথমত মুতাওয়ামা-নিয়মিততান্ত্রিকতা উপদেশ দিই। কারণ নিয়মিততান্ত্রিকতা ছাড়া সবকিছু নষ্ট হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে যতই দক্ষতা অর্জন করুক, যদি নিয়মতান্ত্রিক চর্চা না থাকে এবং ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধি না করে, তাহলে সকল প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে। অর্থাৎ ইলম অর্জনের প্রথম শর্ত নিয়মতান্ত্রিক চর্চা।
তারপর ধারাবাহিকতা রক্ষা। তালিবুল ইলমের জন্য আবশ্যক যে পদ্ধতিগত শৃঙ্খলা অনুসরণ করা—সহজতম গ্রন্থ দিয়ে শুরু করবে তারপর মাধ্যমিক গ্রন্থ তারপর আরও উচ্চতর এবং এভাবে ইলমের স্তর অতিক্রম করা। এভাবে নিয়মতান্ত্রিক ধারাহিকতা অনুসরণের মধ্য দিয়ে তালিবুল ইলম নির্দিষ্ট কোনো শাস্ত্রে ব্যক্তিগত ঝোঁক, আগ্রহ ও মানসিক মিল খুঁজে পাবে। তাহলে সে সেই শাস্ত্রেই তাখাসসুস করবে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী হাদীস, কালাম, ফিকহ বা তাফসীরের প্রতি আগ্রহ অনুভব করে, তাহলে তাকে যাচাই করতে হবে—সে কি সত্যিই সেই শাস্ত্রে গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম, নাকি অন্য কোনো শাস্ত্রে তার গভীর সক্ষমতা বেশি। যদি নিজের আগ্রহের বিষয়েই গভীরে যেতে পারে, তবে তাতে কোনো বাধা নেই—সেটিই সে নিজের জন্য নির্বাচন করবে। আর যদি গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে উপলব্ধি করে যে এই শাস্ত্রটি আসলে তার জন্য উপযুক্ত নয়, তাহলে সে তা বুঝে নিয়ে অন্য উপযুক্ত শাস্ত্রের দিকে অগ্রসর হবে।
আর তালিবুল ইলমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো—ইলমি জীবনে সমালোচনার ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া এবং সমালোচনাযোগ্য বিষয় একবার, দুইবার, তিনবার—বারবার পড়ে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করা। অর্থাৎ অন্যদের ইলমি বক্তব্য সমালোচনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা—হোক তিনি পূর্ববর্তী আলেম বা পরবর্তী আলেম।
বক্তব্যকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। হতে পারে তিনি কোথাও ভুল করেছেন, আবার হতে পারে বক্তব্যের ভেতরে সূক্ষ্ম সমাধান নিহিত আছে, কিংবা ভিন্ন কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো সম্ভব। এসব সম্ভাবনা যাচাই করার মধ্য দিয়েই সমালোচনার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।
কারণ আমাদের সময়ের অন্যতম সমস্যা হলো—আমরা কোনো না কোনো প্রান্তে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে ফেলি। হয় সমালোচনায় এমন বাড়াবাড়ি করি যে বিপক্ষের যুক্তি ও পদ্ধতি বোঝার চেষ্টাই করি না; অথবা পক্ষপাতিত্বে এমন বাড়াবাড়ি করি যে প্রতিটি ভুলের জন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ফেলি এবং ভুল যত মারাত্মকই হোক না কেন, তা অস্বীকার করে বসি।
তালিবুল ইলমের জন্য সমালোচনার গুণ অর্জন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত জরুরি; তবে এই ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, ধীরস্থিরতা এবং বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার ঝালাই করা। পাশাপাশি সেই বক্তব্যের সম্ভাব্য সব ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা আবশ্যক।
আর সমালোচনার প্রকৃত অর্থই হলো অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সুতরাং কেবল অভিযোগ আরোপ করা বা ভুল প্রমাণ করাকেই সমালোচনা বলা যায় না। সমালোচনার বৈশিষ্ট্য হলো—কোনো মাসআলা বা বিষয়কে গভীর অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক উভয়ই স্পষ্ট করা। তাই আমি তখনই প্রকৃত অর্থে সমালোচক হিসেবে বিবেচিত হবো, যখন কোনো গ্রন্থ থেকে তার ইতিবাচক দিক এবং নেতিবাচক দিক—উভয়ই উল্লেখ করে তার হক আদায় করতে পারব।
(সাক্ষাৎকারটি ২০১৮ সনের তারপর শায়খ হামযাহ বাকরি ইবনে খালদুন ইউনিভার্সিটি হয়ে বর্তমানে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি আছেন এবং তামকিন-উসুলসহ একাধিক মাদরাসায় সময় দেন। হাফিযাহুল্লাহ)
31/01/2026
বাংলায় আকিদাতুত তহাবির প্রথম সুন্নি ব্যাখ্যাগ্রন্থ বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না। শীঘ্রই নিয়ে আসছি আমরা। রবের কবুলিয়াতের প্রার্থনা।
ইনশাআল্লাহ, গ্রন্থটি মাতুরিদি মাযহাব নিয়ে বিদ্যমান অজ্ঞতা ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করবে এবং মাযহাবের সঠিক মূলনীতি ও আকীদা জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তাফতাযানির শরহুল আকাঈদ গ্রন্থটি আত্মস্থ করতে না পারার একটি কারণ হলো—ধারাবাহিকতা রক্ষা না করেই উচ্চস্তরের কিতাবটি অধ্যয়ন শুরু করা। সমস্যার সঠিক সমাধানের জন্য আমাদের উচিত ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা। যেমন প্রাথমিকভাবে শরহুল আকীদাতিত তহাবিয়াহ (গজনবি) অধ্যয়ন করা যেতে পারে। এই গ্রন্থের ওপর রিবাতুল ইলমের একটি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই দরসের ভিত্তিতেই রচিত একটি গ্রন্থ ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই প্রকাশিত হবে।
এরপর উচিত মতনুল আকীদাতিন নাসাফিয়াহ অধ্যয়ন করা। তাফতাযানি ছাড়াও এ গ্রন্থের ওপর আরবি ও উর্দু ভাষায় বহু দরস ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে যা বাংলায় একদম অনুপস্থিত। এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে আমরা ইনশাআল্লাহ মতনের ওপর একটি দরস শুরু করতে যাচ্ছি। আগ্রহী তালিবুল ইলমদের যোগাযোগ করার অনুরোধ।
Click here to claim your Sponsored Listing.