14/07/2025
এক সেলিব্রেটি কাপলকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে খুব চুল টানাটানি চলছে।বিষয়বস্তু হচ্ছে মেয়েটা মুখ খুলেছে যে,সে তখন তরুনী মা ছিলেন।ভালো মন্দ সিদ্ধান্ত নিতে তার বেগ পেতে হয়েছিলো। ব্যস! আমরাও নিজেদের প্রতিভা দেখাতে শুরু করে দিলাম।কিভাবে তার উপর ঝাপিয়ে পরে তার চরিত্র নিয়ে কোপানো যায় তা বাঙালি রপ্ত করে তবেই এদেশে জন্ম নেয়।
আমি বাপু কাউকে মহা মনীষী বা কাউকে কলঙ্কিনী বলতে আসিনি। আমি একটা নিউট্রাল ব্যাখ্যা চাই। যে প্রশ্নটা কেউ করেনা।
এতো বছর সংসার করার পর কেনো বাচ্চা হওয়ার পর তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে? না, আমি বাচ্চার কি হবে? ভবিষ্যৎ কি? বাবা মা ছাড়া তার মেন্টালিটি কেমন হবে? এগুলার জন্য এই প্রশ্ন তুলিনি।
বাচ্চা হওয়ার এক বছর পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ডিভোর্সের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে। এর আগে তারা নাকি সম্পর্ক বাচানোর চেষ্টা করেছে,তারপরে আলাদা থেকেছে এবং এরপরে সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়েছে।
তার মানে কি দাঁড়ায়?? সময়টা মোটামুটি এক/দেড় বছরের! মানে এই বোঝাপড়ার সময়টার কথা বলছি।
আরেকটু মানে বের করার চেষ্টা করছি। সময়টা হলো ঐ মেয়ের প্রেগন্যান্সি,পোস্টপোর্টাম এবং বাচ্চার সবচেয়ে প্রাইমারি গ্রোয়িং স্টেইজ।
ধরে নিলাম,মেয়েটা খুব খারাপ,খুব স্বাধীনচেতা,খুব টেলেন্টেড,খুব মাল্টিটাস্কার।এগুলা খুব ই খারাপ,আমি ধরেই নিলাম।পুরুষবাদীরাও আমার সাথে একমত হবেন আশা করি। কিন্তু....
প্রেগন্যান্সি আর পোস্টপোর্টামের সময় একটা মেয়ে শারীরিক মানুষিক এমনকি আবেগিকভাবে কতটা নাজুক থাকে জানেন??
এই সময়টা কেন ঐ ভদ্রলোক স্বামী কোনো কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি? ডিভোর্স সিদ্ধান্তে আগে নিশ্চয়ই কচুকাটা ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলার সময় ঐ শিক্ষিত লোকটা কেন বুঝতে পারেনি যে,এখন ওর সময়টা খারাপ?
আমি কাউকে ডিফেন্ড করতে চাইনা।নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,এই সময়ের সমস্ত কিছু মানুষের মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।কোনো ভুলই মানা যায়না,কোনো কথাই ভোলা যায়না,ক্ষমা করাও সহজ হয়ে ওঠে না।সব মনের চিত্রপটে নতুন রং এর মতো সারাজীবন গন্ধ ছড়ায়।অনেক ভালো সম্পর্কও বীভৎস রূপ নেয়। আর ব্যাটামানুষগুলাও আছে; এই সময় এদের শয়তানে ধরে।আগে যতটা সাপোর্ট করতো,যত্ন নিতো,তাকে সময় দিতো,এই সময়ে তার অর্ধেকও দিতে চায়না।অথচ এই সময়ে এই লোকটাকে আরো বেশি দরকার।
এই সময়ে মেয়েরা স্বাধীনতা, ইচ্ছা ছেড়ে দিয়ে শারীরিক বাইন্ডিংস নিয়ে ঘরে থাকে আর পুরুষদের পাখনা গজায়। তার নতুন বন্ধু হয়,মালদ্বীপ ট্যুর থাকে, নতুন রেস্টুরেন্টে আড্ডা থাকে,বন্ধুদের গেট টুগেদার থাকে, সোমালিয়াই সোনা খোজার ধান্দাও থাকে।আর ঐ প্রেগন্যান্ট মেয়েটার প্রতিটি দিন যে কিভাবে যায় তা শুধু সে-ই জানে। হরমোনাল ইমব্যালেন্স মনকে অশান্ত করে তোলে,শরীরের কথা বাদ ই দিলাম।
আমার কাছে প্রতারণার একটা ভিন্ন মানে আছে। শুধু পরকিয়া বা ভিন্ন প্রেমকেই প্রতারণা বলে না। প্রতারণা হচ্ছে,আমি যা চাই(মানুষিক),তা ইচ্ছে করে প্রোপারলি না দেওয়াও প্রতারণা।
আমার ভালোর সময়টা উপভোগ করে মন্দের সময় ইগ্নোর করে চলাটাও প্রতারণা। আমি যেই ভালোবাসা পাওয়ার লোভে হাত ধরেছি, সেই ভালোবাসা যদি প্রতিদিন চাইতে হয় তাহলে সেটাও প্রতারণা।
আমাদের দেশের শ্বশুরবাড়ির মানুষের আচরণ বাদই দিলাম।আপনি যে একজন শিক্ষিত সুপুরুষ, আপনি কি পারতেন না এই সময়টা অন্যভাবে তাকে ভাবাতে? যেভাবে ভাবলে, আপনার মেয়ের জন্যেও এক জোৎস্না হাসি বরাদ্দ থাকতো। কলকাতা আর নিউইয়র্ক এর আকাশে কি সেই একই চাঁদ, একইভাবে আলো ছড়ায়??