28/09/2024
আসসালামু আলাইকুম সবাইকে , শেষ পর্বে আপনাদেরকে স্বাগতম , আজকে আমরা কথা বলবো ৩য় এবং শেষ পর্ব নিয়ে । চলুন শুরু করা যাকঃ
3.দাঁত ওঠা
আপনার বাচ্চার যদি দাঁত ওঠে তবে স্বাভাবিকের তুলনায় তার মাথা ও কপাল গরম হতে পারে।
কেন এটা হয়
দাঁত ওঠার কারণে বাচ্চাদের মাথা গরম হয়ে যেতে পারে।এটা শরীরের একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং উদ্বেগের মতো বিশেষ কিছু নেই।
আপনি কি করতে পারেন
প্যারাসিটামল এবং টিথিং জেলগুলি এব্যাপারে বাচ্চাদের উপশম আনার জন্য পরিচিত। দাঁত ওঠার কারণে যদি আপনার বাচ্চার মাথা ও কপাল গরম হয়ে যেতে এবং তাকে ঘামতে লক্ষ্য করেন, সেক্ষেত্রে তাকে আরও স্বস্তি দেওয়ার জন্য আপনি তাকে বেবি টীথারও দিতে পারেন।
4.থার্মোমিটার
কখনও কখনও একটা থার্মোমিটারও জানান দিতে পারে যে আপনার শিশুর তাপমাত্রা গরম, আর তা কেন? নীচে আলোচনা করা হলঃ
কেন এটা হয়
এর পিছনে থাকা কারণটি প্রকৃতপক্ষে হয়ে থাকতে পারে থার্মোমিটারটি‘ই, এবং আপনার সন্তান নয়।হতে পারে এটা কোনও ত্রুটিযুক্ত থার্মোমিটার এবং ভুল পরিমাপ দিচ্ছে।
আপনি কি করতে পারেন
যদি এটি একটা ত্রুটিযুক্ত থার্মোমিটার হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে আপনার প্রস্তুতকারকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত এবং ওয়ারেন্টি থাকা অবস্থায় সেটি বদলে নেওয়া দরকার।এছাড়া এব্যাপারে আর কিছু চিন্তা করার মত নেই।
5. এটা স্বাভাবিকও হতে পারে
কখনও কখনও আপনার শিশুর শরীরের তাপমাত্রা আসলে স্বাভাবিকই থাকে আর তা স্বাভাবিকের বাইরে আর কিচ্ছুই নয়।
কেন এটা হয়
হতে পারে আপনার হাতগুলোই ঠাণ্ডা আর তাই যখন আপনি আপনার শিশুর কপালে হাত দেন তা গরম মনে হয়।আবার মাঝেমধ্যে এটি এমন হয় কারণ তার দেহের তাপমাত্রা দুপুর / সন্ধ্যার সময় ওঠানামা করে, যা তার দেহকে, কপালকে গরম করে তোলে কিন্তু বাস্তবে তা আসলে কিছু ভুলই নয়।
আপনি কি করতে পারেন
যদি এটাই ঘটনা হয়ে থাকে, তবে শুধুমাত্র তার দেহের তাপমাত্রা রেকর্ড করুন আর তা ডায়রীতে তুলে নিন।যদি পাঠগুলি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে তা ঘটে, তবে সেক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই।
আপনার বাচ্চার কপাল বা মাথা যদি গরম হয়ে থাকে তবে ঘুমের সময় তাকে কীভাবে পোশাক করাবেন?
আপনার শিশুর কপাল বা মাথা যদি বেশ গরম হয়ে থাকে তবে ঘুমের সময় তাকে কোনও পোশাক পরাবেন না।আর এটিই প্রথম এবং সর্বাগ্র পদক্ষেপ।দেহের তাপমাত্রা যদি বেশি হয় আপনার পুচকেকে সারা রাত উলঙ্গ অবস্থাতেই ঘুমাতে দিন।একটু তেল–জল দিয়ে তার পেট ঘষে দেওয়া, জল পান করানো এবং শিথিল করে তোলার ব্যাপারটা নিশ্চিত করুন যাতে সে শান্ত হয়।তার গায়ের ওপর চাপা দেওয়া যেকোনও কাপড়ের ঢাকা সরিয়ে ফেলুন এবং ঘরের তাপমাত্রা 25 ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি না রাখা নিশ্চিত করুন।আপনার বাচ্চার দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাকে ঠাণ্ডা করতে অতিরিক্তভাবে আপনি আবার একটা ভেজা নরম কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন।
রাত্রে ভাল ঘুম হওয়ার জন্য আপনার ছোট্টটিকে যদি ড্রেস করানোর পরিকল্পনা করেন, তার ঘাড়ের অঞ্চলটি দেখে নিন যে তা গরম কিনা।আপনি একটি বেবি সোডেল এবং একটি হাতাওয়ালা বডিস্যুট ব্যবহার করতে পারেন যেটির সাথে কম্বল থাকে না।
যখনই সম্ভব আপনার বাচ্চাকে বিশুদ্ধ বায়ুর জন্য বাইরে খোলামেলায় নিয়ে যান। তাকে কোনও মোজা, জুতো পরতে দেবেন না বা কয়েক স্তর–যুক্ত কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখবেন না এবং যখনই তাকে সাজ করাবেন বা পোশাক পরাবেন সর্বদা নরম সুতির কাপড়ে তৈরী জিনিস পরান।কারণ যেকোনও খসখসে বা প্রখর জিনিস অথবা গরম পোশাক থেকে হিট র্যাশ বা হিট স্ট্রোক দেখা দিতে পারে।
কখন আপনার তাকে একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত?
উপরোক্ত কোনও একটি বিষয়ও যদি ঘটে থাকে তবে আপনার সন্তানকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
উপরে আলোচিত পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করার মাধ্যমে তাকে শীতল ও শান্ত করা সত্ত্বেও আপনার শিশুটি যদি কোনওরকম অসুস্থ ও অস্বস্তি বোধ করে, উতলা হয়ে ওঠে।
আপনার বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি দেওয়ার পরেও যদি তাকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূণ্য বলে মনে হয় এবং তার ওপর আবার যদি তার বমি বমি ভাব দেখা যায়, বমি করতে থাকে এবং ডায়রিয়া হয়ে থাকে তবে তা নির্দ্বিধায় একটি লাল সংকেত।
আপনার বাচ্চাকে যদি জ্বরে ধরে এবং এটি হালকা থেকে মারাত্মক দিকে চলে যায় এবং কোনওভাবেই না কমে , এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিটি শিশুই আলাদা এবং জ্বর–জাতীয় লক্ষণগুলি কিছু ক্ষেত্রে প্রদর্শিত হতে পারে যখন আসলে তাদের মধ্যে কোনও জ্বর থাকেই না। মাথা ও কপাল গরম হয়ে যাওয়া সাধারণত তাদের থার্মোরেগুলেশন সিস্টেম বিকাশের একটি অংশ হিসাবে ঘটে তবে আপনার তাপমাত্রা পরীক্ষা করে এবং লক্ষণগুলি সন্ধান করে এটিকে সর্বদা আপনার নিরাপদ দিকে রাখা উচিত।তবে এক্ষেত্রে আপনার যদি কিছু অন্যরকম বলে মনে হয়, এবং আপনি সেটা বাস্তবেই ধরে না উঠতে পারেন, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
27/09/2024
শিশুর মুখে র্যাশের প্রকার , কারন এবং চিকিৎসা ( শেষ পর্ব ) ।
শিশুদের ফেসিয়াল র্যাশের জন্য চিকিত্সা
যদি আপনার শিশুর মুখে র্যাশ হয় তবে আপনার প্রথমে এবং সর্বাগ্রে করণীয় হল র্যাশজনিত জ্বালা ও চুলকানিতে আরাম দেওয়া। এটি আপনার শিশুকে কিছুটা স্বস্তি সরবরাহ করবে এবং র্যাশ ছড়িয়ে পড়া বা আরও খারাপ হওয়া থেকে রোধ করবে।
আপনার ডাক্তার এমন কিছু ল্যাভেন্ডার মলমের পরামর্শ দিতে পারেন, যা আপনি আপনার শিশুর ত্বকে তুলো ব্যবহার করে প্রয়োগ করতে পারেন। এটি ত্বককে হাইড্রেট করতে এবং শিশুর ব্যথা ও অস্বস্তি হ্রাস করতে সহায়তা করবে। গুরুতর ক্ষেত্রে, চিকিত্সক হাইড্রোকোর্টিসোন ক্রিম ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে বা র্যাশ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অ্যান্টি–হিস্টামাইনগুলির পরামর্শ দিতে পারেন।
শিশুর মুখের র্যাশের জন্য ঘরোয়া প্রতিকার
বেশিরভাগ র্যাশ যেমন লাল র্যাশ, দুধের র্যাশ বা শিশুর মুখে তাপজনিত র্যাশ সহজ প্রতিকারের মাধ্যমে বাড়িতেই যত্ন নেওয়া যেতে পারে। যদি আপনার শিশুর মুখে এমন র্যাশ হয় যা গুরুতর নয় বা উপরে বর্ণিত অবস্থার কারণে হয়, তবে এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যবহার করে দেখুন।
১। আইস কিউব ব্যবহার করুন – র্যাশ থেকে জ্বালা হতে পারে, যা আপনার শিশুকে অস্বস্তি বোধ করাবে। ব্যথা প্রশমিত করতে আইস কিউব ব্যবহার করুন। একটি কাপড়ে ২–৩টি আইস কিউব রাখুন এবং এটি মুড়িয়ে দিন। তারপরে এটিকে আস্তে শিশুর ত্বকে বোলান। আইস কিউবগুলি ব্যাথা কিছুটা কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
২। বুকের দুধ ব্যবহার করুন – আক্রান্ত স্থানে বুকের দুধ ব্যবহার করাও র্যাশ নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে। আপনার শিশুর র্যাশ থাকলে আক্রান্ত স্থানে কিছুটা বুকের দুধ লাগান। এটি অ্যান্টিবডিগুলিতে পূর্ণ, যা র্যাশের চিকিত্সা করতে সহায়তা করবে। তাছাড়া, আপনার শিশুর এর প্রতি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
৩। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন – সেরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করুন, কারণ এটি ত্বকের সমস্যায় কার্যকারীভাবে উন্নত করতে পারে।
প্রতিরোধঃ
আপনারা জানেন যে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভাল, তাই সমস্যাটি বেশি দেরী হওয়ার আগে কেন কোনো গাফিলতি করবেন না। র্যাশ রোধ করতে আপনি নিতে পারেন এমন কিছু ব্যবস্থা এখানে রইল।
১। আপনার শিশুর ঘরে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন যাতে পার্শ্ববর্তী বায়ু শুষ্ক না থাকে এবং আপনার শিশুর ত্বককে শুষ্ক না করে।
২। আপনার শিশুর যদি র্যাশ হয়ে থাকে তবে অন্য লোকদেরকে অনুরোধ করুন যেন তারা শিশুটিকে একেবারেই না ছোঁয়। এমনকি কোনো র্যাশ না থাকলেও সংবেদনশীলতার ইতিহাস থাকলে, তাদের থেকে বাইরের সবাইকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং আপনার সন্তানের খুব বেশি স্পর্শ যেন না করে তা নিশ্চিত করুন।
৩। শিশু যদি নখ দিয়ে মুখ চুল্কাতে থাকে, তবে মুখের র্যাশ আরও বাড়তে পারে। নখগুলি ছোট রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন, যাতে র্যাশগুলি আর না বাড়ে।
৪। আপনার শিশুর শরীরের উপরের অংশ পরিষ্কার করতে সাবানের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ সেগুলি কঠিন হতে পারে এবং এমনকি বাড়ির কিছু জীবাণুও তাতে থাকতে পারে।
অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বক থাকলে আপনার শিশুর শরীরের উপরের অংশটি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন। পরিষ্কার জল ব্যবহার করা যথেষ্ট।
৫। যদি কোনো র্যাশ উপস্থিত থাকে তবে অঞ্চলটি পরিষ্কার করার জন্য নরম কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করুন। নিজে নিজেই শুকিয়ে যেতে দিন, এটিকে বেশি ঘষবেন না।
যদি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় না থাকে তবে শিশুর র্যাশগুলি ক্ষতিকারক হওয়ার পাশাপাশি চরম দিকে যেতে পারে। সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি আপনার শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন বাহ্যিক কারণগুলি প্রতিরোধ করতে পারেন এবং র্যাশ আরও বাড়া থেকে রোধ করতে পারেন। তবে, আতঙ্কিত হবেন না, কারণ আপনার শিশুটি এই পর্যায়ে দিয়ে ঠিক পেরিয়ে যাবে। আপনি যদি নিশ্চিত না হন তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে দ্বিধা করবেন না।
21/09/2024
জ্বর হওয়া ছাড়াও আপনার শিশুর মাথা বা কপাল কেন গরম হতে পারে?
আপনার বাচ্চা যদি মাথা ও কপাল গরম হয়ে যাওয়াতে ভোগে কিন্তু কোনও জ্বর না থাকে, তবে তা বিভিন্ন কারণের জন্য হতে পারে।এখানে তার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির কয়েকটি আলোচনা করা হলঃ
1.গরম জামা
আপনার বাচ্চার মাথা গরম হয়ে উঠতে পারে তাকে উলের বা সে জাতীয় কিছু গরম পোশাক পরানোর কারণে।
কেন এটা হয়
গরম পোশাক বাচ্চার দেহে তাপ আটকে রাখে এবং তার ফলে তার দেহ গরম হয়ে যায়।এটা তার সারা শরীরের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে এবং জ্বরের লক্ষণ ছাড়াই মাথা ও কপাল গরম হয়ে যায়।
আপনি কি করতে পারেন
তার পোশাক পাল্টে দিয়ে হালকা সুতির পোশাক পরান।বেশ কয়েক লেয়ার আছে এধরণের কাপড় বা এ জাতীয় কোনওকিছুর দিকে যাবেন না যার লেয়ারগুলিতে প্লাস্টিকের মোড়ক দেওয়া থাকে।যদি ব্যাপারটা জটিল লাগে, কেবল নিরাপদ থাকার জন্য রাতারাতি আপনার ছোট্টটিকে পোশাক ছাড়িয়ে দিন এবং উলঙ্গ অবস্থায় তাকে সারা রাত ঘুমোতে দিন।
2.উত্তেজিত হলে
যেকোনও শিশুরাই একদম শৈশবে থাকে কোনওরকম ভাবনাহীন, নির্ঝঞ্ঝাট এবং আনন্দে ভরা হৃদয়ের অধিকারী তবে তার এই ভাবনাহীন চিত্তটি কোনও কোনও কারণে বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে।হতে পারে সে বিরক্ত হয়ে ওঠে এবং চারপাশে অহেতুক ভীষণভাবেই ঘুরে বেড়ায় অথবা কোনও কারণ ছাড়া শুধুশুধুই উত্তেজিত হয়ে পড়ে।আর তার মাথা ও কপাল গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যাটিকে ঘিরে থাকতে পারে এই সবকিছুই।
কেন এটা হয়
চারপাশে ভীষণভাবে ঘোরাঘুরি করলে তা মাথায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং সমগ্র দেহের তাপমাত্রাটিকেই বাড়িয়ে তোলে।
আপনি কি করতে পারেন
প্রথমেই তাকে শান্ত করানোর চেষ্টা করুন এবং আপনার ছোট্টটিকে আরাম করতে দিন।তার কাছে থেকে তার প্রিয় সুরটি গুণগুণ করুন এবং চুমু দিয়ে ঘুম পাড়ান।এতে তার দেহ ঠাণ্ডা হবে এবং তাকে একটা ভাল তন্দ্রা এনে দেবে।
বাকি কারন গুলো আলোচনা করা হবে নেক্সট পর্বে । আমাদের সাথেই থাকুন , এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে লিখুন ।
20/09/2024
শিশুর মুখে র্যাশের প্রকার, কারন এবং চিকিৎসা ( পর্ব -২ ) ।
র্যাশের বিভিন্ন প্রকার
শিশুদের কয়েকটি সাধারণ ধরণের র্যাশ নীচে উল্লেখ করা হল।
১. শিশুদের একজিমা
শিশুদের একজিমাকে এটোপিক ডার্মাটাইটিস হিসাবেও অভিহিত করা হয়, সাধারণত রুক্ষ কাপড়, রাসায়নিক ডিটারজেন্ট বা অন্যান্য ত্বকের অ্যালার্জেন শিশুর সংস্পর্শে আসার পরে এই র্যাশ দেখা দেয়। এটি শুষ্ক, খসখসে ও লালচে বর্ণের হয় এবং সাধারণত মুখ, পা, বুকে ও হাতে দেখা দেয়।
২. শিশুর ব্রণ
এই ব্রণ প্রাপ্তবয়স্কের ব্রণগুলির মতো ততটা খারাপ নয়। একটি শিশুর মুখের উপর ছড়ানো ছোট ছোট র্যাশ হয় যা ব্রণ–র মতো এবং গোলাপী বর্ণের হয়, মায়ের হরমোনগুলির সংস্পর্শে আসার কারণে শিশুর ত্বকে এটি উপস্থিত হয়। শিশুর ব্রণ শিশুর জন্মের মাত্র ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পরেই প্রদর্শিত হতে পারে, তবে এটি প্রায় ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে যায় এবং শিশুর মুখের উপর কোনো চিহ্ন ছাড়ে না।
৩. ইমপেটিগো
ইমপেটিগো ত্বকের একটি সাধারণ অবস্থা যা সংক্রামক হয়। ইমপেটিগো একটি শিশুর মুখ, বিশেষত তার নাকের চারপাশে এবং তার হাতগুলিতে অত্যন্ত বিরক্তিকর লাল রঙের ফোসকা আকারে উপস্থিত হয়। এই অবস্থাটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আসলে এটি একটি সংক্রমণ ব্যাধি। চিকিত্সকরা সাধারণত এটি সনাক্তকরণের সাথে সাথে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিত্সার পরামর্শ দেন।
৪. মিলিয়া
আপনি যদি আপনার শিশুর মুখে ছোট সাদা রঙের দানা দানা দেখতে পান, তবে এগুলি মিলিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ। এগুলি হল সাবসিডারেল সিস্ট। এগুলি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়, অতএব কোনো চিকিত্সার প্রয়োজন নেই।
মিলিয়া
৫. ড্রিবল র্যাশ ।
সাধারণত শিশুর মুখের আসেপাশে অঞ্চল জুড়ে দেখা যায়, গালে বা ঘাড়ের ওপারে, ড্রিবল র্যাশ হয়। যেমনটা এর নাম, ঠিক তেমনই এর কারণ হল – শিশুর মুখ থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় লালা বের হওয়া। যদি লালা ঘন ঘন মুছে ফেলা না হয় এবং এই অঞ্চলগুলিতে জমে থাকে তবে এর ফলে এই ধরণের র্যাশ হয়।
৬. সেবোরেহেইক ডার্মাটাইটিস
প্রাথমিকভাবে শিশুর ত্বকের যে অংশগুলিতে লোম উপস্থিত রয়েছে সেখানে দেখা যায়, এটি পরে শরীরের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এই র্যাশ ছোট লাল ফোলা অংশ ও মাথার ত্বকে হলুদ বর্ণের কিছু ক্রাস্টি স্কেল আকারে উপস্থিত হয় এবং এমনকি ভ্রু ও চোখের পাতাতেও দেখা দেয়। এর সাথে চুলকানিও হয়। এর পেছনের কারণটি হল মূলত শিশুর ফর্মুলা দুধ বা পরিপূরক খাবারের কোনো উপাদানে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া।
৭. স্ল্যাপড চিক সিন্ড্রোম
স্ল্যাপড চিক সিন্ড্রোম একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা এক বা উভয় গালে উজ্জ্বল লাল র্যাশ বিকাশের দিকে পরিচালিত করে। গালে র্যাশ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে যদি হাত, বুক এবং পায়ের মতো শরীরের অন্যান্য অংশে এই র্যাশ বিকাশ হয় তবে অদৃশ্য হতে প্রায় ৭–১০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। যদিও এই র্যাশ স্কুলে যাওয়ার বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়ম তবে এটি যে কোনো শিশুর হতে পারে। এই র্যাশ সাধারণত বেদনাদায়ক হয় না এবং এটি নিজে নিজেই অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে আপনার শিশুর যদি দীর্ঘকাল ধরে র্যাশ থাকে তবে আপনার চিকিত্সকের সহায়তা নেওয়া উচিত।
৮. অন্যান্য কারণ
অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া এবং শুষ্ক ত্বকের সমস্যা ছাড়াও পোকামাকড়ের কামড় থেকে শুরু করে চরম তাপের মধ্যে প্রকাশ পর্যন্ত, বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরণের র্যাশ দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘাড়ে এবং পিঠে পর্যবেক্ষণ করা হয়, এই ধরণের র্যাশের নাম স্যামন প্যাচস, এরিথেমা টক্সিকাম এবং মঙ্গোলিয়ান দাগগুলি, এর মতো নির্দিষ্ট শর্তগুলি অস্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হতে পারে, এগুলি ক্ষতিকারক হয় না।
16/09/2024
লিম্ফ নোডগুলি মানবদেহের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের একটি অংশ। তারা মানবদেহকে টনসিল, প্লীহা এবং অ্যাডিনয়েডের মতো ক্ষতিকারক জীবাণু এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
লিম্ফ নোডগুলির একটি বৃত্তাকার, শিমের মতো আকৃতি রয়েছে। এগুলি ঘাড়ের চারপাশে, বাহুগুলির নীচে এবং উরু এবং ধড়ের ক্রিজগুলির মধ্যে উপস্থিত থাকে। অনেক সময়, ফুলে যাওয়ার কারণে এগুলি ছোট ফুসকুড়ি হিসাবে অনুভূত হতে পারে।
যখন শরীরে সংক্রমণ বা টিউমার হয়, তখন লিম্ফ নোডগুলি ফুলে যায়।
ইনফেকশন সেরে গেলে ফোলা কমে যায়। সমস্ত রোগের কারণে লিম্ফ নোড ফুলে যায় না। কখনও কখনও ওষুধ এবং ক্যান্সার লিম্ফ নোডগুলি ফুলে যেতে পারে। তাই যখন ফোলা লিম্ফ নোড 10 দিনের বেশি স্থায়ী হয় তখন আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। এছাড়াও, যদি ফুলে যাওয়া ব্যথা, জ্বর, গলা ব্যথা বা অন্যান্য জটিলতার দিকে নিয়ে যায়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
ফোলা লিম্ফ নোড সংক্রমণ, ক্যান্সার, বা অটোইমিউন ডিসঅর্ডারের অন্যতম ইঙ্গিত। ফোলা জায়গাটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, যদি এটি ঘাড়ের চারপাশে থাকে তবে এটি উপরের শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ফলে হতে পারে।
14/09/2024
একটি শিশুর দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 36.5 ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে 37.5 ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।যখন আপনার বাচ্চার দেহ তার থেকেও অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে, সে হঠাৎ শিশু মৃত্যু সিন্ড্রোম (এসআইডিএস)-এ আক্রান্ত হয়, যা মারাত্মক।এটা হয়ে থাকে এই কারণে যে কোনও শিশুর থার্মোরেগুলেশন সিস্টেম বা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অথবা শরীরের যে অংশটি তার দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বিকাশের অধীনে থাকে এবং এখনও কাজ করে।একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে যদিও এর জন্য সাথে সাথে আপনার বাচ্চাকে তার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই তবে যতটা দ্রুত সম্ভব তাপমাত্রা কমানোর জন্য আপনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন।মনে রাখবেন যে এসবক্ষেত্রে শিশুর হাত এবং পায়ের তলা মাথার তুলনায় সাধারণত ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।
13/09/2024
শিশুর মুখে র্যাশ – প্রকার, কারণ এবং চিকিৎসা ( পর্ব -১ )
শিশুর মুখে র্যাশের কারণ
শিশুর ত্বক খুবই সংবেদনশীল, তাই এতে র্যাশ বা জ্বালা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। শিশুর মুখে র্যাশ হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ এখানে দেওয়া হল।
১. খাবারে অ্যালার্জি
আপনার শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার জিনিসগুলি খাওয়ার ফলেও র্যাশের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। মা এই জিনিসগুলি খেলে তা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর কাছেও স্থানান্তরিত হতে পারে। যদি আপনার শিশু পরিপূরক খাবার বা ফর্মুলা দুধ খায়, তবে তাঁর নির্দিষ্ট কিছু উপাদানও একটি শিশুর মধ্যে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এবং তার মুখের উপর র্যাশ হতে পারে।
২. রাসায়নিক বিক্রিয়া
কখনও কখনও, কোনো শিশুর পোশাক যদি সঠিকভাবে ধোওয়া না হয়ে থাকে, শিশু যদি এমন পোশাক পরে, তবে তার র্যাশ হতে পারে। আপনার শিশুর পোশাক, বিছানা বা অন্য যে কোনো কাপড় যা আপনি আপনার শিশুর সংস্পর্শে আনছেন তা ধোয়ার জন্য আপনি যে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করেন তার কারণেও র্যাশ হতে পারে। একইভাবে, ব্যবহার করা ক্রিম, সাবান বা সুগন্ধি পদার্থও শিশুর মধ্যে একই রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
৩. জলবায়ুর চরম অবস্থা
শিশুদের ত্বক তীব্র সংবেদনশীল হয়, যা আশেপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়। যদি বায়ু অত্যন্ত গরম থাকে বা এসির তাপমাত্রা খুব উচ্চ হয়ে যায়, তবে শিশুর ত্বক জলশূন্য হতে পারে, যার ফলে র্যাশ দেখা দেয়। বাহ্যিক আবহাওয়ার কারণে শিশুর পক্ষে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
৪. সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না থাকা
হাত না ধুয়ে শিশুকে ধরলে জীবাণু এবং অন্যান্য কণা শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে, তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যদিও র্যাশ অদৃশ্য হয়ে যায়, জীবাণুগুলির উপস্থিতি এটিকে আবার প্রদর্শিত করতে পারে।
যদি ঘরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা হয় তবে এটি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যার ফলে র্যাশ দেখা দিতে পারে। আপনি যদি নিয়মিত নিজের ঘর বা আপনার শিশুর খেলনা পরিষ্কার না করেন বা জীবাণুমুক্ত না করেন তবে ঘরে বা খেলনাগুলিতে থাকা ধূলিকণা ঘরের চারদিকে ঘুরতে পারে। এই ধূলিকণাগুলি যদি শিশু শ্বাসের সাথে প্রবেশ করে বা তার ত্বকের সংস্পর্শে আসে তবে এতে র্যাশ দেখা দিতে পারে।
৫. পোষা প্রাণী থেকে অ্যালার্জি
বাড়িতে পোষা প্রাণী উপস্থিতিও আপনার শিশুর মধ্যে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। পোষা প্রানীর লোম সাধারণত বাড়ির ভিতর চারপাশে ঘুরে বেরায় এবং অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া ট্রিগার করতে পারে। আপনি যদি আপনার পোষা প্রাণীর সাথে খেলেন, তবে আপনার শিশুটিকে আপনার কোলে নেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার হাত এবং শরীরে আপনার পোষ্যের কোনো লালা বা লোম না থাকে, তা পরিষ্কার করে নিন।
12/09/2024
শিশুদের যখন তাদের ইচ্ছামত খেলার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে তখন তাকে স্বাধীন খেলাধুলা বলা হয়। তারা নিজেরাই সবকিছু বেছে নিতে পারে। খেলার উপকরণ, আগ্রহের বিষয়, এমনকি কোনো ঘটনা বেছে নেয়ার স্বাধীনতাও তাদের রয়েছে। স্বাধীনভাবে খেলার সময়, দিন, এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে শিশুরা যেভাবে বিষয়গুলো বেছে নেয়, তার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের প্রকাশ করতে পারে। এই ধরনের সুযোগ শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি শিশুই স্বতন্ত্র এবং তাদের নিজেদের প্রকাশ করার স্বতন্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন উপায় রয়েছে। আপনার এমন এক শিশু থাকতে পারে যে আঁকতে চাইতে পারে, আবার অন্য এক শিশু একটি ধাঁধা জাতীয় খেলা খেলতে পছন্দ করতে পারে। প্রতিটি শিশুই তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন উপায় বেছে নেয়।
কিছু কিছু সময় আছে যখন বাচ্চাদের একা বা স্বাধীনভাবে খেলা ভাল। কারণ একা একা খেললে তারা অধিকতর সৃজনশীল হতে পারে । যখন একটি শিশু একা খেলে, তখন নিজের কল্পনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করছে। এবং শৈশব থেকেই সে স্বাধীন হয়ে উঠছে।” অল্প বয়সে এমন স্বাধীন হয়ে গড়ে উঠা তার পরবর্তী জীবনের জন্য বেশ উপকারী।
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা শেখার জন্য স্বাধীনভাবে খেলাও গুরুত্বপূর্ণ।