01/10/2025
❖পূজার সময় জিন-জাদুর প্রভাব থেকে বাঁচতে সতর্কতা ও করণীয় -
চলে এসেছে পূজার সময়—যে সময়টি জ্বিন-জাদুর পেশেন্টদের জন্য বেশ এলার্মিং! বছরের বিশেষ কিছু সময় রয়েছে, যে সময় গুলোতে জাদুকররা জাদু রিনিউ করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তার মধ্যে হিন্দুধর্মের পূজো-পার্বণের এই সময়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এর পিছনে অবশ্য বেশ অনেক কারণ রয়েছে। সহজভাবে বলতে গেলে—
➭পূজার সময় এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষ মূলত জ্বীন/শয়তানদের সৃষ্টিকর্তার আসনে বসিয়ে শিরক ও কুফরে লিপ্ত হয়।
➭এ সময় পূজার মূর্তির জন্য অনেক কিছু বলি (উৎসর্গ) করা হয়, যেটাতে শয়তান খুশি হয়।
➭যারা কুফরি কালামের মাধ্যমে জাদুবিদ্যার চর্চা করে, তাদের এই কাজের শক্তি এসময় আরও বৃদ্ধি পায়।
📖 উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেনঃ প্রত্যেক মূর্তির সাথে একজন করে নারী জিন থাকে’ (আহমাদ হা/২১২৬৯)।
তাই এ সময়টি জ্বিন-জাদুর পেশেন্টদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাদের সমস্যা নেই তারাও এ বিষয়গুলো যথাসম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করাই সতর্কতার দাবি।
➤এ সময় করণীয় :
✅বাড়ির পরিবেশ চেক করা
বাড়িতে হারাম কিছু থাকলে দ্রুত সরিয়ে ফেলা (গান-বাজনা, ছবি, মূর্তি, পুতুল ইত্যাদি)।
✅হেফাজতের আমল কন্টিনিউ রাখা
সকাল-সন্ধ্যার আমল নিয়মিত পড়া। ভুলে গেলে মনে পড়ার সাথে সাথেই পড়ে নেওয়া।
✅দোয়া ও যিকর
বাথরুমে প্রবেশ/বের হওয়ার দোয়া পড়া।
ঘরের দরজা-জানালা খোলা/বন্ধ করার সময় আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ বলা।
বাসায় প্রবেশ/বের হওয়ার সময় সালাম দিয়ে ও বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ/বের হওয়া।
✅সূর্যাস্তের পর থেকে নিয়ে মাগরিব পর্যন্ত
এই সময় বাহিরে না থাকা এবং বাচ্চাদের ঘরের
ভিতরে নিয়ে আসা।
✅পূজা মণ্ডপ এড়িয়ে চলা
সম্ভব হলে পূজা মণ্ডপ আছে এমন রাস্তা এড়িয়ে অন্য রাস্তা ব্যবহার করা।
বাধ্য হয়ে পূজা মণ্ডপ দিয়ে যেতে হতে হলে, আয়াতুল কুরসি ও তিন কূল পাঠ করতে থাকা।
✅রাতে ঘুমানোর আগে
অজু করে ঘুমানো।
শরীরে মাসেহ করে ঘুমানো।
✅রুকইয়াহ অডিও শোনা
চেষ্টা করুন এই দিনগুলোতে বাসায় নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত জারি রাখা, অথবা তিলাওয়াত সম্ভব না হলে প্রতিদিন সূরা বাকারার অডিও কিছু সময় জোরে সাউন্ড দিয়ে অন করে রাখা এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা।
✅রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট তৈরি রাখা
পানি ও অলিভ অয়েল আগে থেকে প্রস্তুত রাখা।
❖রুকইয়াহ পানি ও অলিভ অয়েল তৈরির নিয়ম :
প্রথমে ওযু করে নিন।
এরপর বিসমিল্লাহ ও দুরূদ পাঠ করে নিয়ত করুন—
“সমস্ত ধরনের জিন ও মানুষের বদ নজর, বদ প্রভাব থেকে হেফাজত ও সুস্থতার নিয়তে এই রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছি।”
এরপর সামনে এক বোতল পানি ও অলিভ অয়েল নিয়ে পাঠ করুন:
●সূরা ফাতিহা
●আয়াতুল কুরসি
●চার কূল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস, কাফিরুন)
●আয়াতে শিফা - (সূরা তাওবাহ্ আয়াত-১৪, সূরা ইউনুস আয়াত-৫৭, সূরা নাহল আয়াত-৬৯, সূরা বানী ইসরাইল আয়াত-৮২, সূরা হা মিম সাজদা আয়াত-৪৪)
এই সবগুলোই তিনবার/সাতবার করে পড়ুন ও প্রতিবার পড়া শেষে পানি এবং অলিভ অয়েলে ফুঁ দিন।
❖ব্যবহারের নিয়ম :
●এসময় রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে বা ভয় পেলে এক গ্লাস রুকইয়াহ পানি পান করুন।
●যাদের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এসময় মাথা বা শরীরে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব হলে এবং ওষুধেও কাজ না করলে আক্রান্ত স্থানে তৈরি করা রুকইয়াহ অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
●বাসার খুব নিকটে পূজা মণ্ডপ হলে বা এসময় বাসায় সমস্যা অনুভব করলে সকাল-সন্ধ্যায় রুকইয়াহর কিছুটা পানি চারদিকে ছিটিয়ে দিন।
●এসবের পরও যদি কারও সমস্যার মাত্রা বেশি হয়ে যায়, তবে অবশ্যই কোনো রুকইয়াহ কনসালটেন্টের পরামর্শ নিন অথবা বিশ্বস্ত কোনো রাকির শরণাপন্ন হোন।
সর্বোপরি আল্লাহ তাআলার নিকট বেশি বেশি দুআ করুন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর উপরে ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআলা আমাদের সমস্ত ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজতে রাখুন, আমিন।