08/11/2024
সক্রেটিস করেছিলেন দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি সুন্দরী ছিলেন বটে! কিন্তু মুখে ছিলো বিষ, চোখে ছিলো আগুন। সক্রেটিসের ঘরে ঝগড়া লেগেই থাকতো।
সারাদিন জ্ঞান বিলায় লোকটা। বিনিময়ে একটি কড়িও নেয় না। কোনো আয় নেই, উপার্জন নেই। ঘরে তিনটি সন্তান, এক স্ত্রী। এর উপর করেছে দ্বিতীয় বিয়ে। মির্টো নামের এক মেয়েকে!
বাপের কিছু সম্পদ আছে তার। একে বাড়াবে দূরে থাক, গরিবদের দিয়ে শেষ করে চলছে।
কতো আর সহ্য করবেন জ্যানথিপি?
একরাতে ঘরে নেই খাবার, ছেলে-মেয়ে কেঁদেকেটে ঘুমিয়েছে। সক্রেটিস ঘরে বসে ধ্যান করছেন। জ্যানথিপির সহ্য হলো না। শুরু করলেন বকা।
যেই সেই বকা নয়, ভয়াবহ কিছু!
সক্রেটিস ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে এসে চাঁদের আলোয় শুরু করলেন বইপড়া।
জ্যানথিপি এটা দেখে তো আরো আগুন!
করলেন কী? ঘরে সারা দিনের জমানো ময়লাপানি ছিলো এক গামলায়। সেই গামলার পানি ঢেলে দিলেন সক্রেটিসের উপর!
সক্রেটিস রাগ করলেন না। লাঠিও তালাশ করলেন না। হেসে বললেন, এতো গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জনের পরে এক পশলা বৃষ্টি না হলে কেমনে শোভা পায়?
গ্রীষ্ম হোক, শীত হোক, সক্রেটিসের গায়ে থাকতো একটাই কোট। সব ঋতুতে এটাই পরতেন। অন্য কোনো জামা ছিলো না তার। পায়ে থাকতো না কোনো জুতা।
তাকে বলা হলো, সুখের সুযোগ ত্যাগ করে এতো কষ্টের জীবন কেন বেছে নিলেন?
তিনি বললেন, এটা বেছে নিলাম, যাতে লোভের কুকুরগুলো বুঝে সত্য জ্ঞান ও স্বাধীনতা এমন এমন এক সুখ, যাকে ক্রয় করতে হয় কষ্ট ও কৃচ্ছ্রতার বিনিময়ে!
সেখান থেকেই আমরা পাই তাঁর বিখ্যাত উক্তি " যদি তুমি ভালো বউ পাও তাহলে তুমি সুখি হবে আর না পেলে তুমি দার্শনিক হবে"।