05/10/2023
বিশেষ শিশু ও আমাদের সামাজিক ভাবনা
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এখনো আমারা বিশেষ শিশুদের সাথে কি ধরনের সামাজিক ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া করতে হবে তা সঠিকভাবে জানিনা।
কিছু মানুষ জানেন যারা সরাসরি বিশেষ শিশুদের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত। সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষায় একটি কথা আছে সেটা হচ্ছে "সামাজিক রীতিনীতি" এই বিষয়টি এখনও আমাদের সামাজিক রীতিনীতির আওতায় আসেনি। বলতে গেলে একটি বিশেষ শিশুর সাথে কি ধরনের আচরণ করতে হবে তা আমাদের সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়নি আরো অনেক আগে অটিস্টিক কিংবা স্নায়বিক বিকাশগত প্রতিবন্ধকতা আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাগল বলা হত কিন্তু এখন আর পাগল বলে না সামাজিক ধারনার পরিবর্তন হয়েছে।
এখন কথা হল, আরও অনেক অনেক পরিবর্তন হওয়া দরকার
এখনো বাংলাদেশে কিছু মানুষ বিশেষ শিশুদের অবজ্ঞা করেন উনারা বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি এখনও বাংলাদেশের একশ্রেণীর মানুষের বদ্ধমূল ভুল ধারণা হলো পিতা-মাতার কোন পাপের কারণে সন্তান বিশেষ হয়।সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যেক পিতামাতার জন্য উপহার। আল্লাহ চানতো সন্তান দান করেন প্রত্যেকটি সন্তান পিতা মাতার কাছে কলিজা ছেড়া ধন আর আল্লাহ যখন কোন পিতা-মাতা কে বিশেষ শিশু দান করেন তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য পিতা-মাতার মনে ভালোবাসা উনার আরেকটি স্বাভাবিক সন্তানের চেয়ে অনেক বেশি গুণে গুণে বাড়িয়ে দেন ।
আপনারা যারা বদ্ধমূল ধারণা করে বসে আছেন এবার আপনাদের কে বলি যেদিন আপনার কিংবা আপনার রক্ত সম্পর্কিত কারো এই ধরনের আল্লাহর দানকৃত বিশেষ শিশু জন্ম নিবে সেদিন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন। এটা কি আসলেই কোন পাপের ফসল নাকি প্রকৃতির খেয়ালে আল্লার ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করে একটি বিশেষ শিশু। সেদিন আপনার ভুল ভেঙে যাবে আপনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শুরু করবেন। শিশু কেন বিশেষ হয়ে জন্মগ্রহণ করে তা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়নি।
যে কোন মানুষের সন্তান বিশেষ শিশু হতে পারে সে ক্ষেত্রে আমি ,আমরা, তুমি ,তোমরা ,আপনি ,আপনারা কেউই বাদ যান না। সকলের শিশু বিশেষ হতে পারে।
অনেকে মনে করেন বিশেষ শিশুর পিতা মাতারা সুখী নন, তাদের ঘরে বিশেষ শিশু আছে তারা খুবই অসুখী আমি বলব আপনি ভুলের রাজ্যে বসবাস করছেন ।প্রায় সব বিশেষ শিশুর পিতা-মাতারা যখন তার সন্তানের কাছ থেকে ছোট ছোট আনন্দ পায় তখন আনন্দে উনাদের চোখে পানি চলে আসে।যখন পিতা-মাতা কোন বিশেষ শিশুকে নিয়ে কিঞ্চিৎ কষ্ট অনুভব করেন তখন তিনি যখন তার ঘুমন্ত শিশু দিকে তাকান তখন আদরে আহ্লাদে পিতা-মাতা চোখে পানি চলে আসে। আমি অনেক পিতা-মাতাকে চিনি যারা বিশেষ শিশু আল্লাহ তাকে দিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং অনেক সুখ অনুভব করেন কোন কষ্ট অনুভব করেন না।
এখন মূল কথা হলো আমাদের সামাজিক রীতিনীতি এবং রীতিনীতি গুলোর চর্চার মাধ্যমে সামাজিক অভ্যাস কিভাবে গড়ে তুলতে হবে সমাজের সর্বস্তরে বিশেষ আইন এবং নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে সমাজের 10 100 1000 জনে চেষ্টা করলে সারা দেশে সামাজিক অভ্যাস গড়ে উঠবে না
সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণের সময় সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করতে হবে। যত সামাজিক প্রতিষ্টান আছে সেখানে বিশেষ শিশুরা বিনাপ্রশ্নে সর্বোচ্চ সামাজিক সুবিধা গ্রহণ নিশ্চিত করবে। সারাদেশের সকল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু কে একটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় পত্র প্রদান করার মাধ্যমে সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান যেমন বাজার,শপিং মল প্লেগ্রাউন্ড ,বিদ্যালয় ,মসজিদ-মন্দির ,ধর্মীয় উপাসনালয় দর্শনীয় স্থান, পার্ক ,রেস্টুরেন্ট ,দোকান যানবাহন ,গণপরিবহন, মিউজিয়াম,লাইব্রেরি সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিনা প্রশ্নে বিশেষ শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা দান করতে হবে শিশুদের বিনামূল্যে এন্ট্রি করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে আরও সকল প্রকার সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সকল সাধারণ সেবাগ্রহীতার হতে একটি বিশেষ শিশুকে সবার আগে সেবা প্রদান করতে হবে। সরকার এই ব্যপারগুলো আইন করার মাধ্যমে সিদ্ধ করবেন। সাধারণ জনগণ আইন মানতে বাধ্য হবে এই বিষয়গুলোর চর্চা করবে যখন,তখন আস্তে আস্তে শিখবে, সমাজ পরিবর্তন হবে।
একটি বিশেষ শিশুকে সামান্যতম সুবিধা বেশি দিতে হবে তার প্রতি কিছুটা নমনীয় হতে হবে আইন ও সামাজিক রীতি নীতি শিথিল করতে হবে তাদের নাপারা বা ভিন্নভাবে পারাটা কে একটু ধৈর্য নিয়ে সহ্য করতে হবে তাহলে দেখবেন সেও পারবে ইনশাল্লাহ।
এবার আসেন কিছু সামাজিক অবস্থার কথা বলি
যেগুলো অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে
"একটি বিশেষ শিশুকে দেখলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা"
অনেক দেখবেন রাস্তায় বা যেকোনো জায়গায় একটি বিশেষ শিশুকে দেখলে তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে যেন সে অন্য গ্রহ থেকে আসা কোন একটা কিছু দেখছে ।এটা একটা অসংলগ্ন আচরণ এতে করে তার পাশে থাকা তার বাবা-মা ভাইবোন এরা কষ্ট পায় এগুলো করা যাবে না এটা বন্ধ করতে হবে আমরা একটা বিশেষ শিশুকে দেখলে 2 সেকেন্ড তাকাতে পারি কারণ আমরা দেখব তার কি কোন ধরনের সহযোগিতা লাগবে কিনা যদি লাগে তাহলে করবো না লাগলে চলে যাব।
আত্মীয়-স্বজনদের বিশেষ করে পিতামাতাদের একই ধরনের প্রশ্ন করা দুঃখ প্রকাশ করা
যেমন আপনার বাচ্চার কি কোন সমস্যা আছে ?এমন করে কেন? বিশেষ শিশুরআত্মীয়-স্বজন কিংবা পিতামাতাদের এমন প্রশ্ন করা যাবে না। কারণ এই প্রশ্ন যিনি করেন তার কাছে প্রথম এবং একবারে মনে হয় কিন্তু যিনি উত্তর দেন তিনি যে কি পরিমান সময়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন এবং আপনাদের দুঃখ প্রকাশ গুলো শুনেন একটা সময় গিয়ে এগুলো উনার কাছে খুবই লজ্জার এবং কষ্টের হয়ে যায় সুতরাং একটা বিশেষ শিশুকে দেখলে বুঝার চেষ্টা করবেন।
সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা কোনো পাবলিক প্লেসে বিশেষ শিশুদের মেনে নিতে হবে,মাথায় রাখতে হবে কোন অসংলগ্ন ও অসামাজিক আচরণ(চিৎকার করা, অস্থিরতা করা,ভাঙচুর করা) যেই শিশুটি করছে সে মনে হয় বিশেষ শিশু একটু সময় নিয়ে নির্ণয় করুন সেকি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কেউ তাহলে তাকে নিয়ে বিনা প্রশ্নে ছাড় দিতে হবে মেনে নিতে হবে।
আর একটা কথা ,কিছু মানুষ বিশেষ শিশুদের দেখলে ভয় পাওয়া বা ভয় পাওয়ার মতো করে একটা ভাব করে
এখন এটা ভয় থেকেই করে নাকি বিশেষ শিশুকে দেখে নাক ছিটকানো একটা ভাব তৈরি হয় আমি অনেকের মাঝেই দেখি এগুলো করা যাবেনা। কেন করা যাবে না বিশেষ শিশুকে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই একটু তার পাশে গিয়ে তার সাথে ম্রিয়মাণ কন্ঠে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে আপনাকে ভূবনডাঙা একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে প্রথম দেখাতেই আপনার মন কেড়ে নিবে সুতরাং এগুলো করা যাবেনা।
একচেটিয়া মায়েদের দোষারোপ করা
সন্তান জন্মে হয় পিতার এক্স ওয়াই ক্রোমোজোম ও মায়ের এক্স এক্স ক্রোমোজোম মিলনের ফলে। সে ক্ষেত্রে মাকে কিংবা বাবাকে কাউকে কোন ধরনের দোষারোপ করা যাবে না বিশেষ করে একচেটিয়া মাকে দোষারোপ করা যাবে না কারণ সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রে পিতা মাতা সম্পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় সে ক্ষেত্রে তার মাকে পারিবারিকভাবে সামাজিকভাবে বিভিন্ন হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা যাবেনা ।