14/04/2026
ইস্তিগফারের ২০টি উপকারিতা—
১) আল্লাহ তায়ালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
২) রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় আমল।
৩) গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম।
৪) জান্নাত লাভের মাধ্যম।
৫) অন্তরের অন্ধকার দূর করে।
৬) এর দ্বারা আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়।
৭) আল্লাহ তা'য়ালার রহমত নাজিল হয়।
৮) কবরের সর্বোত্তম প্রতিবেশী।
৯) এর দ্বারা সবরকম শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।
১০) হালাল রিজক বৃদ্ধি হওয়ার বিশাল আমল।
১১) নফসকে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি, হতাশা, অবৈধ যৌনক্ষুধা, কুমন্ত্রণা গুনাহের আবর্জনা থেকে পবিত্র করে।
১২) নেক সন্তান লাভের মাধ্যম।
১৩) সর্বরোগের চিকিৎসা।
১৪) এর দ্বারা দুনিয়ায় মানুষের সর্বোত্তম জীবন লাভ হয়।
১৫) এটা গ্রহণযোগ্য আমলের নিরাপত্তা।
১৬) এর দ্বারা বিপদাপদ দূর হয়।
১৭) এর বরকতে মানুষের নিজস্ব আসল মর্যাদা এবং ফজিলত লাভ হয়।
১৮) উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ হয়।
১৯) অন্তর চক্ষু খুলে যায়।
২০) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল - আল্লাহ তা'য়ালার সাথে বান্দার সম্পর্ক ঠিক হয়।
[বই : ইলা মাগফিরাহ, পৃ. ৩২২-৩২৩]
08/03/2026
হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যেই সাওম পালন করেছি এবং আপনার দেয়া রিযিক দ্বারায় ইফতার করছি।
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮
07/03/2026
রামাদান এমন এক নিয়ামত যার জন্য অনেক কবরবাসীই উদগ্রীব হয়ে আছে। অন্ধকার মাটির ঘরে শুয়ে তারা আফসোস করে যাচ্ছে— ইশ! যদি আরেকটি বারের জন্যেও তারা রামাদান পেত। সেই সাথে আমরা যারা রামাদান পেয়েছি, তাদের মধ্যেও অনেকেই রামাদানের সদ্ব্যবহার না করার জন্য পরে আফসোস করবে।
[বই : ধূলিমলিন উপহার রমাদান, পৃ. ১১]
06/03/2026
দরুদ পড়েছেন তো⁉️
দরুদ পড়ুন : اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
(আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ)
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমত ও শান্তি দান করুন।
— সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ১/২৭৩
02/03/2026
- একটা মানুষের ভাগ্য ততো বার পরিবর্তন হয়, যতো বার সে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে, আলহামদুলিল্লাহ! 🤍🌸
02/03/2026
হে আল্লাহ, এ যুগের ফেরাউন-নমরুদদের দম্ভ চূর্ণ করে ধূলায় মিশিয়ে দিন।
01/03/2026
📌আজ পশ্চিমা জুলুমবাদী বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রস্তাবনা দানকারী মহান মুজাহিদ, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের মহান নেতা প্রফেসর ডঃ নাজমুদ্দিন এরবাকানের মৃত্যুবার্ষিকী।
সেক্যুলার তুরস্কের জমিনে দাঁড়িয়ে উসমানী ধারার মিরাসকে উপজীব্য করে নতুনভাবে বিজয়ী ইশতেহার উপস্থাপন করেন প্রফেসর ডঃ নাজমুদ্দিন এরবাকান।
"আমাদের রাজনীতি অধিকারহারাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার রাজনীতি, আমাদের রাজনীতি অভুক্তদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার রাজনীতি" এর ন্যায় মাসলাহাতের আলোকে মুক্তিকামী রাজনীতির সর্বোচ্চ উপমা তুলে ধরা এ মহান মুজাহিদ আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন একটি বসবাসযোগ্য দেশ ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন দুনিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। গড়ে তুলেছেন ইউরো-এশিয়া অঞ্চলের আপামর মানুষের মুক্তিকামী আন্দোলন, কৃষ্ণসাগরকে উত্তাল করে গোটা বনি আদমের সাআদাতের জন্য সংগ্রামকারী জিহাদী আন্দোলন "মিল্লি গরুশ"।
আশির দশকে তুরস্কের অগ্নিগর্ভা জমিন থেকে বেড়ে ওঠা আন্দোলন মিল্লি গরুশ বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলন ও উম্মাহর চেতনাকে জাগ্রত করে নতুন ঢেউ তৈরি করে। মুসলিম উম্মাহর সকল নির্যাতিত অঞ্চলকে সহায়তা প্রদান,মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলা, নতুন রাজনীতির ইশতেহার প্রদান এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে উন্নয়ন; কি করেনি মিল্লি গরুশ। সামগ্রিক প্রভাব সৃষ্টির মাধ্যমে আলোড়িত করে গোটা দুনিয়ার প্রতিটি প্রান্তকে। আর এ বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যের মহান সংগ্রামী পুরুষ- উস্তাদ নাজমুদ্দিন এরবাকান।
সমগ্র দুনিয়াব্যাপী মুক্তির চেতনাকে পুনর্জাগরিতকারী এ মহান মুজাহিদ, আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরিত হতে চেয়েছেন মুজাহিদ হিসেবে। আজ, ওফাত দিবসে এ ম্লহান মুজাহিদকে স্মরণ করি মানবতার মুক্তিকামী আন্দোলনের একজন সিপাহসালার হিসেবে। মৃত্যুর আগে আমাদের এ মহান পূর্বসুরীর ন্যায় যেন আত্মবিশ্বাসের দৃপ্তকন্ঠে উচ্চারণ করতে পারি-'যা কিছু করেছি, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করেছি'। তার মৃত্যুদিনে এই হোক আমাদের প্রত্যয়!
ওফাত দিবসে অগণিত তরুণ-যুবার হৃদয়াশ্রিত সালাম, হে মহান মুজাহিদ!
27/02/2026
শুক্রবার দুরুদ পাঠের দিন;
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া'সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ(ﷺ) 🤍
21/02/2026
রমাদানে কুরআনের সাথে বন্ধুত্ব
এই সময়টা হচ্ছে কুরআনের সময়। এই মাসটা হচ্ছে কুরআনের মাস। এই রাতগুলো হচ্ছে কুরআনের রাত। এসময় যদি কোন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই হয়, তো সে জিনিসটা হচ্ছে কুরআন।
إِنَّا أَنزَلْتَهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
“নিশ্চয়ই আমরা এই কুরআনকে প্রেরণ করেছি লাইলাতুল কাদরে।” (১)
কিন্তু এখানে কয়েকটা জিনিস মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। কুরআন আপনাকে সেটাই দেবে যেটা আপনি তার কাছ থেকে নিতে চাইবেন। যদি আপনি হিদায়াতের জন্য এটা পড়তে চান, তবে এখান থেকে আপনি হিদায়াতই পাবেন। যদি আপনি স্বস্তি, সুস্থতা আর আলো পাওয়ার জন্য এই কিতাব তিলাওয়াত করতে চান, তবে এখান থেকে আপনি আপনার স্বস্তি, সুস্থতা আর আলো পেয়ে যাবেন।
যদি আপনি এটা আল্লাহর ঘনিষ্ঠতা লাভের জন্য পড়ে থাকেন, তবে নিজেকে তাঁর আরো কাছে বলে অনুভব করবেন আপনি। যদি এমনি, উদ্দেশ্যহীনভাবে পড়ে থাকেন তবে সাওয়াব পাবেন (সাওয়াব অর্জনে সমস্যার কিছু নেই)। কিন্তু এভাবে পড়লে কোন অর্থবহ উপলব্ধি কিংবা নিজেকে বদলে দেবার মত অভিজ্ঞতা অর্জনের বদলে আপনি কেবল সাওয়াবটুকুই পাবেন।
এখানে মূল কথা হলো কৃতজ্ঞতার সাথে কুরআনকে বিনম্র হয়ে বহন করা এবং এটা মাথায় রাখা যে এই কিতাবই হচ্ছে সমস্ত "খায়র" তথা কল্যাণের মূল। আল্লাহ যেন এই কিতাবের মাধ্যমে আপনাকে হিদায়াতের পথে চালিত করেন। তিনিই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক, দ্যা বেস্ট টিচার।
الرَّحْمَنُ عَلَّمَ الْقُرْءَانَ
"পরম করুণাময়। যিনি শিখিয়েছেন তো তোমাদেরকে কুরআন।" (২)
ভয় নিয়ে কুরআনের কাছে যাবেন না। আল্লাহ তার নিজের জন্য নাম হিসেবে বেছে নিয়েছেন আর রাহমান এবং আর রাহীম। এই দুটো নাম দিয়েই তিনি কুরআনে আমাদেরকে শিক্ষাদান শুরু করেছেন। যখন কুরআন পড়তে শুরু করবেন তখন মনে রাখবেন যে আপনি আল্লাহর বিশেষ রহমতের নিকটবর্তী হয়েছেন। এই কিতাব হচ্ছে রহমত, হিদায়াত আর সম্মানের এবং এগুলো তারাই অর্জন করতে পারে যারা এগুলোকে গ্রহণ করে নেয়।
সাত আসমানের উপর থেকে যে উপহার আপনার কাছে পাঠানো হয়েছে সেটাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখুন। এই উপহার আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন সেই রাত গুলোর মধ্য থেকে একটি রাতে, যে রাতের সাক্ষী হচ্ছি এখন আমরা। যখন আপনি আল্লাহর কিতাব নিয়ে বসবেন বিনম্রতা আর কৃতজ্ঞতার সাথে, তখন আল্লাহ আপনার জন্য এই কিতাব অনুধাবনের দুয়ার খুলে দেবেন।
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبُ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ )
"নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে মনোযোগের সাথে।"(৩)
কুরআন আপনার জীবনকে পাল্টে দিতে পারে। আপনার জীবনকে বদলে ফেলার এই প্রক্রিয়া আপনি রামাদান থেকে শুরু করে দিতে পারেন, যা পুরো বছর জুড়ে আপনার সাথে থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে যে আপনি যখন কুরআন পড়তে শুরু করবেন তখন আপনার থাকতে চান সঠিক মনোভাব আর বিশুদ্ধ ও আন্তরিক একটি অন্তর।
আপনি সালাতে দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত পড়তে পারেন। আপনি বাদে বা মুসহাফ দেখে দেখেও তিলাওয়াত করতে পারেন। যেভাবেই পড়েন না কে অবশ্যই সেটা হতে হবে মনোযোগের সাথে। যদি আপনি চান সাথে অর্থ-তাফসীরের কিতাব নিয়েও বসতে পারেন।
মনে রাখবেন এখানে সবচেয়ে জরুরী বিষয়টা হচ্ছে নিজের সর্বোচ্চটক দিয়ে প্রচেষ্টা চালানো। যদি আপনি পুরো রাত কষ্ট করে মাত্র এক পারাও পড়ে অথবা তোতলাতে তোতলাতে মাত্র কয়েকটা পষ্ঠাও পড়েন তবুও তা উত্তম মাতৃভাষা আরবি না হওয়ার কারণে অথবা তিলাওয়াতে অনভ্যস্ততার কারণে শুরুতে আপনার একট কঠিন লাগতে পারে, তিলাওয়াতের গতি মন্থর হাত পারে।
কিন্তু এগুলো কোন ব্যাপার নয়। অন্য কেউ যদি খুব সাবলীলভাবে তিলাওয়াত করে আপনার চেয়ে বেশি পারা পড়েও ফেলে তবুও আপনি, হা আপনিই হবেন এখানে দ্বিগুণ পুরস্কারের অধিকারী। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াতে পারঙ্গম সে সম্মানিত হবে এবং তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে, কিন্ত যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সবচেয়ে সুন্দরভাবে পড়তে, তবে তার জন্য লেখা হবে দ্বিগুণ সাওয়াব।" (৪)
কুরআন তিলাওয়াতে কোন লস নেই। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পাবার মত একটি আমল। প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে এখানে সাওয়াব। সাবলীলভাবে যে পড়বে আর ঠেকে ঠেকে যে পড়বে, দুজনই অগণিত পুরস্কার পাবে।
তিলাওয়াতের জন্য বিশেষ পরামর্শ :
তিলাওয়াতের সময় যখন আপনি জান্নাতের আয়াতে পৌঁছাবেন, তখন থেমে যাবেন। আল্লাহর কাছে জান্নাত চেয়ে দুআ করবেন। আল্লাহর কাছে চাইবেন, যেন তিনি আপনাকে জান্নাত দান করেন। যখন জাহান্নামের বা এই জীবনে অথবা পরবর্তী জীবনের দুঃখজনক ফলাফল সম্পর্কে আয়াত পড়বেন, তখন থেমে গিয়ে আল্লাহর কাছে এসব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। যখন দেখবেন আল্লাহ মুমিনদের বিশেষ কোন গুণের বা গুণাবলীর প্রশংসা করছেন, তখন তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করবেন সেই গুণগুলো নিজের মধ্যে বিকশিত করার জন্য। যখন আপনি আল্লাহর নাম আর গুণাবলী উচ্চারণ করবেন, তখন সেগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন। একটা নোট তৈরি করে ফেললে খুব ভালো হয়, হয়তো এটা আপনাকে রামাদানের পরেও এই নামগুলোর গভীরতা উন্মোচন করতে মনে করিয়ে দেবে।
(১) সূরা ক্বাদর, আয়াত : ১
(২) সূরা আর-রহমান, আয়াত : ১-২
(৩) সূরা কাফ, আয়াত : ৩৭
(৪) সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৫৪; সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৯০৪
[বই : প্রোডাক্টিভ রামাদান, পৃ. ৫২-৫৫]
20/02/2026
রোজা রেখেও যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও অশ্লীলতা ছাড়তে পারল না তার না খেয়ে থাকাতে আল্লাহ তায়ালার কিছুই যায় আসে না।
(সহীহ্ বুখারী,৬০৫৭)