MD MïñHäj ÃbêDïñ B.M. Bïllãh Mêglïñ
Welcome to the official page MD MïñHäj ÃbêDïñ B.M.
is a Entrepreneur and Student dedicated to inspiring positive change and success.This page is focused on sharing life lessons, business insights, leadership ideas,and real-life experiences to his
Music Mindset....
03/04/2026
বিশ্বের জনপ্রিয় ২৫টি খেলা:
খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানব সভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশ। বিশ্বজুড়ে খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, কৌশল এবং দলবদ্ধ মনোভাব তৈরি করে। নিচে বিশ্বের ২৫টি জনপ্রিয় খেলার বিস্তৃত বিবরণ দেয়া হলো, যা খেলাধুলার জগৎকে আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ দেবে।
⚽ ফুটবল (Football / Soccer)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক নিয়মের সূচনা: ১৮৬৩ (Football Association)
🏳️ জাতীয় খেলা: ব্রাজিল 🇧🇷, আর্জেন্টিনা 🇦🇷, ফ্রান্স 🇫🇷
✨ বৈশিষ্ট্য: ১১ জন খেলোয়াড়, ৯০ মিনিটের ম্যাচ, অফসাইড নিয়ম, সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা।
🏛️ আন্তর্জাতিক সংস্থা: FIFA (1904)
🏆 প্রধান টুর্নামেন্ট: FIFA World Cup, UEFA Champions League, Copa América
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: লিওনেল মেসি 🇦🇷, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো 🇵🇹, পেলে 🇧🇷
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় খেলা। খেলোয়াড়রা কেবল শারীরিক সক্ষমতা নয়, কৌশল এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানি ফুটবলের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
🏏 ক্রিকেট (Cricket)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 উৎপত্তি: ১৬শ শতক, আধুনিক কোড ১৭৪৪
🏳️ জাতীয় খেলা:
ক্রিকেট যেসব দেশে জনপ্রিয় বা জাতীয় খেলা হিসেবে গণ্য:
অস্ট্রেলিয়া: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান খেলা ও জাতীয় খেলা হিসেবে পরিচিত।
ইংল্যান্ড: এটি তাদের অন্যতম জাতীয় খেলা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপসমূহ): জামাইকা, বার্বাডোস, গায়ানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা। এবং বাংলাদেশ 🇧🇩, ভারত 🇮🇳, পাকিস্তান 🇵🇰 অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা।
✨ বৈশিষ্ট্য: টেস্ট (৫ দিন), ODI, T20 ফরম্যাট, ব্যাট-বল খেলা
🏛️ সংস্থা: ICC (1909)
🏆 টুর্নামেন্ট: ICC Cricket World Cup, T20 World Cup, Ashes Series
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: শচীন টেন্ডুলকার 🇮🇳, ডন ব্র্যাডম্যান 🇦🇺, সাকিব আল হাসান🇧🇩
ক্রিকেট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি ধর্মের মতো জনপ্রিয়। টেস্ট ক্রিকেটের ধীরগতি ও কৌশল, T20-এর দ্রুতগতির উত্তেজনা সব ধরণের ক্রিকেটপ্রেমীকে আকৃষ্ট করে।
🏀 বাস্কেটবল (Basketball)
🌏 তীর্থভূমি: যুক্তরাষ্ট্র
📅 আবিষ্কার: ১৮৯১, ড. জেমস নেসমিথ
🏳️ জাতীয় খেলা: ফিলিপাইন 🇵🇭 (অঘোষিতভাবে)
✨ বৈশিষ্ট্য: দ্রুত স্কোরিং, ইনডোর খেলা, ৫ জন খেলোয়াড়
🏛️ সংস্থা: FIBA (1932)
🏆 টুর্নামেন্ট: NBA, FIBA World Cup, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মাইকেল জর্ডান 🇺🇸, লেব্রন জেমস 🇺🇸, কোবি ব্রায়ান্ট 🇺🇸
বাস্কেটবল বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং দৃষ্টিনন্দন খেলা। NBA বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ হিসেবে পরিচিত।
🏑 ফিল্ড হকি (Field Hockey)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক সংস্করণ: ১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: ভারত 🇮🇳, পাকিস্তান 🇵🇰
✨ বৈশিষ্ট্য: স্টিক ও বলের খেলা, দ্রুতগতির খেলা, ১১ জন খেলোয়াড়
🏛️ সংস্থা: FIH (1924)
🏆 টুর্নামেন্ট: Hockey World Cup, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: ধ্যানচাঁদ 🇮🇳, তাহির জামান 🇵🇰, জেমি ডুয়ার 🇦🇺
ফিল্ড হকি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গর্বের খেলা। ধ্যানচাঁদকে ইতিহাসের সেরা হকি খেলোয়াড় হিসেবে মনে করা হয়।
🎾 টেনিস (Tennis)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক লনের টেনিস: ১৮৭৩
🏳️ জাতীয় খেলা: নেই
✨ বৈশিষ্ট্য: একক ও ডাবলস, গ্র্যান্ড স্ল্যাম (৪টি প্রধান টুর্নামেন্ট)
🏛️ সংস্থা: ITF (1913)
🏆 টুর্নামেন্ট: Wimbledon, Roland Garros, US Open, Australian Open
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: রজার ফেদেরার 🇨🇭, রাফায়েল নাদাল 🇪🇸, নোভাক জোকোভিচ 🇷🇸
গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাধ্যমে টেনিস খেলোয়াড়রা বিশ্বখ্যাতি অর্জন করে। ফেদেরার, নাদাল ও জোকোভিচ আধুনিক টেনিসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
🏉 রাগবি (Rugby Union/League)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 উৎপত্তি: ১৮২৩
🏳️ জাতীয় খেলা: নিউজিল্যান্ড 🇳🇿
✨ বৈশিষ্ট্য: শারীরিক সংঘর্ষ, বল বহন, ১৫ জন খেলোয়াড় (Union)
🏛️ সংস্থা: World Rugby
🏆 টুর্নামেন্ট: Rugby World Cup, Six Nations
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: জোনা লোমু 🇳🇿, রিচি ম্যাককাও 🇳🇿, ব্রায়ান ও’ড্রিসকল 🇮🇪
রাগবি নিউজিল্যান্ডের জাতীয় গর্ব। জোনা লোমুর গতিশীলতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
🏈 আমেরিকান ফুটবল
🌏 তীর্থভূমি: যুক্তরাষ্ট্র
📅 আধুনিক প্রবর্তন: ১৮৬৯
🏳️ জাতীয় খেলা: USA 🇺🇸 (অঘোষিত)
✨ বৈশিষ্ট্য: টাচডাউন, কৌশলভিত্তিক, ১১ জন খেলোয়াড়
🏛️ সংস্থা: NFL
🏆 টুর্নামেন্ট: Super Bowl
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: টম ব্র্যাডি 🇺🇸, জেরি রাইস 🇺🇸, প্যাট্রিক মাহোমস 🇺🇸
আমেরিকান ফুটবল কৌশল ও শারীরিক শক্তির মিলন। Super Bowl বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিভিশন ইভেন্ট।
🏸 ব্যাডমিন্টন (Badminton)
🌏 তীর্থভূমি: ভারত (Poona Game)
📅 আধুনিক নিয়ম: ১৮৭৩
🏳️ জাতীয় খেলা: ইন্দোনেশিয়া 🇮🇩
✨ বৈশিষ্ট্য: দ্রুততম র্যাকেট খেলা, শাটল স্পিড ৪০০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত
🏛️ সংস্থা: BWF (1934)
🏆 টুর্নামেন্ট: All England Open, BWF World Championships, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: লিন দান 🇨🇳, লি চং ওয়ে 🇲🇾, পি. ভি. সিন্ধু 🇮🇳
🏓 টেবিল টেনিস (Table Tennis)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক রূপ: ১৮৮০s
🏳️ জাতীয় খেলা: চীন 🇨🇳 (অঘোষিত আধিপত্য)
✨ বৈশিষ্ট্য: ছোট টেবিল, দ্রুত রিফ্লেক্স, একক ও ডাবলস ফরম্যাট
🏛️ সংস্থা: ITTF (1926)
🏆 টুর্নামেন্ট: World Table Tennis Championships, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মা লং 🇨🇳, ঝাং জিকে 🇨🇳, জান-ওভে ওয়াল্ডনার 🇸🇪
🥊 বক্সিং (Boxing)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক নিয়ম: ১৮৬৭ (Marquess of Queensberry Rules)
🏳️ জাতীয় খেলা: কিউবা 🇨🇺
✨ বৈশিষ্ট্য: রিং ফাইট, ওজনভিত্তিক শ্রেণি, হাতের কৌশল
🏛️ সংস্থা: IBA / AIBA
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মুহাম্মদ আলী 🇺🇸, মাইক টাইসন 🇺🇸, ফ্লয়েড মেওয়েদার 🇺🇸
🏊 সাঁতার (Swimming)
🌏 তীর্থভূমি: প্রাচীন সভ্যতা
📅 আধুনিক প্রতিযোগিতা: ১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: নেই
✨ বৈশিষ্ট্য: ফ্রিস্টাইল, বাটারফ্লাই, ব্রেস্টস্ট্রোক, রিলে
🏛️ সংস্থা: World Aquatics
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মাইকেল ফেল্পস 🇺🇸, ইয়ান থর্প 🇦🇺, কেটি লেডেকি 🇺🇸
🚴 সাইক্লিং (Cycling)
🌏 তীর্থভূমি: ফ্রান্স
📅 আধুনিক রেস: ১৮৬০s
🏳️ জাতীয় খেলা: নেদারল্যান্ডস 🇳🇱
✨ বৈশিষ্ট্য: রোড, ট্র্যাক, BMX, টাইম ট্রায়াল
🏛️ সংস্থা: UCI
🏆 টুর্নামেন্ট: Tour de France, Giro d’Italia, Vuelta a España
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: এডি মার্ক্স 🇧🇪, ক্রিস ফ্রুম 🇬🇧, তাদেই পোগাচার 🇸🇮
🏎️ ফর্মুলা ১ (Formula One)
🌏 তীর্থভূমি: ইউরোপ
📅 প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ: ১৯৫০
🏳️ জাতীয় খেলা: নেই
✨ বৈশিষ্ট্য: দ্রুততম মোটরস্পোর্ট, ট্যাকটিক্যাল ড্রাইভিং
🏛️ সংস্থা: FIA
🏆 টুর্নামেন্ট: Formula One World Championship
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মাইকেল শুমাখার 🇩🇪, লুইস হ্যামিল্টন 🇬🇧, আয়রটন সেনা 🇧🇷
⛳ গলফ (Golf)
🌏 তীর্থভূমি: স্কটল্যান্ড
📅 আধুনিক ফরম্যাট: ১৫শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: স্কটল্যান্ড 🇬🇧
✨ বৈশিষ্ট্য: ১৮ হোল, নিখুঁততা, কৌশল এবং মানসিক ধৈর্য
🏛️ সংস্থা: R&A, USGA
🏆 টুর্নামেন্ট: Masters, The Open Championship, PGA Championship
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: টাইগার উডস 🇺🇸, জ্যাক নিকলাস 🇺🇸, ররি ম্যাকইলরয় 🇬🇧
⚾ বেসবল (Baseball)
🌏 তীর্থভূমি: যুক্তরাষ্ট্র
📅 প্রথম আধুনিক ম্যাচ: ১৮৪৬
🏳️ জাতীয় খেলা: জাপান 🇯🇵 (অঘোষিত জনপ্রিয়তা)
✨ বৈশিষ্ট্য: ব্যাট-বল খেলা, ইনিংস ভিত্তিক, ফিল্ডিং ও ব্যাটিং কৌশল
🏛️ সংস্থা: WBSC
🏆 টুর্নামেন্ট: World Series, World Baseball Classic
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: বেব রুথ 🇺🇸, শোহেই ওতানি 🇯🇵, ইচিরো সুজুকি 🇯🇵
🥋 কারাতে (Karate)
🌏 তীর্থভূমি: জাপান (ওকিনাওয়া)
📅 আধুনিক প্রতিযোগিতা: ১৭শ–১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: জাপান 🇯🇵
✨ বৈশিষ্ট্য: স্ট্রাইকিং আর মার্শাল আর্ট, একক বা দলগত ফরম্যাট
🏛️ সংস্থা: WKF
🏆 টুর্নামেন্ট: World Karate Championship, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: রাফায়েল আগায়েভ 🇦🇿, আন্তোনিও দিয়াজ 🇻🇪, রিউ কিয়ুন 🇯🇵
🥋 জুডো (Judo)
🌏 তীর্থভূমি: জাপান
📅 আধুনিক প্রতিযোগিতা: ১৮৮২ (Jigoro Kano)
🏳️ জাতীয় খেলা: জাপান 🇯🇵
✨ বৈশিষ্ট্য: গ্র্যাপলিং ও থ্রো, শারীরিক শক্তি ও কৌশল
🏛️ সংস্থা: IJF
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Judo Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: তাদাহিরো নোমুরা 🇯🇵, টেডি রিনার 🇫🇷, রিওকো তামুরা 🇯🇵
🥋 তায়কোয়ান্দো (Taekwondo)
🌏 তীর্থভূমি: দক্ষিণ কোরিয়া
📅 প্রথম প্রতিযোগিতা: ১৯৫০s
🏳️ জাতীয় খেলা: দক্ষিণ কোরিয়া 🇰🇷
✨ বৈশিষ্ট্য: উচ্চ কিক, দ্রুততা ও কৌশল
🏛️ সংস্থা: World Taekwondo
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Taekwondo Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: হাদি সাঈ 🇮🇷, স্টিভেন লোপেজ 🇺🇸, জেড জোন্স 🇬🇧
🤼 কুস্তি (Wrestling)
🌏 তীর্থভূমি: প্রাচীন গ্রিস
📅 উৎপত্তি: ২০০০+ বছর পূর্বে
🏳️ জাতীয় খেলা: তুরস্ক 🇹🇷, ইরান 🇮🇷
✨ বৈশিষ্ট্য: গ্র্যাপলিং, ওজনভিত্তিক শ্রেণি
🏛️ সংস্থা: UWW
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Wrestling Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: আলেকজান্ডার কারেলিন 🇷🇺, জর্ডান বারোজ 🇺🇸, সুশীল কুমার 🇮🇳
🏐 ভলিবল (Volleyball)
🌏 তীর্থভূমি: যুক্তরাষ্ট্র
📅 আধুনিক উদ্ভাবন: ১৮৯৫
🏳️ জাতীয় খেলা: শ্রীলঙ্কা 🇱🇰
✨ বৈশিষ্ট্য: নেট গেম, দলগত কৌশল
🏛️ সংস্থা: FIVB
🏆 টুর্নামেন্ট: World Championship, Olympics, Volleyball Nations League
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: গিবা 🇧🇷, কার্চ কিরালি 🇺🇸, উইলফ্রেডো লিওন 🇵🇱
🤾 হ্যান্ডবল (Handball)
🌏 তীর্থভূমি: ইউরোপ (জার্মানি/ডেনমার্ক)
📅 প্রথম প্রতিযোগিতা: ১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: নেই
✨ বৈশিষ্ট্য: দ্রুতগতির ইনডোর খেলা, ৭ জন খেলোয়াড়
🏛️ সংস্থা: IHF
🏆 টুর্নামেন্ট: World Championship, Olympics
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: মিকেল হ্যানসেন 🇩🇰, নিকোলা কারাবাটিচ 🇫🇷, তালান্ত দুসেবায়েভ 🇪🇸
🏏 কাবাডি (Kabaddi)
🌏 তীর্থভূমি: ভারত
📅 প্রাচীন খেলা
🏳️ জাতীয় খেলা: বাংলাদেশ 🇧🇩, ভারত 🇮🇳
✨ বৈশিষ্ট্য: শ্বাস ধরে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা, দলগত কৌশল
🏛️ সংস্থা: IKF
🏆 টুর্নামেন্ট: Kabaddi World Cup
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: আনুপ কুমার 🇮🇳, পারদীপ নারওয়াল 🇮🇳, আব্দুল জলিল 🇧🇩
🏒 আইস হকি (Ice Hockey)
🌏 তীর্থভূমি: কানাডা
📅 আধুনিক খেলা: ১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: কানাডা 🇨🇦
✨ বৈশিষ্ট্য: বরফে খেলা, পক ও স্টিক ব্যবহার
🏛️ সংস্থা: IIHF
🏆 টুর্নামেন্ট: Stanley Cup, World Championship
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: ওয়েন গ্রেটস্কি 🇨🇦, সিডনি ক্রসবি 🇨🇦, আলেক্স ওভেচকিন 🇷🇺
🏹 তিরন্দাজি (Archery)
🌏 তীর্থভূমি: প্রাচীন মিশর/এশিয়া
📅 আধুনিক প্রতিযোগিতা: হাজার বছর
🏳️ জাতীয় খেলা: ভুটান 🇧🇹
✨ বৈশিষ্ট্য: লক্ষ্যভেদ, মানসিক একাগ্রতা
🏛️ সংস্থা: World Archery
🏆 টুর্নামেন্ট: Olympics, World Archery Championships
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: কিম সুং-ইউন 🇰🇷, দীপিকা কুমারি 🇮🇳, পার্ক সঙ-হিউন 🇰🇷
🏇 ঘোড়দৌড় (Horse Racing)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক প্রতিযোগিতা: প্রাচীন
🏳️ জাতীয় খেলা: যুক্তরাজ্য 🇬🇧
✨ বৈশিষ্ট্য: দ্রুতগতি, কৌশল এবং রেসিং কৌশল
🏛️ সংস্থা: IFHA
🏆 টুর্নামেন্ট: Royal Ascot, Kentucky Derby
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: লেস্টার পিগট 🇬🇧, ফ্রাঙ্কি ডেটোরি 🇮🇹, মাইক স্মিথ 🇺🇸
🎯 ডার্টস (Darts)
🌏 তীর্থভূমি: ইংল্যান্ড
📅 আধুনিক খেলা: ১৯শ শতক
🏳️ জাতীয় খেলা: নেই
✨ বৈশিষ্ট্য: লক্ষ্যভেদ, নির্ভুলতা, শারীরিক স্থিতিশীলতা
🏛️ সংস্থা: PDC
🏆 টুর্নামেন্ট: World Darts Championship
👑 আইকনিক খেলোয়াড়: ফিল টেইলর 🇬🇧, মাইকেল ভ্যান গারউইন 🇳🇱, গেরউইন প্রাইস 🇬🇧
🔚 উপসংহার
এই ২৫টি খেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশ। আইকনিক খেলোয়াড়রা কেবল তাদের দেশের গর্ব নয়, বরং বিশ্বক্রীড়াঙ্গনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিটি খেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তারা মানুষের মন জয় করে এবং খেলাধুলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে।
07/03/2026
এই সেই পৃথিবী কাঁপানো আলোকচিত্র যা তোলার পর ফটোগ্রাফার নিজেই আত্মহত্যা করেছিলেন! ছবিতে একটি শকুন বসে আছে কঙ্কালসার এক শিশুর মৃত্যুর অপেক্ষায়, যেন মারা গেলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়বে লক্ষ্যবস্তুর উপর! ছবিটি তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার।
১৯৯৩ সালের মার্চ মাস। দুর্ভিক্ষ পীড়িত সুদান। কোথাও একফোঁটা দানা নেই। ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর শিশুটি এক মুঠো খাবারের সন্ধানে আয়োদ শহর থেকে আধা মাইল দূরে জাতিসংঘের খাদ্য গুদামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার মৃতপ্রায় নিথর দেহটি নিয়ে উবু হয়ে মাটিতে মাথা রেখে বসে পড়ে। ঠিক তখন পাশ থেকে একটা শকুন লোলুপ দৃষ্টি হেনে শিশুটির মাংস ভক্ষণ করার জন্য প্রতীক্ষা করতে থাকে।
এই ছবি The New York Times প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১৯৯৪ সালে সেরা ফিচার ফটোগ্রাফির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি। কিন্তু ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার পুরস্কার জেতার ৪ মাসের মাথায় মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আত্মহত্যা করে বসেন। পরে জানা যায় ছবিটি তোলার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন! মৃত্যুর আগে ছবিটির বিষয়ে কেভিন কার্টার তার ডায়রিতে লিখেছিলেন :
"হে পরম করুণাময়, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি খাবার তা সে যত খারাপ স্বাদেরই হোক না কেন আমি সেটা নষ্ট করব না, এমনকি আমার পেটে ক্ষুধা না থাকলেও না! আমি প্রার্থনা করি, আমরা চারপাশের পৃথিবীর প্রতি আরো সংবেদনশীল হব এবং আমরা আমাদের ভেতরের স্বার্থপরতা এবং সংকীর্ণতা দ্বারা অন্ধ হয়ে যাব না। আমি আরো প্রার্থনা করি, তুমি ওই ছোট্ট ছেলেটিকে রক্ষা করবে, পথ দেখাবে আর ওকে ওর দুঃখ থেকে মুক্তি দেবে। এই ছবি যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয় ওই শিশুটির তুলনায় তারা কতটা ভাগ্যবান, কারণ তোমার করুণা ছাড়া কারো ভাগ্যে একটি দানাও জোটে না। বিদায়!"
02/03/2026
র
উত্তর কোরিয়া একনায়কতান্ত্রিক দেশ।
কিম জং উন এর পরিবার তিন পুরুষ ধরে এই দেশ শাসন করছে।
উত্তর কোরিয়ায় সরকারিভাবে কিম পরিবারকে দেবতার মতো উপস্থাপন করা হয়।
জনগণের মৌলিক কোনো অধিকার সেদেশের সরকার স্বীকার করেনা।
শাসকেরাই সেদেশে ঈশ্বর।
শাসকদের তিল পরিমাণ বিরোধিতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এরকম মৃত্যুদণ্ড একটা পরিবারের তিন প্রজন্মকে শাস্তি দেয়! পরিবারের একজন কোনো অপরাধ করলে তার পরিবারের তিন প্রজন্ম শাস্তি পায়।
ধর্ম পালন করা, এমনকি ঈশ্বরে বিশ্বাস করা সেদেশে অপরাধ। পান থেকে চুন খসলেই মৃত্যুদন্ড সেখানে ডালভাত।
এই দেশটি সমগ্র পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন।
সেখানকার জনগণকে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানতে দেয়া হয়না, বাইরের দুনিয়ার কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হয়না।
সেখানকার জনগণের বার্ষিক গড় মাথাপিছু আয় ১,৩০০ ডলারেরও কম। জীবনযাত্রার মান খুবই নীচু।
ইন্টারনেট সেখানে নিষিদ্ধ।
দেশের সরকারি টিভিতে সপ্তাহে দুইদিন দুইঘন্টা করে সরকারের ফরমায়েশি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। বিদেশী কোনো অনুষ্ঠান দেখাও সেই দেশে অপরাধ।
দেশের মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের সীমান্তের বাইরে দুনিয়া নেই। তাদের দেশটি সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা। তাদের জন্ম হয়েছে কিম পরিবারের সেবায় নিয়োজিত হবার লক্ষ্যে।
তারা আরো বিশ্বাস করে, আমেরিকা তাদের শত্রু, আমেরিকার আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে সবসময়।
উত্তর কোরিয়ায় শুধু ২৮টি হেয়ারস্টাইল অনুমোদিত। কেউ যদি কিম জং উন এর মতো হেয়ারস্টাইল করে চুল কেটে ফেলে; তাহলে, তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড!
কিম জং উন এর ইচ্ছা-অনিচ্ছাই সেই দেশে শেষ কথা। দেশের সব সম্পদের প্রায় ৭০% একাই ভোগ করে কিম জং উন।
কথিত আছে, কিম জং-উন বার্ষিক প্রায় ৩ কোটি ডলার শুধু মদ আমদানিতে খরচ করেন। বিলাসদ্রব্য কিনতে বছরে তার খরচ শতকোটি ডলারের বেশি।
এছাড়া, প্রাইভেট ইয়ট, সুপারমডেল আর বিভিন্ন শখের পেছনে শয়ে শয়ে কোটি ডলার খরচ করেন কিম।
কিম বিদেশ ভ্রমণ করেন রাজকীয় ট্রেনে চড়ে!
কিম জং-উনের ব্যক্তিগত সম্পদ আনুমানিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে প্রচার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সংখ্যা আসলে অনেক কম করে বলা হচ্ছে।
২০০ টিরও বেশি বিদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার সম্পদ রয়েছে, যা চীন, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে।
কিমের কমপক্ষে ১৭টি প্রাসাদ আছে। প্রধান বাসভবন পিয়ংইয়ংয়ের রিয়ংসং রেসিডেন্স, যেখানে রয়েছে অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুল, বিশাল ওয়াটারস্লাইড, ঘোড়ার আস্তাবল, শুটিং রেঞ্জ এবং একটি ১,০০০ আসনের সিনেমা হল। বাড়িটিকে "সেভেন-স্টার পার্টি হাউজ" বলে বর্ণনা করা হয়।
তার গাড়িবহরে ১০০টিরও বেশি বিলাসবহুল গাড়ি আছে। কিম তাঁর বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের উপহার হিসেবে বিলাসবহুল গাড়ি দেন, বিশেষ করে যারা সামরিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন।
খাদ্যরসিক কিম চিজের বিশেষ ভক্ত। একবার সুইজারল্যান্ড থেকে Emmental চিজের বিশাল চালান আসার পর অতিরিক্ত চিজ খেয়ে তাকে কিছুদিন জনসমক্ষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিলো!
তার নিয়মিত খাবারের মেনুতে থাকে জাপান থেকে আনা Kobe গরুর মাংস, ইরানি ক্যাভিয়ার, চীনা তরমুজ, আরও সব অবিশ্বাস্য দামী খাবার।
বিচিত্র উপায়ে মানুষ মারা তার নেশা।
ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে নিজের ফুফাকে কামানের মাথায় বেঁধে উড়িয়ে দিয়েছে কিম।
পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে এগারো দিনের জন্য সমগ্র উত্তর কোরিয়ায় হাসি নিষিদ্ধ করে কিম জং উন।
উত্তর কোরিয়া পৃথিবীর একমাত্র কমিউনিস্ট রাষ্ট্র যেখানে তিন প্রজন্ম ধরে একই পরিবার শাসন করে আসছে।
প্রথম প্রজন্ম কিম ইল-সুং (১৯১২–১৯৯৪)
তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৮ সালে দেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁকে "মহান নেতা" বলা হয়।
মৃত্যুর পরও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে "চিরন্তন রাষ্ট্রপতি"- অর্থাৎ একজন মৃত মানুষ এখনও দেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন আছেন!
কিম ইল-সুং নিজেকে 'কোরিয়ার সূর্য' বলে পরিচয় দিতেন এবং দাবি করতেন যে তিনি আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
১৯৫০ এর দশকে কিম একটি পুরো শহর তৈরি করেছিলেন শুধুমাত্র প্রচারণার উদ্দেশ্যে, যার নাম কিজং-ডং বা শান্তির গ্রাম। এই শহরটি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত থেকে দেখা যায়, কিন্তু কেউ সেখানে আসলে বাস করে না।
তাঁর দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রী কিম জিওং-সুকের ঘরে জন্ম নেন কিম জং-ইল।
দ্বিতীয় প্রজন্ম- কিম জং-ইল (১৯৪১–২০১১)
তিনি "প্রিয় নেতা" নামে পরিচিত। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালে ক্ষমতায় আসেন।
উত্তর কোরিয়ার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে লেখা আছে- কিম জং-ইলের জন্মের সময় আকাশে দুটি রংধনু দেখা গিয়েছিলো।
তাঁর শাসনামলে ১৯৯০-এর দশকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়, কিন্তু তিনি বিদেশ থেকে কোনো সাহায্য নিতে অস্বীকার করেন।
২০০৭ সালে জার্মান মিডিয়া জানায়, কিম জং-ইল দেশের দুর্ভিক্ষ সমস্যা সমাধান করতে চেয়েছিলেন বিশাল খরগোশ পালনের মাধ্যমে।
একজন জার্মান খামারি, যিনি কুকুরের আকারের খরগোশ পালতেন, তাঁকে উত্তর কোরিয়ায় একটি বড় খরগোশ খামার তৈরিতে সাহায্য করতে বলা হয়।
প্রথম ব্যাচে ১২টি বিশাল খরগোশ পাঠানো হলেও খামারি পরে জানতে পারেন সেগুলো কিমের জন্মদিনের ভোজে খেয়ে ফেলা হয়েছে!
কিম জং-ইলের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, তিনি মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সে হাঁটতে শিখেছিলেন এবং আট সপ্তাহে কথা বলা শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র তিন বছরে ১,৫০০টি বই লিখেছিলেন এবং ছয়টি পূর্ণাঙ্গ অপেরা রচনা করেছিলেন। তাঁর সব অপেরা "সঙ্গীত ইতিহাসে যেকোনো অপেরার চেয়ে উত্তম" বলে দাবি করা হয়।
কিম জং-ইল একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী ছিলেন এবং তার ২০,০০০-এরও বেশি ভিডিও ও ডিভিডির সংগ্রহ ছিলো।
তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত অভিনেত্রী চোই উন-হি ও তার পরিচালক স্বামীকে অপহরণ করেছিলেন, তাদের দিয়ে উত্তর কোরিয়ার জন্য চলচ্চিত্র বানানোর জন্য!
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি টানা দুই বছর কিম জং-ইল ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় Hennessy Paradis কগন্যাকের একক ক্রেতা। তিনি প্রতি বছর প্রায় ৬,৫০,০০০ থেকে ৮,০০,০০০ ডলার মূল্যের কগন্যাক আমদানি করতেন।
তাঁর তিনটি সম্পর্ক থেকে কমপক্ষে তিন পুত্রসন্তান ছিলেন: কিম জং-নাম, কিম জং-চুল এবং কিম জং-উন।
তৃতীয় প্রজন্ম- কিম জং-উন (১৯৮৪–বর্তমান)
তিনি বর্তমান শাসক। কনিষ্ঠ পুত্র হলেও বাবা তাঁকেই উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন। ২০১১ সালে মাত্র ২৭-২৮ বছর বয়সে তিনি ক্ষমতায় আসেন।
তার বড় ভাই কিম জং-নাম ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে খুন হন।
ধারণা করা হয় কিম জং-উনের নির্দেশেই তাকে ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যা করা হয়।
মেজো ভাই কিম জং-চুল এখনও বেঁচে আছেন, তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থেকে গিটার বাজান। মাঝে মাঝে এরিক ক্ল্যাপটনের কনসার্টে তাকে দেখা যায়!
চতুর্থ প্রজন্ম?
কিম জং-উনের স্ত্রী রি সল-জু। তাদের তিন সন্তান আছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সন্তানদের পরিচয় সম্পর্কে উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখে।
তবে ২০২২-২৩ সালে একটি মেয়েকে কিম জং-উনের সাথে প্রকাশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার স্থানে দেখা গেছে, যার নাম কিম জু-এ বলে মনে করা হয়।
অনেকে মনে করছেন তাকেই চতুর্থ প্রজন্মের উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কিম পরিবারের গল্প বলতে গেলে সহজে শেষ হবেনা।
তারচেয়ে, উত্তর কোরিয়ার জনগণের একটা গল্প শোনেন।
অপুষ্টিজনিত কারণে প্রতি বছর উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার মানুষ অন্ধ হয়ে যান।
নেপালের বিখ্যাত চক্ষু শল্যচিকিৎসক ডা. সান্দুক রুইত একবার কাঠমান্ডুতে একজন উত্তর কোরিয়ান কূটনীতিকের চোখের চিকিৎসা করেছিলেন।
সেই সুবাদে তিনি ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে চক্ষু চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করতে কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে সক্ষম হন।
এই টিমের টার্গেট ছিলো ২ সপ্তাহে ১,০০০ রোগীর ছানি অপারেশন করা।
পাশাপাশি, এই টিম উত্তর কোরিয়ার সরকারি নজরদারদের চোখের সামনেই লুকিয়ে চলচ্চিত্র ধারণ করে ফেলে! সাংবাদিক লিসা লিং ডা. রুইত এর মেডিকেল টিমের সদস্য হিসেবে ছদ্মবেশে এই টিমের সাথে ছিলেন!
হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক সহ নানা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিলো। ডা. রুইত ও তাঁর দলকে সমস্ত সরঞ্জাম সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
চিকিৎসক দল প্রথম সাত দিনের মধ্যে প্রায় চারশো রোগীর চোখের ছানি অপারেশন করেছিলেন।
এক সপ্তাহ পর রোগীদের হাসপাতালে ডাকা হলো। উদ্দেশ্য, তাদের চোখের ব্যান্ডেজ খুলে পরীক্ষা করা হবে, তারা সুস্থ হয়েছেন কি না।
একটা হল ঘরের ভিতরে চারশো রোগী।
ডাক্তাররা এক এক করে তাদের ব্যান্ডেজ খুলতে শুরু করলেন।
সবকয়টা অপারেশন সাকসেসফুল।
সবাই তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আপনি-আমি কী করতাম?
স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাতাম, ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাতাম, স্বজনদের জড়িয়ে ধরতাম।
উত্তর কোরিয়ার রোগীরা এমন কিছু করলেন না।
দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে তারা ছুটলেন হাসপাতালে রাখা দুই শাসক এর ছবির সামনে।
একেকটি ছবির সামনে হাঁটু গেঁড়ে তারা একেকজন বলতে লাগলেন, ‘হে মহান নেতা তোমার জন্য আমি আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছি। তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি আমাদের রক্ষা করছো শত্রুদের হাত থেকে।'
তারা আরও বললেন, এইবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে আমিও তোমার এই যুদ্ধে শামিল হবো। আমি কথা দিচ্ছি আমি বন্দুক তুলে নেব। আমেরিকানদের খতম করব।’
সেই চিকিৎসা মিশন নিয়ে Inside North Korea নামে একটা ডকুমেন্টারি বানানো হয়েছে। চাইলে আপনি ইউটিউবে এটা দেখতে পারবেন।
ডকুমেন্টারি জুড়ে ক্রুরা কখনো এমন কোনো উত্তর কোরিয়ানের দেখা পাননি যে কিম জং-ইলের প্রশংসা করেননি।
জিজ্ঞেস করা হলো- কিম জং-ইলের কোন ছবিটি তাদের সবচেয়ে ভালো লাগে, একজন উত্তর দিলেন- "সবগুলোই সবচেয়ে ভালো।"
মোরাল অব দিজ স্টোরি কী, বলতে পারবেন? মোরাল হলো, ‘ঔষধ একটাই, মগজ ধোলাই’।
©️
Me..✨
゚