লম্বা এবং খাটো মেয়েদের পুকুরের সাইজ!
English in 60 Seconds
Daily 60-second English lessons. Speak English confidently with simple tips and sentences.
৪ বছরের ভালোবাসার করুন মৃত্যুর পর বেঁচে থাকার কারণটাই হারিয়ে ফেলেছিলাম। অনেকগুলো রাত, অনেকগুলো দিন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করেছি।
তার ছেড়ে যাবার ৩ বছর নিজেকে আস্তে আস্তে গুছাতে শুরু করি। তারপর পরিচয় হয় একজনের সাথে।সুন্নতি দাঁড়ি,সুন্নতি পোশাকে তাকে প্রথমবার দেখে মনে হয়েছিল এই মানুষটাই আমার জীবনে আল্লাহর রহমত হয়ে আসতে পারে।
তার সাথে পরিচয়ের শুরুটাই হয় তার বিয়ের প্রস্তাবের মাধ্যমে।আমি তাকে জানাই আমার জীবনসঙ্গী নির্বাচনের দায়িত্ব আমার পরিবারের উপর।যদি পরিবার তাকে পছন্দ করে আমার সমস্যা নাই।
প্রথমবার দেখা হবার পরেই আমার পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে উনি। তাকে দেখে পরিবারের সবার খুব পছন্দ হয়।কারণ সে মাওলানা,দেখতে মাশাআল্লাহ।যে কোন মানুষ তাকে দেখে বলবে তার চেহারায় নূর আছে।
যাই হোক বিয়ের কথা আগায়। আমার পরিবারের মানুষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ছেলে একেবারেই প্রত্যন্ত গ্ৰামের,গরীব ঘরের সন্তান তবে মানুষ ভালো। যেহেতু আমরা উচ্চ মধ্যবিত্ত আর পরিবারের ছোট মেয়ে তাই এটা নিয়ে কারো কোন আপত্তি ছিল না।
পরের বার ছেলের পরিবার আমাকে দেখতে আসে তারা মোটামুটি বিয়ের প্রিপারেশন নিয়েই আসে। আমার পরিবার থেকে এংগেইজমেন্টের কথা বললেও তারা বলে তারা গ্ৰামের মানুষ,এসব এংগেইজমেন্ট বুঝে না।তারা বিয়েতে বিশ্বাসী।দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়েটা হয়ে গেলো।
আমরা আমাদের বাসায় আলাদা ফ্ল্যাটে থাকি।বিয়ের মাসখানেকের মধ্যে শ্বশুরবাড়ি যাই খুব ঘটা করেই। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পর আমার হাসব্যান্ডের রূপ পরিবর্তন হতে দেখি, কথায় কথায় শুধু জানতে চায় আমার বাবার কি কি সম্পদ আছে,তার প্রয়োজনে তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে কিনা।
যে মানুষটা মাওলানার পরিচয় দিয়েছিলো সে মানুষটাকে নামাজের প্রতি প্রচন্ড অবহেলা করতে দেখি, কথায় কথায় মিথ্যা বলে,তার মেসেঞ্জারে শত শত মেয়ে। একবার তো তার বন্ধুর সাথে তার কনভারসেশন থেকে কিছু স্ক্রিনশট পাই যেগুলো ছিল একটা মেয়ে তাকে ভিডিও কলে বডি পার্টস দেখাচ্ছে। আর আমার মাওলানা বর খুব উপভোগ করছে এবং সেগুলোর স্ক্রিনশট বন্ধুদের ইনবক্সে চালান করছে।
আমি আর আমি নেই।মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীতে আল্লাহ আমাকে জাহান্নাম দেখিয়ে দিয়েছেন। তাকে বলার হাতে পায়ে ধরে ক্ষমা চায়।তার মুখের দিকে তাকিয়ে মাফ করে দিলাম। কিন্তু সে তো আরো বেপোরোয়া হয়ে গেলো। রাতের পর রাত বাইরে থাকে,কল দিলে কেটে দেয়, নাম্বার ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখে।
অনেকবার এসব নিয়ে বিচার,শালিশ হলো।২/৪ দিন ঠিক থাকে আবার যা তাই। কিছুদিন পর আরো সামনে আসে তার অনলাইনে বিটিং করা।তার ইনকামের পুরো টাকাই সে ইস্টু খেলে শেষ করে ফেলে। সংসারের বাজারটা পর্যন্ত করে না। আমার আপুদের খাবারের উপর আমাকে নির্ভর করতে হয়।
কিছু বললেই রাতের পর রাত অশান্তি, মারামারি, গালাগালি।গত ৩ দিন আগে বললাম এভাবে আর কতো। এখন নিজেরা রান্না করি।সেও বলল ঠিক আছে। তাহলে প্রথমে বাজার করতে হবে।
আমি একটা ছোটখাটো জব করি। আমার টাকায় বাজার হবে।সে শুধু আমার সাথে বাজারে যাবে।বলল আমার অফিসের পর তাকে কল দিতে। আমার ছুটি হবার আগেই সে কল দিয়ে বলল সে ব্যস্ত, আমাকে টাইম দিতে পারবে না।আমি জিজ্ঞেস করলাম কিসের ব্যস্ততা।বলল কাজ আছে। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম সে তার বন্ধুর সাথে বসে ইস্টু খেলছে।
এই কথা তাকে বলার সাথে সাথেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমিও উত্তেজিত হয়ে যাই। এক পর্যায়ে বলে সে যেখানে কাজ করে সেখানে যেতে। আমি যাই।৩০মিনিট রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে তারপর সে আসে।এসেই খারাপ ব্যবহার করতে থাকে।
আমি শুধু বলেছি বাসায় চলেন। তারপর কথা হবে।সেও বাসায় আসবে না। তারপর এক পর্যায় আমি তার পাঞ্জাবীর পকেটটা হাত দিয়ে শক্ত করে ধরি আর সে উল্টো দিকে টান দেয়।এতে তার পাঞ্জাবিটা ছিড়ে যায়।এই অবস্থায় সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দৌড়ে চলে যায়। এরপর থেকে আমার নাম্বার ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখে,তার মা বোন,ভাইকে কল দিলে তারাও নাম্বার ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখে।
আজকে শুনলাম সে থানায় জিডি করেছে। বিভিন্ন মানুষের সাথে আলোচনা করছে কাবিনের টাকা না দিয়ে কিভাবে ডিভোর্স দেওয়া যায়।
অথচ আমি তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলাম।তার ব্যবহৃত গামছা, লুঙ্গি, টুথব্রাশ সব কিছুর দিকে তাকালেই বুকের ভেতর শূন্যতা অনুভব করি।আর মানুষটা আমাকে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।
যার কপালে দুঃখ থাকে তার জন্য বোধহয় সুখের আশা করাটাও অন্যায়।কোন সাজেশন চাই না, কোন শান্তনা চাই না, চাই শুধু দোয়া।
আল্লাহ যেন আমাকে এই যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা দেন।
রাতের শহরে হেঁটে যাওয়া কোন অচেনা পথিকের মতই আমি বড্ড একা। উদ্দেশ্যহীন যাত্রায় এই জীবনের পথ হেঁটে চলেছি।
রাতের শহরের নীরবতা, আলো ঝলমলে দিনের শত ব্যস্ততাকে ও ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
যদি সুখী হতে চান, তবে নিজের আলাদা একটি জগৎ তৈরি করুন। কারণ জীবনের বেশিরভাগ সময় আপনাকে কাটাতে হবে নিস্তব্ধতায়, একাকী অন্ধকারে।
চিৎকার করে যে সুর, গান প্রকাশ করা হয় তা তো সকলেই শুনতে পায়। কিন্ত নিস্তব্ধতার যে সুর, যে আবেদন তা বোঝার ক্ষমতা সকলের থাকে না৷
04/06/2024
নিস্তব্ধ এই শহরে আমার একাই বসবাসシ︎
Click here to claim your Sponsored Listing.