মদিনার বাইরে একটি ছোট্ট গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে একজন কামার বাস করত — নাম তার রাশিদ। সারাদিন লোহা পেটাত, ঘোড়ার নাল বানাত, কৃষকদের হাতিয়ার মেরামত করত। তার হাত ছিল শক্ত, কিন্তু হৃদয়টা ছিল তার চেয়েও বেশি শক্ত — অন্তত তাই মনে করত সবাই।
রাশিদ নামাজ পড়ত — কিন্তু মনে করত নামাজ পড়া মানে শুধু শরীরটাকে দাঁড় করানো। রুকু করো, সিজদা করো, শেষ করো, উঠে যাও। হৃদয়টা থাকত অন্য জায়গায়। ঘরের কথা, কাজের চিন্তা, ঋণের হিসাব — সব এসে ভিড় করত নামাজের মধ্যে। সে জানত এটা ঠিক নয়, কিন্তু বদলাতে পারছিল না।
গ্রামে একদিন এক বৃদ্ধ আলেম এলেন — নাম শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি। তিনি কোথাও বেশিদিন থাকতেন না। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতেন। মানুষের সাথে কথা বলতেন। তারপর চলে যেতেন। রাশিদের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থামলেন। দেখলেন — রাশিদ একটা লোহার টুকরো আগুনে গরম করছে, তারপর হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। গরম থাকলে লোহা বাঁকে। ঠান্ডা হয়ে গেলে আর বাঁকানো যায় না।
শায়খ পাশে বসলেন। অনেকক্ষণ চুপ করে দেখলেন। রাশিদ জিজ্ঞেস করল — “কিছু লাগবে শায়খ?” শায়খ বললেন — “না। দেখছি।” রাশিদ বলল — “কী দেখছেন?” শায়খ বললেন — “তুমি লোহা কখন পেটাও?” রাশিদ একটু অবাক হলো। বলল — “যখন গরম থাকে।” শায়খ বললেন — “ঠান্ডা থাকলে?” রাশিদ বলল — “ঠান্ডা লোহা পেটালে হাত ব্যথা হয়, লোহা বাঁকে না।” শায়খ বললেন — “মানুষের হৃদয়ও এমন।”
রাশিদ হাতুড়ি থামাল। শায়খের দিকে তাকাল। শায়খ বললেন — “হৃদয় যখন গরম থাকে — অর্থাৎ যখন আল্লাহর ভয়, আল্লাহর ভালোবাসা, মৃত্যুর স্মরণ তাকে নরম করে রাখে — তখন সে যেকোনো আকার নেয়। সে বদলায়। সে ভালো হয়। কিন্তু হৃদয় যখন ঠান্ডা হয়ে যায় — তখন লক্ষ বার পেটালেও কাজ হয় না।” রাশিদ একটু চুপ থেকে বলল — “আমার হৃদয় কি ঠান্ডা?” শায়খ বললেন — “তুমিই বলো। নামাজে দাঁড়ালে কী মনে হয়?”
রাশিদ মাথা নামাল। বলল — “মনে হয় — তাড়াতাড়ি শেষ করি।” শায়খ বললেন — “আর যখন কেউ তোমার কাছে ঋণ চাইতে আসে — তখন কী মনে হয়?” রাশিদ বলল — “মনে হয় — কীভাবে এড়াই।” শায়খ বললেন — “দেখো — দুনিয়ার কাজে তুমি সময় নাও, চিন্তা করো, হিসাব করো। কিন্তু আল্লাহর সাথে যোগাযোগে — তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাও। এটাই ঠান্ডা হৃদয়ের লক্ষণ।”
রাশিদ এই কথাটা শুনে কিছুক্ষণ চুপ রইল। তারপর বলল — “শায়খ, হৃদয়কে গরম করব কীভাবে?” শায়খ বললেন — “তুমি লোহা গরম করো কীভাবে?” রাশিদ বলল — “আগুনে দিই।” শায়খ বললেন — “হৃদয়ও আগুনে দিতে হয়।” রাশিদ বলল — “কোন আগুন?” শায়খ বললেন — “মৃত্যুর স্মরণ। কিয়ামতের চিন্তা। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়। এই তিনটি জিনিস হৃদয়কে গরম রাখে। গরম হৃদয়ে নামাজ পড়লে নামাজ অন্যরকম হয়।”
রাশিদ বলল — “কিন্তু আমি তো প্রতিদিন এই কথা ভুলে যাই।” শায়খ বললেন — “তুমি কি প্রতিদিন লোহা গরম করো?” রাশিদ বলল — “হ্যাঁ।” শায়খ বললেন — “একবার গরম করলেই কি সারাজীবন গরম থাকে?” রাশিদ বলল — “না, ঠান্ডা হয়ে যায়।” শায়খ বললেন — “হৃদয়ও তাই। প্রতিদিন গরম করতে হয়। প্রতিদিন মৃত্যু মনে করতে হয়। প্রতিদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা মনে করতে হয়। একদিন ভুললে হৃদয় ঠান্ডা হয়ে যায়।”
সেই রাতে রাশিদ ঘুমাতে পারল না। শায়খের কথা মাথায় ঘুরছে। সে ভাবল — সে কামার। লোহার সাথে কাজ করে চল্লিশ বছর। কিন্তু নিজের হৃদয়ের সাথে কোনো কাজ করেনি। লোহাকে সে যত্ন নেয়, সঠিক তাপমাত্রায় রাখে, সঠিক সময়ে পেটায়। কিন্তু হৃদয়কে? কোনো যত্ন নেই, কোনো আগুন নেই, শুধু ঠান্ডা পাথরের মতো পড়ে আছে।
ভোরের আগে রাশিদ উঠল। প্রথমবারের মতো ইচ্ছা করে উঠল। ওযু করল। জায়নামাজ বিছাল। দাঁড়াল। কিন্তু নামাজ শুরু করার আগে একটু থামল। চোখ বন্ধ করল। মনে আনার চেষ্টা করল — আমি এখন আল্লাহর সামনে দাঁড়াচ্ছি। একদিন এভাবেই দাঁড়াব — কিন্তু সেদিন পালানোর জায়গা থাকবে না। আজ এখানে দাঁড়ানোটাই সেই দিনের প্রস্তুতি। এই ভাবনাটা আসতেই তার বুকে কিছু একটা নড়ে উঠল।
সে তাকবির দিল। “আল্লাহু আকবার।” এবার কথাটা শুধু মুখে নয় — বুকেও অনুভব হলো। আল্লাহ সত্যিই সবচেয়ে বড়। তাঁর সামনে আমি কতটুকু? সূরা ফাতিহা পড়তে গিয়ে প্রথমবারের মতো মনে হলো — এই কথাগুলো আল্লাহ তাকে পড়াচ্ছেন, আর আল্লাহ নিজেই জবাব দিচ্ছেন। রুকুতে গেল — মনে হলো শরীরটা সত্যিই নত হচ্ছে। সিজদায় গেল — মাটিতে কপাল ঠেকাতেই মনে হলো — এই জায়গাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সেই ফজরের নামাজ শেষ হলো। রাশিদ উঠল না কিছুক্ষণ। বসে রইল। বাইরে আকাশ ফর্সা হচ্ছে। পাখি ডাকছে। সে ভাবল — এই সময়টা এতদিন ঘুমের মধ্যে কাটত। আর আজ এখানে বসে আছে। পার্থক্যটা অনুভব হচ্ছে — বুকে একটা শান্তি আছে যা সারাদিন কাজ করেও আসত না।
পরদিন শায়খ চলে যাওয়ার আগে রাশিদ তাঁর কাছে গেল। বলল — “শায়খ, কাল রাতে আপনার কথা মনে করে নামাজ পড়লাম। অন্যরকম লাগল।” শায়খ বললেন — “কী অন্যরকম?” রাশিদ বলল — “মনে হলো নামাজটা আমার নয় — আল্লাহর সাথে কথা বলা।” শায়খ বললেন — “এটাই নামাজ। বাকি যা করেছ এতদিন — সেটা শুধু শরীরের ব্যায়াম।” রাশিদ লজ্জায় মাথা নামাল। শায়খ বললেন — “লজ্জা পেও না। আজ থেকে শুরু হলো। এটাই যথেষ্ট।”
শায়খ চলে গেলেন। রাশিদ দোকানে ফিরল। কাজ শুরু করল। লোহা আগুনে দিল। হাতুড়ি তুলল। কিন্তু এবার একটু থামল। মনে হলো — এই লোহা গরম থাকতে থাকতে পেটাতে হবে। আর হৃদয়কেও গরম রাখতে হবে — প্রতিদিন, প্রতিটি নামাজে, প্রতিটি ভোরে। কারণ ঠান্ডা লোহায় হাতুড়ি পড়লে শুধু শব্দ হয় — কাজ হয় না। আর ঠান্ডা হৃদয়ে নামাজ পড়লে শুধু শরীর নামে — আত্মা নামে না।
সেই থেকে মহল্লার মানুষ লক্ষ্য করল — রাশিদ বদলে গেছে। কামারের কাজে কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু তার মুখে একটা শান্তি এসেছে। রাগ কম করে। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে। আজান হলে দোকান বন্ধ করে দেয়। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে — “লোহা ঠান্ডা হওয়ার আগেই পেটাতে হয়। আর হৃদয় ঠান্ডা হওয়ার আগেই আল্লাহর কাছে যেতে হয়।” মানুষ বুঝত না। কিন্তু রাশিদ বুঝত। আর আল্লাহ জানতেন।
“হৃদয় হলো লোহার মতো। গরম থাকলে বাঁকে, নরম হয়, আলো নেয়। ঠান্ডা হলে শুধু ভার হয়ে পড়ে থাকে। প্রতিদিন মৃত্যুর স্মরণ দিয়ে হৃদয়কে গরম রাখো — তাহলে নামাজ নামাজ হবে, জীবন জীবন হবে।”
— ইমাম ইবনুল জাওযি রহ., আল-লাতাইফ
“সফলকাম হয়েছে সেই ব্যক্তি যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং ব্যর্থ হয়েছে সে যে নিজেকে কলুষিত করেছে।”
— সূরা আশ-শামস, ৯১:৯-১০
“মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো — কারণ এটা পাপ থেকে পরিষ্কার করে এবং দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি আনে।”
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৫৮ — সনদ হাসান
📖 সূত্র: আল-লাতাইফ ফিল ওয়াআজ, ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি রহিমাহুল্লাহ (৫০৮–৫৯৭ হি.)
Mahmuda tinni
➤ Learn quran with tajweed - sisters only
"অসম্ভবকে সম্ভব করার এক শক্তিশালী দোয়া!"
বিপদ মুক্তি ও দোয়া কবুলের আমল (দোয়া ইউনুস)
কেন এই আমলটি করবেন?
১.এটি মনের যেকোনো নেক আশা পূরণে সাহায্য করে।
২.জেল-জুলুম, বিপদ বা বড় কোনো মুসিবত থেকে উদ্ধার পাওয়ার প্রধান আমল।
৩.এটি পাঠ করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি দ্রুত রহমত নাজিল করেন।
মানুষ যখন এমন কোনো সমস্যায় পড়ে যা থেকে বের হওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ থাকে না, তখন 'দোয়া ইউনুস' আল্লাহর রহমত পাওয়ার এক নিশ্চিত উপায়। ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটে আটকা পড়েছিলেন, তখন এই দোয়ার মাধ্যমেই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।
✅ আমলটি করার নিয়ম:
১. যেকোনো সময়, ওজু থাকা অবস্থায় বা ওজু ছাড়াও এই দোয়াটি পাঠ করা যায়।
২. দোয়াটি হলো: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন। (لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ)
৩. অর্থ: "আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছি।"
📖 রেফারেন্স ও ফজিলত:
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"অতঃপর আমি তার (ইউনুস আ.) ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি।"
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৮)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি কোনো বিষয়ে এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহর কাছে চায়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করবেন।"
(সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫০৫)
আমাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে "সময় পাই না!"
সংসার, বাচ্চা, রান্নাবান্না, পড়াশোনা কিংবা অফিস—সব সামলে দিনশেষে যখন আমরা জায়নামাজে দাঁড়াই, তখন শরীর আর চলে না। মনে হয়, দিনটা যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হতো! কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমাদের পূর্বসূরীদের দিনও কিন্তু ২৪ ঘণ্টাই ছিল। তাহলে তারা কীভাবে এত বিশাল বিশাল কাজ করে যেতেন?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে একটি শব্দে— 'বারাকাহ' বা বরকত।
১. বরকত কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?
বরকত মানে হলো অল্প জিনিসে বেশি ফল পাওয়া। যখন আপনার কাজে বরকত থাকবে, তখন আপনি অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ গুছিয়ে নিতে পারবেন। আর বরকত কেড়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় চোর হলো আমাদের 'স্ক্রিন টাইম'। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা হাতে নেওয়া আমাদের পুরো দিনের বরকত নষ্ট করে দেয়।
২. সকালের সেই জাদুকরী সময়
রাসূলুল্লাহ (সা.) দুআ করেছেন:
"হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য ভোরের সময়ে বরকত দান করুন।" (সুনানে তিরমিজি)
আপনার যদি মনে হয় আপনি ইবাদতে ধারাবাহিক হতে পারছেন না, তবে আপনার রুটিনটা একটু পাল্টে দেখুন। সারাদিনের ইবাদতের শক্তি অর্জিত হয় ভোরে। ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়টা যদি আপনি কেবল আল্লাহর স্মরণে আর নিজের কাজ গোছাতে ব্যয় করেন, তবে দেখবেন পুরো দিনটা আপনার জন্য সহজ হয়ে গেছে।
৩. কাজের মাঝেই ইবাদত
আমরা ভাবি কাজ শেষ করে অবসর হয়ে ইবাদত করবো। অথচ ইবাদত আর কাজকে আলাদা করার সুযোগ নেই।
রান্না করছেন? মুখে থাকুক সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন? মনে মনে রবের শুকরিয়া আদায় করুন।
যখন আপনি কাজের ফাঁকে আল্লাহকে স্মরণে রাখবেন, তখন আল্লাহ আপনার সেই কাজে বরকত ঢেলে দেবেন। তখন দেখবেন যা করতে দুই ঘণ্টা লাগতো, তা এক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
৪. আপনার দিনের কেন্দ্রবিন্দু হোক 'সালাত'
আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, আল্লাহ কেন দিনরাত মিলিয়ে ৫ বার নামাজের সময় নির্ধারণ করে দিলেন? এটি আসলে আমাদের জন্য একটি চমৎকার 'টাইম ম্যানেজমেন্ট' টুল।
-জোহরের আগে ঘরের কাজ শেষ করবো।
-আসরের পর বাচ্চাদের সময় দেবো।
-মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত বাইরের কোনো কাজ রাখবো না।
যখন আপনি এভাবে নামাজের ওয়াক্ত দিয়ে আপনার দিনকে ভাগ করে নেবেন, তখন ইবাদত আর 'অতিরিক্ত কাজ' মনে হবে না, বরং এটিই হবে আপনার দিনের প্রধান কাজ।
৫. মায়েদের এবং ব্যস্ত বোনদের জন্য টিপস-
আমরা যারা ঘর বা বাচ্চা সামলাই, আমাদের জন্য রুটিনটা একটু ফ্লেক্সিবল হতে হয়।
পরামর্শ: আপনার কঠিন কাজগুলো সেই সময়ের জন্য রাখুন যখন আপনার শরীরে শক্তি বেশি থাকে (যেমন সকালের দিকে)। আর ইবাদতের জন্য এমন সময়গুলো ফিক্স করুন যখন চারপাশে কোলাহল কম থাকে। ইবাদতকে যদি আপনি আপনার 'মি-টাইম' (Me-time) বা নিজের প্রশান্তির সময় হিসেবে দেখেন, তবে এটি ধরে রাখা সহজ হবে।
ছোট একটি পরিবর্তন
আজ থেকে ডায়রিতে বা ফোনে 'টু-ডু লিস্ট' লেখার সময় আগে ৫ ওয়াক্ত নামাজের কথা লিখুন। তারপর সেই নামাজের মাঝখানের গ্যাপগুলোতে আপনার রান্নাবান্না, পড়াশোনা বা অফিসের কাজগুলো বসান। দেখবেন, দিনশেষে আপনি শুধু কাজই শেষ করেননি, আপনার আত্মাও তৃপ্ত থাকবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি থেকে বর্ণিত
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি শুক্রবার রাত বা শুক্রবার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে।তার এবং কা'বা ঘরের মধ্যবর্তী স্থানকে নুর দ্বারা ভরপুর করে দেয়া হবে।(সুনানে দারেমি-৩৪০৭,সহীহুল জা'মে-৬৪৭১)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনি
যা কিছু ছেড়ে দেবেন,
আল্লাহ আপনাকে তার থেকে ও
উত্তম কিছু দান করবে।
📖 Assalamu Alaikum Wa Rahmatullah
🌸 Private Quran Classes for Sisters Only
আলহামদুলিল্লাহ, আমি শুধুমাত্র বোনদের জন্য (Private) অনলাইন কুরআন ক্লাস শুরু করেছি।
✨ যা শেখানো হবে:
• নূরানী কায়দা (একদম শুরু থেকে)
• সহিহ তাজবীদ সহ কুরআন তিলাওয়াত
• ধীরে ধীরে সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়া শেখানো
🌼 প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদা করে সময় দিয়ে শেখানো হয়
🌙শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য
🕰️ সময় ও ফি ইনবক্সে জানানো হবে
📩 ভর্তি হতে মেসেজ করুন
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন শেখা ও আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন 🤍
যাদু ফিরানোর জন্য, যে যাদু করছে তার উপর ফিরে যাবে
সূরা আনআম এর ১৭ নং আয়াত
সূরা আযহাব এর ২৫ নং আয়াত
ইয়া সুব্বুহুন, ইয়া কুদ্দুছুন,
ইয়া গফুরু, ইয়া ওয়াদূদু... ৩ বার
উহুদ যুদ্ধে কাফিররা যখন আক্রমণ করে তখন খুব স্বল্পসংখ্যক নিবেদিত প্রাণ মুসলিমই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর পাশে ছিলেন এই সংগীত পরিস্থিতিতে উম্মে উমারা রা. নিজেকে ঢাল বানিয়ে রাসূল (ﷺ) এর নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা করেন। আমার একই সাথে ধনুক তরবারি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে উম্মে উমারার কাঁধে গভীর জখম হয়।
পরবর্তীকালে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু শাসনামলে নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার মুসাইলামা কাজ্জাবের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধেও উম্মে উমারা রাঃ বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেন এমনকি তার একটি হাত ও কাটা পড়ে
আহজব যুদ্ধের সাহাবিয়া সাফিয়ার রাদিয়াল্লাতালা আনহু ইহুদিদের আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন এক ইহুদি কুচক্রীকে হত্যা করেন। হুনাইনের যুদ্ধে উম্মে সালাম রাঃ তরবারি হাতে শত্রুর মোকাবেলা করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে আসমা বিনতে আবু বকর উম্মে আহবান উম্মে হাকিম খাওলা হীন ও উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া রাদিয়ালাতালা আনহু বীরত্ব প্রদর্শন করেন এমনকি আসমা বিনতে ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাতালা আনহু একাই নয়জনশত্রুকে হত্যা করেন। হিজরী ২৮ সালে উম্মে হারাম রাঃ সাইপ্রাস অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
উম্মে মুমিনের আশা রাদিয়ালাহু উম্মে সুলাইম ও উম্মে সালিক রাধে লা তালা আনহু তোদের সেবায় ছিলেন খুবই পারদর্শী। ইসলামের ইতিহাসে দলযুদ্ধের পাশাপাশি নৌ যুদ্ধেও নারী সাহাবীগণ অংশগ্রহণ করেন। যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ময়দানে আহতদের চিকিৎসা যুদ্ধ শিবরিয়া খাদ্য ও পানীয় যোগান দেওয়া এসব দায়িত্ব ছিল নারী সাহাবাদের জীবনে খুবই নৈমিতিক ঘটনা। তারা আহত ও শহীদদের অধিনায় পৌঁছাতে সহায়তা করতেন উম্মে আতিয়ার রাঃ অংশগ্রহণ করেছেন সাত সাতটি যুদ্ধ তৎকালীন যুদ্ধ সমূহে নারীরা এমনকি শিশুরাও শহীদদের দাফন কাজে সহায়তা করতেন।
এইরকম গৌরবময় ছিলো আমাদের পূর্ববর্তী নারীদের ইতিহাস...
আর আজ আমরা কিনা স্বামী সন্তান সংসারের মোহে ভীত সন্ত্রস্ত কাফের মূশরিক বাহিনীর আক্রমনের কথা শুনে কেদে দেই!!
অথচ আমাদেরই বোনেরা গাজায় সিরিয়ায় কি সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন প্রতিটি শিশুকে গড়ে তুলছেন এক একজন যোদ্ধা করে তাদের এক হাতে থাকে দুধের বোতল আরেক হাতে পাথর... আর কিছু নাপারুক এই পাথর অন্তত শত্রু সীমানা ছুড়ে মারার চেষ্টা করে সুবহানাল্লাহ...
আজ আমরা সংসারের কাজের জন্য কোরআন পড়ার সময় পায়না সন্তানের জন্য নামাজে খুশু রুজু হারাই, অথচ আমাদের বোনেরা জিহাদের ময়দানে প্রতিদিন দল বেঁধে তেলাওয়াত করছেন কেউ কেউ সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে দুরাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করছেন...
তাহলে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো?
আমরাও ৪ লাইনে কথা বলবো আজ থেকে ইন শা আল্লহ
এক দুনিয়া থেকে আল্লাহ
দুই বেদআত থেকে সুন্নাহ
তিন মাল থেকে আমল
চার দুনিয়া থেকে আখিরাত
আমরাও ইদদ করবো ইন শা আল্লহ... নিজেদের গড়ে তুলবো মুজাজিদা হিসেবে..
ঘরে ঘরে তৈরি করব খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ হামজা রাঃ সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহ. মীর কাসিম... ইন শা আল্লহ..
-মাঝে মাঝে হৃদয় অশান্ত হয়ে উঠে। কোথায় গেলে বা কিছু একটা করলে হয়তো সূকুন মিলবে এমন মনে হয়।
-দম বন্ধ হয়ে আসে; কাউকে কিছু বলাও যায় না, আবার নিজে নিজেও সহ্য করাটা কঠিন।
-পরিস্থিতি অনুকূলে নেই, এমনটা হয়। করণীয় কী তার সমাধান মিলছে না।
-কলুষিত সমাজ এতোটাই নোংরা হয়ে গেছে যে, দৃষ্টি হেফাজতে রাখা কঠিন।
-ফিৎনাময় পরিবেশ থেকে নিজেকে যেনো চাইলেও হেফাজত করতে পারছি না।
আমরা যা করতে পারি,
তা হলো সবার জন্য এবং নিজের জন্য দোয়া করা।
আল্লাহকে বলুন, 'ইয়া আল্লাহ! আপনিই কেবল অন্তরের নিয়ন্ত্রক। কি করলে অশান্ত হৃদয়ে শান্তি মিলবে আমি জানি না। শুধু জানি আপনার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই আমার এলোমেলো অন্তরে আপনি প্রশান্তি দান করুন। আমার সমস্ত অস্থিরতা, দুঃখ-কষ্টগুলো দূর করে দিন। সবরের এতো কঠিন পরীক্ষা আমার থেকে আর নিয়েন না। এমন সূকুন দান করুন যারপরে আর কোন সূকুন নেই।
ভিক্ষুকের মতো আল্লাহর কাছে 'সূকুন' প্রার্থনা করুন আর কঠিন পরীক্ষা থেকে পানাহ চাইবেন। দু'আ করার আগে অবশ্যই ইস্তেগফার এবং দরূদে ইবরাহীম পাঠ করে নিন। প্রয়োজনে ২ রাকাত সালাতুল হাজতও আদায় করতে পারেন।
বাচ্চারা যেমন কিছু চাইলে কাঙ্ক্ষিত বস্তু না পাওয়া পর্যন্ত কান্না করতেই থাকে আপনিও সেভাবেই চোখের পানি ফেলে বাচ্চাদের মতো আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন। অবশ্যই আমাদের 'রব' খালি হাতে ফিরাবেন না ইন শা আল্লাহ।
অন্তরে এই বিশ্বাস টা সবসময় রাখবেন;
وَّ لَمۡ اَكُنۡۢ بِدُعَآئِكَ رَبِّ شَقِیًّا ﴿۴﴾
হে আমার প্রতিপালক! তোমাকে ডেকে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি। (মারইয়াম-০৪)
ব্যান ইসকন ✊
Click here to claim your Sponsored Listing.