“আপনার সন্তানের হাসির আড়ালে কি লুকিয়ে আছে গভীর মন খারাপ?”
আজকাল অনেক কিশোর-কিশোরী সব ঠিক আছে বলেও ভিতরে ভিতরে বিষণ্নতায় ভোগে।
তারা হয়তো আগের মতো মিশছে না, মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না, হঠাৎ রেগে যাচ্ছে — কিন্তু আমরা তা বুঝতেই পারি না।
একজন অভিভাবক হিসেবে এটা জানা জরুরি — ডিপ্রেশন শুধু বড়দের নয়, আপনার সন্তানেরও হতে পারে।
আলোচক
রইসুল ইসলাম মাহমুদ
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
জেনার্চার
অনার্স ও মাস্টার্স (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি)
👉 ভিডিওটি দেখুন — কিভাবে বুঝবেন আপনার সন্তানের মধ্যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ আছে কিনা, এবং কীভাবে সময়মতো সাহায্য নেওয়া যায়।
আপনার সন্তানের মানসিক সুস্থতার পথে প্রথম পদক্ষেপ নিন।
Rysul Islam Mahmood
নিজেকে খুজে পাওয়া এক পরিপূর্ণ পথিক।
চিন্তার পরিবর্তন ঘটান, পৃথিবী বদলে যাবে।
আমরা প্রতিদিন নানা ঘটনার সম্মুখীন হই, এই ঘটনাগুলো নিয়ে আমরা যেভাবে চিন্তা করি আমাদের আচরণ সেভাবেই ঘটে। তাই ঘটনা ঘুটলেই দ্রুত চিন্তা না করে সময় নিয়ে ভাবুন। অনেক অনাকাংখিত আচরণ এড়াতে পারবেন।
05/10/2025
কখনো এমন হয়েছে যে, আপনার খুব কাছের মানুষটা—হতে পারে আপনার ভাই, বোন, বন্ধু বা জীবনসঙ্গী—আপনাকে বলছে তার বুকে ব্যথা করছে বা প্রায়ই শরীর দুর্বল লাগে? আপনি হয়তো তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন, নানা রকম টেস্ট করাচ্ছেন, কিন্তু রিপোর্টে তেমন কিছুই আসছে না। আপনি ভাবছেন, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, শরীরের এই উপসর্গগুলোর পেছনের কারণটা হতে পারে মনের গভীর কোনো ক্ষত। যে কষ্টটা সে মুখে বলতে পারছে না, সেটাই হয়তো তার শরীর প্রকাশ করে দিচ্ছে।
আমাদের শরীর এবং মন আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুটোই একে অপরের সাথে খুব শক্তভাবে জড়িত। খেয়াল করে দেখবেন, পরীক্ষার আগে টেনশনে যেমন আমাদের পেট ব্যথা করে, ঠিক তেমনি দীর্ঘদিন ধরে মনের ওপর দিয়ে ঝড় গেলে তার প্রভাবও শরীরের ওপর পড়তে বাধ্য। এই মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে বুকে ধড়ফড় করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, এমনকি হাত-পা কাঁপার মতো শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
সমস্যা হলো, আমরা শরীরের অসুস্থতা নিয়ে যতটা সচেতন, মনের অসুস্থতা নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন। মানসিক কোনো ব্যাধি হয়তো আপনার প্রিয়জনকে ভেতর থেকে একজন নীরব ঘাতকের মতো শেষ করে দিচ্ছে, কিন্তু বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই। আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য হয়তো দিনের পর দিন এভাবেই তিলে তিলে কষ্ট পাচ্ছে, আর আমরা হয়তো তা খেয়ালই করতে পারছি না। সার্বিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য তাই শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াটা এখন সময়ের দাবি।
কীভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনের পাশে দাঁড়াতে পারেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে পারেন?
👉 খোলামেলা কথা বলুন: তার সাথে কথা বলার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন। তাকে বোঝান যে আপনি কোনো বিচার ছাড়াই তার সব কথা শুনতে প্রস্তুত। জিজ্ঞেস করুন, "তোর মনটা কি ভালো নেই?" বা "কোনো কিছু নিয়ে কি কষ্ট পাচ্ছিস?"
👉 শারীরিক উপসর্গে নজর দিন: যদি দেখেন কেউ প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়া অসুস্থ বোধ করছে, তাহলে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থা বোঝারও চেষ্টা করুন। দুটো বিষয় একসাথেই ঘটতে পারে।
👉 সহানুভূতি দেখান, উপদেশ নয়: তার কষ্টকে ছোট করে দেখবেন না। "এত ভাবার কী আছে" বা "শক্ত হও"—এসব বলার পরিবর্তে বলুন, "আমি তোর পাশে আছি, এই সময়টা ঠিকই কেটে যাবে।"
👉 একসাথে সময় কাটান: তার পছন্দের কোনো কাজ একসাথে করুন। হতে পারে সেটা একসাথে হাঁটা, মুভি দেখা বা simplemente এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বসা। আপনার সঙ্গ তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে।
আসুন, আমাদের পারিবারিক জীবনে একে অন্যের মানসিক সুস্থতার দিকে আরও বেশি নজর রাখি। আপনার একটুখানি মনোযোগ আর সহানুভূতিই হতে পারে কারো অন্ধকারে আলোর দিশা এবং পারিবারিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার প্রথম পদক্ষেপ। ❤️
28/09/2025
আসামিরও চোখে পানি যে সাক্ষ্য শুনে..
আজ অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতা হল। ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ, মুমূর্ষু, জীবিত সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা নিয়ে এক মায়ের সাক্ষ্য শুনে চোখ ভিজে যায় আদালতে সবার। আমি তখন একটু পেছনে খেয়াল করে দেখি আসামির ডকে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষন্ন মনে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সাক্ষীর ডকে থাকা ওই মায়ে দিকে। তখন তারও চোখে পানি। জুলাই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মায়ের সাক্ষ্যটা পড়তে পারেন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দেয়া তার হুবহু সাক্ষ্য দেয়া হল। ( আর ভিডিও রিপোর্ট কমেন্টে দেখতে পারেন)
সাক্ষ্য প্রদান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
কেইস নং: আইসিটি বিডি ০২, ২০২৫
মামলা: চিফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা এবং অন্যরা।
আমার নাম মোছাঃ শাহিনা বেগম। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪১ বৎসর।
আমি জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের আম্মু। আমার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন সজল ৫ই আগস্ট আশুলিয়ায় বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে যোগ দেয়। আমি আশুলিয়ায় নারী ও শিশু হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতাম। আমার ছেলে আন্দোলনে যায় এবং আমি হাসপাতালে ডিউটিতে যাই। হাসপাতালে অনবরত গুলিবিদ্ধ রোগী আসছিলে। তখন আমি বার বার ছেলেকে ফোন করে বলি, বাবা তুমি বাসায় ফিরে আসো। হাসপাতালে অনেক গুলিবিদ্ধ আহত রোগী আসতেছে, তোমার আন্দোলনে থাকার দরকার নাই।
তখন সে আমাকে বলে, তুমি স্বার্থপর কেন আম্মা আমি এখন বাসায় যেতে পারবো না। আমার সামনে চার চারটা লাশ এবং আমি একজন আহতকে ধরে বসে আছি। সকাল ১১.০০/১১.৩০টার দিকে আমার হাসপাতালে দুটি ডেড বডি আসে। অনেক আহত রোগী আসে। তখন আমি আমার ছেলেকে আবার ফোন করি। তখন ছেলে বলে, আমাকে তুমি কিভাবে ফেরত আসতে বলো। আমি তখন বলি তুমি আমার একমাত্র ছেলে। তোমার একটি ছোট্ট মেয়ে আছে বাবা। তোমাকে আমি ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চাই। কিন্তু সে বাসায় ফিরে আসেনি।
তখন সে আমাকে জবাব দেয়, মা আমি যদি মারা যাই, তাহলে হাজার সন্তান তোমার পাশে দাঁড়াবে। তুমি আমার চিন্তা করো না। এরপর আরো দুটি মৃত দেহ আমার হাসপাতালে আসে। আমি দৌড়ে রিকশায় কাছে যাই এবং ভাবতে থাকি এই বুঝি আমার ছেলে হাসপাতালে আসলো। এই সময় একজন বুকে গুলিবিদ্ধ আহত ছেলে আমাদের হাসপাতালে আসে। আমি তাকে এক্স-রে রুমে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ঐ সময় ছেলেটি তার মাকে ফোন করে এবং বলে আম্মু আমি ভালো আছি। আরেকজন আহত ছেলেকে আমি স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছিলাম। সেই ছেলেটিও তার পাশে থাকা বন্ধুকে বলছিলো, আমার অবস্থা আম্মুকে বালো না, তাকে বলো আমি ভালো আছি। না হলে আম্মু অনেক চিন্তা করবে।
এই অবস্থা দেখে আমি আমার ছেলেকে বার বার ফোন দিতে থাকি। তারপর আবার তাকে ফোন করে বলি, যদি আন্দোলন করতেই হয় তবে এখানে না থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাও, সেখানে তোমার আরো আন্দোলনকারীরা আছে। আমার ছেলে তখন উত্তর দেয়, তুমি কি পাগল হয়ে গেছো আম্মু? আমার ভাই বোনেরা গুলি খাচ্ছে, মারা যাচ্ছে তাদের কে রেখে আমি কিভাবে জাহাঙ্গীরনগরে যাবো?।
সর্বশেষ বেলা ২.৪৫ মিনিটে আবার তাকে ফোন দেই। তখন সে আমাকে বলে, তুমি কেন আমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করছো আম্মা আমি যদি শহীদ হই তাহলে আমার আইডি কার্ড দেখে আমাকে শনাক্ত করো। আনুমানিক ২.৫৫টার দিকে আমার হাসপাতালের ডাক্তার বললো, খালা দেশ স্বাধীন হয়েগেছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, সজলকে আসতে বলো। তখন তাকে দুই বার ফোন দিয়েছিলাম, ফোন কেটে দিয়েছে। পরে অনবরত ফোন করেছি কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি। একপর্যায় ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি তার সকল বন্ধু-বান্ধবকে ফোন দিয়ে বাইপাইল এলাকায় তার খোঁজ নিতে বলি। তারা বলে অনবরত গুলি হচ্ছে, আমরা খোঁজ নিতে পারছি না। আশুলিয়া থানার সামনে আমরা যেতে পারছি না। আমি নিজে খোঁজ নিতে যেতে পারিনি কারন তখন হাসপাতালে প্রচুর গুলিবিদ্ধ আহত লোক আসছিলো।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৭.০০টার দিকে হাসপাতাল থেকে আমি ছেলের খোঁজে বের হই। আমার সাথে সজলের এক বন্ধু তার নাম শান্ত তাকে সাথে নিয়ে আমি বের হই। আমি আশেপাশে যত হাসপাতাল আছে সকল হাসপাতালে ছেলের খোঁজ করি কিন্তু পাইনি। আমি এনাম মেডিকেল থেকে আসপাশের সকল হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে ঢুকে রোগীদের মুখ দেখে ছেলেকে খুঁজেছি। সকল বেওয়ারিশ লাশ ছিলো তা আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি। তখন সেখানে থাকা স্টাফরা তারা আমাকে লাশ দেখতে নিষেধ করছিলো কারন তারা বলছিলো আপনি মা, আপনি সহ্য করতে পারবেন না। নিহতদের মাথায়, বুকে গুলি লেগে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এগুলি দেখলে আপনি পড়ে যেতে পারেন।
এদিকে আমার স্বামীও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলের সন্ধানে খোঁজখবর করে কিন্তু ছেলের সন্ধান পাওয়া যায় নি। রাতে মোবাইলের লাইট জেলে অলিগলি, বিল্ডিংয়ে ফাকে কত যায়গায় যে খুোজেছি। এভাবে সারাদিন এবং রাত ৩.৫০ ঘটিকা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে আমি বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বাইপাইল মোড়ে আসি। তখন আমি সেখানে লাঠিশোঠা নিয়ে পাহারারত ছাত্রদেরকে দেখতে পাই। তাদের কাছে আমার ছেলের সন্ধান যানতে চাই এবং আমার মোবাইলে থাকা ছবি তাদেরকে দেখাই। তখন একজন ছেলে আমাকে বলে, আন্টি আপনি যদি সহ্য করতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে একটা খবর বলতে চাই। তখন আমি বললাম বাবা আমি আমার ছেলেকে পাওয়ার জন্য সকল কিছু সহ্য করতে প্রস্তুত আছি, তুমি বলো। তখন সে ছেলেটি আমাকে বলে, আশুলিয়া থানার সামনে ৬/৭ টি ছেলেকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আপনি সেখানে আপনার ছেলেকে খুজে দেখতে পারেন। আমি আশুলিয়া থানায় যেতে চাইলে অন্য ছাত্ররা আমাকে সেখানে যেতে দেয়নি। তারা আমাকে জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়।
আমি বাসায় গিয়ে তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ পড়ে আল্লার কাছে কান্নাকাটি করি আর দোয়া করি যেন আমার সজলের অন্তত মরদেহটা পাই।
পরের দিন ৬ আগস্ট ৬.০০টার দিকে বাসা থেকে আবার বের হই এবং সকল আনুমানিক ৬.৩০টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে যাই। সেখানে গিয়ে একটা পুলিশের পিকআপ গাড়িতে বেশ কয়েকটি পোড়া লাশ দেখতে পাই। অনেক মানুষ লাশগুলির ছবি ও ভিডিও বনাছিলো। আমি ভীড় ঠেলে সামনে যাই এবং একটা ছবি তুলি। এই সেই ছবির প্রিন্ট কপি এই যে নিয়ে এসেছি (ছবি দেখানো হয় আদালতে)
আমি দেখতে পাই একটি লাশ এমনভাবে পুড়ে গেছে যে, পায়ের একটি মোটা হাড় উঁচু হয়ে আছে এবং সে হাড়ের সাথে একটি জুতা পোড়া অবস্থায় ঝুলছে। সামান্ন টাচ করলেই জুতাটা পড়ে যাবে। জুতাটা দেখেই আমি বুঝতে পারি যে, এই জুতাটি আমার ছেলে সজলের জুতা। (এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি, আদালতে প্রায় সকলে চোখে তখন পানি)।
আমি তখন উপস্থিত সেনা সদস্যদের বলি, এ আমার ছেলের লাশ। দয়াকরে আমার ছেলের লাশ আমাকে দিয়ে দিন। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাকে বলেন, এখন লাশ দেওয়ার অনুমতি নেই। অনুমতি পাওয়া গেলে আপনাকে জানাবো। আমি নিরুপায় আমার ছেলের পাশ ফেরত পাওয়ার জন্য আমার কর্মস্থলের হাসপাতালের ডাক্তারদেরকে সহায়তা করার অনুরোধ করি। বিকাল আনুমানিক ৪.৩০টার দিকে সজলের বন্ধুরা আমাকে ফোন দিয়ে যেখানে লাশ পোড়ানো হয়েছিলো সেখানে আসতে বলে। আমি সেখানে ৫.০০টার দিকে গিয়ে পৌছাই। তখন গাড়ি থেকে একটার পর একটা পোড়া লাশ নামানো হয় এবং শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাকে লাশের কাছে যেতে দেয়। সজলের লাশ যখন নামানো হয় তখন তার সাথে তার কর্মস্থলের আইডি কার্ডের আংশিক পোড়া কার্ড এবং তার মানিব্যাগের ভিতরে তার সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখে আমি আমার ছেলে সজলের লাশ শনাক্ত করি। এই সেই রক্তমাখা আইডি কার্ড (দেখানো হয় আদালতে)।
আমার ছেলের লাশের যখন প্রথম ছবি তুলি, সেখানে আমি দেখতে পাই তার পোড়া হাতের পাশেই তার মোবাইল ফোনটি রয়েছে। এটা দেখে আমি বুঝতে পারি যে, পোড়ানোর পূর্ব মুহূর্তেও সে জীবিত ছিলো এবং ফোন দিয়ে কাউকে কিছু জানানোর চেষ্টা করছিলো। আমার মনে হয়েছে, যখন তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিলো তখন সে প্রাণপনে তার অবস্থা আমাকে, আমাদেরকে জানানোর চেষ্টা করছিলো বা কোন মেসেজ লেখার চেষ্টা করছিলো কিন্তু একটার উপর আরেকটা লাশ ফেলার কারনে নিচে পড়ে যাওয়ায় সে আর কোন মেসেজ লেখা বা কল দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আশুলিয়া রাস্তার উপরে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে সেনাবাহিনী গান সেলুটের পর জানাজা পড়ানো শেষে আমার ছেলেসহ চারজনের লাশ সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আমার ছেলের লাশ গ্রহণ করার পর আমার কর্মফুল হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে। তাকে কাফন পরিয়ে কফিনের মধ্যে রেখে হাসপাতালের গাড়িযোগে আমার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে পৌছে দেয়। সেখানে ৭ই আগস্ট ২০২৪ সালে তাকে দাফন করি।
আমার ছেলে সজল সিটি ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পড়ছিলো এবং পাশাপাশি সে "টেস্টি ট্রিট" নামক একটি ফুড শপে চাকুরী করতো।
আমার ছেলের একজন দু বছরের কন্যা শিশু আছে। সে তার বাবার কবরের কাছে গিয়ে বাবাকে ডাকাডাকি করে বলে বাবা উঠো বাবা উঠো। এই সংক্রান্ত একটা ভিডিও আদালতে দেখানো হয় এবং সজলকে জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে আন্দোলনরত থাকা অবস্থায় ধারণকৃত আরেকটি ভিডিও আদালতে প্রদর্শিত হয়।
আমার সন্তানসহ দুই হাজার মানুষকে যারা হত্যা করেছে সেই আসামীরাসহ এই হত্যাকান্ডের জন্য। দায়ী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি মামুন, ওবায়দুল কাদের, সাইফুল এমপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশ লীগের বিচার চাই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই আমার জবানবন্দি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
১৭/৮/২০২৫
27/09/2025
রাগ নিয়ন্ত্রনের ৫ টি উপায়!
রাগ একটু বেশি হয়?
ভাবুন তো—সকালবেলা অফিসে বের হওয়ার আগে হঠাৎ বাসায় কোনো ঝামেলা হয়ে গেল, অথবা পথে ট্রাফিক জ্যামে আটকে আছেন, আবার অফিসে গিয়ে সহকর্মীর সাথে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। মুহূর্তেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল, রাগটা চেপে রাখতে পারলেন না। পরে যখন শান্ত হলেন, তখন মনে হলো—“এভাবে রাগ না করলেই পারতাম।” অনেকের জীবনেই এমনটা ঘটে, আর পরে অপরাধবোধও কাজ করে।
আসলে রাগ কোনো খারাপ জিনিস নয়, এটা মানুষের স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। তবে যখন রাগের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকে না, তখন সেটাই হয়ে ওঠে সমস্যার কারণ। মানসিক চাপ, হতাশা, অতিরিক্ত চিন্তা, এমনকি শারীরিক অসুস্থতাও আমাদের মেজাজ খারাপ করার বড় কারণ হতে পারে।
👉 তাহলে কীভাবে সামলাবেন এই রাগ?
রাগকে এড়িয়ে না গিয়ে, সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হবে। যেমন—
বুঝতে শিখুন কোন বিষয় বা মানুষ আপনার মেজাজ খারাপ করে, প্রয়োজনে তা এড়িয়ে চলুন।
রাগ উঠলে শরীরের অবস্থান বদলান। দাঁড়িয়ে থাকলে বসুন, বসে থাকলে হাঁটুন।
গভীরভাবে শ্বাস নিন, ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে শরীর ও মন দুটোই শান্ত হয়।
তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে একটু সময় নিন। অনেক সময় ৫ মিনিট নীরব থাকাই ঝগড়াকে থামিয়ে দেয়।
🌿 মনে রাখবেন—রাগ দমন করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ করা শেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর একবার আপনি রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে, সেটা আপনার আত্মবিশ্বাস, সম্পর্ক আর মানসিক শান্তি—সবকিছুর ওপরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ফ্রান্ৎস কাফকা(লেখক,অস্ট্রিয়া) কখনো বিয়ে করেননি এবং তাঁর কোনো সন্তানাদিও ছিল না।
তাঁর বয়স যখন ৪০, তখন একদিন তিনি বার্লিনের একটা পার্কে হাঁটছিলেন। এমন সময় তিনি একটি ছোট্ট মেয়েকে দেখলেন যে তার প্রিয় পুতুলটি হারিয়ে কাঁদছিল। সেই মেয়েটি এবং কাফকা, দু’জনে মিলে খুব খুঁজলেন হারিয়ে যাওয়া পুতুলটিকে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তা।
কাফকা মেয়েটিকে পরের দিন আবার সেখানে আসতে বললেন। উদ্দেশ্য, আবার তাঁরা দু’জনে মিলে হারিয়ে যাওয়া পুতুলটি খুঁজবেন সেখানে।
**কিন্তু পরের দিনও পুতুলটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তখন কাফকা ছোট্ট মেয়েটিকে একটি চিঠি দিলেন। আর বললেন, ‘এই চিঠিটি তোমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’। সে চিঠিতে লেখা ছিল, ‘দয়া করে তুমি কেঁদো না। আমি পৃথিবী দেখতে বেরিয়েছি। আমি আমার রোমাঞ্চকর ভ্রমণকাহিনী তোমাকে নিয়মিত লিখে জানাব।’
এভাবেই শুরু হয়েছিল একটি গল্পের, যা চলেছিল কাফকার মৃত্যু পর্যন্ত।
ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে কাফকার নিয়মিত দেখা হতো। আর যখনই দেখা হতো তখনই কাফকা একটি চিঠি দিতেন মেয়েটিকে, বলতেন সেই একই কথা, ‘চিঠিটি তার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’, এবং পড়ে শোনাতেন তার প্রিয় পুতুলের বিশ্ব-ভ্রমণের রোমাঞ্চকর সব বর্ণনা খুব যত্নের সাথে, যে বর্ণনাগুলো মেয়েটিকে ভীষণ আনন্দ দিত।
**এর কিছুদিন পর একদিন কাফকা একটি পুতুল কিনলেন এবং মেয়েটিকে দিলেন। বললেন, ‘এই নাও, তোমার হারিয়ে যাওয়া সেই পুতুল।’
মেয়েটি বললো, ‘এই পুতুলটি মোটেও আমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের মতো দেখতে নয়।’
কাফকা তখন মেয়েটিকে আরও একটা চিঠি দিলেন যেটাতে তার প্রিয় পুতুলটি তাকে লিখেছে, ‘ভ্রমণ করতে করতে আমি অনেক পাল্টে গিয়েছি।’
ছোট্ট মেয়েটি তখন নতুন পুতুলটিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল এবং অপার আনন্দে ভাসল।
এর এক বছর বাদে কাফকা মারা যান।
বহু বছর বাদে, সেই ছোট্ট মেয়েটি যখন অনেক বড় হয়ে গেছে, তখন সে সেই পুতুলটির ভিতরে একটি ছোট্ট চিঠি পায়। কাফকার সই করা ছোট্ট সে চিঠিটিতে লেখা ছিল,
‘Everything you love will probably be lost, but in the end, love will return in another way.
অর্থাৎ
"আপনি যা কিছু ভালবাসেন তা হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে, তবে শেষ পর্যন্ত, ভালবাসা অন্য উপায়ে ফিরে আসবে।"
- সংগৃহীত
06/06/2025
ভাগ্যের কী এক রহস্যময় খেলা! এই ছাগলটার জীবনাবসান হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো গতবছরের কোরবানি ঈদে। অথচ ছাগলটা এখনও সহীহ ছালামতে বেঁচে আছে। তবে ওই ছাগল সংশ্লিষ্ট যারা ছিলো, তাদের সবার বারোটা বেজে গেছে ইতোমধ্যে! ওই ছাগলটাকে বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান সাদেক এগ্রোর মালিক এখন জেলে, মোহাম্মদপুর বছিলায় সাদেক এগ্রোর যে খামার ছিলো, সেটাও অবৈধ স্থাপনা হওয়ায় উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাগল ক্রেতা ইফাত মানে মতিউরের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে ও তার মা (মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী) দেশ ছেড়ে পলাতক, দুর্নীতিবাজ এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর ও তার প্রথম স্ত্রী (যে ছিলো নরসিংদীর রায়পুরার চেয়ারম্যান) দুইজনই এখন কারাগারে, তাদের নামে থাকা হাজার কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত!
যার হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো কুরবানি, সে এখনও সুস্থ সুন্দর জীবনযাপন করছে, অথচ ওই ছাগলের সাথে জড়িত অন্যসবার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার হয়ে গেছে!
এজন্যই আমি বলি, এই ছাগলটা হলো পশুকূলের G.O.A.T মানে Greatest Of All Time!😜
©Saiyed Abdullah
06/06/2025
চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত।
তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানের সুযোগ এখন আর নেই। বর্তমানে ২৬-২৭ ফুট (আট মিটারের মতো) গভীরতা পাওয়া যায়।
নদীর যে অংশে বাঁক রয়েছে, সেখান থেকে চট্টগ্রাম ইপিজেড দিয়ে কেটে চ্যানেলের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারলে একটা স্থায়ী সমাধান করা যেত।
অবকাঠামো গড়ে ওঠায় এ পদক্ষেপটিও এখন আর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বলা যায় ৫০ বছর আগেই এ সুযোগ শেষ হয়ে গেছে।
নাব্য সংকটের কারণে ভারতের কলকাতা এখন পরিণত হয়েছে স্থানীয় নৌবন্দরে, একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জ বন্দরেরও। চট্টগ্রাম বন্দরও এমন পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।"
বর্তমান বিশ্বে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয় বড় আকারের জাহাজ, যেগুলোর প্রতিটি ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত একক কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম। এ ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত গভীরতা দরকার হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় এ ধরনের বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বাংলাদেশগামী বড় জাহাজগুলো তাই প্রথমে সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বন্দরে নোঙর করে।
সেখান থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর ধারণক্ষমতা এক থেকে দুই হাজার একক কনটেইনার। আর এ প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
সিঙ্গাপুর বন্দরে ভিড়তে সক্ষম জাহাজের ড্রাফট বা গভীরতা (জাহাজের যে অংশ পানির নিচে থাকে) ১৬ মিটার পর্যন্ত।
শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের সর্বোচ্চ অনুমোদিত ড্রাফট বা গভীরতা ১৮ মিটার।
ভিয়েতনামের সায়গন বন্দরে সাড়ে ১১ মিটার পর্যন্ত। অন্যদিকে দেশটির কাই মেপ বন্দর বর্তমানে বিশ্বের বৃহৎ কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাযোগ্য একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, যেখানে ১৬ থেকে ১৮ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে।
আর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ গভীরতা সাড়ে নয় মিটার এবং যা কেবল জোয়ারের সময়ই পাওয়া যায়। ভাটার সময় গভীরতা নেমে আসে ছয়-সাত মিটারে।
এ নাব্য সীমাবদ্ধতায় বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। এ সংকট ছাড়াও কাস্টমসে জটিলতা এবং দেশের অর্থনৈতিক হাবগুলোর সঙ্গে দুর্বল সংযোগ চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মান থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বণিক বার্তা ও এনায়েত চৌধুরী।
05/06/2025
বঙ্গদেশে, ২২০০ বছরের পুরনো নগর সভ্যতার ইতিহাস আছে, মহাস্থানগড় এ ।
কিন্তু মালয়েশিয়াতে ৭০/৮০ বছরের পুরনো ইট পাওয়া যায় না - এরপরেও, তারা মাঝের এই সময়ে আমাদের চাইতে বেশি উন্নত হয়ে গেল ।
সম্রাট আওরঙ্গজেব এর আমলে সারা বিশ্বের জিডিপির ১২% এই বাংলার ছিল, সেখান থেকে আমরা তলাবিহীন ঝুড়ি এটা শুনতে হয়েছে ।
কিন্তু এই, ৬০ দশকেও মালয়েশিয়া ছিল আমাদের চাইতেও গরিব, জংগলে পরিপুর্ন একটা দেশ।
কিভাবে তারা এত উন্নত হল ?
//.\\
১৯৬০ এর দশকেও মালয়েশিয়ানরা বস্তিতে থাকত, নোংরা জীবন যাপন করত - অনুন্নত ছিল । ২৪০ ডলার গড় উপার্জন ছিল তাদের ।
অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করত ।
এই অবস্থাকে বদলাতে তারা ৩ টা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল -
১/ তারা প্রথমে তাদের রাস্তাঘাট বড় করা শুরু করে - জিডিপির ১.৯% থেকে তারা পরিবহন খাতে ৯.৪% ব্যায় করা শুরু করে ।
যেখানে জংগল ছিল, তার মাঝে দিয়ে বা যেখানে কিছুই নাই সেখানেও তারা বিশাল বিশাল হাইওয়ে বানায় ।
২/ তারা প্রাইমারি আর হাই স্কুল লেভেল এ প্রচুর বিনিয়োগ করে শিক্ষায়, ১৯৮০ তে তাদের শিক্ষিত এর হার ছিল ৭০%, ২০২০ এ ৯৬%
৩/ তারা ফ্রি জোন গঠন করে বিনিয়োগকারীদের জন্য, সাথে কম মূল্যে বিদ্যুৎ দেয় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করে ।
পরিবহন সুবিধাসহ এইসব সুবিধার কারনে - প্রচুর বিনিয়োগকারী তাদের দেশে বিনিয়োগ করে ।
পার ক্যাপিটা জিডিপি যেখানে ১৯৭০ সালে ছিল ৩৭৪ ডলার সেটা ১৯৯৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় - ৪৪০৫ ডলার ।
আমরা, তাদের দেশে কামলা দিতে যাওয়া শুরু করি এরপরে থেকেই ।
//.\\
গত ৬০ বছরে - চিলি দক্ষিণ কোরিয়া, পোলান্ড এই তিন দেশ গরিব দেশ হিসেবে শুরু করে ।
কিন্তু এরপরের বছর গুলোতে কিছু দারুন ঘটনা ঘটে ।
যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া পার কাপিটা জিডিপিতে ৩০০০০ডলার ছাড়িয়ে যায় বাকিরা এর অর্ধেকেই থেকে যায় ।
পার্থক্যটা কোথায় ঘটে ? একই জায়গায় চিন্তা করলে মালয়েশিয়াও পিছনে পড়ে যায় ।
কারন কি ?
মালয়েশিয়ার ম্যাজিক ছিল সস্তা শ্রম,
৮০ এর দশকে ইনটেল,সনি, মোটোরোলা সহ টেক কোম্পানি সবাই এসে মালয়েশিয়াতে বিনিয়োগ করে সস্তা শ্রমের কারনে ।
সস্তা জমি, সস্তা শ্রমের কারনে মালয়েশিয়াকে ফ্যাক্টরি অফ এশিয়া বলা হতে থাকে সেসময়ে ।
শুরুতে এটাকে খুব ভাল মনে হলেও, পরে এটাই ফাঁদ হয়ে যায় ।
সস্তা শ্রমের সবচে বড় প্রতিযোগি হল - অন্য সস্তা শ্রমের দেশ ।
মালয়েশিয়া উন্নত হবার সাথে সাথে চাক্রুরি বেতন বাড়তে থাকে, জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে - শ্রমের মূল্য বাড়তে থাকে ।
২০২০ এ মালয়েশিয়াতে একজন শ্রমিকের গড় বেতন ছিল -
৪৫৮ ডলার,
ভিয়েতনাম এ - ৩১০
ইন্দোনেশিয়াতে ২০৮ ডলার ।
এখন বড় ইন্ড্রাস্ট্রি কি করবে ? কোথায় যাবে ?
এখানে উল্লেখ্য - মালয়েশিয়াতে তারা শুধু মেশিনারিজ এসেম্বল করত - ইনোভেশন ছিল না কোন, তাদের নিজেদের কোন ব্রান্ড ছিল না ।
এখানে তাদের প্রথম জেনারেশন কাজ পেলেও, পরের জেনারেশন এসে গ্যাপে পড়ে যায় চাকুরি নিয়ে ।
২০০৯ পর্যন্ত বেতন ঠিকঠাক বাড়লেও, এরপরে বেতন আর সে অনুপাতে বাড়ে না ।
প্রতি বছর ২.৫ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হয়, কিন্তু বেকার ।
এরা ফুড ডেলিভারি শুরু করে,সস্তা চাকুরি খোজা শুরু করে এবং এরপরেও বিশাল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বেকার থেকে যায় দরকারমত চাকুরি না পেয়ে ।
//.\\
এখানেই, দক্ষিণ কোরিয়া সবাইকে ছাড়িয়ে যায় । তারা প্লান করে -
১/ এক জেনারেশন কাজ করবে ।
২/ সেকেন্ড জেনারেশন পড়াশোনা করবে।
৩/ থার্ড জেনারেশন ইনোভেশন এ মন দেবে ।
এবং, তারা এক্সপোর্ট করা সম্ভব হয় এমন মেশিনারিজ এ মন দেয় পুরো জাতি ।
জাহাজ, গাড়ী, ইলেক্ট্রনিকস এ তারা নিজেদের সেরাদের অন্যতম কাতারে নিয়ে যায় ।
এরপরের জেনারেশন সে শিক্ষা নিয়ে, সেরা ইঞ্জিনিয়ার,সেরা ম্যানেজারদের দল জয়েন করে ইন্ড্রাস্ট্রিতে ।
এবং এই দল, নিজেরা পন্য আরো উন্নত করা শুরু করে, সেরা ম্যানেজাররা কাজের মান আরো ভাল জায়গায় নিয়ে যায় । ১৯৭০ তারা জাপানিজ টিভি এসেম্বল করত, ১৯৮০ তারা নিজেদের ডিজাইন বানায়, নিজেদের ব্রান্ড বাজারে নিয়ে আসে নিজেদের টেকনোলজিতে ।
এখন সারা দুনিয়ার সেরা ডিসপ্লে তারাই বানায় ।
আরো অনেক কথা লেখা যায় তাদের নিয়ে বলা যায় ।
//.\\
আমরা এই পুরো কেস স্টাডির কোন জায়গায় আছি ?
লিখলাম না- কমেন্ট এ বলে যান ভাইজানেরা ।
18/02/2025
সূরা আরাফ শুরু করলাম। আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফেক্ট পেলাম ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম অথচ এই সুরার মাধ্যমে আমাদের জানানো হলো যে না! জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা লোকেশন আছে লোকেশনটার নাম আরাফ!
এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নাম করন "আরাফ" হবে তাদের জন্য যারা এতটাও ভালো কাজ করেনি যেঁ জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে আবার এতটাও খারাপ কাজ করেনি যে জাহান্নামে যেতে হবে এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!
এই আরাফবাশি সবসময়ই আশায় থাকবে যে তাদেরকে যেন কোন না কোন সময় জান্নাতে আপগ্রেড করা হয়. [১] এই আরাফ ছাড়াও হাশর আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফেক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা
আর সেটা হলো কান্তারা!
আমরা মনে করি "কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি!" ভুল! পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়।পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা। হাশরের দিনে বিশাসীদের বিচার হবে দু বার । এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে।
জি ঠিকই শুনেছেন পূর্বের বিচার হবে "স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার" আর পরের বিচার হবে "বান্দার হক নষ্ট করার বিচার" আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে সেই জায়গাটির নামই হলো "কান্তারা"।আল-কান্তারাহ হলো সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত বিস্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন [২]
কল্পনা করুন, একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ-তে জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ উলটো তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে হচ্ছে সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন? আমার রাসুল ﷺ অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে "মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া বা ব্যাংকরপ্টড।
রাসূল ﷺ বলেছেন “তোমরা কি জানো , কে আসল দেউলিয়া?”
সাহাবারা উত্তর দেন “যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ?” রাসূল ﷺ বললেন “না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি যেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে অথচ সে দেখতে পাবে যে সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে।
কারণ জীবদ্দশায় সে অন্যদের গালি দিয়ে বেড়াতো অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো অন্যের র*ক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে ট্র্যান্সফার করে দিতে হচ্ছে। শুধু তাই না যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” [৩]
তাই বলছি আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি আপনার মুখের স্পিচ দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন তাদের জন্য একটাই কথা দেখা হবে বন্ধু!
দেখা হবে কান্তারায়!
[সামিউল হক হাফি.]
Ikhlas - ইখলাস
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Telephone
Website
Address
1230