Shaheed Police Smrity College Guardian Forum

Shaheed Police Smrity College Guardian Forum শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ অভিভাবক ফোরাম

ধর্মের পবিত্রতা থামে কারখানার গেটে: ভারতের গৌমাংস ব্যবসার গোপন রহস্য!! জানুন আসল সত্য।গৌমাতার মালা গলায়, রপ্তানি চালান ...
19/05/2026

ধর্মের পবিত্রতা থামে কারখানার গেটে: ভারতের গৌমাংস ব্যবসার গোপন রহস্য!! জানুন আসল সত্য।

গৌমাতার মালা গলায়, রপ্তানি চালান হাতে: ৪ বিলিয়ন ডলারের পবিত্র মিথ্যা!! একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ কোনটি? উত্তর শুনে মাথা ঘুরবে, ভারত। হ্যাঁ, সেই ভারত, যেখানে গরু ‘মাতা’, যেখানে গৌমাংস সন্দেহে পেহলু খান, রকবার খান, তাবরেজ আনসারি, মুহাম্মদ আখলাকদের পিটিয়ে প্রাণ নেওয়া হয়েছে, যেখানে রাস্তায় কসাই ভাইকে বেঁধে রেখে ভিডিও ভাইরাল করা হয়। সেই ভারতই ২০২৪ এ ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গরুর মাংস রপ্তানি করেছে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, মিশর, সৌদি আরব, এমনকি ইউরোপের প্লেটে যাচ্ছে ভারতীয় গরুর মাংস। প্রশ্ন একটাই, গৌমাতা যদি এতই পবিত্র, তাহলে এত মাংস বের হয় কোত্থেকে?

এখানেই আসল গল্প। ভারতের মাংস সরবরাহ চেইন একসময় ছিল লক্ষ লক্ষ ছোট কসাইয়ের হাতে, মুসলিম, দলিত, কুরেশি, পিছিয়ে পড়া হিন্দু পরিবার, যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশায়। তাঁরা কৃষকের কাছ থেকে বুড়ো বা অসুস্থ গরু কিনতেন, পাড়ার দোকানে জবাই করতেন, স্থানীয়ভাবে বিক্রি করতেন। ছোট মাপের কিন্তু লক্ষ লক্ষ পরিবারের রুটিরুজি। তারপর শুরু হলো নতুন খেলা। ২০১৪ এর পর থেকে রাস্তায় আবির্ভাব ঘটলো গৌরক্ষক বাহিনীর, ট্রাক থামানো, কসাইকে পেটানো, কখনো গণপিটুনিতে হত্যা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে ২০১৫ থেকে ২০২৩ এর মধ্যে শুধু গৌমাংস সন্দেহে ৬০ এর বেশি গণপিটুনির ঘটনা নথিভুক্ত, ভিকটিমের ৮০ শতাংশই মুসলিম।

প্রতিটি লিঞ্চিং এর ভিডিও ভাইরাল হলো, ভয় ছড়িয়ে পড়লো, ছোট কসাই দোকান বন্ধ করলেন, কৃষক বুড়ো গরু বিক্রি করার জায়গা পেলেন না, পাড়ায় পাড়ায় গরু ছেড়ে দিলেন, স্থানীয় বাজার ভেঙে পড়লো। ঠিক এই সময়ে দৃশ্যপটে আবির্ভাব হলো বিশাল কর্পোরেট কসাইখানার। অলকবির এক্সপোর্টস, আল্লানা গ্রুপ, এমকেআর ফ্রোজেন ফুডস, এইচএমএ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, বেশিরভাগের লাইসেন্স আছে রাজনৈতিক সংযোগ থাকা শিল্পপতি পরিবারের হাতে।

এই কোম্পানিগুলো সস্তায় কৃষকের কাছ থেকে গরু কিনছেন, শিল্প-স্কেলে জবাই করছেন, প্যাকেট করে রপ্তানি করছেন। কর্পোরেট কসাইখানায় গরু জবাই হলে কেউ গৌরক্ষক হয়ে রাস্তায় নামে না, ভিডিও ভাইরাল হয় না, গণপিটুনি হয় না। ধর্মের পবিত্রতা থামে কারখানার গেটে।

এটি একটি পরিচিত অর্থনৈতিক কৌশল, ইংরেজিতে ‘মার্কেট ফোরক্লোজার ট্যাকটিক’। ছোট প্রতিযোগী হটিয়ে দিয়ে বড় ব্যবসায়ী একচেটিয়া দখলে নেয় পুরো বাজার। ভারতে এই কৌশলের সাথে ধর্মের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেন সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারেন কী হচ্ছে। মজার ব্যাপার আরও আছে, ২০১৭ সালে যখন গৌরক্ষা সবচেয়ে তীব্র, তখনই ভারতের গরুর মাংস রপ্তানি রেকর্ড গড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ এর দশ বছরে রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যত গৌরক্ষা, তত রপ্তানি, হিসাবটা মেলে? আম জনতা চিৎকার করছে ‘জয় গৌমাতা’, আর সেই গৌমাতা সাইলেন্টলি প্যাকেট হয়ে বিদেশের প্লেটে যাচ্ছে।

পেহলু খানের পরিবার আজও আদালতে ঘুরছে, তাবরেজ আনসারির স্ত্রী আজও বিচার পাননি, মুহাম্মদ আখলাকের ছেলে দশ বছর পরও স্বাভাবিক হতে পারেননি। আর সেই একই সময়ে অলকবির, আল্লানার মালিকেরা বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়েছেন। সাধারণ হিন্দু ভাই বুঝতে পারেন না, তিনি ধর্মের আবেগে যাকে সমর্থন দিচ্ছেন, সে আসলে তাঁর প্রতিবেশী মুসলিম কসাইয়ের পকেট কেটে বিশাল কর্পোরেটের পকেট ভরছে। তাঁর ছেলেও বেকার হচ্ছেন, তাঁর কৃষক বাবাও ঠকছেন, পুরো ছোট অর্থনীতি মরছে। শুধু মুসলিম মরছেন না, ধর্মের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু ধর্মবিদ্বেষের সাথে আছে শত হাজার।

ফুলের মালা পরা গৌমাতার গায়ে সিঁদুর ঢালা হচ্ছে এক হাতে, আর অন্য হাতে কর্পোরেট লাইসেন্স ইস্যু হচ্ছে। জনতা ভক্তিতে কাঁদছে, ব্যবসায়ী হাসছেন রপ্তানি চালানে। এ এক চমৎকার পলিটিক্যাল ইকোনমি অফ ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের জ্বলন্ত উদাহরণ, ধর্ম এখানে অস্ত্র নয়, ধর্ম এখানে পর্দা, পর্দার পেছনে চলছে পরিকল্পিত একচেটিয়া দখলদারি। হে আল্লাহ, ভারতের নির্যাতিত মুসলিম, দলিত ও সাধারণ মানুষকে তোমার হেফাজতে রাখো, সাধারণ হিন্দু ভাইদের চোখ খুলে দাও যেন আসল খেলাটা বুঝতে পারেন, ধর্মের নামে চলা এই কর্পোরেট লুটতরাজ থামিয়ে দাও, আর আমাদের সাহস দাও সত্য বলার, যত গালি আসুক, যত হুমকি আসুক। আমিন।

মুহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম)
সমাজসেবক | লেখক | অনলাইন এক্টিভিষ্ট
১৯ মে ২০২৬

সূত্র: ভারতের এপিইডিএ মাংস রপ্তানি বার্ষিক ডেটা ২০২৪, রয়টার্স, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গৌরক্ষা সহিংসতা প্রতিবেদন ২০১৯, ফ্যাক্ট চেকার ইন্ডিয়া হেট ক্রাইম ডাটাবেস।

Disclaimer: This post is based entirely on verifiable public data from the Government of India’s APEDA meat export records, Human Rights Watch reports, and mainstream international media. The intent is purely informational and analytical, to highlight the economic dynamics behind a publicly debated issue. No incitement, hatred or violence is intended towards any individual, community or institution.

#মজলুম_উম্মাহ

01/11/2025
25/10/2025
09/10/2025

বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ০৯ অক্টোবর, ২০২৫

আনন্দের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ০১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের 'অধ্যক্ষ' হিসেবে যোগদান করেছেন।

তিনি দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ একাডেমিক উৎকর্ষতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে আরও এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

কলেজ পরিবার তাঁর যোগদানকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তাঁর সফল কর্মমেয়াদ কামনা করছে।

— শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ পরিবার

পিঠা উৎসব -২০২৫
13/01/2025

পিঠা উৎসব -২০২৫

Address

Mirpur
Dhaka
1206

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shaheed Police Smrity College Guardian Forum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category