19/09/2021
ইসলাম প্রচারের কারণে মুফতী যুবায়ের আহমাদসহ ১৮ জন গ্রেফতার!
এদেশে মুসলিমরা ইসলাম প্রচার করতে পারবে না। তারা অমুসলিমদের তাওহীদের দাওয়াত দিতে পারবে না। এমনকি তারা নিজেরাও তাওহীদের দাওয়াহেরও প্রশিক্ষন নিতে পারবে না।
সুপরিচিত দাঈ মুফতী যুবায়ের আহমাদ নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর তাকে আটক দেখিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুফতি যুবায়ের আহমাদকে আটক করেছে পুলিশ।
রংপুরে নিজ মাদরাসার ইসলামী দাওয়াহের কাজের পর সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় ফেরার পথে বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন এই বিশিষ্ট ইসলামি দাঈ। কে বা কারা তাকে তুলে নিয়েছে সে সম্পর্কে এর আগে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তবে, আজকে সন্ধায় জানা গেছে যে, দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগজ্ঞ উপজেলা থেকে গতকাল আটককৃতরা তাবলিগ জামায়াতের দাওয়াহের কাজে জড়িত। তারা তাবলিগ জামায়াতের নামে নাশকতার কথিত পরিকল্পনা করছিল বলে মিথ্যা অভিযোগ জানিয়েছে দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ দেখাতে পারে নি।
আজ দিনের বেলা মুফতি যুবায়ের আহমাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত তিনি বৃহস্পতিবার রংপুর যান। সেখানের মাদরাসায় তার নিজস্ব কাজ শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসে। সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকায় আসার পর এয়ারপোর্টে সর্বশেষ তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ হয়েছিলো। এরপরেই তার ফোন নাম্বার বন্ধ পান তার স্ত্রী রোখসানা বিলকিস।
ইসলামী দাওয়াহেরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী থেকে আটককৃত ৪৩ জনের মধ্যে সাতজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লেমন রায়ের আদালতে নিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার রিমান্ডের ওপর শুনানি হবে। বাকি ২৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর কোট পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান রিমান্ড ও আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বাকি ২৫ জনকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ওই ২৫ জনকে দাওয়াত দিয়ে তাবলিগে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল অভিযুক্ত ‘ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট’ এর পরিচালক ও সদস্যরা। এজন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফেরার পর ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুফতি যুবায়ের আহম্মদকে আটক করা হয়েছে বলে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের একজন কর্মকর্তা জানান।
মুফতী জুবায়ের আহমাদ ছাত্রজীবনে ভারতের দেওবন্দ থেকে হাদিস নিয়ে এবং নদুয়া থেকে আরবি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। যুবায়ের আহমাদ বাইতুল হাদী জামে মসজিদের খতীব। তিনি ইসলামী দাওয়াহ ইন্সটিউট, মান্ডা, মুগদা, ঢাকার পরিচালক। তিনি সারাদেশব্যাপী সকল ধর্মের মানুষকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন মিশনারী, ইসকনের অঙ্গসংগঠন ও কাদিয়ানীদের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান প্রাণ আরএফএল গ্রুপ তার বিরুদ্ধে এর আগে অসংখ্যবার ষড়যন্ত্র করেছিল বলে জানা গেছে!
মুফতী যুবায়ের আহমাদের অন্য পরিচয় হচ্ছে তিনি ভারতের বিখ্যাত দাঈ মাওলানা কালিম সিদ্দিকি (হাফিঃ) সাহেবের খলিফা। মুফতি যুবায়ের আহমদ সাহেব বাংলাদেশের একজন অন্যতম সুচরিচিত দাঈ। যার হাতে হাত রেখে কালেমা পড়ে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও উপজাতি থেকে ইসলাম গ্রহন করছে অসংখ্য মানুষ।
একজন নিরপরাধ, উম্মাহের দাঈকে ইসলামী দাওয়াহের কাজ করে ইসলাম প্রচার করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মুফতী যুবায়ের আহমাদসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেফতার সকলের মুক্তি কামনা করছি।
উম্মাহ'র এই মহান দায়ীর জন্য আসুন আমরা সোচ্চার হই! উম্মাহ দরদী এই আলিমের জন্য আসুন আল্লাহ্র দরবারে দু-হাত তুলে দোয়া করি:
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুফতী যুবায়ের আহমাদসহ বাকী সবাইকে সহিহ-সালামতে তার পরিবার ও পরিজন এবং দাওয়াহের ময়দানে পৌঁছার ব্যবস্থা করুন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা জালিম, মাফিয়াদের হেদায়াত দান করুন। আমীন।