University Grants Commission of Bangladesh

University Grants Commission of Bangladesh

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from University Grants Commission of Bangladesh, Education, University Grants Commission of Bangladesh UGC Bhaban, Plot# E-18/A, Agargaon Administrative Area, Dhaka.

The University Grants Commission (UGC) of Bangladesh is the statutory apex body in higher education, responsible for coordinating, supervising, and maintaining standards of university education in Bangladesh.

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 22/08/2026

দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে উন্নত বিশ্বের আদলে একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। অথচ প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে দুই দিনব্যাপী ‘উপাচার্যদের সংলাপ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উন্নত বিশ্বের আদলে গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আগামী বছর তা ৩ শতাংশ এবং পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে এমন কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারছে না। এসব বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করতে ইউজিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এখনই মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বর্তমান সরকার নতুন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়নি উল্লেখ করে তিনি মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ইউজিসিকে নির্দেশ দেন।

গবেষণা খাতে বর্তমান বরাদ্দ অপ্রতুল উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গবেষণার পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউজিসি কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাবাজার ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করেই তারা এ বাজার গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশকেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করার মতো মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি রিসার্চ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার কম হওয়ার কারণ চিহ্নিত করারও পরামর্শ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইউজিসি কাজ করছে। উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন স্নাতক তৈরি উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, দলগতভাবে কাজ করা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এ কার্যক্রমে ইউজিসি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। ইন্টার্নশিপ চলাকালে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। গবেষণার গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। গবেষণার ফল দেশের অর্থনীতি, শিল্পখাত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

সংলাপের দ্বিতীয় দিনে পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষার্থী সহায়তা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা, আর্থিক ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা, উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে হিট প্রকল্পের ভূমিকা এবং উচ্চশিক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনগুলোতে সভাপতি ও আলোচক হিসেবে অংশ নেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। সংলাপের উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং হিট প্রকল্প ও বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 21/08/2026

উচ্চশিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নতুন বিভাগ ও বিষয় চালুর ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার খাত, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

একইসঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের সুপারিশ না করার জন্য তিনি ইউজিসি চেয়ারম্যানেকে পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের প্রথম দিনে উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে এ সংলাপ শুরু হয়েছে।

মতবিনিময় সেশনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ অংশ নেন। এ সময় জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইউজিসি সদস্য এবং উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঞ্চালনায় সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থান নিয়ে উপাচার্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা ও শ্রমবাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার বিষয় ও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করতে হবে। কেবল সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলাও উচ্চশিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। এর কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বর্তমান বাজারমুখী অর্থনীতিতে শিক্ষারও অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেদের গবেষণা সক্ষমতা ও উদ্ভাবন সম্পর্কে শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনব্যবস্থা টেকসই হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় অর্থায়ন এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য শিক্ষাক্রমে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন বিষয়বস্তু যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উচ্চ মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ছাড়া দেশের অগ্রগতি টেকসই হবে না।

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর্থসামাজিক অবস্থা, লিঙ্গ বা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী স্নাতক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, প্রযুক্তি, ভাষা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা বাড়াতে কর্মসংস্থানমুখী স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করা যেতে পারে।

তিনি শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি, মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলার পরিসর বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। একদিকে নিয়োগদাতারা প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবল পাচ্ছেন না, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যবধান কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম, পাঠদানপদ্ধতি ও মূল্যায়নব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিতে না পারলে দেশের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। উচ্চশিক্ষার টেকসই রূপান্তরের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করছে। এর সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

শুক্রবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, আন্তর্জাতিকীকরণ, শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতা এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন। প্রথম দিনে ৪টি অধিবেশন সম্পন্ন হয়। এসব সেশনে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল- মামুনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

20/08/2026

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসি’র উদ্যোগে আগামীকাল
শুরু হচ্ছে উপাচার্যদের সাথে নীতিনির্ধারণী সংলাপ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তর, গুণগত মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কৌশলগত নেতৃত্ব ও সুশাসন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামীকাল (২১ আগস্ট ২০২৬) সাভারের ব্র্যাক সিডিএম-এ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে উপাচার্যদের সাথে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপ।

ইউজিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিতব্য এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্যসহ নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বর্তমানে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, গুণগত মান ও জবাবদিহির ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক, সুশাসিত এবং পরিবর্তিত বিশ্বের জন্য দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে দুই দিনের সংলাপে উচ্চশিক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও সুশাসন, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়, পাঠদানের উৎকর্ষ ও মূল্যায়ন, মান নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা, উপাচার্যদের গ্রুপ আলোচনা, আর্থিক ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা, উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে হিট প্রকল্পের উদ্যোগসমূহের ভূমিকা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষার্থী সহায়তা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা এবং উচ্চশিক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনা—সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সংলাপের প্রথম দিনে সকাল ১১টায় উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় পর্বে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উপস্থিত থাকবেন। ২২ আগস্ট বিকেল ৩টায় সমাপনী সেশনে যোগ দেবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি। সেশনে সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

এই সংলাপের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি অভিন্ন ধারণা তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও ভালো চর্চা বিনিময়, একাডেমিক নেতৃত্ব ও সুশাসন শক্তিশালীকরণ, মানসম্মত পাঠদান, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার জন্য কার্যকর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সংলাপ থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ ভবিষ্যৎ হিট প্রকল্পের উদ্যোগ এবং দেশের উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কার্যক্রমে বিবেচনার জন্য সংকলিত করা হবে।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 19/08/2026

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ ইউজিসি’র

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় জনশক্তি উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও লোকেশন ম্যাপিংয়ের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় জনগণের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) ইউজিসিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন। সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ কমিশনের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে মোট আটটি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় জনগণের আগ্রহ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সম্ভাবনা বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, তা চিহ্নিত করা হবে। এর ভিত্তিতে চাহিদাভিত্তিক ভাষা নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের একটি বাস্তবসম্মত ম্যাপিং প্রণয়ন করা হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও মান নিশ্চিতকরণে ইউজিসি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রণয়ন, আধুনিক ভাষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্র যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন ভাষা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আগ্রহী অন্যান্য ব্যক্তিরাও নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

এ কার্যক্রমের সুষ্ঠু, সমন্বিত ও টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউজিসির মাধ্যমে একটি অভিন্ন নীতিমালা ও পরিচালন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নীতিমালায় ভাষা নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কেন্দ্রগুলোর তদারকিসহ প্রয়োজনীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 18/08/2026

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে: ইউজিসি সদস্য মামুন

সরকার দেশে ও বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৪২টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শুধু একাডেমিক জ্ঞানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেই হবে না, তাঁদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরিতে ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও সফট স্কিলস প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ এবং ক্যারিয়ার সেন্টারের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বুঝে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন। এতে ভবিষ্যতে তাঁরা উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে ওঠার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্ভাবন তহবিল ও স্টার্টআপ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্প ও অর্থনীতির সংযোগ আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনায় তথ্যপ্রযুক্তি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 17/08/2026

র‍্যাংকিংয়ের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানযোগ্যতায় জোর দিতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’-এ সম্মানীত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু র‍্যাংকিং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হতে হবে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মসংস্থানযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় গবেষণার মানোন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দেশ-বিদেশের পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো গবেষণা করা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং সেই জ্ঞান সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে কাজে লাগানো। আর ইউজিসির অন্যতম দায়িত্ব হলো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে রূপান্তর করা, যাতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সূচক ও মানদণ্ড থেকে বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি কার্যকর মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা, সক্ষমতা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার মান, গবেষণা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থানযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

দেশের উচ্চশিক্ষায় সুযোগ ও মানের বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে দেশে ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণা, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও শিক্ষার সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পার্থক্য কমিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইউজিসি এ লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেই যে তার শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সফল হবে—এমনটি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমকে শিল্প খাত ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, স্থানীয় প্রেক্ষাপটে শিক্ষার অবদান এবং দেশের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

তিনি বলেন, র‍্যাংকিংয়ে ভালো করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার পরিবেশ, শিক্ষক উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না ঘটিয়ে শুধু র‍্যাংকিংয়ের পেছনে ছুটলে টেকসই ফল পাওয়া যাবে না।

ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের সেবাদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে চাই। তবে একই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ এগিয়ে নিতে হবে। র‍্যাংকিং হবে আমাদের অগ্রগতির একটি সূচক; কিন্তু শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সরকার, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একক দায়িত্ব নয়; জাতীয় উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে কিউএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট-স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এনগেজমেন্ট ড. অশ্বিন ফার্নান্দেজ, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জেসন নিউম্যান, এআইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) মহাসচিব ইশতিয়াক আবেদীন, এপিইউবির সভাপতি ড. সবুর খান এবং এআইইউবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান নাদিয়া আনোয়ার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি’র সদস্য, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এআইইউবির উদ্যোগে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’-এ সহযোগিতা করেছে কিউএস, ইউজিসি ও এপিইউবি। আয়োজকদের মতে, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ২০২৮ সামনে রেখে আয়োজিত এ ফোরাম বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে ধারণা বিনিময় এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

17/08/2026

বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে ইউজিসি: সদস্য ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক ও অংশীদারিত্বের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’-এর ‘লিডারশিপ প্যানেল’ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘ফ্রম ক্যাম্পাস টু ক্যাপাবিলিটি: ক্লোজিং বাংলাদেশের ফিউচার স্কিলস গ্যাপ ইন দ্য এআই এরা’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে আলোচনা হয়। প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন কিউএসের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জেসন নিউম্যান।
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘প্রথমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার হাব এবং পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে ইউজিসি কাজ করছে। এ জন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক ডেস্ক চালুর মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। এতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়সহ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
প্যানেল আলোচনায় এআইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. কারমেন জেড. লামাগনা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার এবং পুরবাণী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার (সোহেল) অংশ নেন।

কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মূল বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
দিনব্যাপী আয়োজনে ইউজিসির সদস্য, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ,ণীতিনির্ধারক, শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এআইইউবির উদ্যোগে আয়োজিত ফোরামটিতে সহযোগিতা করেছে কিউএস, ইউজিসি ও অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ২০২৮’ সামনে রেখে আয়োজিত এ ফোরামে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Photos from University Grants Commission of Bangladesh's post 16/08/2026

বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইউজিসিতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ইউজিসি ভবনস্থ মসজিদে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, প্রফেসর মোঃ মেহেদী হাসান খান ও প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম হোসেন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পরিচালনা এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান। এ ছাড়াও ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইউজিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address

University Grants Commission Of Bangladesh UGC Bhaban, Plot# E-18/A, Agargaon Administrative Area
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00