28/03/2022
পরিবারের সকলের শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য কী করছেন?
আজ থেকে 25 বছর আগে জাতিপুঞ্জ বা ইউনাইটেড নেশনস একটা উদ্যোগ নেয় – মে মাসের 15 তারিখ পালিত হবে বিশ্ব পরিবার দিবস হিসেবে। কোনও বিশেষ একটা দিন আলাদা করে নিয়ে খুব কাছের মানুষ বা পরিবার অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাতে হবে -- এমন একটা ধারণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার বলেন, একটা বিশেষ দিন আলাদা করে থাকলেই বা ক্ষতি কী?
আমরা সে সব তর্কে না ঢুকেও কয়েকটা বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছি গত মাস দুয়েকে। আপনার বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, প্রেমিকা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পরিবার। মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, ভাই-বোন – মোদ্দা কথায়, আপনার পৃথিবীর বনিয়াদ যাঁদেরকে ঘিরে তৈরি হয়, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের ফুটোফাটাগুলিকে সারিয়ে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। ভাবুন তো, যাঁরা বাড়ি থেকে দূরে, স্বজন-পরিজন ছাড়া একা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এই সময়টায়, তাঁদের চেয়ে আপনি কত ভালো আছেন? যে কোনও বিপদের মুখেই পড়ুন না কেন, তাঁরাই আপনার পাশে থাকবেন বরাবর।
পরিবারের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কী করবেন
সুষম খাবার খাওয়ার উপর জোর দিন। রান্নায় ব্যবহার করুন হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ, আদা, রসুনের মতো মশলা। এমন খাবার খান যা হজম করা সহজ। প্রচুর জল খান। গ্রিন টি বা কালো চা খেতে পারেন, কারণ চায়ে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডান্ট থাকে। ফল আর শাকসবজি খান বেশি করে। খানিকক্ষণ হাঁটাচলা করুন সবাই।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার টিপস
সবার সঙ্গে কথা বলুন। পরিবারের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসে খেলতে পারেন কোনও বোর্ড গেম, সিনেমা দেখুন। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটান – এই পরিস্থিতিটা তাঁদের কাছেও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলো করুন। বই পড়ুন, গান শুনুন, সিনেমা দেখুন। পৃথিবীতে সময় এভাবে বারবার থমকে দাঁড়াবে না। তার পূর্ণ সুযোগ নিন। যাঁরা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা একটু ধৈর্য ধরুন -- সারা দুনিয়ার অজস্র মানুষ মর্মান্তিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, আপনিও সেই লড়াইয়ের শরিক। আর এ কথাও ঠিক যে এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলবে না, সোনালি দিনের জন্য অপেক্ষা করুন একটু।
01/03/2022
যেকোনো বয়সে হৃদরোগ এড়াতে
আমাদের মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে হার্ট বা হৃদযন্ত্র। শরীর সুস্থ রাখতে হলে সবার আগে সুস্থ রাখতে হবে এই হৃদযন্ত্রকে।
প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয়, এর বড় একটি অংশ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা যায়।
আর এটি হতে পারে যে কোনো বয়সেই।
হার্টের রোগের পরিণতি হতে পারে আমাদের জীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যু, এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে।
আমাদের মনে হৃদযন্ত্র সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উঠে আসে, আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজেছি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে।
ঢাকার বারডেম হাসপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগের সহযোগী আধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আজিজুল বারী হৃদযন্ত্রের রোগ হওয়ার জন্য ধুমপানকে প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধুমপায়ীরা সব থেকে বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে।
এছাড়াও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং বাড়তি ওজনের জন্য হৃদরোগ হতে পারে। হাইপার টেনশন এবং পারিবারিক জেনেটিক অসুস্থতার ফলেও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
একবার হৃদরোগ হয়ে গেলে এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয় বহুল। আর তাই আগেই প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা নিলে রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।
এ সম্পর্কে ডা. মো. আজিজুল বারী বলেন, ধুমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, অ্যালকোহলসহ সব ধরনের মাদক থেকে বিরত থাকা।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত হাটতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করাতে হবে। বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেননা, স্থুল শরীর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। টেনশন মুক্ত থাকতে হবে।
যদি হৃদরোগ হয়েই যায় তখন আমরা কী করতে পারি, এই বিষয়ে বললেন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের হৃদযন্ত্রের তিনটি রক্তনালীতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি করে। ব্লকের পরিমাণ কম হলে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই হৃদরোগ সারানো সম্ভব। তবে ব্লকের পরিমাণ বেশি হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয় কতো শতাংশ ব্লক হয়েছে।
সঠিক ডায়াগনোসিসের পর একটি রক্তনালীতে ব্লক পাওয়া গেলে এনজিওপ্লাস্টি করে রিং পরানো হয়। এই চিকিৎসার পর ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রোগী অনেক দিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। এই চিকিৎসার খরচ একলাখ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব।
তিনটি রক্তনালীতেই ব্লক হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে বাইপাস সার্জারি করতে হয়। এই চিকিৎসা কিছুটা ব্যয় বহুল। দুই-তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. রহমত বলেন, তবে আশার কথা হচ্ছে, হৃদরোগের সফল চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। তিনি আরও জানান, প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কম।
বাসায় বা কর্মক্ষেত্রে কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে, সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব হৃদরোগ সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন আর কিছু সাবধানতা মেনে চললে আমরা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে পারি।
23/02/2022
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
সুস্থ থাকার জন্য শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। করোনাকালে ইমিউনিটি বা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলছেন সবাই। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব দামি বা হিসাব করে খাবারদাবার খাওয়ার কোনো দরকার নেই।
বরং আমাদের রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায়, এমন অনেক কিছুই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি খালি পেটে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে ৩টি জিনিস গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বাড়বে। চলুন দেখে নেওয়া যাক।
রসুন
স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন খাওয়ার চল বহুদিনের। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ শতকে চীন ও ভারতে রক্ত পাতলা রাখার জন্য এর প্রচলন ছিল। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিসও একে ব্যবহার করেছিলেন সারভাইক্যাল ক্যানসারের চিকিৎসায়। রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও রসুনে অনেক রকমের ঔষধি গুণ আছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রসুনের ব্যবহার চলে এসেছে। রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রন ও ভিটামিন বি ওয়ান।
শুধু তা–ই নয়, রসুনের মধ্যে আমাদের শরীরে যা প্রয়োজন, মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। কাঁচা রসুন খেলে জ্বর এবং সাধারণ ঠান্ডা তাড়াতাড়ি সেরে যায়। এর কারণ, রসুন খেলে ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায়। কোভিডের জটিলতা বাড়াতে হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কোনো জুড়ি নেই। কাজেই নিয়মিত রসুন খেলে হার্ট ও রক্তচাপ ঠিক থাকে। কম থাকবে কোভিডের জটিলতাও। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রাও বেশি থাকে কাঁচা রসুনে। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২-৩টি রসুনের কোয়া খেতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। তাই আপনি খালি পেটে রসুনের এক বা দুই কোয়া গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন।
আমলকী
ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল আমলকী। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজিলেবুর চেয়ে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকীতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। এটি গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন বা খালি পেটেও খেতে পারেন। এর রসও পান করা যায়। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। খালি পেটে খাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, যা আমাদের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
মধু
স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। মধুতে যেসব উপকরণ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ—এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিঙ্ক ও জৈব অ্যাসিড (যেমন: ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স ও মিনারেল (১৯-২১ শতাংশ) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন বিদ্যমান। মধুর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। যেমন এটি পচন নিবারক (অ্যান্টিসেপটিক), কোলেস্টেরলবিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খালি পেটে চা–চামচের এক বা দুই চামচ করে মধু খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যাবে।
20/02/2022
আমরা সবাই সতর্ক থাকি সচেতন থাকি।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখুন।
15/02/2022
খাবারের স্বাদ বাড়ে, ঝুকিতে পড়ে স্বাস্থ্য
রেস্তোরাঁয় খাবার সুস্বাদু করতে ক্ষতিকর উপদান ব্যবহার করা হয়।
রেস্তোরাঁর খাবার খেতে অনেক সুস্বাদু হয়,তাই না? একটু সময় পেলেই ছুটে যাই রেস্তোরাঁয়। কিন্তু আপনি কী জানেন, যে উপাদনাগুলোর কারণে রেস্তোরাঁর খাবার এত সুস্বাদু হয় সেগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর? চলুন বেস্ট হেলথ ওয়েবসাইটের তালিকাটি একবার দেখে নেওয়া যাক, যেগুলো রেস্তোরাঁর খাবার সুস্বাদু করে, কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
মাখন
স্যুপ, সস, সবজি অথবা মাংসকে সুস্বাদু করতে রেস্তোরাঁয় অনেকটা মাখন ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খাবার খাওয়ার অনেকক্ষণ পরও এর স্বাদ মুখে লেগে থাকে। এই মাখন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
ক্রিম
মাখনের মতো ক্রিমও রেস্তোরাঁর খাবারে অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে স্যুপ ও মাংস জাতীয় খাবারে। আর পাস্তায়ও হোয়াইট সসের নাম করে ক্রিম ব্যবহার করা হয়। যাতে এর স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তেল
তেল খাবারের স্বাদ বাড়ায়। স্পাইসি ও মচমচে করতে বেশি তেলে খাবার রান্না করা হয় রেস্তোরাঁতে। যেগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। ধীরে ধীরে এই খাবারগুলো আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
অ্যানিমেল ফ্যাট
এরপর থেকে যখন দেখবেন বার্গারের মাংসে রসালো পদার্থ রয়েছের তখনই বুঝবেন এতে অ্যানিমেল ফ্যাট মেশানো হয়েছে। মাংস জাতীয় যেকোনো খাবারেই এই ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। যা খেতে খুবই সুস্বাদু কিন্তু এটি খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
লবণ
বাসায় যখন খাবার রান্না করা হয় তখন সামান্য স্বাদ হলেই আমরা আর লবণ ব্যবহার করি না। কারণ লবণ স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো না। অথচ রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণ বেশি করে ব্যবহার করা হয়, এমনকি টেস্টিং সল্টও দেওয়া হয়। সালাদ ও মিষ্টি জাতীয় খাবারেও বেশি করে লবণ ব্যবহার করা হয় রেস্তোরাঁয়, যা আপনার শরীরে উচ্চরক্তচাপ তৈরি করতে পারে।
মিষ্টি জাতীয় খাবার
অনেক সময় বুফে খেতে গেলে দেখবেন, সবজি কারিও মিষ্টি লাগে, স্বাদের কারণে সেটা বারবার খেতে ইচ্ছে করে। এর কারণ হলো সবকিছুতেই চিনি ব্যবহার করা হয়। যা খাবারের স্বাদ বাড়ায়। এই অতিরিক্ত চিনি খাওয়া শরীরের জন্য ঠিক নয়।
08/02/2022
কানের রোগ - Ear Disease
কানের রোগ কি?
কানের মধ্যে ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারানোর মতো যে কোনও রকমের উপসর্গ হলো কানের রোগ। আপনার কান তিনটি অংশে বিভক্ত - বাহিরের অংশ, মধ্যস্থল এবং অভ্যন্তরীণ এবং এই অংশগুলির প্রধান কাজ হলো শোনা এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা। কিছু সাধারণ কানের রোগ হলো ওটাইটিস (কানে প্রদাহ), টিনিটাস (কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ), কানে খোল জমা হওয়া বা কান বন্ধ, মেনিয়ার্স ডিজিজ (ভার্টিগো এবং টিনিটাস),অটোমাইকোসিস (কানে ছত্রাক সংক্রমণ), ব্যারোট্রমা (বায়ুর চাপ পরিবর্তনের কারণে কানে আঘাত), ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস (ভাইরাল সংক্রমণের কারণে ভেস্টিবুলার স্নায়ুতে প্রদাহ), প্রেসবাইকিউসিস (বয়সের কারণে শ্রবণ শক্তি চলে যাওয়া) এবং কোলেস্টিয়াটোমা (কানের মধ্যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি)।
এর প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি কি কি ?
রোগের অবস্থা এবং কানের যে অংশ আক্রান্ত হয়েছে, সেই অনুযায়ী কানের রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গে রকমফের হয়। সাধারণ উপসর্গগুলি নিম্নলিখিত :
কানে ব্যথা, যা কখনও কখনও মাথাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।।
লালচেভাব এবং ফোলা।
কান থেকে পুঁজ পড়া।
মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য হারানো।
কানের মধ্যে ঝিঁঝিঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া।
শ্রবণ শক্তি চলে যাওয়া।
বমনেচ্ছা এবং বমি।
এর প্রধান কারণগুলি কি কি ?
একাধিক কানের রোগের প্রধান কারণগুলি নিম্নলিখিত:
ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ।
হঠাৎ বায়ু এবং জলের চাপের পরিবর্তনের কারণে কানে আঘাত।
কানের ভিতরে ক্যালসিয়াম ক্রিস্টালের নড়াচড়ার ফলে শরীরের ভারসাম্য হারানো।
একনাগাড়ে জোরালো শব্দের কারণে শ্রবণ শক্তি হারানো, বয়স বা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির কারণে কানের পর্দা দুর্বল হয়ে যাওয়া।
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণে কানের মধ্যে ঝিঁঝিঁ শব্দ হতে পারে।
এটি কিভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়?
কানের রোগের বেশিরভাগ লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি সাধারণ এবং আপনার অবস্থার সঠিক নির্ণয়ের জন্য, আপনার প্রয়োজন একজন ইএনটি (কান,নাক এবং গলার স্বর) বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া। নিম্নলিখিত রোগ-নির্ণায়ক পরীক্ষাগুলি করা হয়:
নিউমেটিক অটোস্কোপ ব্যবহার করে কানের পরীক্ষা।
কানের স্রাবের নমুনা পরীক্ষা।
অ্যাকাস্টিক রিফ্লেক্টোমেট্রি - নির্দিষ্ট শব্দ কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে কানের মধ্যস্থলের নিঃসরণ সণাক্তকরণ।
টিমপ্যানোমেট্রি - বিভিন্ন রকম বায়ুর চাপ ব্যবহার করে কানের মধ্যস্থল এবং কানের পর্দার অবস্থা পরিমাপ করা।
টিউনিং ফর্ক টেস্ট।
অডিওমেট্রিক পরীক্ষা - শ্রবণ শক্তি পরিমাপের পরীক্ষা।
কোষের বায়োপসি।
একবার আপনার কানের রোগ সঠিক এবং সময়মতো নির্ণয় করা হলে, আপনার ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করবেন আপানার জন্য। সাধারণ ওষুধ প্রয়োগ থেকে অস্ত্রোপচার চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে পড়ে। সহজলভ্য সাধারণ চিকিৎসা বিকল্পগুলি নিম্নরূপ:
কানের খোল পরিষ্কার
চিমটা ব্যবহার করে কানের ময়লা পরিষ্কার।
ওষুধপ্রয়োগ
সংক্রমণ নিরাময়ে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল যুক্ত কানের ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানালজেসিক্স। বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সামলাতে অ্যান্টি-ইমেটিক্স।
কানে শোনার যন্ত্র
শ্রবণ শক্তি হ্রাস নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রের ব্যবহার।
অস্ত্রোপচার
ক্যান্সারের বৃদ্ধি নষ্ট করতে অস্ত্রোপচার।
ককলিয়ার ইমপ্লান্ট
গুরুত্বর শ্রবণ শক্তি হ্রাসের চিকিৎসায় ককলিয়ার ইমপ্লান্টের ব্যবহার।
ব্যায়াম
স্থানপরিবর্তনের ব্যায়াম ভার্টিগোর চিকিৎসায়।
চিউয়িংগাম চিবানো বা হাইতোলার মতো সাধারণ পদ্ধতিগুলি ব্যারোট্রমা থেকে মুক্তি দেয়।
স্নান বা সাঁতারের পর কান শুকনো করার মতো কিছু সাধারণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিলে কানে সংক্রমণ অথবা ব্যথা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যেতে পারে। উচ্চ শব্দ কমানো বা প্রতিরক্ষামূলক প্লাগের ব্যবহার শ্রবণ শক্তি হ্রাস থেকে বাঁচাতে কার্যকরী। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন, ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারের পরিবর্তে, আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং যে কোনওরকম চিন্তাজনক উপসর্গের বিষয়ে পরামর্শ নিন।
05/02/2022
ওজন কম রাখার চেষ্টা করাঃ
সুস্থ শরীর পেতে ওজন কমানোর কোনো বিকল্প নেই; এবং বর্তমানে অধুনিক সময়ে ওজন কমানো খুব কঠিন কাজ নয়। তাই ওজন কমানো হতে পারে আপনার জন্য সেরা স্বাস্থ্য টিপস। তো চলুন দেখে নেয়া যাক কি কি সহজ উপায়ে ওজন কমানো যায়ঃ
গ্রীন টিঃ
একটি গবেষণার প্রতিবেদেনে দেখা গেছে যে; ১ দিনে মাত্র চার কাপ সবুজ চা বা গ্রীণ টি পান করার ফলে শরীরের ৪০০ ক্যালরি ক্ষয় হতে পারে। ফলে; এটি ওজন ঠিক রাখতে দারুণ কার্যকর ।
দিনে ঘুমানো যাবে নাঃ
আমরা অনেকেই আছি , যারা দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকি। কিন্তু এর ফলে, ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই; রাতে নিয়ম করে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে ।
মশলাযুক্ত খাবারঃ
শুধু সেদ্ধ করা খাদ্য কখনোই খাওয়া যাবে না। আবার; জিরে গুড়া; হলুদ; ধনে ইত্যাদি মশলা নিয়মিত খেতে হবে; কারণ, এগুলো ওজন কমায়।
পানি ও তরল পান করাঃ
ওজন কমাতে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে; পানি আমাদের দেহ থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।
মিষ্টি কম খাওয়াঃ
মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার আপনাকে ছাড়তেই হবে। কারন; চিনি থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ক্যালোরি দেহে জমা হয়ে ওজন বাড়তে পারে।
অন্যান্য টিপসঃ
আমরা অনেকেই বসে বসে কাজ করি। কিন্তু যে সকল কাজ হেঁটে হেঁটে করা যায় তা বসে না করাই ভালে। যেমনঃ ফোনে কথা বলার সময় বা বই পড়ার সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।
05/11/2021
কোন টিকার উদ্ভাবক কোন দেশ জেনে নিই....
10/07/2021
কোভিড ICUতে ডিউটিরত এক ডাক্তারের লেখা-
চোখ ভেঙে কান্না আসছে......
আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন রোগী মারা গেলেন হাতের উপর.....
হাই ফ্লো অক্সিজেন (৪০-৫০ লিটার/মিনিট) সাপ্লাই দিয়েও স্যাচুরেশন ৬৫-৭০% উঠে খুব কষ্টে। চোখের সামনে একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে না পারার কষ্টে ডাঙায় তোলা মাছের মত ছটফট করে মারা যাচ্ছে মানুষ..
দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিচ্ছু করতে পারছি না। বড্ড অসহায় লাগছে। এত অসহায় আর কখনো লাগেনি। মেন্টাল ট্রমার মত হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা। যমে মানুষে টানাটানি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। একটার পর একটা ডেথ সার্টিফিকেট সাইন করতে হাত কাঁপছে। বিশ্বাস করেন একজন ডাক্তারের জন্য এর থেকে অসহায় মুহূর্ত আর কিছু নেই।
প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা....
নিজেদের জানের মায়াও করছি না অনেক সময়....
রোগী বেশী খারাপ হয়ে গেলে সময় অপচয় করছিনা, প্রোপার পারসোনাল প্রটেকশন, গ্লাভস, মাস্ক এর চিন্তা না করেই রোগী ধরে ফেলছি....
নিজেরা সাবধান না হলে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ডাক্তারেরও সাধ্যি নাই আপনাকে বাঁচানোর। কোন ওষুধে কাজ হবেনা যদি আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে টেনে না আনেন আপনাকে। আই সি ইউ, অক্সিজেন সব দুষ্প্রাপ্য এখন।
নিজে সাবধান হউন, উপরওয়ালা কে ডাকেন। কোভিড এর ভয়াবহতা সম্পর্কে ততক্ষণ বুঝবেন না যতক্ষণ না নিজে বা কাছের কেউ আক্রান্ত না হবে (আল্লাহ মাফ করুক)। কিন্তু ততক্ষণে অনেক বেশি দেরী হয়ে যাবে.....