11/04/2026
আল হামদু লিল্লাহ। আমাদের ক্লাস আজ শুরু হয়েছে।
যারা ভর্তি সম্পন্ন করেছে। তাদের ওয়াটসাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছে।
একঝাঁক বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে পরিচালিত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের শরীয়া বিষয়ক জ্ঞানের আস্থার প্রতিক! আল হামদুলিল্লাহ।
11/04/2026
আল হামদু লিল্লাহ। আমাদের ক্লাস আজ শুরু হয়েছে।
যারা ভর্তি সম্পন্ন করেছে। তাদের ওয়াটসাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ - অনলাইন মাদরাসা
আধুনিক বিশ্বে অনলাইন প্লাটফর্মে পড়াশোনার ব্যাপক চর্চা থাকলেও আমাদের দেশে সাধারণ পর্যায়ে এটি প্রায় অপরিচিতই বলা যায়। আমরা সাধারণত অনলাইন বলতে ফেসবুক, টিকটক আর গেমস খেলাই বুঝি। তাই অনলাইনের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি অনেকেরই অজানা।
আমি যদি বলি যে, অনলাইনে আপনি বাসায় বসেই হাফেজ হতে পারবেন, মাদরাসার কেতাবাদি অধ্যায়ন করতে পারবেন। আমাদের কাওমি মাদরাসার সিলেবাসে পড়াশোনা করে মাওলানা বনে যেতে পারবেন - তাইলে অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন।
কমন যেই প্রশ্নটা সবার আগে করা হবে, বারো মাদরাসায় থেকেই ইলম অর্জন করা গেলো না; সে আসছে অনলাইনে ইলম শেখাতে! আসুন অনলাইন মাদরাসার ব্যাপারে কিছু বিষয় জেনে নেই। [আমার এই পোস্টে সামগ্রিকভাবে অনলাইন মাদরাসা নিয়ে আলাপ করা হবে; কোনও বিশেষ প্রতিষ্ঠানের প্রমোট করা হবে না।]
শুরুতেই বলে নিতে চাই; ইনটারনেট/অনলাইন মাদরাসা সবার জন্য উপকারী নয়। তাই ব্যাপকভাবে ইলমচর্চার জন্য সাধারণ মাদরাসাগুলোই ভরসা। তবে আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছে এমন যারা পড়াশোনার গতানুগতিক বয়স পার করে ফেলেছেন, অন্য কোনও পেশায় নিয়োজিত থেকেও জ্ঞানচর্চা করতে চাইছেন; বিশেষত
নিরাপদ পরিবেশে ইলম চর্চার সুযোগ বঞ্চিত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটারনেট মাদরাসা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
ধরুন, 'অনলাইন মাদরাসা' (ছদ্ম)নামে একটি মাদরাসার কথাই ধরা যাক। মাদরাসাটিতে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে। দেশে ও বিদেশের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী কোনও না কোনওভাবে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত আছে। এদের মধ্যে কেউ কর্মজীবি, আবার কেউবা মেডিকেল স্টুডেন্ট। কেউবা অনার্স অধ্যায়নরত আবার কেউবা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।
সবার সুবিধার্থে বাদ ফজর ও মাগরিব মিলিয়ে সারাদিনে প্রতিটি শ্রেণীতে ছয়/সাতটি ক্লাস হয়। জুম/টেলিগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেনী অনুসারে গ্রুপে যুক্ত হন। উস্তাদ নির্দিষ্ট সময়ে অডিও কলে যুক্ত হয়ে পাঠদান করে। ক্লাসে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থী সবক শুনছে না গেমস খেলছে তা বোঝার উপায় নেই। তবে যেহেতু একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তার সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন; সে অবশ্যই সময়ের পূর্ন সদ্ব্যাবহার করবে।
এদের আবার বিভিন্ন পার্বিক পরীক্ষাও হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন দেয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থী নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তবে তারা নকল করছে না। কেননা, তারা নিজেদের আগ্রহেই পড়তে এসেছে। তারা জানে যোগ্যতা বিনে এই ফলাফল তাদের কোনও কাজে আসবে না।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের অনেক শিক্ষার্থী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াসহ বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এসব পরীক্ষায় বহু শিক্ষার্থী মেধাতালিকায়ও নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে। একাধিকবার এখানকার শিক্ষার্থী সারাদেশে তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে উত্তীর্ণ হয়েছে। আপাতদৃষ্টে যা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। যার মূলে রয়েছে শিক্ষার্থীর একান্ত আগ্রহ ও শিক্ষকের আন্তরিক প্রয়াস।
[অবশ্য অফলাইনের মতো অনলাইনের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ধোকা ও প্রতারণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তাই পুর্ণ অবগতি ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে সতর্কতা কাম্য।]
মহিউদ্দিন কাসেমী
03/04/2026
🎓 ভর্তি চলছে — অনলাইন ইফতা বিভাগ
আপনি কি একজন ইমাম-খতিব, ব্যবসায়ী বা কর্মজীবী আলিম?
তাহলে আপনার ব্যস্ততার মাঝেও এখন সহজেই দ্বীনি ইলম অর্জনের সুযোগ!
⏰ সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস করেই
🌙 আপনি হতে পারেন একজন যোগ্য মুফতি — ইনশাআল্লাহ
📌 “দারুল বাহিসীন আল-ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশ” নিয়ে এসেছে আপনার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ—
✨ আমাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✔ দারুল উলূম দেওবন্দের ফাজেল ও বাংলাদেশের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দরস, তামরিন ও মুহাজারা
✔ দেশি-বিদেশি ফাতাওয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও মাসআলা বের করার আধুনিক পদ্ধতি
📖 ৩০০+ আরবি, বাংলা ও উর্দু ফতোয়ার কিতাব — সম্পূর্ণ ফ্রি PDF
📚 ৫০+ ফিকহী প্রবন্ধ ও ইসলামিক কিতাব — ফ্রি PDF
💻 ক্লাস: সপ্তাহে ৩ দিন (শনি, সোম ও বুধবার)
🕌 বাস্তব জীবনের মাসআলা থেকে ১৫০+ তামরিন (৩টি হাওলাসহ) অনুশীলনের সুযোগ
🏅 বিশেষ সুবিধা:
✔ বছর শেষে সনদ, পাগড়ি ও সম্মাননা প্রদান
💰 ভর্তি ফি ও মাসিক ফি:
🎯 ভর্তি ফি ৫০% ছাড়ে মাত্র ৫০০ টাকা
🎯 মাসিক বেতন মাত্র ৫০০ টাকা
📩 ভর্তি ও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন:
📞 01719548440
📥 ইনবক্স করুন অথবা ফরম পূরণ করুন:
🔗 https://forms.gle/z3AHgJVPgxWsv1wk6
📢 সীমিত আসন — আজই ভর্তি নিশ্চিত করুন!
eIfta #ইফতা_কোর্স #দ্বীনি_শিক্ষা
03/04/2026
📢 ঘরে বসেই ইফতা কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ!
বর্তমান যুগে ঘরে বসে কিংবা মসজিদ-মাদরাসায় খেদমতের পাশাপাশি অল্প সময় দিয়েই দ্বীনি ইলম অর্জন করা এখন সহজ।
✨ সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন অনলাইন ক্লাস করে
আপনিও হতে পারেন একজন যোগ্য মুফতি — ইনশাআল্লাহ।
📌 "দারুল বাহিসীন আল-ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশ" নিয়ে এসেছে আপনার জন্য বিশেষ আয়োজন—
━━━━━━━━━━━━━━━
🌟 আমাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
✔ দারুল উলূম দেওবন্দের ফাজেল ও দেশের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে
📖 দরস, তামরিন ও মুহাজারা
✔ দেশি-বিদেশি নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয়
🔎 মাসআলা বের করার আধুনিক পদ্ধতি
📚 ফ্রি স্টাডি মেটেরিয়ালসঃ
📖 ৩০০+ আরবি, বাংলা ও উর্দু ফতোয়ার কিতাব (PDF)
📚 ৫০+ ফিকহী প্রবন্ধ ও ইসলামিক কিতাব (PDF)
💻 ক্লাস সময়সূচিঃ
📅 সপ্তাহে ৩ দিন (শনি, সোম ও বুধবার)
🕌 প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংঃ
✔ ১৫০+ তামরিন (৩টি হাওলাসহ)
✔ বাস্তব জীবনের মাসআলার সমাধান
📩 ইফতা সেবা (ফতোয়া প্রদান) চালু রয়েছে
━━━━━━━━━━━━━━━
📘 শিক্ষা কার্যক্রমঃ
✔ নিয়মিত ফিকহ ক্লাস
✔ কিতাব ভিত্তিক মাসআলা শিক্ষা
✔ বাস্তব সমস্যার শরঈ সমাধান
✔ ফতোয়া ও প্রবন্ধ লেখার প্রশিক্ষণ
✔ সপ্তাহে ১ দিন মাসাইলের তামরীন
━━━━━━━━━━━━━━━
🏅 বিশেষ সুবিধাঃ
✔ বছর শেষে সনদ ও সম্মাননা প্রদান
📦 উপস্থিত হতে না পারলে কুরিয়ারে সনদ পাঠানো হবে
━━━━━━━━━━━━━━━
👩 মেয়েদের জন্য বিশেষ সুযোগঃ
✔ আলাদা ব্যবস্থায় ভর্তি সুযোগ
✔ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়াই লিখিত দরস প্রদান — ইনশাআল্লাহ
━━━━━━━━━━━━━━━
💰 ভর্তি ও ফি:
🔥 ফতোয়া বিভাগে ভর্তি ফি মাত্র ৫০০ টাকা (৫০% ছাড়ে)
💵 মাসিক বেতন: ৫০০ টাকা
━━━━━━━━━━━━━━━
📩 ভর্তি চলমান!
এখনই ইনবক্স করুন অথবা নিচের লিংকে গিয়ে ফরম পূরণ করুন👇
🔗
দারুল বাহিসীন আল-ইলমিয়্যাহ ভর্তি ফরম। একঝাঁক বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে পরিচালিত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের শরীয়া বিষয়ক জ্ঞানের আস্থার প্রতিক! ভর্তি ...
অনলাইন ভর্তি ফর্ম লিংক।
https://forms.gle/z3AHgJVPgxWsv1wk6
১/ মুফতি শরিফুল ইসলাম কাসেমী
২/ মুফতি ইলিয়াস হুসাইন কাসেমী
৩/ মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ সাহেব
৪/ মুফতি ইউসুফ আমিন
আগামী বছর ইফতা পড়ার স্বপ্ন কার কার?
দাওরায়ে হাদীস শেষ? এবার লক্ষ্য কি উচ্চতর ফিকহ ও ইফতা? 🌙📚
আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি বড় ধাপ (দাওরায়ে হাদীস) আপনারা শেষ করেছেন। এখন সময় আগামীর লক্ষ্য স্থির করার। আপনার যদি স্বপ্ন থাকে কোনো ভালো মানের প্রতিষ্ঠানে ইফতা (উচ্চতর ফিকহ) পড়ার, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য!
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন? দুই-তিন বছর আগে পড়া হিদায়া সালেস বা নূরুল আনোয়ার কি ঝাপসা হয়ে গেছে? রমজানের ব্যস্ততায় কি কিতাব খুলে বসা হচ্ছে না?
আপনার এই কঠিন পথকে সহজ করতে দারুল বাহিসীন আল ইলমিয়্যাহ, বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে:
✨ ২৫ দিনের অনলাইন ইফতা ভর্তি প্রস্তুতি কোর্স ✨
কেন এই কোর্সটি আপনার জন্য অপরিহার্য?
✅ ইবারত ও তরজমার দক্ষতা: ভর্তি পরীক্ষার প্রধান বাধা ইবারত। আমরা নাহু-সরফের প্রয়োগসহ ইবারত পড়ার কৌশল শেখাব।
✅ পুরানো কিতাব ঝালিয়ে নেয়া: ভুলে যাওয়া হিদায়া ও নূরুল আনোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ক্লাসেই আত্মস্থ করানো হবে।
✅ পিডিএফ লাইব্রেরি: আপনার কাছে সব শরাহ বা ফতোয়ার কিতাব নেই? চিন্তা নেই! আমরা প্রয়োজনীয় সব কিতাব ও শরাহ-এর পিডিএফ প্রদান করব।
✅ ব্যস্ততার মাঝেও সেরা প্রস্তুতি: তারাবি ও ইমামতির ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে ক্লাসগুলো সাজানো হয়েছে। বাড়তি চাপের প্রয়োজন নেই, ক্লাসেই হবে পূর্ণ প্রস্তুতি।
✅ সরাসরি সাপোর্ট: পড়তে গিয়ে কোথাও আটকে গেলে আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী সার্বক্ষণিক সহায়তায় প্রস্তুত।
✅ প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ: ইফতার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ও নিয়মিত গাইডলাইন।
কোর্স বিবরণী:
📅 সময়সীমা: ১লা রমজান থেকে ২৫শে রমজান পর্যন্ত।
💻 মাধ্যম: অনলাইন (আপনার ঘরে বসেই)।
🎯 টার্গেট অডিয়েন্স: এ বছর দাওরায়ে হাদীস সম্পন্নকারী ও হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার্থীবৃন্দ।
স্বপ্ন যখন মুফতি হওয়ার, প্রস্তুতি হোক তবে গোছানো ও নিখুঁত!
📍 রেজিস্ট্রেশন করতে আজই যোগাযোগ করুন:
📞 হোয়াটসঅ্যাপ: 01620869346
#হাইয়াতুল_উলইয়া #ইফতা_প্রস্তুতি #কওমি_মাদ্রাসা
25/06/2025
হেফযখানার অনেক ছাত্রকে দেখা যায় যে, তারা কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করার সময় সিজদার আয়াত আসলে তা না পড়ে সামনে চলে যায়। তাদের এ কাজটি কেমন? জানতে চাই।
উত্তর
তেলাওয়াতের মাঝে সিজদার আয়াত বাদ দিয়ে তেলাওয়াত করা মাকরূহ তাহরীমী। এভাবে বাদ দিয়ে পড়া কুরআনে কারীমের আদব পরিপন্থী। আল্লাহর কালাম ধারাবাহিক ভাবেই পড়ে যাওয়া কর্তব্য। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার সাথে সাথে সিজদা দেওয়া জরুরি নয়। পরেও দেওয়া যায়। তাই তিলাওয়াতের সময় সিজদা আদায় করতে না পারলে পরে করবে। কিন্তু কোনো অবস্থায় তা বাদ দিয়ে পড়বে না।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৮; শরহুল মুনিয়্যাহ ৫০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১১৭
আল-হাইআ একাডেমি Al-Haia' Academy
02/06/2025
প্রশ্ন
দেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে।
এই সমাজের নিয়ম হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা করতে হয়।
পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টন কি শরীয়মসম্মত? এক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর: গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়।
ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ নেই।
প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে।
এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।
ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।
তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—
১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়।
কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ.
কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়।
______(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)
২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।
৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা মোটেই উচিত নয়।
৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।
মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না।
কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে।
এই পদ্ধতিই অবলম্বন করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
______সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২;
______জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০;
_____বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪;
_____তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৮২;
______ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩;
______আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮;
______ ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০;
______রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮
11/01/2025