23/07/2026
ধরেন, আপনিই খাদিজা।
আপনি জানলেন আপনার অনার্স রেজাল্ট হওয়ার আগেই আপনি বিসিএস কনফার্ম করে ফেলসেন। মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরই জয়েনিং।
প্রথমবার সুপারিশপ্রাপ্ত হইলেন। পরিবারের সবাই খুশি। ভার্সিটিতে একটা অকল্পনীয় নজির সৃষ্টি করলেন। এলাকাবাসীও খুশি। ডিপার্ট্মেন্টের জুনিয়রদের কাছে রোল মডেল।
আল্লাহর দরবারে বারবার শুকরিয়া জানান। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো কিছুদিন পর। সুপারিশ বাতিল করা হলো। বহুকষ্টে মেনে নিলেন।
এরপর আবার নতুন করে প্রিপারেশন নেওয়ার চেষ্টা, নতুন প্ল্যানিং।
কিন্তু, আল্লাহর রহমতে আবার আপনাকে সুপারিশ করা হলো। আপনি এবার আরো খুশি। কারণ সম্ভাব্য বিপদ থেকে অলরেডি একবার মুক্তি পেয়েছেন।
আপনি হালকা মনে মাস্টার্স করছেন, বিশ্বকাপ খেলা দেখতেসেন। খেলা দেখার সময় সবাই যখন পড়াশোনা আর পরীক্ষার দোহাইয়ে খেলা ইনজয় করতে পারতেসে না, আপনি হাফ ছেড়ে ভাবেন- আমি ভারমুক্ত আছি।
আপনি ভেবেই নিলেন, আপনার আর চাকরির প্রিপারেশন নেওয়ার দরকার নাই। প্ল্যানিং সব বাদ। এখন শুধু সামনে আগানোর পালা। ক্যারিয়ার সেট, আলহামদুলিল্লাহ।
শান্ত মনে একদিন টিউশন থেকে ফেরার পথে পরিচিতজনের ফোনকলে জানতে পারলেন আপনার সুপারিশ আবারও বাতিল করা হয়েছে।
আপনি কেমন অনুভব করবেন?
এটা কেমন ধরনের সার্কাস আমরা একটু জানতে চাই।
খাদিজা আপু আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র, আমার রুমমেটও। আপু যখন পড়তেন, আমাদের সবার আগে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসতেন আবার সবার শেষে ঘুমাতে যেতেন।
এত ভালো একটা মানুষ, এত পরিশ্রমী, দুআ করি এবং আশাও রাখি আপুর সামনে ভালো কিছু হয়ে যাবে। কিন্তু এইযে মানসিক প্রেশার, মন খারাপ, অনিশ্চয়তার মধ্যে আপু যাইতেসে— এই দায়ভার কার?
যদি অনার্স ফল প্রকাশই বাঁধা হয়ে দাড়ায়, তাহলে প্রথমেই সুপারিশপ্রাপ্ত করা হলো কেন?
প্রথমবার না-হয় ভুলে করে ফেলসে, যেখানে পরীক্ষা দিতে পারার নিয়মটাই রাখা উচিত ছিলনা যদি না অনার্স রেজাল্টের আগে এলিজিবল না হয়। পরীক্ষায় কেন বসতে পারলো, সেই আলাপেও গেলাম না।
দ্বিতীয়বার সুপারিশপ্রাপ্ত করে সেটা আবার বাতিল হয় কিভাবে?
মানে কেন?
আমরা জানতে চাই, ঠিক কী কারণে খাদিজা আপুর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। এত নাটক কেন করা হইল একটা মানুষের জীবন নিয়ে?