Tawhid media তাওহীদ মিডিয়া

Tawhid media তাওহীদ মিডিয়া ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের পেজটি ফলো করে পাশে থাকুন।

26/08/2026

মদিনার ইসলামে দেশ চালাইতে চাওয়া বিএনপিকে কঠিন হুশিয়ারী দিলেন, মুফতী রেজাউল করীম আবরার দাঃ বাঃ

খতমে নবুওয়াত নিয়ে জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকায় ইলমি পর্যালোচনা জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকায় “খতমে নবুওয়াত : ইলমি পর্যালোচনা” শীর্ষ...
26/08/2026

খতমে নবুওয়াত নিয়ে জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকায় ইলমি পর্যালোচনা

জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকায় “খতমে নবুওয়াত : ইলমি পর্যালোচনা” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ ইলমি আলোচনা অনুষ্ঠান চলছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে খতমে নবুওয়াতের আকীদা, এর দলিল ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে ইলমি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মধ্যমনি হিসেবে রয়েছেন শায়খ মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মুদীর, জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকা এবং মুফতি মুহাম্মদ মাসূম রেজা, আমীনুত তালীম, জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকা।

ইফতা বিভাগ-২০২৬ (৫ম ব্যাচ)-এর আয়োজনে এবং আস সুন্নাহ ছাত্র কাফেলা, জামি‘আতুস সুন্নাহ ঢাকা-এর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

26/08/2026

রাসূল (সাঃ) নামাজ পড়তে ভালোবাসতেন।
শায়েখ আবু মুহাম্মদ রাহমানী হাফিজাহুল্লাহ
M***i Abu Muhammad Rahmani
Tawhid media তাওহীদ মিডিয়া

25/08/2026

ইমাম সমাজ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধ এবং এর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২য় তলায় অবস্থিত জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত হয় কওমী মাদ্রাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার।

সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন,,,
মুফতী শামসুল হক উসমানী দাঃ বাঃ

সেমিনারে কওমী মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ভূমিকা, শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রম এবং দেশ, সমাজ ও জাতির কল্যাণে এর অবদান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কওমী মাদ্রাসা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অপপ্রচার রোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শায়খ মুফতি আ.ফ.ম আকরাম হুসাইন হাফিজাহুল্লাহ'র প্রতিষ্ঠিত জামি'আতুস সুন্নাহ ঢাকার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত গতকাল ২...
25/08/2026

শায়খ মুফতি আ.ফ.ম আকরাম হুসাইন হাফিজাহুল্লাহ'র প্রতিষ্ঠিত জামি'আতুস সুন্নাহ ঢাকার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

গতকাল ২৪ আগস্ট দুপুরে জামি'আতুস সুন্নাহ ঢাকার ১৪৪৭-৪৮ হি./২০২৬-২৭ ঈ. শিক্ষাবর্ষের ১ম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের পরপরই মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম-
মুফতী আ.ফ.ম আকরাম হুসাইন হাফি.

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জামিয়ার নায়েবে মুফতি, মুফতী আশিকুল ইসলাম হাফি.

ইফতা বিভাগের মুশরিফ-
মুফতী মাসুম রেজা হাফি

তালিমুল কোরআন মাদরাসার মুহতামিম
মাও. কামাল উদ্দীন নোমানী ও ড. রাকিবুল হাসানসহ মাদরাসার অন্যান্য উস্তাদগণ।

আল্লাহ শিক্ষার্থীদেরকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন, আরো ভালো ফলাফল অর্জন করার তাওফীক দান করুন।

মারকাযুল ফুরকানে পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিতঢাকা: মারকাযুল ফুরকান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা ও ফাতিমাতুয যাহরা...
25/08/2026

মারকাযুল ফুরকানে পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঢাকা: মারকাযুল ফুরকান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা ও ফাতিমাতুয যাহরা (রা.) বালিকা মাদরাসার প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত মারকাযুল ফুরকান অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসা মাদীনাতুল উলূম, মুমিনবাগের প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদীস মাওলানা ইমামাইল যশোরী (দা.বা.)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আশরাফুল উলূম মাদরাসার মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমান (হাফি.), কামরাঙ্গীরচরের পীর সাহেব মুফতি আলী আজাদ সাকাফী, যুবদল কামরাঙ্গীরচর থানা শাখার সাবেক সেক্রেটারি জনাব শামিম আহমেদ এবং বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, রসুলপুর, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকার সেক্রেটারি জনাব মো. রবিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারকাযুল ফুরকান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মুফতী সালীমুল্লাহ খান হানাফী (দা.বা.)। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাদরাসার নাজেমে তালিমাত মাওলানা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মাদরাসাটি পূর্ব রসুলপুর, ৮ নং রোড, রনি মার্কেটের পূর্ব পাশে, বাড়ি নং-৮৭ (হাজী শাহজাহান সাহেবের বাড়ি), কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা-১২১১ ঠিকানায় অবস্থিত।

25/08/2026

মারকাযুল ফুরকান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা ও ফাতিমাতুয যাহরা (রা.) বালিকা মাদরাসার প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সম্মেলন থেকে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার

মাদরাসাটি পূর্ব রসুলপুর, ৮ নং রোড, রনি মার্কেটের পূর্ব পাশে, বাড়ি নং-৮৭ (হাজী শাহজাহান সাহেবের বাড়ি), কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা-১২১১ ঠিকানায় অবস্থিত।

বড়াইল মাদরাসার শিক্ষক মুফতি জসিম উদ্দিন সাহেবের অপারেশন গতকাল ২৪ আগস্ট, সোমবার বিকেলে ঢাকার ট্রমা সেন্টারে সফলভাবে সম্পন...
25/08/2026

বড়াইল মাদরাসার শিক্ষক মুফতি জসিম উদ্দিন সাহেবের অপারেশন গতকাল ২৪ আগস্ট, সোমবার বিকেলে ঢাকার ট্রমা সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কয়েক মাস আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। আজ প্রয়োজনীয় অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন বড়াইল মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন বিন আব্দুল হাই মুন্সী।

অপারেশন সফল হওয়ার পর শুকরিয়া আদায় করে মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন বলেন, “একজন মুহতামিম শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বশীল নন; ছাত্র-শিক্ষক সবার অভিভাবকও। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান করা আমাদের কর্তব্য। আলহামদুলিল্লাহ, আজ হুজুরের পাশে থাকতে পেরেছি এবং তাঁর চিকিৎসার সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধান করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান শুধু পরিচালিতই হয় না, বরং ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে যায়। পারস্পরিক ভালোবাসা ও অভিভাবকসুলভ দায়িত্ববোধই একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শক্তি।”

মুফতি জসিম উদ্দিন সাহেবের দ্রুত সুস্থতার জন্য শিক্ষকগণ ও পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা হুজুরকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করুন এবং তাঁকে সুস্থতার সঙ্গে দ্বীনের খেদমতে ফিরিয়ে দিন। আমিন।

পরিবারের মানুষ হলেই কি মাহরাম হয়ে যায়?হয়তো আপনার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া। দুলাভাইকে আপনি সত্যিই...
25/08/2026

পরিবারের মানুষ হলেই কি মাহরাম হয়ে যায়?

হয়তো আপনার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া। দুলাভাইকে আপনি সত্যিই আপন ভাইয়ের মতো মনে করেন। দেবর বয়সে ছোট, তাই তাকে কখনো নন মাহরাম বলে আলাদা করে ভাবেননি। খালু, ফুফা, স্বামীর চাচা মামা, ননদের স্বামী… সবাই তো পরিবারেরই মানুষ।

এখানেই আমাদের অনেকের একটা ভুল হয়। আমরা মনে করি, যাকে আপন মনে হয়, তিনি বুঝি মাহরামও। অথচ ইসলাম মাহরাম নির্ধারণ করেছে আমাদের অনুভূতি, সম্বোধন বা পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা দিয়ে নয়; নির্দিষ্ট শরয়ি সম্পর্ক দিয়ে।

সহজ ভাষায়, একজন নারীর এমন পুরুষ আত্মীয়, যার সঙ্গে রক্তসম্পর্ক, শরিয়তসম্মত দুধসম্পর্ক অথবা বৈবাহিক আত্মীয়তার কারণে চিরস্থায়ীভাবে বিয়ে হারাম, তিনি তার মাহরাম। এখানে “চিরস্থায়ীভাবে” কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো কারণে সাময়িকভাবে বিয়ে হারাম হলেই কেউ মাহরাম হয়ে যান না।

আল্লাহ তাআলা সূরা আন নিসায় যাদের সঙ্গে বিবাহ স্থায়ীভাবে হারাম করেছেন, তাদের মধ্যে মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, স্ত্রীর মা, নির্দিষ্ট শর্তে স্ত্রীর মেয়ে এবং ছেলের স্ত্রীসহ বিভিন্ন সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন। সূরা আন নিসা, ৪:২৩।

আর সূরা আন নূর ২৪:৩১ এ নারীর সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমোদিত সম্পর্কগুলোর মধ্যে স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে ও বোনের ছেলের কথা এসেছে। এখানে ছোট একটা বিষয় মনে রাখা ভালো: স্বামীকে ফিকহি পরিভাষায় মাহরাম বলা হয় না, তিনি স্বামী। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের বিধান মাহরামের চেয়েও আলাদা। আয়াতে স্বামীকে তাই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাহলে রক্তের সম্পর্কের মাহরাম কারা?

বাবা, দাদা নানা এবং ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ; ছেলে, নাতি এবং নিচের দিকের বংশধর; আপন ভাই, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই; ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে এবং তাদের বংশধর; চাচা ও মামা। এরা বংশগত সম্পর্কের কারণে মাহরাম।

কিন্তু চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই মাহরাম নন।

এই জায়গাটাই অনেকের জন্য সবচেয়ে অস্বস্তিকর। কারণ যাকে আপনি জন্ম থেকে “ভাইয়া” বলে ডেকেছেন, তাকে হঠাৎ নন মাহরাম ভাবতে মন চায় না। কিন্তু সম্বোধন শরয়ি সম্পর্ক বদলায় না। cousin-এর সঙ্গে বিবাহ মূলত বৈধ হতে পারে, তাই তিনি মাহরাম নন।

এর অর্থ এই নয় যে cousin-এর সঙ্গে কথা বলাই হারাম, একই ঘরে থাকাই অপরাধ, কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। বরং নন মাহরামের যে সীমারেখা আছে, সেটাই থাকবে। প্রয়োজনীয় ও শালীন কথা হতে পারে, পারিবারিক পরিবেশে দেখা হতে পারে, কিন্তু তাকে আপন ভাইয়ের মতো ধরে হিজাব, খালওয়া ও অন্যান্য সীমারেখা তুলে দেওয়া ঠিক নয়।

মাহরামের দ্বিতীয় কারণ হলো দুধসম্পর্ক বা রদাআত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“দুধসম্পর্কের কারণে সেটাই হারাম হয়, যা জন্মসূত্রে হারাম হয়।”
সহিহ মুসলিম, ১৪৪৪।

অর্থাৎ শরিয়তসম্মত দুধসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে দুধবাবা, দুধভাই, দুধচাচা, দুধমামার মতো সম্পর্কও মাহরাম হতে পারে। তবে রদাআত প্রতিষ্ঠার বয়স, পরিমাণ ও অন্যান্য শর্তে ফিকহি বিস্তারিত আলোচনা আছে। তাই বাস্তব কোনো case হলে শুধু “একবার দুধ খেয়েছিল” শুনে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে পুরো ঘটনা বলে যাচাই করা ভালো।

তৃতীয় কারণ হলো বিবাহের মাধ্যমে তৈরি হওয়া স্থায়ী মাহরাম সম্পর্ক। এই অংশটায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।

একজন নারীর শ্বশুর, স্বামীর দাদা এবং ঊর্ধ্বতন পুরুষ পূর্বপুরুষ তার মাহরাম হয়ে যান বৈধ নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। এজন্য স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পন্ন হওয়া শর্ত নয়। এমনকি পরে তালাক হয়ে গেলেও শ্বশুরের এই মাহরাম সম্পর্ক উঠে যায় না।

একইভাবে স্বামীর ছেলে, নাতি এবং তাদের বংশধর একজন নারীর মাহরাম। আর একজন নারীর মেয়ের স্বামী, অর্থাৎ জামাতা, নিকাহের কারণে তার মাহরাম হয়ে যান।

কিন্তু সৎবাবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। কোনো পুরুষ শুধু আপনার মাকে নিকাহ করলেই তিনি আপনার মাহরাম হয়ে যান না; কুরআনের ৪:২৩ অনুযায়ী মায়ের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পন্ন হওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে বিবাহ স্থায়ীভাবে হারাম হয় এবং তিনি মাহরাম হন।

এখন আসি আমাদের ঘরের সবচেয়ে পরিচিত ভুলটায়।

শ্বশুর মাহরাম। কিন্তু দেবর বা ভাশুর মাহরাম নন।

বয়সে ছোট বলেই দেবর আপনার ছোট ভাই হয়ে যায় না। ভাশুরকে আপনি বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতে পারেন, কিন্তু শরিয়তে তিনি আপন ভাই নন। বরং স্বামীর নন মাহরাম আত্মীয়দের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষ সতর্কতা দিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“নারীদের কাছে প্রবেশ করা থেকে সতর্ক থাকো।” একজন আনসারি সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, “স্বামীর আত্মীয়দের ব্যাপারে কী?” তিনি ﷺ বললেন, “আল হামও হলো মৃত্যু।”
সহিহ আল বুখারি, ৫২৩২; সহিহ মুসলিম, ২১৭২।

এখানে কথাটার অর্থ এই নয় যে স্বামীর ভাই, চাচাতো ভাই বা অন্য আত্মীয়রা খারাপ মানুষ। ইমাম নববীর ব্যাখ্যায় মূল সতর্কতা হলো, এদের যাতায়াত পরিবারে খুব স্বাভাবিক বলে মানুষ সহজেই অসতর্ক হয়ে যায়। অপরিচিত নন মাহরামের ক্ষেত্রে যে সীমা মনে থাকে, পরিচিত আত্মীয়ের ক্ষেত্রে সেটাই অনেক সময় ভুলে যায়। আর হাদিসের হামও দ্বারা শ্বশুর বা স্বামীর ছেলে বোঝানো হয়নি, কারণ তারা মাহরাম; মূলত স্বামীর ভাই, ভাতিজা, চাচাতো ভাই এবং অনুরূপ নন মাহরাম আত্মীয়দের বোঝানো হয়েছে।

আরেকটি খুব সাধারণ ভুল হলো দুলাভাইকে মাহরাম ভাবা।

আপনার বোন যতদিন তাঁর স্ত্রী, ততদিন তিনি আপনাকে বিয়ে করতে পারবেন না ঠিকই। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী নয়। তাই বোনের স্বামী আপনার মাহরাম নন। তিনি সম্মানিত আত্মীয় হতে পারেন, কিন্তু শরয়ি হিসেবে নন মাহরাম।

একই কারণে খালু ও ফুফাও শুধু খালা বা ফুফুর স্বামী হওয়ার কারণে মাহরাম নন। স্বামীর চাচা, স্বামীর মামা, স্বামীর cousin, ননদের স্বামীও শুধু “শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়” হওয়ার কারণে মাহরাম হয়ে যান না। স্বামীর মামা নন মাহরাম হওয়ার বিষয়টিও ফিকহি ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

হয়তো এতক্ষণে নিজের পরিবারের একটা মানচিত্র মাথায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

আপন ভাই মাহরাম। চাচাতো ভাই নন মাহরাম।
শ্বশুর মাহরাম। দেবর নন মাহরাম।
জামাতা মাহরাম। দুলাভাই নন মাহরাম।

দেখুন, পার্থক্যটা “কে ভালো মানুষ” সেখানে নয়। পার্থক্যটা আল্লাহ কোন সম্পর্কের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম করেছেন সেখানে।

এ কারণেই খালওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে একান্তে না থাকে, যদি তার সঙ্গে মাহরাম না থাকে।”
সহিহ আল বুখারি, ৫২৩৩।

তাই কাউকে আপনি দশ বছর ধরে চেনেন, তিনি খুব দ্বীনদার, আপনাদের দুই পরিবারও পরস্পরকে বিশ্বাস করে, এসবের কোনোটি শরয়ি সম্পর্ক বদলায় না। ভালো চরিত্র অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভালো চরিত্র কাউকে মাহরাম বানায় না।

আবার মাহরাম মানে এইও নয় যে সব সীমা উঠে গেল। মাহরামের সামনে নন মাহরামের মতো হিজাব ও খালওয়ার বিধান থাকে না, কিন্তু আওরাহ, শালীনতা, আদব এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা থেকেই যায়। মাহরাম একটি স্থায়ী শরয়ি সম্পর্কের নাম, কোনো মানুষের চরিত্র সম্পর্কে নিরাপত্তার সার্টিফিকেট নয়। সূরা আন নূর ২৪:৩১ নিজেই দেখায়, কার সামনে কী ধরনের শিথিলতা আছে সেটাও শরিয়ত নির্ধারিত।

আরেকটি কথা খুব জরুরি। এই পোস্ট পড়ে যেন কেউ হঠাৎ পরিবারের সঙ্গে রূঢ় হয়ে না যান।

কাল থেকে cousin সালাম দিলে উত্তর দেবেন না, দুলাভাইকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেবেন, দেবরকে অপরাধীর মতো দেখবেন, ইসলাম এমনটা শেখায়নি। নন মাহরাম মানে শত্রু নয়। নন মাহরাম মানে সম্পর্ক আছে, কিন্তু সম্পর্কের একটি শরয়ি সীমারেখাও আছে।

সম্মান থাকবে। সুন্দর ব্যবহার থাকবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকবে। প্রয়োজনীয় কথা থাকবে। শুধু “ও তো আমাদেরই মানুষ” বলে এমন কিছু স্বাভাবিক করে ফেলব না, যেটাকে আল্লাহ স্বাভাবিক করেননি।

আজ একটু নিজের জীবনটা ভাবুন।

আপনার পরিবারের এমন কোনো পুরুষ আছেন কি, যাকে আপনি বছরের পর বছর “ভাইয়ের মতো” ভেবে নিজের আপন ভাইয়ের মতোই আচরণ করেছেন? হয়তো আপনি জানতেনই না। তাহলে অতীত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যা জানতেন না, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, আর এখন জানার পর সুন্দরভাবে সীমাটা ঠিক করুন।

দ্বীন শেখার মানে তো প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে সংশোধন করা।

শেষে খুব সহজ একটা প্রশ্ন নিজের কাছে রেখে দিন:

আমি যাকে মাহরাম মনে করছি, শরিয়তও কি তাঁকে মাহরাম বলেছে, নাকি শুধু আমার পরিবার ও অভ্যাস তাঁকে সেই জায়গায় বসিয়েছে?

এই একটি প্রশ্ন হয়তো আমাদের হিজাব, গোপনীয়তা, খালওয়া, পারিবারিক মেলামেশা এবং সফরের অনেক সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে। সফরের বিভিন্ন মাসআলায় মাহরামের ভূমিকা নিয়েও ফিকহে বিস্তারিত আলোচনা আছে; কোনো নির্দিষ্ট সফরের ক্ষেত্রে নিজের মাযহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে হুকুম জেনে নেওয়া উত্তম।

আল্লাহ আমাদের দ্বীনকে সঠিকভাবে বোঝার তাওফিক দিন। মানুষের বানানো পরিচয়ের চেয়ে তাঁর নির্ধারিত সীমারেখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার তাওফিক দিন। আমাদের পরিবারগুলোতে ভালোবাসা থাকুক, কিন্তু সেই ভালোবাসা যেন হায়া ও শরিয়তের সীমা মুছে না দেয়। আমিন।

প্রধান দলিল ও উৎস: সূরা আন নিসা ৪:২৩; সূরা আন নূর ২৪:৩১; সহিহ মুসলিম ১৪৪৪; সহিহ আল বুখারি ৫২৩২ ও ৫২৩৩। মাহরামের মূল শ্রেণি: বংশগত সম্পর্ক, রদাআত বা দুধসম্পর্ক এবং মুসাহারাহ বা বৈবাহিক আত্মীয়তা।

Address

লালবাগ
Dhaka
1211

Telephone

+8801914658686

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tawhid media তাওহীদ মিডিয়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share