12/12/2025
এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে কেউ কখনোই বিসিএস প্রিলি ফেল করবে না—
বিসিএস প্রিলি হচ্ছে একধরনের মাইন্ড গেম। এই প্রিলি আপনার সাথে খেলবে, জেতার উপায় আপনাকেই বের করতে হবে।
✳️ বিসিএসের প্রিলি কখনোই ফেল করে না ৩ ধরনের প্রার্থী —
১. যারা খুবই জানে। প্রতিটা বিষয়ের বেসিক অনেক ভাল। গর্ত থেকে প্রশ্ন দিলেও তারা পারে। এদের কাছে সহজ কঠিন বলে কোন শব্দ নেই। এমন প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম। এরা এলিয়েন প্রজাতির প্রার্থী।
২. যারা অনেক স্ট্র্যাটেজিক্যাল। এদের আছে অসম্ভব অভিযোজন ক্ষমতা। যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিয়ে তা থেকে উতরে যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রশ্ন কঠিন হোক বা সহজ হোক সে অবস্থায় কত কাট মার্কস হতে পারে, কত দাগালে প্রিলি মিস হবে না এসব স্ট্র্যাটেজি পরীক্ষার হলেই বের করে। এরাও কখনোই প্রিলি ফেল করে না।
৩. যারা বিসিএস প্রিলির ২০০ নম্বরের ট্রাম্প কার্ড সাবজেক্ট গুলো জানে এবং প্রশ্ন এনালাইসিস এ খুবই ভালো দক্ষ। এরাও কখনোই প্রিলি ফেল করে না। কারণ বিসিএসের প্রশ্নে কিছু বিষয় সহজ হয় কিছু কঠিন। কিছু বিষয়ে কম প্রস্তুতি নিয়েও বেশি নম্বর তোলা যায়। এসব বিষয়ই হচ্ছে পাসের মূল ডিসাইডিং ফ্যাক্টর৷
➡️ ফেল করে কারা?
১. যারা সিলেবাস না বুঝে এলোপাথারি পড়াশুনা করে।
২. যারা ভুল বই সিলেকশন ও ভুল তথ্য পড়ে।
৩. যারা প্রশ্ন বিশ্লেষণে খুবই দুর্বল।
৪. যারা স্ট্র্যাটেজিক্যাল নয়। প্রশ্ন দেখে ইন্সট্যান্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ঘাবড়ে যায়। বুঝে উঠতে পারে না কত দাগাবে, কত কাট মার্কস হতে পারে।
৫. যারা প্রোপার গাইডলাইনের অভাবে ভুগে।
৬. যারা অতিরিক্ত মডেল টেস্ট দেয়।
৭. যারা সিলেবাস শেষ করে না।
৮. যারা অতিরিক্ত সাম্প্রতিক পড়ে।
৯. যারা সব বিষয়ে সমানভাবে পারদর্শী নয়, কিছু বিষয়কে স্কিপ করে। ভাবে এসব কঠিন, দাগাব না যাই আসুক।
১০. বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে অতিরিক্ত দুর্বল।
১১. যারা বেশি দাগাতে ভয় পায়।
১২. কী পড়তে হবে আর কী বাদ দিতে হবে এসব বুঝে উঠতে পারে না। সব পড়তে যায়৷ ফলাফল মাথায় কিছুই থাকে না। মনে রাখতে পারে না।
১৩. যাদের রিভিশনের অভাব আছে ইত্যাদি।
✴️ তাহলে করণীয় কী?
দেখেন, বিসিএস শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি একটি প্রতিযোগিতা, একধরনের গেম। খেলায় স্ট্র্যাটেজিক্যাল হতে হয়, দক্ষ হতে হয়, টেকনিক জানতে হয় তাহলেই খেলায় জিতে আসা যায়। সবকিছুর কম্বিনেশন যখন পারফেক্ট হবে সাথে ওইদিনের ভাগ্য সহায় হবে তখন আপনি জিতবেনই।
বিসিএস প্রিলির ক্ষেত্রেও সেম। তাহলে যা করতে হবে—
১. প্রথম কাজ প্রশ্ন এনালাইসিস শেখা। যারা বিসিএস প্রস্তুতি নেয় ৯০% ই বুঝে না প্রশ্ন এনালাইসিস কীভাবে করতে হয়। কোন প্রশ্ন কতবার আসছে, কোন টপিক থেকে কতবার আসছে এটা এনালাইসিস নয়। এনালাইসিস হলো সেটাই যেটা বিসিএসের প্রিলিতে কোন টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে, কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে এসব বের করা। সহজ ভাষায়, পিএসসি’র মাইন্ড রিড করা। অর্থাৎ, প্রশ্ন কমন ফেলানোর মত দক্ষতা অর্জন করা। এটার জন্য প্রশ্নের ভালো মত এনালাইসিস করতে হবে।
২. বিগত প্রশ্ন এনালাইসিস এর সাথে সব পড়ে ফেলা এবং সেগুলো রুটিন করে বারবার পড়া। বিসিএসে ইংরেজি, বাংলাসহ কয়েকটা বিষয়ে সেম টপিক থেকে ঘুরে ফিরে প্রশ্ন আসে। এসব টপিক বের করে সেগুলাকে আয়ত্ত করা।
*** সঠিক বই নির্বাচন করা। রেফারেন্স সম্বলিত বই পড়া।
৩. টেকনিক শেখা। এই টেকনিক ছন্দ দিয়ে পড়া মনে রাখা নয়। প্রশ্ন কমন না পেলেও কীভাবে দাগানো যায়, নির্দিষ্ট কিছু টপিকে এক্সপার্ট হওয়া ইত্যাদি বিষয়।
৪. স্ট্র্যাটেজিক্যাল হওয়া। পরীক্ষার হলে দেখলেন প্রশ্ন কঠিন; কোন বিষয় কঠিন, আর কোন বিষয় সহজ এসব বের করে অল্টারনেট সেট করা। যেমন: বাংলা কঠিন, ইংরেজি সহজ। বাংলা দাগালে নেগেটিভ বেশি হবে। তখন আপনি বাংলায় দক্ষ হলেও বাংলা খুবই কম দাগিয়ে ইংরেজি যেহেতু সহজ ইংরেজি বেশি দাগানো এবং ভুল না করা। মনে রাখবেন, কঠিন বিষয় ভুল করলেও আপনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবেন কিন্তু সহজ বিষয় ভুল করলে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাবেন। সহজ বিষয় খুব কম প্রার্থীরাই ভুল করে। একই নিয়ম বিগত প্রশ্নের ক্ষেত্রেও। এসব ভুল করা যাবে না।
৫. প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্প কার্ড যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো মার্ক করা ও তাতে বেশি সময় দিয়ে ৯০% নম্বর যেন কভার হয় সেই প্রস্তুতি নেওয়া। এমন বিষয় হচ্ছে —
> ইংরেজি সাহিত্য। এটা খুব কমই কঠিন হয়। সাথে এটার পড়াও অনেক কম।
> সুশাসন, নৈতিকতা।
> সাধারণ জ্ঞান। এটাতে ৫০ নম্বর। এটাতে কম পাওয়া মানে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া। এটা কঠিন ও সহজ মিক্স প্রশ্ন হয়। এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে প্রশ্ন কঠিন হলেও ৬০-৬৫% উত্তর করে আসা যায়। কঠিন হলেও ৫-১০ টা প্রশ্ন কঠিন হবে। সেগুলো না দাগালেও চলবে।
এভাবে নিজে নিজেই লুপ হোলসের বিষয়গুলো খুজে বের করবেন। সেগুলোতে বেশি সময় দিবেন।
৬. যেসব বিষয় খুব ভাল প্রস্তুতি নিলেও ভরাডুবি হতে পারে। যেমন: বাংলা সাহিত্য, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
৭. বিজ্ঞানের জন্য বেশি সময় নষ্ট না করে এই সময় অন্য সহজ ও নম্বর বুস্টার বিষয়ে দেওয়া। কারণ বিজ্ঞান এমনেই ৩-৪ টা সবাই কম বেশি পারে কিছুই না পড়লেও। পড়লেও দেখা যাবে ৫-৬ টাও হচ্ছে না যদি কঠিন হয়। এটা ছোটবেলা থেকে যা শিখেছেন সব কিছুর প্রয়োগের মত একটা বিষয়। যদি কেউ পড়তেই চান তাহলে লিখিত এর বিজ্ঞান বই পড়বেন। এতে প্রিলি ও লিখিত দুটাতেই কাজে দিবে।
৮. বেশি দাগানো শেখা। পরীক্ষার হলে কখনোই ১৬০ এর কম দাগানো উচিত নয়। কম দাগালে রিস্ক হয়ে যাবে। ধরে নিতে হবে, ২০ টা ভুল কমপক্ষে আপনার হবেই। যদি ১৪০ দাগান আর ২০ টা ভুল হয়। তাহলে ৩০ মাইনাস হয়ে থাকবে ১১০। দেখা গেল কাট মার্কস ১১২। এজন্য যদি ১৬০ টা দাগান ২৫ টা ভুল হলেও আপনি ১২০ এর উপরে থাকবেন। সবসময় নিরাপদ।
৯. প্রচুর রিভিশন দেওয়া ও গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা। আপনি যত জানবেন, শিখবেন আর রিভিশন দিবেন আপনার দক্ষতা ততই বাড়বে।
১০. অপশন ছাড়া পড়বেন। কখনোই এমসিকিউ আকারে অপশন দেখে পড়বেন না। প্রশ্ন দেখার সাথেই উত্তর মুখে চলে আসতে হবে। অপশন দেখে পড়লে অপশন একটু ঘুরায়ে দিলেই প্যাচ লাগবে। এজন্য অপশন নয়, প্রশ্ন আর তার মূলভাব বুঝে পড়তে হবে।
১১. বেশি মডেল টেস্ট না দেওয়া।
শুভকামনা