15/06/2017
অসাম্প্রদায়িক দেশ বাংলাদেশ তা আজ আবার দেখলাম।
আজ ঢাকার তাঁতিবাজারে গিয়েছিলাম ছোট বোনের পুরনো রুপার নূপুর ওয়াশ করাতে। একটা হিন্দু মালিকানাধীন দোকানে কাজটা করাতে দিলাম।
সময় তখন ৫.৩০ মনিট। দোকানের চায়ারে বসে আছি। এরই মধ্যে দেখি দোকানের মালিক এক কর্মচারীকে বলছে ইফতারিতে কি কি আনতে হবে। এবং কোন দোকান থেকে কি আনবে তাও বলে দিচ্ছে।
জিজ্ঞাসা করলাম, তারা ইফতার নিয়মিত করে কিনা?
বলে প্রতিদিনি তারা ইফতার করে সবাই এক সাথে।
এমনকি তাঁতি বাজারের প্রতিটি দোকানেই নাকি ইফতার চলে পুরো রোজার মাস ধরে।
৬.১০ মিনিট। আমি এখনো কাজ শেষ হওয়ার জন্য বসে আছি। তাদের ইফতারের আয়োজন শেষ, কিন্তু অপেক্ষা করছে আজানের জন্য। আশ্চর্য হলাম, ইফতার করছে না হয় শখে, কিন্তু তাও আজানের অপেক্ষায় বসে আছে। বিষয়টা খুবই ভালো লাগলো।
দোকানের টিভিতে পাকিস্থান - ইংল্যন্ডের খেলা চলছে। দেখি পাকিস্থান ভালো কিছু করলেই তারা খুশি হচ্ছে। ইংল্যন্ডের উইকেট পড়লেই তারা আরো খুশি হচ্ছে।
বুঝলাম তারা পাকিস্থানের সাপোর্টার। কিন্তু আমাদের দেশে তো হিন্দু মানি মালাউন, ইন্ডিয়া বলা হয়। তবে তারা কেন পাকিস্থানের সাপোর্ট করছে?
বুঝলাম না বিষয়টা!!
এদিকে আমি নিজে রোজা রেখেছি, তাই আমার নিজের ইফতারের ব্যবস্থা করতে হবে। ইফতারের ১৫ মিনিট আগে আমার কাজ শেষ হয়ে গেল। আমি দাম পরিশোধ করে যেতে চাইলে তারা আমাকে যেতে দিল না। বলল তাদের সাথে ইফতার করে যেতে হবে। বেশ কয়েক বার না করার পরে মালিকের অনুরোধে শেষে তাদের সাথে ইফতার করতে বাধ্য হলাম।
রোজা ভাঙ্গা হলো তাদের দোকানের পানি পান করে।
আমার ইফতার হবে তাদের সাথে, আমি কখনো ভাবতেও পারি নি।
এরই নাম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। মুষ্টি কয়েক লোক যারা ব্যাক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এদেশে সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যের উস্কানি দেয়।
জাতিতে জাতিতে ঘটায় দাঙ্গা, ফেসাদ এবং রক্তপাত।
আমাদের সকলে মিলে এদের প্রতিহত করা উচিৎ।