MAK Parag's English Zone

MAK Parag's English Zone

Share

Learning & Teaching Language and Literature. Guiding and Motivating learners to learn English.

13/05/2026

I felt honoured.

22/04/2026

As a tutor[Past Memory].

09/04/2026

As a presenter.

05/04/2026
Photos from MAK Parag's English Zone's post 08/11/2025

CMA 2025

25/10/2025

শামসুর রাহমানের কাজলরেখা সিনড্রোম
-বদরুজ্জামান আলমগীর

রাজনীতি ক্ষেত্রেও এতোটা জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ পাওয়া কঠিন হবে, যতোটা কূটনৈতিক হিসাবনিকাশের ভিতর দিয়ে শামসুর রাহমানের নসিব নির্ধারিত হয়েছে।

তৃতীয় বিশ্ব নামে যে হরিজন রাষ্ট্রগুলো ছিল- তাদের ডাকনাম থাকুক, না থাকুক, তারা কিন্তু ইন রিয়াল লাইফ এখনও আছে। তো ওই দেশগুলোর কাঠামোর মধ্যে কিছু মায়াবী শঠতা আছে- ওখানে জনগণ নেতাদের কাছে তাদের নাগরিক অধিকার হিসাবে কিছু কার্যকর দেখতে চায় না, তারা বরং নেতৃত্বের কাছে দাক্ষিণ্য আশা করে, নানা উন্নয়ন প্রকল্পের আবদার জানায়।

লেখকদের কাছেও তারা মনন চায় না- চায় মনের খোরাকি, আশা করে নানা কায়দার আঁখিজল মিশানো প্রেমপত্র; প্রত্যাশা করে নিজের উপর প্রতিরক্ষার ছাউনি, প্রতিপক্ষের দিকে বজ্রপাত। কখনও কখনও আছে তীব্র জাতীয়তাবোধ, তার উপর দেশপ্রেমের জগদ্দল ভার।

নানা চড়াই-উতরাই, আগ-পিছ করে বলা যাবে- শামসুর রাহমান সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী কবি; পাকিস্তানি স্বৈরাচারে যাত্রারম্ভ, বাঙলাদেশের আভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারে তার খ্যাতি, জয়ময় ও বিস্তার। শামসুর রাহমানের সমপর্যায়ে দ্বিতীয় আরেকজন কবির নাম করা যাবে না- যিনি এই জনপদের প্রতিটি পাশ ফেরায়, উত্থানে, বাঁকে, মোড়ে বাতিওয়ালার দিগ্বলয়ে ঠাঁই নির্ঘুম জেগে আছেন!

কিন্তু পরিহাস এখানে যে, তাঁর মৃত্যুর ৪০দিনও পার হয়নি- বাঙলা কবিতার বহু নকশাকার, কবি, সমালোচকদের কাছ থেকে রাহমান নাই হয়ে যান। সাম্প্রতিক কবিতার অনেক সেলেব্রিটি স্টার কবি, উত্তরাধুনিক তাত্ত্বিকের মুখে আল মাহমুদের নাম শুনি, কিন্তু শামসুর রাহমানের কথা বললে বুঝি তাদের মারাত্মক শিল্পবোধের ওজু নষ্ট হয়ে যায়।

শামসুর রাহমান তাড়াহুড়ো করেছেন, একই কবিতা বারবার লিখেছেন- একথা সত্য, বাহুল্যও আছে লাগামহীন। কিন্তু তিনি এই ঝুঁকিটা নিচ্ছেন- যেখানে কবিতাটা পুরো জনপদ একসাথে বসে পড়া যায়। শামসুর রাহমানের দুর্ভাগ্য এখানেই। তিনি ডকু পোয়েটিকস করেছেন- এমন আর অন্য কবি-কে করতে দেখি না। এই ঝুঁকির মধ্যে একটি নজরুলীয় বিষয়ের মোলাকাত পাই। লেখার সৌকর্যই একমাত্র কথাটি নয়, কথাটি আরো ভিতরে, সময়ের দাবি অঙ্গীভূত করার একটি প্রত্যয় তাঁর কবিতায়, কেবল শামসুর রাহমানের কবিতায় সাক্ষাৎ পাই।

শামসুর রাহমানের যে কবিতার একটা স্বভাবজাত ক্ষমতা ছিল- তা কারো পক্ষেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। আধুনিক বাংলা কবিতার মধ্যে যে জটিলতার উচ্চাসন যুক্ত করা হয়েছিল- তারমধ্যে এক সহজাত, অনায়াস চালের জানালা খুলেছিলেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতার বইগুলোর যে অসাধারণ নাম- তার তুলনা দুনিয়ার অন্য কোন ভাষায় আছে বলে মনে হয় না।

তাঁর সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ ও তজ্জনিত মায়া অন্য আরেকজন কবির মধ্যে খুঁজে পাওয়া কার্যতই অসম্ভব। শামসুর রাহমান কেবল কাব্যবিশ্বাসের কবি নন, তিনি বাস্তবিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর বিশ্বাসটুকুর বাস্তবায়নও দেখতে চাইতেন। শামসুর রাহমানের সততা ও সফলতা এখানে, আবার কবিতার ডিসকোর্সে বিফলতার সূত্রও এখানেই জাগর।

শামসুর রাহমানের মুছে যাবার একটি বড় কারণ সামরিক স্বৈরাচার হটে যাবার পর গণতান্ত্রিক রাজনীতি সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চা না করা, গণতন্ত্রের নামে লাগাতার একক, বা পারিবারিক অমানবিক দলখোর রাজনৈতিক, সামাজিক প্রক্রিয়া চালু থাকার কুফল।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি সামরিক শাসনের উপর তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারেনি। স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ের অবিসংবাদিত বীর নূর হোসেন, তাজুল ইসলাম, সৈয়দ আমিনুল হুদা টিটো মর্যাদাপূর্ণ তকমায় গৃহীত হতে পারেননি। এটি পুরো জাতিগোষ্ঠীর ওঠানামা, প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে; কবি হিসাবে শামসুর রাহমানের গ্রহণ-বর্জনও একই অভিবাদনের জন্য অপেক্ষা করে। সামরিক স্বৈরাচারকে মানুষ অন্তত প্রাণ খুলে গালি দিতে পারতো, কিন্তু গণতন্ত্রের জমানায় তাদের বৈফল্যে অসন্তোষ জানিয়ে দেওয়ার অধিকারটুকুও খোয়া যায়।

আল মাহমুদ খুব ভালো কবি, কেউ কেউ তাঁকে পাথেয় করবেন, কিন্তু শামসুর রাহমান থেকে যাচ্ছেন সদ্য স্বাধীন জনপদের পথের দাবী হিসাবে। লোকজ বাঙলার আনাজপাতি, গান, গীতরঙ্গ পরম মমতায় উঠে আসবে বাঙলা কবিতার হৃদস্পন্দনে, একটা পূর্ব বঙ্গীয় বয়ান ধারা গড়ে উঠবে- এ আমাদের সবারই মনোবাঞ্ছা।

জনমিতির অঙ্কে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের আয়ু ও মরমিয়া কবিতায় উঠে আসবে, আসতেই হবে। কিন্তু তা বাঙালি ক্ষমাসুন্দর মুসলমানের জীবন ও দুনিয়া, তা কোনভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের শেখ সংস্কৃতি হতে পারে না।

এখানেই একটি শঙ্কা দানা বেঁধে ওঠে- কেবল কাব্যগুণের ঘাটতিই শামসুর রাহমান অগৃহীত থাকার সত্যিকার কারণ নয়, এখনকার কবিগণ, কাব্য ব্যাখ্যাকারগণ বাঙলাদেশ জনপদের প্রাণের মন্ত্রটির স্ফূরণ ঘটানোর ঝুঁকি নিতে বারবার পিছিয়ে থাকেন- আসল কারণ সেটি।

সারারাত প্রতি প্রহরে কুটেকুটে সুই তুলেছেন শামসুর রাহমান, কিন্তু রাজকুমার গ্যাছে অন্য কারো ঘরে।।

02/10/2025

রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।

প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।

আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”

মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”

তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?

না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”

আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।

শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"

যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"

এটাই হলো আসল শিক্ষা।

শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।

রাশিয়ায় অধ্যয়নরত এক ছাত্র এটি লিখেছে, নাম জানা নেই।

আপনিও এই লেখাটিকে শেয়ার করুন আপনার প্রিয় শিক্ষকের কাছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় একটা ক্ষুদ্র পরিবর্তন আসে।

ছবিটা আমার কন্যা লিরামণিরাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।

প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।

আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”

মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”

তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?

না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”

আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।

শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"

যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"

এটাই হলো আসল শিক্ষা।

শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।

রাশিয়ায় অধ্যয়নরত এক ছাত্র এটি লিখেছে, নাম জানা নেই।

আপনিও এই লেখাটিকে শেয়ার করুন আপনার প্রিয় শিক্ষকের কাছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় একটা ক্ষুদ্র পরিবর্তন আসে।

ছবিটা আমার কন্যা লিরামণিরাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।

প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।

আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”

মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”

তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?

না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”

আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।

শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"

যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"

এটাই হলো আসল শিক্ষা।

শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।

রাশিয়ায় অধ্যয়নরত এক ছাত্র এটি লিখেছে, নাম জানা নেই।

আপনিও এই লেখাটিকে শেয়ার করুন আপনার প্রিয় শিক্ষকের কাছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় একটা ক্ষুদ্র পরিবর্তন আসে।

ছবিটা আমার কন্যা লিরামণিরাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ধরা হয় ৫। আর আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো ছাত্র একটিও উত্তর না লিখে খাতা জমা দেয়, তবুও সে পায় ২।

প্রথমদিন মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি যখন এই নিয়ম জানলাম, তখন সত্যিই বিস্মিত হলাম। আমার কাছে মনে হলো, কেউ যদি কিছুই না লিখে, তার তো প্রাপ্য শূন্য হওয়া উচিত।

আমি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম ড. থিওদর মেদ্রায়েভকে, “স্যার, একজন ছাত্র কিছু না লিখে ২ পাবে, এটা কিভাবে যুক্তিযুক্ত?”

মেদ্রায়েভ হাসলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, “শূন্য মানে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, ততক্ষণ সে শূন্য কীভাবে হয়? ভেবে দেখো, একজন ছাত্র কত ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সকালে ক্লাসে আসে। হয়তো কনকনে শীতের মধ্যে সে ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসে, ট্রামে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছে। খালি খাতা জমা দিলেও সে ক্লাসে এসেছে, মানে চেষ্টা করেছে। এখন বলো, আমি কীভাবে তাকে শূন্য দিই?”

তিনি আরও বললেন, “ছাত্রটি হয়তো উত্তর লিখতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে তার সব প্রচেষ্টা বৃথা যাবে? সে যে রাত জেগে পড়াশোনা করেছে, নোটবুক কিনেছে, বই খুলে চেষ্টা করেছে, সেই শ্রম কি আমরা অবহেলা করবো?

না বাবা, মানুষ শূন্য নয়। শূন্য দিলে আমরা তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেবো, তার ভেতরের আগুন নিভিয়ে দেবো। আর আমরা শিক্ষক হিসেবে চাই, ছাত্র যেন বারবার উঠে দাঁড়াতে পারে, হেরে না যায়।”

আমি নির্বাক হয়ে শুনছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠল। বুঝলাম, শিক্ষা মানে শুধু নম্বর বা খাতার উত্তর নয়, শিক্ষা মানে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা, তার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মেদ্রায়েভ সেদিন আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শিখিয়েছিলেন— শিক্ষা শুধু জ্ঞান বিতরণ নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতার চর্চা।

শূন্য নম্বর অনেক সময় ছাত্রদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় শূন্য দেখে তারা ভয় পায়, আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। অথচ একজন শিক্ষকের দায়িত্ব হলো ছাত্রকে উত্সাহিত করা, তাকে বোঝানো— "তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।"

যখন আমরা একটি খালি খাতার জন্যও ন্যূনতম নম্বর দিই, তখন আমরা আসলে বলি— "তুমি শূন্য নও, তুমি এখনও যোগ্য। তুমি ব্যর্থ হওনি, শুধু সফল হতে পারোনি। আবার চেষ্টা করো।"

এটাই হলো আসল শিক্ষা।

শিক্ষকের হাতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষকেরা যদি একটু মানবিক হন, যদি নম্বরের বাইরেও ছাত্রদের প্রচেষ্টা দেখতে শেখেন, তবে অনেক হতাশ ছাত্র হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু রাশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের শিক্ষকদের শোনানো উচিত। কারণ শূন্য নম্বর কখনো শিক্ষা নয়, শূন্য নম্বর মানে কাউকে শেষ করে দেওয়া। মানুষ যতক্ষণ চেষ্টা করছে, তার প্রাপ্য অন্তত একটি আশ্বাস, একটি স্বীকৃতি।
(C)
রাশিয়ায় অধ্যয়নরত এক ছাত্র ।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

Dhaka
1216