05/02/2024
#টপিক: বাংলাদেশ কেন ব্রিকসের সদস্যপদ পেল না?
ব্রিকসের ১৫তম সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ব্রিকসের নতুন সদস্য ৬টি দেশের নাম ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হচ্ছে -আর্জেন্টিনা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
👉 এই দেশগুলোর সদস্যপদ ২০২৪ এর ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
👉 বর্তমান মোট সদস্য - ১১ টি।
👉 সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়- ২৪ আগস্ট ২০২৩।
ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, ৪০টিরও বেশি দেশ ব্রিকসে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং ২৩টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আবেদন করেছিল। নতুন ৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই। ব্রিকসের ১৫ তম বৈঠকে জোটটির সাথে বাংলাদেশের যুক্ত না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। নিচে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো-
১। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের কোনো ফোরাম বা জোটে যোগ দিতে শুধু আবেদন করে বসে থাকলেই সদস্যপদ পাওয়ার আশাটা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছুই নয়। কারণ, কোনো জোটে যোগ দিতে হলে সদস্য দেশগুলোর নতুন কোনো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়। ফলে ওই সব দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সেসব দেশে বিশেষ দূত পাঠানোর মতো প্রয়াস চালাতে হয়। জুনে ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করা ছাড়া এসব কিছুই বাংলাদেশ করেনি।
২। অন্য একটি সূত্রের দাবি, ব্রিকসের নতুন সদস্যপদের মানদণ্ড কী হবে, সেটা নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি আছে। এমন তথ্য জানার পর বাংলাদেশও ব্রিকসের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হাল ছেড়ে দিয়েছিল। নতুন করে ছয় দেশকে ব্রিকসে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের নতুন সদস্যপদের মানদণ্ড সম্পর্কে বাংলাদেশ যথাযথভাবে অবহিত ছিল না কিংবা অবহিত হওয়ার চেষ্টা করেনি।
(প্রথম আলো, ২৫ আগস্ট ২০২৩)
৩। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, প্রথমত ব্রিকসে যাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার মধ্যে সবগুলো দেশই অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে অগ্রসরমান দেশ এবং এদের সবার অর্থনৈতিক অবস্থাই বাংলাদেশের তুলনায় ভাল।
“আমরা তো এখনো এলডিসিভূক্ত দেশ হিসেবেই আছি। আর ব্রিকসে যারা আছে তাদের লেভেলটা তো আরেকটু উপরে।”
৪। “দ্বিতীয় কারণ হতে পারে যে আমরা সাম্প্রতিক কালে আগ্রহ দেখিয়েছি। কাজেই আগ্রহ দেখানো এবং তার জন্য মোবিলাইজেশন যেটা দরকার সেটা কতটুকু হয়েছিল সেটা ব্যাপার। আর আমার ধারণা সে কারণেই বিষয়টা হয়তো বিবেচনায় আসে নাই,”
৫। "কোন সূচকের ভিত্তিতে নতুন সদস্য নেয়া হবে কি-না কিংবা কীভাবে গ্রহণ করা হবে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অর্থনীতির আকার ও জাতীয় মাথাপিছু আয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই বলা যায় নতুন সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ঐক্যমত না থাকলে একটি মাপকাঠি ছিলো,"
(বিবিসি বাংলা, ২৪ আগস্ট '২৩)