04/07/2024
প্রতি রাকাতে ১ লক্ষ রাকাতের সওয়াব। এই অধমদের কে বার বার কবুল করো, আল্লাহহুম্মা আমিন।
আইডিসি (ইংলিশ মিডিয়াম) মাদরাসা ইংরজি ও এরাবিক, মিডিয়ামে পরিচালিত একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ।
04/07/2024
প্রতি রাকাতে ১ লক্ষ রাকাতের সওয়াব। এই অধমদের কে বার বার কবুল করো, আল্লাহহুম্মা আমিন।
03/06/2024
সব স্ত্রী আপনার জীবনের জন্য নেয়ামত না। শুধুমাত্র নেককার স্ত্রী আপনার জন্য নেয়ামত। অনেক বড় নেয়ামত। আল্লাহর রাসূল (সা.)-তো নেককার স্ত্রীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদই বলেছেন। আলহামদুলিল্লাহ!
নেককার স্ত্রী মানে আবার শুধু হাত-পা মোজা পরা, অনলাইনে কোর্স করতে করতে ইলমের শেষ দরজায় চলে যাওয়া স্ত্রী না। নেককার স্ত্রী মানে স্বামীর প্রতিটি মূহুর্তের সুখ-দুঃখের বিষয় খেয়াল রাখাকে ফ-র-জ করে নিয়েছে। সে মনে রাখেছে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর বলা সে বিষয়টি, আমি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজ-দাহ্ করার হুকুম থাকলে প্রত্যেক নারীকে বলতাম তার স্বামীকে সিজ-দাহ্ করতে। এখানে বিষয়টি দিয়ে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্যকে তুলে ধরে এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংসার জীবনে প্রত্যেক স্বামীই প্রেমময়ী স্ত্রী চাই, তার প্রতি যত্নশীল স্ত্রী চাই, তার প্রতি অনুগত, শ্রদ্ধাশীল, আমানতদার এমন স্ত্রী চাই। তবে পুরুষ মানুষ মাত্রই স্ত্রীর কাছে একটা খোলা কিতাব আর স্ত্রীর প্রতি অনেক বেশি দুর্বল হয়। পৃথিবীর খুব কম পুরুষ মানুষকে আপনি খুঁজে পাবেন যে তার স্ত্রীকে খুশি করতে চাই না। বিনিময়ে হয়তো পুরুষ যত্ন চাই, ভালবাসা চাই, তার কষ্টের মূহুর্তগুলোতে স্ত্রীর কাছে সাপোর্ট চাই। আর যুগে যুগে আম্মাজান খাদিজা (রা.)-এর মতো পবিত্র নারীদের অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করে আসে, তাদের জন্য দোয়া করে আর চাই তাদের স্ত্রীরা আম্মাজান খাদিজা (রা.)-এর আদর্শ ধারণ করে এমন চাই।
আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নবুয়্যত প্রাপ্তির সময়ে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর প্রতি আম্মাজান এর কেয়ার, আগলে রাখার মানসিক, সাপোর্টিভ মানসিকতা কা~★~র হতে মুসলিম সকলকেই আলোড়িত করতে বাধ্য। কতই না উত্তম। আমাদের পক্ষে হয়তো হবহু উনাদের মতো হওয়া সম্ভব না কিন্তু উনাদের আদর্শ ধারণ করা সম্ভব। আমরা উনাদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়।
এক ভাই ‘প্রিয়তমা’-বই পড়ার পর বলেছিলেন আমি আমার ১ম স্ত্রীর মধ্যে আম্মাজান খাদিজা (রা.)-এর গুণ গুলো দেখতে পাই আর ছোট স্ত্রীর মধ্যে আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর গুণগুলো। আল্লাহু আকবর! তিনি নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। আল্লাহ তাদের কবুল করুন।
আল্লাহ আমাদের আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আদর্শ পরিপূর্ণভাবে ধারণ করার তাওফিক দিন আর আমাদেরকেও উম্মাহর পূণ্যবান নারীদের মতো নেককার আর পবিত্র রমণী দান করুন!
~ সাদাউদ জামান চয়ন!
15/04/2024
শিক্ষায় ১৩৭ টা দেশের মধ্যে ১২৪ তম
ফুটবলে ২০৪ টা দেশের মধ্যে ১৯২ তম
বিশ্বের অবাসযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকা ২য়
দুর্নীতিতে ২০৪ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭ম
স্বাস্থ্যসেবায় ১৬৭ টা দেশের মধ্যে ১০৬ তম
সুখী দেশের তালিকায় ১৩৭ দেশের মধ্যে ১১৮ তম
আর কলাবিজ্ঞানীরা এসেছে ৯০০০ লিটার রং ব্যবহার করে আল্পনা এঁকে রেকর্ড গড়তে!
দেশ গোল্লায় যাক, তোরা চেতনা আর সংস্কৃতি চর্চা কর!
14/04/2024
ইসলামে সবচাইতে ছোট দুয়া হলো 'আলহামদুলিল্লাহ্' বলা (বলতে কম সময় লাগে বিধায় ছোট বলেছি কিন্তু আসলে এটা খুব বড় একটি দুয়া)। আরো বিভিন্ন দুয়া আছে। খেয়াল করলে দেখবেন, সকল দুয়াতে আল্লাহ/রবের নাম আছে (রব্বানা, রব্বি, আল্লাহুম্মা)। টয়লেটে ঢুকার দুয়াই হোক, ঘুমের দুয়াই হোক, ঘুম থেকে উঠার দুয়াই হোক, সন্তান লাভের দুয়া হোক, রিজিক বৃদ্ধির দুয়া দুয়াই হোক, রোগ থেকে সুস্থ হবার দুয়াই হোক - কোনো দুয়া আল্লাহ বা রবের নামা ছাড়া নাই। সামান্য একটা হাঁচি দিলেও আমরা আল্লাহর প্রসংশা করি।
এমন কি আমরা 'ভালো থেকো' এই কথাটাও বলি না। বরং আমরা বলি "আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন।" এমনিতে 'ধন্যবাদ' বলতে দোষ নাই কিন্তু যেই কারণে সকলে 'ধন্যবাদ' বলে তার বদলে আমরা বলি, "আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন (উক্ত ফেভারের বিনিময়ে)।"
সেই হিসাবে 'এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...' এই গানের পরবর্তি লাইনগুলিতে বৈশাখ মাসের কাছে যা কিছু চাওয়া হয়েছে - তা কি ধরনের চাওয়া? কার কাছে চাওয়া? কে দেবে ওগুলি? গানের কথাগুলি নিয়ে কি কখনই চিন্তা করেছেন? আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, প্লীজ এগুলি নিয়ে চিন্তা করবেন। আল্লাহ চিন্তাশীলদের পছন্দ করেন। ভাই বোনেরা, ইসলামে এমন কোনো দুয়া নাই যেখানে মুহাম্মদ ﷺ এর কাছে কিছু চাওয়া হয়। বরং আমরা এখনও মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দুয়া করি প্রতিটি সলাতে। সেখানে বৈশাখ মাসের সৃষ্টিকর্তার কাছে না চেয়ে বৈশাখ মাসের কাছে চাওয়া হয় কোন হিসাবে?
১. ❝হে আমার রব, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের কষ্ট দুর করে দিন। আমাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। অতি বৃষ্টি অনা বৃষ্টি হতে রক্ষা করুন। আমাদের সম্পদে, সময়ে, সম্পর্কে বরকত দান করুন। আপনার রহমত বর্ষণ করুন আমাদের উপর।❞
২. ❝জীর্ণ পুরাতন আবর্জনা যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি। নুতন বছর হয়ে যায় সমৃদ্ধির বছর, সফলতার বছর। নতুন বছর বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি।❞
উভয় দুয়া আর প্রার্থনার ভেতর রয়েছে আকাশ পাতাল পার্থক্য! আর প্রথমটা কতোই না উত্তম!
হক গ্রহণের পথে সবচে বড় বাধা দলান্ধতা। আল্লাহ বলেন, 'চোখ অন্ধ হয় না; অন্ধ হয় বক্ষস্থিত অন্তর।'
কুরআন এটাও জানিয়েছে, 'আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিতে চান, ইসলামের জন্য তার বক্ষকে উন্মোচিত করে দেন। আর যাকে বিপথগামী করতে চান, তার অন্তরকে করেন চরম সংকীর্ণ।'
আরও এসেছে, 'আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষকে উন্মোচিত করেছেন, সে তার রবের পক্ষ থেকে নুরের ওপর রয়েছে।'
এই যুগে অনেক দলেরই বৈশিষ্ট্য হলো, 'প্রত্যেক দল নিজের যা রয়েছে, তা নিয়েই মহা খুশি।' এই খুশি মূলত দাম্ভিকতা। আর অহংকারের সংজ্ঞাই রাসুলুল্লাহ ﷺ দিয়েছেন, 'হক প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।'
28/12/2023
হারাম উপার্জন ছাড়া এখন যেন বেঁচে থাকাই দায় আর কিছু ভালো থাকতে গেলে হালাল উপার্জনে যথেষ্ট থাকার যেন উপায়ই নাই!
দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়া, বিত্ত দিয়ে সম্মানের পরিমাপ আর বাহুর জোরে প্রতিপত্তি আদায়ের প্রতিযোগিতার এই সময়ে একটা অবস্থান তৈরি করতে এই হারামের পথেই ছুটতে হচ্ছে।
হারাম উপার্জন মানে সুদ খাওয়া, হারাম উপার্জন মানে ব্যাংকে জব করা, হারাম উপার্জন মানে জবরদস্তি করে কারো সম্পত্তি থেকে এক হাত অতিরিক্ত নিয়ে নেয়া, হারাম উপার্জন মানে বীমা কোম্পানিতে চাকরী করা, হারাম উপার্জন মানে জন্ম নিয়ন্ত্রণ/পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চাকরি করা, হারাম উপার্জন মানে ব্যাংক থেকে ইন্টারেস্ট নেয়া এবং তা খাওয়া। আর কত বলবো?? এগুলো তো সরাসরি হারাম উপার্জন।
আবার কিছু উপার্জন আছে, টাকাটা হালাল হলেও উপায়টা হারাম। যেমন, মিথ্যা বলে ব্যবসা করা, সিন্ডিকেট তৈরি করা, হারাম উপায়ে দ্বীনী/সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা, সহাবস্থানের পরিবেশে ও পর্দা রক্ষা না করে মেয়েদের অপ্রয়োজনে ও শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের জন্য চাকুরি করা ইত্যাদি ইত্যাদি....।
আরও অনেক আছে। একটু নিজেদের দিকে তাকালে, আশেপাশের মানুষের পেশা ও কাজের পদ্ধতির দিকে নজর দিলেই বুঝা যায়, কোন না কোন ভাবে শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে অপছন্দনীয় বিষয়ের সাথে জড়িত কম-বেশি সবাই। আর দ্বীনী কাজে ইখলাস, স্বচ্ছতা আর সততার কথা না হয় বাদই দিলাম।
অথচ এটা পরীক্ষার যামানা। ঈমান রক্ষায় অঙ্গার হাতে নিয়ে হজম করার যামানা। হালালের পথ কঠিন হয়ে অল্পে তুষ্ট থাকার দৃঢ় পরীক্ষার দেয়ার যামানা। আমরা জানি, আমরা ভুলি নি; আমরা বুঝি, অজ্ঞ নই। এরপরও পারি না। যেন নফসের সাথে লড়াইয়ের আগেই হেরে বসে আছি।
অথচ উপার্জন হারাম মানে এ টাকায় কেনা খাবারটা হারাম, পরনের কাপড়টা হারাম, ব্যবহারের বিছানার চাদরটা হারাম, কেনা পাতিলটা হারাম, প্রিয়জনকে দেয়া গিফটটা হারাম - আপাদমস্তক হারামে মোড়ানো একটা মানুষ, যার ব্যাপারে হাদীসে এসেছে - এ শরীর কখনো জান্নাতে যাবে না!
যে দুনিয়ায় সামান্য ভালো থাকার জন্য আমরা জান্নাত বিসর্জন দিচ্ছি, যে দুনিয়ার সম্মানের জন্য জান্নাতকে বিক্রি করে দিচ্ছি - সে দুনিয়ার মূল্য মাছির একটা পালকের সমানও নয়। আমার তবে কী মূল্য?!!
টাকা, 'ফুটানি' আর চাহিদার লাগাম টানা এই সময়ে এসে এক রকম আবশ্যক হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদের জন্য আসান করে দেন, আসান করে দেন।
30/09/2023
যুবকদের প্রতি ৭৫টি নসিহত:
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি বলেন,
وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُواْ اللّهَ
“তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে আমি নসিহত করেছি এবং তোমাদেরকেও নসিহত করছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর।” [সূরা নিসা: ১৩১]
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ও রসূল মুহাম্মদের উপর। যিনি বলেন,
أُوصيكم بتقوى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ والسمعِ والطاعةِ
“আমি তোমাদেরকে নসিহত করছি আল্লাহ ভীতির জন্য (মুসলিম শাসকদের) কথা শোনা ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য।” [আবু দাউদ, তিরমিজি-সহিহ]
তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি হল, তাঁর আদেশ মেনে চলা এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকা। তাকওয়াই হল দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি।
নিম্নে কতিপয় মূল্যবান ইসলামি নসিহত সন্নিবেশিত করা হল। নসিহতগুলো দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন: ইবাদত-বন্দেগি, লেনদেন, আদব-শিষ্টাচার, চরিত্র ও আচার-ব্যবহার ইত্যাদি। যে মুসলিম যুবক প্রয়োজনীয় ও উপকারী বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, আমরা সে যুবকের প্রতি তার স্মরণের উদ্দেশ্যে এ নসিহতগুলো পেশ করছি। আর স্মরণ মুমিনদের উপকারে আসবে। আমরা আল্লাহর দরবারে আশা রাখি, যে ব্যক্তি এগুলো শুনবে বা পাঠ করবে আল্লাহ তাকে উপকৃত করুন। যে ব্যক্তি এগুলো লিখবে বা প্রচার করবে বা আমল করবে তাকে সুমহান প্রতিদান ও পুরস্কারে ভূষিত করুন। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্ম সম্পাদনকারী।
নসিহতগুলো নিম্নরূপ:
১. আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে নিয়তকে পরিশুদ্ধ করবে। কথায় ও কাজে মানুষের প্রশংসা পাওয়া কিংবা দুনিয়ার কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রিয়া (প্রদর্শনেচ্ছা) পরিত্যাগ করবে।
২. যাবতীয় কথা, কাজ ও আচার-আচরণে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করবে।
৩. আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে এবং তার যাবতীয় নির্দেশ পালন এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবে।
৪. আল্লাহর নিকট খাঁটি ভাবে তওবা করবে এবং অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার (আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) করবে।
৫. তোমার কথা ও কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সূক্ষ্ম দৃষ্টির কথা স্মরণ রাখবে। জেনে রাখবে যে, আল্লাহ তোমাকে দেখেন এবং তোমার হৃদয়ের গোপন খবরও তিনি জানেন।
৬. আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, নবী-রসূলগণের প্রতি এবং শেষ দিবস ও তকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি দৃঢ়ভাবে ঈমান পোষণ করবে।
৭. প্রমাণ ছাড়া কারও অন্ধ অনুকরণ করবে না। হীন চাটুকার বা তোষামোদ কারী হবে না।
৮. ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করবে।
৯. রিয়াযুস সালেহীন কিতাবটি সংগ্রহ করবে। নিজে পড়বে পরিবারের অন্যদেরকেও পড়ে শোনাবে। ইমাম ইবনুল কাইয়েমের যাদুল মাআদ গ্রন্থটিও সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে। (কিতাব দুটি বাংলায় পাওয়া যায়।)
১০. প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল নাপাকি থেকে সর্বদা পবিত্র থাকবে।
১১. জামাতের সাথে মসজিদে গিয়ে প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করতে সচেষ্ট থাকবে। বিশেষ করে ইশা ও ফজর সালাত। (মহিলারা বাড়িতে প্রথম রক্তে সালাত আদায় করবে)
১২. দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য পরিত্যাগ করবে। যেমন: কাঁচা পিয়াজ, কাঁচা রসূন ইত্যাদি এবং ধূমপানের মাধ্যমে নিজেকে এবং মুসলিমদেরকে কষ্ট দিবে না।
১৩. জামাতের বিশেষ ফজিলত হাসিলের লক্ষ্যে সর্বদা জামাতে সালাত আদায় করবে।
১৪. ফরজ জাকাত আদায় করবে। জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে হকদারদের ব্যাপারে কৃপণতা করবে না।
১৫. আগে ভাগে জুমার নামাজে যাওয়ার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয় আজানের পর মসজিদে আসার অভ্যাস পরিত্যাগ করবে।
১৬. ঈমানের সাথে আল্লাহর নিকট প্রতিদান পাওয়ার আশায় রমজানের রোজা পালন করবে। এর মাধ্যমে তোমার পূর্বাপর যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
১৭. শরিয়ত সম্মত কোন ওজর ব্যতীত রমজান মাসের কোন একটি রোজাও পরিত্যাগ করবে না। অন্যথায় গুনাহগার হয়ে যাবে।
১৮. রমজানের রাতগুলোতে কিয়াম করবে বিশেষ করে লায়লাতুল কদরে ঈমানের সাথে ও প্রতিদানের আশায় কিয়াম (রাত জেগে সালাত আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ইবাদত-বন্দেগি) করবে। যাতে করে তোমার পূর্বকৃত পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
১৯. যদি সামর্থ্য বান হয়ে থাক তবে দ্রুত হজ-ওমরার উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর দিকে সফর কর। দেরি করার ব্যাপারে সতর্ক হও।
২০. পবিত্র কুরআন অর্থসহ পড়ার চেষ্টা করবে। কুরআনের আদেশ পালন করবে এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকবে। যাতে করে প্রভুর দরবারে কুরআন তোমার পক্ষে দলিল হয় এবং কিয়ামতের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করে।
২১. সর্বদা আল্লাহ তাআলার জিকিরে মশগুল থাকবে-প্রকাশ্যে-গোপনে, দাঁড়ানো, বসা ও শোয়াবস্থায়-সর্বদাই। আল্লাহর জিকির থেকে কখনো গাফেল হবে না।
২২. জিকিরের মজলিসে (ইলমি অনুষ্ঠানে) বসবে। কেননা এ ধরণের মজলিস জান্নাতের বাগান।
২৩. হারাম এবং গোপন বিষয় দেখা থেকে তোমার দৃষ্টিকে নত রাখবে। সেদিকে দৃষ্টিপাত থেকে সর্বদা সাবধান থাকবে। কেননা নিষিদ্ধ দৃষ্টি হল, শয়তানের পক্ষ থেকে একটি বিষাক্ত তীর।
২৪. টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে কাপড় পরবে না এবং চলাফেরায় কখনো অহংকারী ভাব প্রকাশ করবে না।
২৫. রেশমের কাপড় বা স্বর্ণের কোন কিছু পরিধান করবে না। এগুলো পুরুষদের জন্য হারাম।
২৬. মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে না। আর তোমার পরিবারের কোন মহিলাকেও পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে দেবে না।
২৭. দাড়ি ছেড়ে দাও। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমার গোঁফ কাট এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।” [বুখারী ও মুসলিম]
২৮. হালাল ছাড়া অন্য কিছু ভক্ষণ করবে না এবং হালাল ব্যতীত অন্য কিছু পান করবে না। তাহলে তোমার দুআ কবুল হবে।
২৯. পানাহারের সময় বিসমিল্লাহ্ (আল্লাহর নামে শুরু) বলবে। শেষ করলে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলবে।
৩০. ডান হাতে পানাহার করবে। লেনদেনের ক্ষেত্রে ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং ডান হাতেই প্রদান করবে।
৩১. কারো প্রতি জুলুম করবে না। কেননা কিয়ামত দিবসে জুলুম অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে।
৩২. মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে সাথী হিসেবে গ্রহণ করবে না। আর তোমার খাবার যেন ভালো মানুষ ব্যতীত অন্য কেউ না খায়।
৩৩. সাবধান! ঘুষ খাবে না। নিবেও না দিবেও না এবং এ ব্যাপারে মধ্যস্থতাও করবে না। কেননা এরূপ যে করে সে অভিশপ্ত।
৩৪. আল্লাহকে নাখোশ করে মানুষের সন্তুষ্টি চেও না। কেননা আল্লাহ তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
৩৫. শরিয়ত সম্মত প্রতিটি বিষয়ে ওলিউল আমর তথা মুসলিম শাসকের আনুগত্য করবে এবং তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবে।
৩৬. সাবধান! কখনো মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না। আর সত্য সাক্ষ্যও গোপন করবে না। “যে ব্যক্তি তা গোপন করবে তার অন্তর পাপী। আর তোমাদের আমল সম্পর্কে আল্লাহ পরিজ্ঞাত।” [সূরা বাকারা: ২৮৩]
৩৭. “সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর এক্ষেত্রে বিপদের সম্মুখীন হলে ধৈর্য ধারণ করবে।” [সূরা লোকমান: ১৭]
আল্লাহ এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা আদেশ করেছেন তাই সৎকাজ এবং তাঁরা যা নিষেধ করেছেন তাই অসৎকাজ।
৩৮. ছোট-বড় সব ধরণের হারাম কাজ পরিত্যাগ কর। কখনো আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করবে না। এক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতাও করবে না।
৩৯. কোন ভাল কাজকেই ছোট মনে করবে না। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক কোন বস্তু পরিত্যাগ করাটাও একটা ঈমানি কাজ। লজ্জাবোধ ঈমানের অংশ।
৪০. ব্যভিচারের নিকটবর্তী হবে না। আল্লাহ বলেন, ”তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। কেননা তা অশ্লীলতা এবং খুবই নিকৃষ্ট কাজ।” [সুরা বানী ইসরাইল: ৩২]
৪১. পিতামাতার সাথে সদাচার করবে। সাবধান! তাদের কথা অমান্য করবে না যদি না তারা ইসলাম বিরোধী নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু তারা যদি ইসলাম বিরোধী কাজের নির্দেশ দেয় তবে সে অবস্থায়ও ভদ্রতা বজায় রেখে তাদের সে নির্দেশ পালন থেকে বিরত থাকবে।
৪২. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের ব্যাপারে সাবধান হবে।
৪৩. প্রতিবেশীর সাথে ভাল ব্যবহার করবে। তাকে কষ্ট দিবে না। সে কষ্ট দিলেও তাতে ধৈর্য ধারণ করবে।
৪৪. সৎ ব্যক্তি এবং ঈমানি ভাইদের সাথে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করবে।
৪৫. শুধুমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই কাউকে ভালোবাসবে। আল্লাহর উদ্দেশ্যেই কাউকে ঘৃণা করবে। কেননা এটা হল, ঈমানের সর্বাধিক মজবুত হাতল।
৪৬. সৎ ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করবে। অসৎ সঙ্গ পরিত্যাগ করবে।
৪৭. কোন মুসলিমকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখলে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবে এবং তাদেরকে আনন্দিত রাখার চেষ্টা করবে।
৪৮. নম্রতা, ধীর স্থিরতা এবং ধৈর্যাবলম্বন করবে। তাড়াহুড়া পরিত্যাগ করবে।
৪৯. অন্যের কথার মাঝে বাধা সৃষ্টি করবে না। সুন্দরভাবে তা শোনার চেষ্টা করবে।
৫০. জানা-অজানা সকল মুসলিম ভাইকে সালাম দিবে।
৫১. সুন্নতি সালাম দিবে। বলবে, "আসসালামু ওয়া আলাইকুম।" হাত বা মাথা দিয়ে ইশারা করাকেই যথেষ্ট মনে করবে না।
৫২. কাউকে গালিগালাজ করবে না। খারাপ ভাবে কারো বর্ণনা দিবে না।
৫৩. কাউকে অভিশাপ দেবে না। এমনকি তা যদি চতুষ্পদ জন্তু বা কোন জড় বস্তুও হয়।
৫৪. কোন মানুষের ইজ্জতে কোন প্রকার অপবাদ দিবে না বা তার কুৎসা রটনা করবে না। কেননা এরূপ করা কবিরা গুনাহ।
৫৫. চুগলখোরি করবে না। অর্থাৎ ফ্যাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনকে বলবে না।
৫৬. গিবত করবে না। (গিবত হল, তোমার মুসলিম ভাইয়ের দোষের কথা তার অসাক্ষাতে অন্যের কাছে বলা)।
৫৭. কোন মুসলিমকে ভয় দেখাবে না এবং তাকে কোন প্রকার কষ্ট দিবে না।
৫৮. মানুষের মাঝে সমঝোতা করার চেষ্টা করবে। কেননা এটা হল, একটি উত্তম আমল।
৫৯. কথা নিয়ন্ত্রণ করবে করবে। ভাল কথা বা কাজের কথা বলবে, অন্যথায় চুপ থাকবে।
৬০. সত্যবাদী হও মিথ্যা পরিত্যাগ কর। কেননা মিথ্যা পাপ কাজের রাস্তা দেখায় আর পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়।
৬১. দুমুখো হয়ো না। একই বিষয়ে এদের কাছে এক কথা অন্যদের কাছে আর এক কথা বলবে না।
৬২. আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করবে না। আর সত্য বিষয় হলেও বেশি বেশি কসম করার অভ্যাস করবে না।
৬৩. কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে না। কেননা তাকওয়ার মানদণ্ড ছাড়া কারো উপর কারো প্রাধান্য নেই।
৬৪. কোন জ্যোতির্বিদ, গণক বা জাদুকরের কাছে যাবে না। তাদের কোন কথা বিশ্বাস করবে না। এতে ঈমানের ক্ষতি হয়।
৬৫. কোন মানুষ বা প্রাণীর চিত্রাঙ্কন করবে না। কেননা কিয়ামত দিবসে চিত্রকরদেরকে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
৬৬. তোমার বাড়িতে কোন প্রাণীর ছবি রাখবে না। কেননা এতে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
৬৭. কেউ হাঁচি দেওয়ার পর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বললে তার জবাবে ইয়ারহামু কাল্লাহ (আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) বলবে।
৬৮. কোন ক্রমেই তাবিজ-কবজ, তাগা ইত্যাদি ব্যবহার করবে না। এগুলো ব্যবহার করা শিরক।
৬৯. প্রতিটি পাপকাজের জন্য অনতিবিলম্বে তওবা করবে। খারাপ কাজ হয়ে গেলেই ভাল কাজ করবে, যাতে উক্ত পাপ মোচন হয়ে যায়। এরূপ বলবে না যে, অচিরেই তওবা করব।
৭০. আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও করুণার আশাবাদী হও। আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখ।
৭১. আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত থাক। তার শাস্তির ব্যাপারে নিজেকে নিরাপদ ভেবো না।
৭২. বিপদাপদে ধৈর্য ধারণকারী হও এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
৭৩. অধিক পরিমাণে সৎকাজ করবে। যাতে করে মৃত্যুর পরেও তার সওয়াব অব্যহত থাকে। যেমন: মসজিদ তৈরি করা, ইসলামি জ্ঞানের প্রচার ও প্রসার করা।
৭৪. আল্লাহর কাছে জান্নাত পাওয়ার প্রার্থনা করবে এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় কামনা করবে।
৭৫. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অধিকহারে দরূদ পাঠ করবে।
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবিদের প্রতি অবিরাম ধারায় রহমত ও শান্তি নাজিল করুন। আমিন।
75 وصيّة للشباب
إعداد: دار القاسم
অনুবাদ: মুহা. আবদুল্লাহ্ আল কাফী বিন আব্দুল জলীল রাহ.
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব
28/01/2023
খাবার দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে মেরো না। 🙂
আমি কারো বাপের টা খাইনা" আমি আমার রবের টা খাই, আলহামদুলিল্লাহ।
ইয়েমেনের একজন আলেমের কাছে কয়েকজন ফুটবলার জিজ্ঞেস করলো, "উস্তাদ, শুনলাম ফুটবল খেলা নাকি হারাম। আসলেই কি তাই?"
ইয়েমেনের সেই আলেমের নাম হাবিব উমর বিন হাফিজ (হাফিজাহুল্লাহ)। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধর। তিনি দারুল মোস্তফা ইসলামিক সেমিনারের ডিন। ২০১৯ সালে বিশ্বের ৫০০ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় হাবিব উমর বিন হাফিজ ছিলেন অষ্টম।
ফুটবলারদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "তোমাদেরকে কে বলেছে ফুটবল খেলা হারাম?"
সরাসরি উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন। কারণ, বাই ডিফল্ট ফুটবল খেলা তো হারাম না। পাড়ার মাঠে, স্কুলের মাঠে যে ফুটবল খেলা হয়, এই খেলাটা তো হারাম না। বরং খেলার সাথে যেসব অনুসঙ্গ যুক্ত হয়, সেগুলোর কারণে এটা হারাম। যেমন: হাফপ্যান্ট পরে সতর খোলা রাখা।
একটি হালাল খাবারের সাথে হারাম মেশানো হলে ঐ হালাল খাবারটি হারাম হতে পারে। তাই বলে, হালাল খাবার (যেমন দুধ) ইটসেল্ফ তো হারাম না।
হাবিব উমর বিন হাফিজ বললেন, "তোমরা কোথায় ফুটবল খেলো? আমাকে জানাও তো। আমি আগামীকাল থেকে তোমাদের খেলা দেখতে যাবো।"
আলেমের কথা শুনে ফুটবলাররা বেশ অবাক। এরকম কথা তারা কখনো শুনেনি। এতো বড়ো একজন স্কলার তাদের খেলা দেখতে চাচ্ছেন, এটা শুনে তারা একটু বিব্রত হলো। তারা তাদের লোকেশন দিলো।
পরদিন বিকেলবেলা যুবকরা যখন মাঠে খেলতে গেলো, দেখতে পেলো সেই আলেম তাদের খেলা দেখতে এসেছেন। গ্যালারিতে বসে তিনি খেলা দেখছেন। এভাবে প্রতিদিন তিনি যুবকদের খেলা দেখতে যান।
একসময় যুবকরা একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে চায়। কিন্তু, টুর্নামেন্টের পুরস্কার দেবার জন্য ডোনার খুঁজে পাচ্ছিলো না। আল্লামা হাবিব উমর বিন হাফিজ বললেন, "তোমরা পুরস্কারের ব্যাপারে চিন্তা করো না। আমি তোমাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করবো।"
যুবকরা নিজের চোখ-কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না। একজন আলেম তাদেরকে ফুটবল খেলার পুরস্কার দিবেন?
ফাইনালের আগের দিন হাবিব উমর বিন হাফিজ জানালেন, তিনি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে থাকবেন। তবে, ফুটবলারদেরকে একটি অনুরোধ জানালেন।
ফুটবলারদেরকে তিনি এতো সহযোগিতা করেছেন, তারা তার যেকোনো অনুরোধ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলো।
হাবিব উমর বিন হাফিজ বললেন, "আগামীকাল তোমাদেরকে ট্রাউজার পরে খেলতে হবে। কারণ, পুরুষের সতর ঢেকে রাখা ফরজ। থ্রি-কোয়ার্টার পরে খুব ভালোভাবে ফুটবল খেলতে পারবে। পারবে না তোমরা?"
যুবকরা সবাই একবাক্যে রাজি। তারা থ্রি-কোয়ার্টার পরে ফাইনাল খেলবে।
ফাইনাল খেলা হলো। গ্যালারিতে বসে হাবিব উমর বিন হাফিজ মনোমুগ্ধকর ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলেন। প্রধান অতিথি হিশেবে পুরস্কার দিলেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছোট্ট করে একটি ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেন, "দেখো বাবারা, আমি তোমাদের খেলা দেখতে প্রতিদিন আসি। তোমরা কি কষ্ট করে আমার কাছে মাঝেমধ্যে আসবে?"
ফুটবলাররা বললো, "আমরা তো আপনার কাছে যেতে চাই। কিন্তু, আমাদের লজ্জা লাগে। আপনার সাথে কতো বড়ো বড়ো আলেমরা থাকেন, তাদের পাশে বসতে আমরা বিব্রতবোধ করি।"
মাওলানা হাবিব উমর বিন হাফিজ বললেন, "সেটা ব্যাপার না। তোমরা বরং অন্য সময় আসো। প্রতিদিন এই টাইমে আমি ফ্রি থাকি। তোমরা তখন আসতে পারবা না?"
ফুটবলাররা সমস্বরে বললো, "জ্বি, উস্তাদ আসতে পারবো।"
ট্রাউজার, থ্রি-কোয়ার্টার পরে ফুটবল খেলার পাশাপাশি ফুটবলাররা সেই আলেমের দারসে যাওয়া শুরু করলো। মাঝেমধ্যে নামাজ পড়া শুরু করলো।
কিছুদিন এভাবে কাটলো।
অতঃপর দেখা গেলো, তাদের অনেকেই ৫ ওয়াক্তের নামাজী হয়ে গেলো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আলেম হয়ে গেলো, নিয়মিত দ্বীন নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলো।
একজন দাঈ হলেন অপরচুনিটি সিকার। তিনি গোবরে পদ্মফুল ফুটাতে চান। মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করে নেন, কাছে টেনে নেন।
একটি মুসলিম সমাজে ফকিহের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রয়োজন আছে দা'ঈর। কেউ কেউ একইসাথে দুটোর ভূমিকা পালন করতে পারেন। সমাজে এই দুটোর ব্যালেন্স না থাকলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়৷ ফেসবুকে এখন এটাই বেশি হচ্ছে। কারণ, আমরা এখনও ঠিক করতে পারিনি আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত।
- আরিফুল ইসলাম
| Monday | 09:00 - 17:00 |
| Tuesday | 09:00 - 17:00 |
| Wednesday | 09:00 - 17:00 |
| Thursday | 09:00 - 17:00 |
| Sunday | 09:00 - 17:00 |