Romio chakma

Romio chakma

Share

স্বপ্ন পূরণের আশার আলো

30/04/2024

একজন জুম্ম নারী হিসেবে আমি কিছু বক্তব্য তুলে ধরতে চাই।নিজ যোগ্যতায়, নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা সরকারীর সহযোগিতায় যে কেউ বিদেশে পারি জমাতে পারে।যেমন লেখা পড়ার উদ্দেশ্য কিংবা চাকরি, ব্যবসার উদ্দেশ্য কিংবা ট্যুরের উদ্দেশ্য।সেটা নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবেনা বলে আমি মনে করি।

কিন্তু বর্তমানে চীনে যাওয়ার সিস্টেমটা অন্যরকম রুপ ধারণ করেছে এবং রহস্যজনকও বটে। যে সব মেয়েরা এখন গণহারে চীনে যাচ্ছে তারা কি আসলে কর্মসংস্থানের জন্য যাচ্ছে? যদি কর্মসংস্থানের জন্য চীনে যায় তাহলে আমার কিছু প্রশ্ন থেকে যায়।

১।পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চীন দেশে নারী নেওয়ার জন্য আনাচে কানাচে দালাল চক্রের সদস্য এতো ভরপুর কেনো?

২।চীনে যেসব নারী নেওয়া হচ্ছে তাদেরকে ঢাকায় ২,৩ মাস রেখে একটা চীন ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে তারপর স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে নিয়ে যায়।এভাবে নিয়ে যাওয়ার কারন কি?

৩।বিভিন্ন শহরে অলিতে গলিতে গ্রামে গন্জে পাহাড়ি নারীদের বলা হচ্ছে চীনে যাবি নাকি? চীনে গেলে তোমার পরিবার ১ লক্ষ টাকা পাবে, শপিং করিয়ে দিবে, মোবাইল কিনে দিবে? কেনো নানা প্রলোভন দেখিয়ে জুম্ম নারীদের ব্রেইন ওয়াশ করে ফাঁদ পাতানো হচ্ছে ?

৪।চীনে যদি কর্মসংস্থানের জন্য নিয়ে যেতো তাহলে নিশ্চয়ই সেখানে তারা কোথাও না কোথাও জব করতো। কিন্তু যারা সেই চক্রের মাধ্যমে যাচ্ছে তাদেরকে কোন জব সেক্টরে পাওয়া যাচ্ছেনা কেনো?

৫।আজ প্রায় কয়েক বছর যাবত ঐ চক্রগুলো অর্থের বিনিময়ে চীনে নারী পাচার করে আসছে। চীনে কি তাহলে শুধু নারীদের দরকার হয়?ঐখানে কি কোন ছেলে কর্মী দরকার হয়না? শুধু মাত্র নারীদের নিয়ে যাওয়ার কারন কি?

৬।পাহাড়ি নারীদের যদি সত্যি কর্মসংস্থানের জন্য চীনে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে দালালদের কেনো চুরি করে মেয়ে খুজতে হয়? যদি বৈধ হতো চীনে যাওয়ার জন্য মানুষ নিজেরা গিয়েই আবেদন করতো। কিন্তু এরা উল্টো মেয়েদেরকে গোপনভাবে ব্রেইন ওয়াশ করে চীনে নিয়ে যাচ্ছে। এর উত্তর কি দিবেন ?

৭।চীনে যদি এতই নারী কর্মীর দরকার হয় তবে চীন সবার আগে বাংলাদেশ সরকারকে অবগত করতো।তখন হয়তো বেশীরভাগ বাঙ্গালী নারীরাই চীনে যাওয়া সুযোগ পেতো।হাতে গোনা থাকতো দুই একজন পাহাড়ি নারী। কিন্তু ঐ চক্রের মাধ্যমে শুধুমাত্র পাহাড় থেকে মেয়েদের ব্রেইন ওয়াশ করিয়ে চোরের মত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন?

৮।পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শুধুমাত্র নারীদের চীনে নিয়ে যাওয়ার জন্য দালাল চক্রের সাথে লক্ষ লক্ষ টাকা দেনদরবা হয়।যদি কর্মসংস্থানের জন্য তাদের নেয়া হলে তাহলে লক্ষ টাকার দেনদরবা হচ্ছে কেন?

এর পরেও কি বলবেন জুম্ম নারীদের পাচার করা হচ্ছে না?যারা সমর্থন করতেছেন আমার এই পোস্টের অবশ্যই উত্তর দিয়ে যাবেন।।।

অন্যথায় বলতে হচ্ছে তাহলে কার স্বার্থে নারী পাচার চক্রকে বাচানোর জন্য আপনারা তাদের পক্ষ হয়ে গুনগান করে চলেছেন।এখানে কোন থলের বিড়াল লুকিয়ে নাইতো?

Daniel Tripura
আদিবাসী মেয়েদের আড্ডা
আদিবাসী পাহাড়ি সংস্কৃতি ও জীবন বৈচিত্র্য

21/05/2023
18/05/2023

মানুষ কতভাবেই না বাঁচে! একবার ভাবুন তো আপনি বেঁচে আছেন একটি লোহার ফুসফুসকে বুকে ধারণ করে! ভাবছেন এও কি সম্ভব? হ্যাঁ, পৃথিবীতে তেমনই একজন মানুষ আছেন, যিনি লোহার ফুসফুস নিয়েই বেঁচে আছেন ৬৯ বছর। আর এ পুরো জীবনটাই তিনি একটা লোহার বাক্সে কাটিয়েছেন।

18/05/2023

(সংগৃহীত)
মৃত্যুভোজ হল কুৎসিত প্রথা
লিখেছেনঃ ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

পৃথিবীতে যত কু প্রথা রয়েছে তন্মধ্যে মৃত্যুভোজ হল অন্যতম। অর্থাৎ মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে ভূরি ভোজন করা। এমনিতেই অনেক পরিবার আছে, যারা রোগীর চিকিৎসা খরচ যোগাতে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘদিন রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে জায়গা-জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়, ধার-দেনা করতে হয়, অন্যের কাছে হাত পাততে হয়। এভাবে রোগীর চিকিৎসা করেও হতোদ্যম হতে হয়, যখন রোগী মৃত্যুর কাছে হার মানে। এভাবে চিকিৎসা করতে গিয়ে এমনিতে পরিবার সর্ব স্বান্ত হয়ে যায়, এর উপর মৃত্যুকে ঘিরে যে খরচের স্রোতসমূহ রয়েছ তাতে মৃতের পরিবার আরও দিশেহারা হয়ে পড়ে।

কোন বিপদ-আপদে মৃত্যু হলে, অপ্রাপ্ত বয়সে মৃত্যু হলে বা অন্য যে কোন কারণে মৃত্যু হলেও মৃতের পরিবার-পরিজন বড়ই শোকার্ত ও বেদনাহত থাকে। এমতাবস্থায় সে পরিবারের পক্ষে লোকদের ভূরিভোজে আপ্যায়ন করার মত সুস্থ মানসিকতা ও অনেকের আর্থিক সঙ্গতিও থাকেনা। তবু সামাজিক পরম্পরা বা প্রথার কারণে বাধ্য হয়ে মৃতের পরিবার লোকের ভূরিভোজের ব্যবস্থা করে থাকে। লোকও সেখানে গিয়ে আনন্দ করে মৃত্যুভোজে সামিল হয়। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে ইহা হল মৃতের পরিবারের প্রতি এক জঘন্য অত্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। আর্থিক সঙ্কটময় অবস্থা ও শোকাহত পরিবেশে মাছ-মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করার মত কুৎসিত প্রথা সমাজে আর কি থাকতে পারে! এ সমস্ত সামাজিক রীতি পালন করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে ধার-দেনা করে পথে বসতে হচ্ছে। অন্ততঃ তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এসমস্ত সামাজিক কু-রীতি শীঘ্র বন্ধ করা উচিত।

আমাদের মধ্যে যাঁরা ধার্মিক পৌরহিত্যে রয়েছেন, এ সমস্ত কুৎসিত পরম্পরা রোধে তাঁদের ভূমিকা অগ্রণী হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তাঁরাও এতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলি করতে তাঁরা আরও নানাভাবে যখন উৎসাহিত করে তখনই মনে খটকা লাগে যে, তাঁরা কি আদৌ সমাজের মঙ্গলকামী না শোষণকারী?

অনেকে বলবেন দান না করলে মৃত ব্যক্তি কিভাবে পুণ্য লাভ করবেন বা পুণ্য কর্ম না করলে মৃত ব্যক্তির মুক্তি কিভাবে হবে? বুদ্ধ কখনও ধার-দেনা করে দান করতে বা পুণ্য কর্ম করতে উৎসাহিত করেননি। আর পুণ্য কর্ম করতেও সুস্থ মানসিকতার দরকার হয়। বেদনাদায়ক মৃত্যুর সময় বা এর পরবর্তী অবস্থায় সে পরিবারের কারও সুস্থ মানসিক অবস্থা বিরাজ করেনা। এমতাবস্থায় সেটুকুই করা উচিত যা একেবারে না করলেই নয়। আড়ম্বর করে মাছ-মাংস দিয়ে খাওয়ালে যে ধর্ম হবে আর না খাওয়ালে যে অধর্ম হবে বুদ্ধ সেকথা বলেননি। সবকিছু নির্ভর করে আর্থিক সঙ্গতি ও মানসিক অবস্থার উপর। ইহাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ভারতের মধ্যে এ সম্পর্কে অনেক চর্চা আগে থেকে শুরু হয়েছে। কিছু কিছু সমাজ ব্যবস্থায় মৃত্যুভোজ একেবারে উঠে গিয়েছে। সম্প্রতি সরকারীভাবে রাজস্থানের রাজ্য সরকার মৃত্যুভোজকে অনৈতিক ঘোষণার মাধ্যমে বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানেও ‘মৃত্যুভোজ নিষেধ অধিনিয়ম ১৯৬০’ নামে একটি অধিনিয়ম রয়েছে। ভারত সরকার দ্বারা ‘মৃত্যুভোজ নিষেধ অধিনিয়ম ১৯৬০’ প্রায় ছয় দশক পূর্বেই চালু করে মৃত্যুভোজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। এ অধিনিয়মের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কেহ মৃত্যুভোজের ব্যবস্থা করে, তাহলে সে সম্পর্কে সূচনা জিলার প্রশাসনিক অধিকারী বা প্রখণ্ড অধিকারীকে বলে মৃত্যুভোজ বন্ধ করার আবশ্যক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিম্নোল্লিখিত মতে দণ্ড প্রদানের আইন রয়েছে।

১) অধিনিয়মের ধারা ৩ অনুসারে আইন রয়েছে যে, কোন ব্যক্তি মৃত্যুভোজ আয়োজনও করবেনা এবং মৃত্যুভোজে সামিলও হবেনা।

২) অধিনিয়মের ধারা ৪ অনুসারে বলা হয়েছে যে-‘যে ব্যক্তি মৃত্যুভোজ করবে কিংবা করার জন্য উৎসাহিত করবে বা করার জন্য সহায়তা করবে তার ১ বছরের কারাবাস অথবা ১০০০/- রূপী জরিমানা অথবা উভয় দ্বারা দণ্ড প্রদান করতে পারে।

৩) অধিনিয়মের ধারা ৫ অনুসারে যদি কোন ব্যক্তির, গ্রাম প্রধানের, পঞ্চায়েত সদস্যের বা প্রধানের মৃত্যুভোজ আয়োজনের সূচনা এবং সে সম্পর্কে সবিস্তার জেনে তা মেজিষ্ট্রেট, প্রখণ্ড অধিকারী, পুলিশ অধিকারীকে জানিয়ে বন্ধ করিয়ে দিতে পারে এবং মৃত্যুভোজের সামগ্রীকে বাজেয়াপ্তও করাতে পারে।
তারপরেও যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুভোজ করে থাকে, তাহলে অধিনিয়মের ধারা ৬ অনুসারে ১ বছর পর্যন্ত কারাবাস অথবা ১০০০/- রূপী জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দ্বারা দণ্ডিত করা যাবে।

৪) অধিনিয়মের ধারা ৭ অনুসারে যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুভোজের আয়োজন করে থাকে এবং তা গ্রাম প্রধান, পচায়েত সদস্য/ প্রধান জেনেও পুলিশ বা কোর্টকে সূচনা না দেয়, তাহলে সে সকল গ্রাম প্রধান, পচায়ের প্রধান/ সদস্য/ সদস্যারও ৩ মাসের কারাবাস বা ১০০০/- রূপী জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

৫) অধিনিয়মের ধারা ৮ অনুসারে কোন মহাজন বা অর্থ লগ্নীকারী ব্যবসায়ী কাউকে মৃত্যুভোজের আয়োজন করানোর জন্য অর্থ ধার বা বস্তু দিয়ে সহায়তা করে থাকে, তাহলে সে ধারের অর্থ ফেরতযোগ্য হবেনা এবং ধার প্রদানকারীরও ১ বছর কারাবাস বা ১০০০/- রূপী জরিমানা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ ভারতে মৃত্যুভোজ প্রায় ছয় দশক পূর্ব হতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ লোকের শিক্ষার অভাবে আইন কানুন সম্পর্কে জানা না থাকায় তা এখনও অন্ধের মত পালন করে যাচ্ছে। সমাজে এখন শিক্ষার প্রসার হচ্ছে। সেজন্য মৃত্যুভোজের দোষ-গুণ সম্পর্কে লোকের সচেতনতাও সামনে আসতে শুরু করেছে।
ভারতে মৃত্যুভোজ আয়োজকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুভোজ অধিনিয়ম ১৯৬০ এর অনুসারে প্রশাসনের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দিতে পারে এবং পুলিশ রিপোর্ট করাতে পারে।

সমাজে মৃত্যুভোজ হল এক অভিশাপ তুল্য। এজন্য সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে শপথ নেওয়া উচিত যে, আমরা মৃত্যুভোজ এবং মৃত্যুর কার্যক্রমে ভোজন করবনা। এ কুৎসিত রীতিতে প্রায় সকল সমাজের লোকদের দ্বারা সংশোধন করার কথা উঠে আসছে। তাহলে আমাদের সমাজেও ইহা সংশোধন না করার যৌক্তিকতা দেখতে পাচ্ছিনা।

এখানে যদিও কেবল মৃত্যুভোজের কথা বলা হয়েছে, সমাজে অন্যান্য ধার্মিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান সমূহের ব্যয়ভারের বহরও দিন দিন যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে তা সেভাবে হওয়া কখনও কাম্য নয়। সমাজের কিছু অবিবেচক মানুষের খপ্পরে পড়ে সকলকে এর ভারী বোঝা বহন করে চরম মূল্য চুকাতে হচ্ছে। ইহা কারও জন্য আনন্দ হলেও কারও জন্য মৃত্যু সমতুল্য যন্ত্রনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং সমাজ সচেতন ও চিন্তাবিদদের এ সমস্ত বিষয় গম্ভীরতা সহকারে চিন্তা করে আশু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

07/05/2023

A man is seen in the picture Pushing an elephant up the stairs. It is not that the elephant will go up with the push of the man. The thing is - when the man puts his hand behind the elephant, the elephant understands that there is someone to support him. With this confidence the elephant will be able to climb up the stairs. That's the motivation. There is a story behind every successful person in life.There are many of us who have failed because they had no one to support or encourage them; It takes someone's hand to stand up. We may not be able to cooperate with others; But I can surely encourage someone by his side in difficult times. If someone can stand up, change someone's life through love, positive support and trust, there is no better act than that.

01/04/2023

* চার জনের চার প্রকার ধন..
১.নারীর ধন সৌন্দর্য
২.পুরুষের ধন বিদ্যা
৩.রাজার ধন সেনা
৪.ব্রহ্মচারীর ধন শীল..
*মার ভাবনাকারীকে চার প্রকারে বাধা দেয়..
১.প্রলোভন দেখা
২.নিমিত্ত দেখা
৩.ভয় দেখা
৪.হুমকি
*চারটিকে কখনো ফেরনো যায় না..
১.অতীত
২.হারানো সুযোগ
৩.ছোড়া তীর
৪.বলা কথা
*চার ব্রহ্ম বিহার..
১.মৈত্রী
২.করুণা
৩.মুদিতা
৪.উপেক্ষা
*চার প্রকার দানে জন্ম জন্মান্তরে দেহ সুন্দর হয়...
১.সুখাদ্য দানে
২.বস্ত্র দানে
৩.বিহার সম্মার্জনে
৪.ক্রোধ না করিলে
*বিনয় মতে চার প্রকার দান...
১.চীবর দান
২.পিন্ডু দান
৩.শয়না সন দান
৪.ঔষধ পথ্য দান
*চার জনকে দ্রুত গমনে শোভা পায় না...
১.রমণী
২.অভিষিক্ত রাজা
৩.রাজার অলংকৃত মঙ্গল হস্তী
৪.প্রব্রজিত শ্রামণ-ব্রাহ্মন
*কল্পতরু দানে চারটি ফল..
১.ব্যবহারোপযোগী বস্তু ইচ্ছামতো পাওয়া যায়
২.কোন অভাব পরিলক্ষিত হয় না
৩.দূর্গতি ভোগ করতে হয় না
৪.জন্মে জন্মে ধনশালী, বিত্তশালী এবং অর্হত্ব লাভ হয়।
সাধু🙏 সাধু🙏 সাধু🙏

09/03/2023

বৌদ্ধ ধর্ম যেভাবে বাংলা থেকে বিলুপ্ত হল?
কলমে অদিতি গাঙ্গুলি
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক ড.দীনেশচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক গ্রন্ত্র বৃহৎ বঙ্গের ৫২৮ নং পৃষ্টা থেকে ও
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বৌদ্ধধর্ম, পৃষ্ঠা ১৩১ নেওয়া......
একসময় বাংলা ছিল বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ। শুধু তাই নয় বৌদ্ধরা বাংলায় শাসন করেছিল চারশত বছর। বৌদ্ধ শাসনকাল ইতিহাসে পাল শাসনকাল নামে পরিচিত। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ বৌদ্ধদেরই সৃষ্টি। অর্থাৎ বাংলা ভাষার জনক ছিল বৌদ্ধরা। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এখনো বৌদ্ধদের নানা নিদর্শন এখনো দেখতে পাওয়া যায়। বৌদ্ধদের বহু বিহার এখনো বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান। অথচ আজ বাংলা সম্পূর্ণভাবে বৌদ্ধ শূন্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ কোথায় হারিয়ে গেল?
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে পাল বংশের প্রথম শাসক গোপালের মাধ্যমে বৌদ্ধদের শাসনের সূত্রপাত হয় এবং স্থায়ী হয় চারশত বছর পর্যন্ত। এক সময় দক্ষিণ ভারত থেকে আগত ব্রাহ্মণ্যধর্মের অনুসারী সেন রাজারা বাংলা আক্রমণ করেন এবং পাল রাজাদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বাংলার গদিতে আসীন হন। সেন রাজারা বৌদ্ধদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হননি তাঁরা রীতিমত বৌদ্ধ নির্যাতন শুরু করেন এবং বৌদ্ধ নিধনযজ্ঞ শুরু করেন। ফলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য বৌদ্ধদের একটা অংশ নেপালে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেজন্য চর্যাপদ নেপাল থেকেই আবিস্কৃত হয়।
ষষ্ঠ শতকে যখন আরবে অন্ধকার যুগের যবনিকা বিদীর্ণ করে ইসলামের অভ্যুদয় হয়েছে তখন ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হাতে বাংলায় চলছিল বৌদ্ধ নিধন যজ্ঞ। ৬০০ থেকে ৬৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলার শৈব শাসক রাজা শশাঙ্ক বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মকে উৎখাত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন এবং গৌতম বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গয়ার বোধিবৃক্ষ গুলি তিনি সমূলে উৎপাটন করেন। এই বৃক্ষগুলিকে বৌদ্ধ সম্রাট অশোক অসীম শ্রদ্ধা করতেন সেই বৃক্ষগুলিকে শৈব শাসক শশাঙ্ক পত্র পল্লব মূলকাণ্ড সবকিছু জ্বালিয়ে ছাই করে দেন। পাটলিপুত্রে (বর্তমান পাটনা) গৌতম বুদ্ধের পদচিহ্ন শোভিত পবিত্র প্রস্তর ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি রাজা শশাঙ্ক। বুশিনগরের বৌদ্ধ বিহার থেকে বৌদ্ধদের বিতাড়ন করেন। গয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের যে মূর্তিটি স্থাপিত ছিল সেই মূর্তিটিকে অসম্মানের সাথে উৎপাটিত করে সেখানে শিবের মূর্তি স্থাপন করেন। অক্সফোর্ডের ‘Early History of India’ গ্রন্থের মধ্যে লেখা রয়েছে রাজা শশাঙ্ক বৌদ্ধ মঠগুলি ধ্বংস করে দিয়ে সেখান থেকে মঠ সন্নাসীদের (বৌদ্ধদের) বিতাড়িত করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের পাদদেশ পর্যন্ত বৌদ্ধ নিধন কার্যক্রম চালিয়েছিলেন কট্টর হিন্দু রাজা শশাঙ্ক। ‘আর্য্যা মুখশ্রী মূলকল্প’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে শুধুমাত্র বৌদ্ধ ধর্ম নয় জৈন ধর্মের ওপরও উৎপীড়ন ও অত্যাচার সমানভাবে চালিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমান যুগে বর্ণ সংস্কারে লালিত কিছু ব্যক্তি তাদের পূর্ব পুরুষদের কৃতকর্ম মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা সাধু সাজার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য মুসলিমরা নাকি বৌদ্ধ বিতাড়ন ঘটিয়েছিল বাংলার মাটি থেকে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১০০ খৃস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজি ধ্বংস করেছেন। ভারতীয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বখতিয়ারের এই আক্রমণের তারিখ দিয়েছে ১১০০ খৃস্টাব্দ। অথচ স্যার উলসলি হেগ বলছেন, বখতিয়ার উদন্তপুরী আক্রমণ করেছেন ১১৯৩ খৃস্টাব্দে আর স্যার যদুনাথ সরকার এই আক্রমণের সময়কাল বলছেন ১১৯৯ খৃস্টাব্দ। মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দুভারত মুসলিম বিজেতাদের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য ইতিহাসের তথ্য বিকৃত করতেও কুণ্ঠিত নয়।
প্রকৃত ঘটনা হল একজন ব্রাহ্মণ সম্রাট হর্ষবর্ধনকে হত্যা করে এবং তারপর সেই ব্রাহ্মণ মন্ত্রী ক্ষমতা দখল করেন। এই সময়েই ব্রাহ্মণদের নেতৃত্বে একদল চরমপন্থী বৌদ্ধবিদ্বেষী ধর্মোন্মাদ হিন্দু নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস ও ভস্মীভূত করে। বখতিয়ার খিলজী বৌদ্ধদের ওপর কোন ধরনের নির্যাতন করেছেন এমন তথ্য ইতিহাসে নেই বরং বৌদ্ধদের আহ্বানে বঙ্গ বিজয়ের জন্য বখতিয়ার খিলজী সেনা অভিযান পরিচালনা করেন। এমনকি বাংলা বিজয়ের পর তিনি বৌদ্ধদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায় থেকে বিরত থাকেন।
ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে বৌদ্ধদের উৎখাতের পর বহিরাগত আর্য অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ভারতের মূল অধিবাসীদের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হলেও অপরাজেয় শক্তি হিসেবে মুসলমান শাসকদের উপস্থিতি তাদের স্বপ্নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুসলমান ও মুসলমান শাসকরা বহিরাগত ব্রাহ্মণ সৃষ্ট বর্ণবাদের শিকার এদেশের অপামর জনসাধারণকে মুক্তির নিঃশ্বাস দিয়েছিল।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুশক্তি তার ক্ষত বিক্ষত অস্তিত্ব কোন মতে টালটামাল অবস্থায় ধরে রাখলেও বৃহত্তর পরিসরে কোথাও ধরে রাখতে পারেনি। তাই শেষ পর্যন্ত বাংলাই ছিল ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তির শক্তিশালী ঘাঁটি। সব শেষে বাংলা থেকে যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তির উৎখাত হয় তারপর তাদের প্রাধান্য বিস্তারে রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।
একসময় এই বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। টানা চার শত বছর বৌদ্ধরা বাংলা শাসন করেছিলেন। বৌদ্ধ শাসনামল ‘পাল’ শাসনামল নামে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ পুরো পাল যুগটাই ছিল বাংলার ইতিহাসে বৌদ্ধ যুগ। আজো বাংলাদেশে এবং পশ্চিম বঙ্গে বৌদ্ধ শাসনামলের নানা নিদর্শন দেখা যায়। বৌদ্ধদের পুরাতন অনেক বিহারের অস্তিত্ব আজও বাংলার মাটিতে বিদ্যমান রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় কিছু ধর্মীয় গান রচনা করেছিলেন যেগুলো ‘চর্যাপদ’ নামে পরিচিত। চর্যাপদই হচ্ছে বাংলা ভাষায় রচিত প্রাচীনতম নিদর্শন।
তাহলে এখন প্রশ্নহচ্ছে এত সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মালম্বী মানুষজন কোথায় হারিয়ে গেল? ৭৫০ সালে পাল বংশের প্রথম রাজা গোপালের মাধ্যমে বৌদ্ধদের শাসনামল শুরু হয় এবং বৌদ্ধদের শাসন চারশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পরবর্তিতে দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন বংশের লোকেরা পালদের ক্ষমতাচ্যুত করে। দক্ষিন ভারতীয় সেন শাসকেরা ক্ষমতায় এসে বৌদ্ধদের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। সেনরা ছিল ব্রাহ্মণ। সেন রাজাদের অত্যাচারে বৌদ্ধদের একটা অংশ নেপালে গিয়ে আশ্রয় গ্রহন করেন। যে কারণে চর্যাপদ নেপাল থেকে আবিস্কৃত হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে বৌদ্ধদের একটা অংশ হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে বর্ণ প্রথার সর্বনিম্নে স্থান পায়। বৌদ্ধদের আরেকটি অংশ দিল্লির মুসলিম শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের শরণাপন্ন হয় এবং বৌদ্ধদের রক্ষায় বাংলায় মুসলিম সেনাবাহিনী পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ঐতিহাসিক কুলাচার্য জ্ঞানানশ্রীর বিবরনী থেকে জানা যায় মগধ থেকে এক দল ভিক্ষু মির্জাপুরে গিয়ে বখতিয়ার খিলজীর সাথে দেখা করে তাকে মগধকে মুক্ত করতে অনুরোধ করেন। বৌদ্ধদের আবেদলে সাড়া দিয়ে বখতিয়ার খিলজি তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেনকে যুদ্ধে পরাস্ত করেন। ফলে ১২০৪ সালে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
এই প্রসঙ্গে ডাঃ দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন, “বৌদ্ধগণ এতটা উৎপীড়িত হইয়াছিল যে তাহারা মুসলমানদের পূর্বকৃত শত অত্যাচার ভুলিয়া বিজয়ীগণ কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলন এবং মুসলমান কর্তৃক বঙ্গবিজয় ভগবানের দানস্বরূপ মনে করিয়াছিল। শূন্যপুরাণের নিরঞ্জনের উষ্মা নামক অধ্যায়ে দেখা যায় যে তাহারা অর্থাৎ বৌদ্ধরা মুসলমানদিগকে ভগবানের এবং নানা দেবদেবীর অবতার মনে করিয়া তাহাদের কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলনে নিতান্ত আনন্দিত হইয়াছিল। …….ইতিহাসে কোথাও একথা নাই যে সেনরাজত্বের ধ্বংসের প্রাক্কালে মুসলমানদিগের সঙ্গে বাঙালি জাতির রীতিমত কোনো যুদ্ধবিগ্রহ হইয়াছে। পরন্তু দেখা যায় যে বঙ্গবিজয়ের পরে বিশেষ করিয়া উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে সহস্র সহস্র বৌদ্ধ ও নিম্নশ্রেণীর হিন্দু নব ব্রাহ্মণদিগের ঘোর অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়াছে।” [ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ, পৃষ্ঠা-৫২৮ থেকে সংগ্রহীত।]
মুসলিম শাসকদের উদারতা, বৌদ্ধদের প্রতি মুসলিমদের ভালো ব্যবহারের ফলে দলে দলে বৌদ্ধরা ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিতে থাকে। মুসলিম শাসকেরা বৌদ্ধদের প্রতি এতটাই উদার ব্যবহার করেছিলেন ফলে পাইকারী হারে বৌদ্ধরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন, ‘বাংলার অর্ধেক বৌদ্ধ মুসলমান হইয়া গেলো।’ [হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বৌদ্ধধর্ম, পৃষ্ঠা ১৩১]
তবে বৌদ্ধ থেকে মুসলমান হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্পন্ন হয়নি রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিকভাবে বৌদ্ধ ও মুসলিম সংমিশ্রনের ফলে বৌদ্ধরা ধীরে ধীরে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন।
বখতিয়ার খিলজীর বাংলা আক্রমণের আগেও নির্যাতিত বৌদ্ধদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বাংলার মুসলিমরা এবং তাঁদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অত্যাচার থেকে নিস্কৃতি পাবার জন্য বৌদ্ধরা বখতিয়ার খিলজি এবং তার বাহিনীকে সাদরে বরণ করে নেন। স্থানীয় বৌদ্ধদের সমর্থন করেছিলেন বলেই মুসলিমরা এত সহজে বাংলা বিজয় করতে পেরেছিলেন। বৌদ্ধদের দুর্দিনে মুসলিমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফলে বৌদ্ধরা মুসলিমদের সংস্পর্শে আসতে থাকেন এবং ইসলাম দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকেন। হিন্দু ধর্ম থেকেও অনেক নিম্ন বর্ণের হিন্দু বর্ণ বৈষম্যের কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকেন।
বৌদ্ধরা তাঁদের ধর্মের রীতি পালনের জন্য নেড়া হতেন সেজন্য তাঁদের কটাক্ষ করে ‘নেড়ে’ বলা হত। এই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ইসলামের ধর্মান্তরিত হলে সেইসব ধর্মান্তরিত বৌদ্ধদের সাথে সাথে মুসলিমদেরকেও ‘নেড়ে’ বলা হতে থাকে। এখনও কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন সংকীর্ণমনা কিছু লোক মুসলমানদের ‘নেড়ে’ বলে কটাক্ষ করে। যেহেতু তারা বৌদ্ধদের একসময় ‘নেড়ে’ বলে কটাক্ষ করত। সেই পরম্পরা তারা মুসলমানদের মধ্যে বজায় রেখেছে। কেননা সেইসব বৌদ্ধরাই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিল।
যেসব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাংলায় থেকে গিয়েছিলেন তাঁরা ভয়ে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে শূদ্র হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন। কিছু বৌদ্ধ তৎকালীন দিল্লি মুসলিম শাসক কুতুবুদ্দিন আইবকের শরণাপন্ন হন। তাঁরা কুতুবুদ্দিন আইবককে অনুরোধ করেন যে বাংলাকে রক্ষা করার জন্য যেন তিনি সেনাবাহিনী পাঠান। তিব্বতের বুদ্ধ ঐতিহাসিক কুলাচার্য জ্ঞানানশ্রীর বিবরনী থেকে জানা মগধ থেকে এক দল ভিক্ষু মির্জাপুরে গিয়ে মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজীর সাথে সাক্ষাত করেন এবং মগধকে মুক্ত করতে আবেদন করেন (Journal of the Varendra Research Society, Rajshahi, 1940)
বৌদ্ধরা অনুরোধ করলে বখতিয়ার খিলজী তাঁর বাহিনী নিয়ে বাংলার দিকে অগ্রসর হন এবং সেন বংশের শেষ শাসক লক্ষণ সেনকে পরাস্ত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন। স্থানীয় বৌদ্ধদের সমর্থন না পেলে মুসলিমদের পক্ষে এত সহজে বাংলা বিজয় সম্ভব হতনা।
হিন্দুদের হাতে বৌদ্ধরা এতটাই নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছিল যে বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়কে ভগবানের দান মনে বিজয়উল্লাসে মেতে উঠেছিল।
বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক আবদুস সাত্তার লিখেন; ”ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজীর আগমনে এদেশের সাধারণ মানুষ উৎফুল্ল হয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল। হোসেন শাহের বেলায়ও একই কথা।”
বাংলায় মুসলিম শাসন স্থাপনের পর নির্যাতিত বৌদ্ধরা দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে। চরম দুর্দিনে বৌদ্ধরা মুসলিমদের কাছে সাহায্য পেয়েছিল এবং মুসলিমদের সংস্পর্শে আসার সুযোগও পেয়ে ছিল ফলে তারা অনুপ্রানিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। হিন্দু ধর্ম থেকেও অনেকে বর্ণ বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণে ইসলামে প্রবেশ করতে থাকে।
ব্রিটিশ শাসনের সময় পশ্চিমা ওরিয়েন্টালিষ্ট ঐতিহাসিক ও পশ্চিমাদের পদলেহী কিছু কিছু ভারতীয় ঐতিহাসিক মিথ্যা প্রচার করতে থাকে যে মুসলমানদের সাথে বৌদ্ধদের দ্বন্দ্বের কারনে বাংলা থেকে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী হারিয়ে গেছে। প্রফেসর Johan Elverskog তাঁর Buddhism and Islam on the Silk Road বইয়ে ভারতে বৌদ্ধ মুসলিম সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত এই মিথ্যাচাকে খণ্ডন করেছেন। বৌদ্ধদের উপর মুসলিম সেনাপতি ও শাসকগন অত্যাচার করেছেন এই ধারণাকে তিনি নাকচ করে দেন। তিনি লিখেছেন, “…the stereotypical image of Muslims as hostile towards Buddhists has been constructed in the West, and “reaffirmed” with the Taliban’s destruction of the giant Buddha statues in Bamiyan in 2001” (pp. 1–4)

Photos from Romio chakma's post 08/03/2023

কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে বিতণ্ডা; রাঙ্গুনিয়ায় এনজিও কর্মীকে হ ত্যা
এনজিও থেকে নেয়া ঋণের বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এনজিও ‘পদক্ষেপ’র চম্পা চাকমা (২৮) নামের এক নারী কর্মীকে গলায় ছু রিকা ঘাতে হ ত্যা করা হয়েছে। তিনি পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন সংস্থার রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ শাখার সহকারী ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন।
রবিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ধামাইরহাট এইচ এ প্লাজার সামনে এ ঘ টনা ঘ টে। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মাহবুব মিল্কি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চম্পা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলায়। অভিযুক্ত এনামুল হক এনাম (৩০) এনজিওটির স্থানীয় গ্রাহক। সে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর পারুয়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চম্পা চাকমা ও সপ্তদী চাকমা নামে পদক্ষেপের দুই কর্মী টাকা সংগ্রহ করে এইচ এ প্লাজায় তাদের অফিসে ফিরছিলেন। এ সময় অফিসের নিচে হলুদ কালারের টি- শার্ট পড়া এনামের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় এনাম কোমর থেকে একটি ছু রি বের করে চম্পা চাকমার গলায় আ ঘাত করে পালিয়ে যান।
এনজিও কর্মী সপ্তদী চাকমা জানান, এনামের বোন মূলত পদক্ষেপ উত্তর পারুয়া গ্রুপের সদস্য। বোনের নামে ঋণ নিয়েছিলেন তার পরিবার। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন ভাই এনাম। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন না। সর্বশেষ গত বুধবার বকেয়া কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। না করায় বকেয়া কিস্তির জন্য তাকে চাপ দেয়া হয়। অফিসের নিচে এসে এ বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চম্পা চাকমাকে ছু রিকা ঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত চম্পা চাকমাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মাহাবুব মিল্কি জানান, এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরেই হ ত্যাকা ণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ লা শ উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। খু নিকে ধরতে পুলিশের টিম মাঠে কাজ করছে।

02/03/2023

If you expect more, you don't get it. You will see that the thing that you want with great interest in life will disappear first.
You will see that the friend who you think is the best friend will be the farthest away. Many days will pass without talking to that friend.
One day you will think that meeting that person was the biggest misfortune of your life.
When you are looking forward to a program or going somewhere, you will not go to that program for some reason. And even if you go, something will happen that will destroy all your hopes.
The things we love the most are the first to disappear from our lives. That's why maybe don't expect too much from anything. Don't ask for anything with too much interest. So that thing is lost first. This is the eternal truth!

Photos from Romio chakma's post 28/02/2023

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে করজোড়ে দুটি
আবেদন নিবেদন
------------
মান্যবর ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, মাননীয় সার্কেল চীপ, চাকমা সার্কেল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম মহোদয় কর্তৃক নৈমিত্তিক কাজের অংশ হিসেবে অনেক সময় তাঁর সার্কেলের আওতাভূক্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
ঠিক তেমনিভাবে গত ২০/০২/২৩খ্রি: থেকে টানা ২৬/০২/২০২৩খ্রি: পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫(পাঁচ) মৌজা রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রের মাঝ দিয়ে কংলাক-শিয়ালদাই-তুইচুই-বেটলিং থেকে কাচালং নদীর ভাটির ধারা বেয়ে ওচ্যেঙসুরি- ভূইওছড়ি-লাম্বাবাগ-থালকুম্ব-মাজলঙ এবং সবশেষে সাজেক ভ্যালির বর কমলাক গ্রামে লংকর থেকে ঘাওদমোর পর্যন্ত ১০/১২টি গ্রামের সর্বস্তরের জনগনের সাথে সৌজন্য মতবিনিময় ও সেখানে বিভিন্ন দেশী বিদেশী সামাজিক আর্থিক শিক্ষা সহায়তায় নবস্থাপিত "সাজেক রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ" পরিদর্শন এবং দুপুরে সম্মানিত চেয়ারম্যান, সাজেক ইউপি, বাবু অতুলাল চাকমার বাসায় মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করার মধ্যে দিয়ে সাজেক এলাকা সফর সমাপ্ত করেন।
মতবিনিময় ও গণ অভ্যর্থনা সভায় স্থানীয় কার্বারী ও অন্যান্য গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ সমগ্র সাজেক ভ্যালির জীবন যাত্রার বহুমুখী দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং রাজাবাবুর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহোদয়ের বরাবরে সে এলাকার অনিবার্য জরুরী শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সম্বলিত একখানা আবেদন পেশ করেন। আবেদনখানা নিম্নরূপ:
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩খ্রি:
বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ।
মাধ্যমে: ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, মাননীয় সার্কেল চীপ, চাকমা সার্কেল, রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
বিষয়: সাজেক ভ্যালির হতদরিদ্র প্রান্ত জনপদে নতুন স্থাপিত "সাজেক রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ"টিকে সরকারী আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং কংলাক মৌজার উদয়পুর গ্রাম অথবা রুইলুই মৌজার ছয়নালছড়া গ্রামে একটি সরকারী হাসপাতাল স্থাপনের আবেদন।
মহাত্মন
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নের সাজেক নদী তীরবর্তী সাজেক ভ্যালি শিক্ষা দীক্ষাহীন অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ জনপদ। উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা ও পূর্বে মিজোরাম সীমানা, দক্ষিণে বরকল এবং পশ্চিমে বেটলিং-রুইলুই-লংকর সরু পর্বতের পৃষ্ঠদেশ পর্যন্ত সাজেক ভ্যালির বিস্তীর্ণ সীমানা। বৃটিশ আমল থেকে এ জনপদে লুসাই, পাংখো, চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার পরিবার লোকজন রাষ্ট্রীয় সীমানার চৌকিদারের মতো এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছিলো।
অত:পর আশি নব্বই দশকের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গার হাজার হাজার পাহাড়ী অভ্যন্তরীন উদ্ভাস্ত ভারত সীমান্তবর্তী এ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে। উদ্ভাস্ত লোকজন এখনো পুনর্বাসিত হতে না পারায় বাড়তি জনসংখ্যার চাপে এখন এখানকার জুম এলাকা বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এলাকার সর্বত্রই পাহাড় পর্বতে পরিপূর্ণ বিধায় এখানে কৃষিজমির বালাই নেই। এলাকাবাসী ১০০% খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। অনুৎপাদনশীল ও প্রাকৃতিক আবহাওয়ানির্ভর জুম কৃষিই এখানকার জীবনযাত্রার একমাত্র ভরসা। জুমকৃষিতে বর্তমানে পরিবারপ্রতি ৫(পাঁচ) মাসের খোরাক উৎপাদন হয় না। ফলে অভাব আমাদের নিত্যসঙ্গী। কখনো তীব্র খাদ্যাভাব, কখনো খরা, কখনো অসহ্য শীত, কখনো ইঁদুর ও বন্য পশুপক্ষীর মহামারী, কখনো নানান মৌসুমী রোগের প্রাদুর্ভাব, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনো পানীয় জলের সংকট অথবা অন্যকোন দুর্যোগ আমাদের ছায়াসঙ্গী হয়ে রয়েছে।
এ জনপদে মাত্র সীমিত কয়েকটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যতিত মাধ্যমিক স্তরের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্তই শিশুদের প্রান্তিক শিক্ষা রচিত হয়ে যায়। ফলে শিশু বয়সে দা কুড়াল হাতে নিয়ে গাছ বাঁশের সাথে লড়াই করে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাত্রা শুরু হয়ে যায়। করোনাকালীন বিগত ২০২১খ্রি: এলাকার শিশুদের মাধ্যমিক শিক্ষার অন্তত: ন্যুনতম ধারাবাহিকতা বজায় রাখবার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উদয়পুর সংলগ্ন বর কমলাক গ্রামে বিভিন্ন দেশী বিদেশী শুভাকাঙ্খির শিক্ষা সহায়তায় "সাজেক রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ" নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে যা অর্থ সংকটের মধ্যে দিয়ে এখনো খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। দূর্গম পর্বতময় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে অধিকাংশ গ্রামের দূরত্ব একটা থেকে আরেকটা ২/৩ ঘন্টা অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও অনেক বেশী বিধায় এখানে মাধ্যমিক শিক্ষায় আবাসিক ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া অর্থনৈতিক দূরবস্থার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুল হোস্টেলে খাবার খরচ যোগাতে পারেন না বিধায় এ বিদ্যালয়টি সরকারী আবাসিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিকল্প কোন উপায় নেই।
দ্বিতীয়ত: এখানে সরকারী বেসরকারী কোন ধরণের স্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। বাঘাইছড়ি উপজেলা ও দীঘিনালা উপজেলা সদর হাসপাতাল এখান থেকে কমপক্ষে ৬০/৭০কি:মি দূরে অবস্থিত। ফলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু অসহায় লোকজন খুব মানবেতর অবস্থায় অকালে মারা যায়। বিশেষত: গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়:বৃদ্ধরা সর্বদাই অবর্ণনীয় যন্ত্রনাদায়ক অবস্থার শিকার হয়।
অতএব, বাংলা মায়ের আপামর জনতার অভিভাবক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এর রূপকার, পরম শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মহোদয়ের সমীপে বিশেষ বিবেচনায় ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাজেক নদী তীরবর্তী হতদরিদ্র প্রান্ত জনপদে নতুন স্থাপিত "সাজেক রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ"টিকে সরকারী আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং কংলাক মৌজার উদয়পুর গ্রাম অথবা রুইলুই মৌজার ছয়নালছড়া গ্রামে অন্তত: ২০(বিশ) শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক সরকারী হাসপাতাল স্থাপনের সদয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহোদয়ের সমীপে করজোড়ে মিনতি করছি।
বিনীত নিবেদক
সর্বস্তরের সাজেক ভ্যালীবাসী
সদয় অবগতি ও সানুগ্রহ কার্যার্থে অনুলিপি:
১। মাননীয় মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
২। মাননীয় সংসদ সদস্য, ২৯৯ রাঙ্গামাটি পার্বত্য আসন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ঢাকা।
৩। মাননীয় চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
৪। মাননীয় চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
৫। মাননীয় জেলা প্রশাসক, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, রাঙ্গামাটি।
৬। মাননীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
৭। মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।
৮। সংরক্ষণ কপি।
উল্লেখ্য যে, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার হতদরিদ্র দুর্দশাগ্রস্থ হাজার হাজার আর্তপীড়িত মানুষ তাঁদের প্রথাগত প্রধান(রাজা)কে এ মুহূর্তে একেবারেই নিজেদের গৃহে অতিথি হিসেবে কাছে পেয়ে অপরিমেয় আনন্দাপ্লুত। তাঁদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক মানুষ অদ্যাবধি তাঁদের প্রথাগত অভিভাবককে কোনদিন কাছ থেকে দেখতে পাননি। তিনি(রাজা) নিজ থেকে সীমাহীন কষ্ট করে দুর্গম পাহাড়ের অন্দরে কন্দরে পায়ে হেঁটে ঘরের দরজায় তাঁদের দু:খ দুর্দশা স্বচক্ষে অবলোকণ করতে আসার জন্য অনেকে আনন্দ-বেদনার মিশ্রজলে ছল ছল চোখ মুচছেন। গিরিখাদের আড়ালে অসহায় অনাদরে পড়ে থাকা এ মানুষগুলো তাঁদের প্রিয় রাজার সুদীর্ঘ নিরোগ ও কর্মক্ষম আয়ুষ্কাল প্রার্থনা করছে।
পাশাপাশি তাঁরা আশা করছে- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিভেদ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, স্বাধীন স্বপ্নের সোনার বাংলার মুক্তির দিশারী ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, আপামর বঙ্গ জনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বাংলার বীর মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া ও অভূতপূর্ব গণবান্ধব জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহোদয় তাঁদের আগামী স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাত্রার জন্য একটি টেকস্ই ও লাগসই পদক্ষেপ গ্রহণসহ উপস্থাপিত আবেদন সহৃদয় বাস্তবানুগ বিবেচনা করবেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Dhaka