05/05/2026
উস্তায মুফতি মুতীউর রহমান হামিদী
ইমাম আবু হানিফা র. সহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমামগণের আক্বীদা গবেষক..
05/05/2026
25/04/2026
📢 সুখবর! সুখবর! সুখবর!
যে সকল উলামায়ে কেরাম এবং মাদ্রাসার ছাত্ররা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশুদ্ধ আকিদা সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে আগ্রহী—তাদের জন্য একটি বিশেষ সুখবর।
ইমামে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, মুতাকাল্লিমে ইসলাম
হযরত মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান (হাফিযাহুল্লাহ) আকিদা বিষয়ক একটি বিশেষ কোর্স চালু করেছেন।
যারা আগ্রহী, তারা পোস্টারে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
📌 সীমিত আসন — আগ্রহীদের দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।
বি.দ্র.
বাংলায় পোস্টার তৈরি করে শায়খ নিজেই পাঠিয়েছেন।
24/02/2026
হে আল্লাহ! আমাদেরকে রমজানের পরিপূর্ণ বরকত দান করুন আমীন
21/02/2026
২০ রাকাত তারাবিহ রাসূল ﷺ ও সাহাবাগণের সুন্নাহ
রমযান মাসে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় করা সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর যুগ থেকে প্রচলিত আমল। নীচে সহীহ সনদে বর্ণিত কিছু বিশুদ্ধ হাদীস উপস্থাপন করা হলো—
🌹 (১)
হযরত সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন:
উমর (রাঃ)-এর যুগে মানুষ রমযানে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করত।
📖 মুসনাদ ইবনে জাদ, হাদিস নং ২৮২৫
🌹 (২)
সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন:
আমরা উমর (রাঃ)-এর যুগে তারাবিহ পড়ে ফজরের নিকটবর্তী সময়ে শেষ করতাম। তখন ২৩ রাকাত (২০ তারাবিহ + ৩ বিতর) পড়া হতো।
📖 মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৭৩৩
🌹 (৩)
সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন:
উমর (রাঃ) রমযানে উবাই ইবন কা‘ব (রাঃ)-এর পেছনে লোকদের একত্র করেন। তারা ২১ রাকাত (২০ + ১ বিতর) আদায় করতেন।
📖 মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৭৭৩০
🌹 (৪)
শুতাইর ইবন শাকল (রহ.) রমযানে ২০ রাকাত ও বিতর আদায় করতেন।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৭৬৮০
🌹 (৫)
যায়েদ ইবন ওহব (রহ.) বলেন:
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) আমাদের নিয়ে রমযানে ২০ রাকাত পড়তেন এবং ৩ রাকাত বিতর আদায় করতেন।
📖 তাবারানি, মুজামুল কবির, হাদিস নং ৯৫৮৮
🌹 (৬)
আতা (রহ.) বলেন:
আমি লোকদের ২৩ রাকাত (২০ + ৩ বিতর) আদায় করতে দেখেছি।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৭৬৮৮
🌹 (৭)
নাফি‘ (রহ.) বলেন:
ইবন আবি মুলাইকা (রহ.) আমাদের নিয়ে রমযানে ২০ রাকাত পড়তেন।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৫
🌹 (৮)
আলী ইবন রাবিয়া (রহ.) রমযানে পাঁচ তারবীহা (অর্থাৎ ২০ রাকাত) এবং ৩ রাকাত বিতর আদায় করতেন।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৭৬৯০
🌹 (৯)
ইয়াযীদ ইবন রুমান (রহ.) বলেন:
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর যুগে মানুষ ২৩ রাকাত পড়ত।
📖 ফাতহুল বারী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩১৬
🌹 (১০)
ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহ.) থেকে বর্ণিত:
উমর (রাঃ) একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ দেন যেন তিনি লোকদের ২০ রাকাত পড়ান।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৫
🌹 (১১)
আবদুল আযীয ইবন রফী‘ (রহ.) বলেন:
উবাই ইবন কা‘ব (রাঃ) মদীনায় মানুষকে ২০ রাকাত ও ৩ রাকাত বিতর পড়াতেন।
📖 মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৫
🌹 (১২)
ইবরাহীম নাখাঈ (রহ.) বলেন:
লোকেরা রমযানে পাঁচ তারবীহা (২০ রাকাত) আদায় করতেন।
📖 কিতাবুল আছার, হাদিস নং ২১১
03/02/2026
🌙 লাইলাতুল বারা‘আত ( মুক্তির রাত) ১৫ শা‘বান রাত
ফযীলত, দলীল ও করণীয় — কুরআন-সুন্নাহর আলোকে
এই রাতের ফযীলত হাদীসে এসেছে। তবে মনে রাখতে হবে —
✔ নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতি নয়
✔ সমবেত বিশেষ অনুষ্ঠান নয়
✔ ব্যক্তিগত ইবাদতই সুন্নাহসম্মত
📖 ১️⃣ হাদীস — হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)
يَطَّلِعُ اللَّهُ إِلَى جَمِيعِ خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ
অর্থ:
আল্লাহ ১৫ শা‘বানের রাতে তাঁর সব সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।
📚 সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৬৬৫
📚 সিলসিলাতুস সহীহাহ (আলবানী)
📖 ২️⃣ হাদীস — “বনু কালব” বর্ণনা
فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ بَنِي كَلْبٍ
অর্থ:
আল্লাহ এত বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন যা বনু কালব গোত্রের ছাগলের পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
📚 তিরমিযী ৭৩৯
📚 ইবনে মাজাহ ১৩৮৫
📖 ৩️⃣ হাদীস — আয়েশা (রাঃ), দীর্ঘ সিজদার ঘটনা
هَذِهِ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، إِنَّ اللَّهَ يَطَّلِعُ فِيهَا عَلَى عِبَادِهِ فَيَغْفِرُ لِلْمُسْتَغْفِرِينَ وَيَرْحَمُ الْمُسْتَرْحِمِينَ وَيَدَعُ أَهْلَ الْحِقْدِ كَمَا هُمْ
অর্থ:
এটি অর্ধ শা‘বানের রাত। আল্লাহ বান্দাদের দিকে মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন, রহমতপ্রার্থীদের রহমত করেন এবং বিদ্বেষপোষণকারীদের তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেন।
📚 শু‘আবুল ঈমান (বাইহাকী)
📖 ৪️⃣ হাদীস — হযরত আলী (রাঃ)
إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا يَوْمَهَا
অর্থ:
অর্ধ শা‘বানের রাত এলে রাতটি ইবাদতে কাটাও এবং দিনে রোযা রাখো।
📚 ইবনে মাজাহ ১৩৮৪
🕌 ফুকাহায়ে কেরামের মত
চার মাযহাবের বহু আলেমের সিদ্ধান্ত:
✔ এ রাতে একাকী ইবাদত মুস্তাহাব
❌ কিন্তু সমবেত নতুন রীতি নয়
✅ করণীয়
নফল নামায
কুরআন তিলাওয়াত
যিকির, দরূদ
তওবা ও ইস্তিগফার
দু‘আ
শা‘বানের নফল রোযা (১৩, ১৪, ১৫)
📌 নির্দিষ্ট রাকাআতের বিশেষ নামায সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়।
❌ বর্জনীয়
আতশবাজি
আলোকসজ্জা
হালুয়া-রুটি ধর্মীয় রীতি বানানো
মাইকে শবীনা
সমবেত মিলাদ-কিয়াম
মেলা
বিশেষ জামাতে তাহাজ্জুদ বা সালাতুত তাসবীহ
🎯 সারসংক্ষেপ
এই রাত
✨ ক্ষমার রাত
✨ রহমতের রাত
মুফতী মতিউর রহমান হামিদী
🌙 শাবান ও শবে বরাত: বাড়াবাড়ি না ছাড়াছাড়ি — সঠিক পথ কোনটি?
✍️ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক (দা.বা.)
আমীনুত তালীম, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া, ঢাকা
(মাসিক আলকাউসার অবলম্বনে)
⚖️ সমস্যাটা কোথায়?
শবে বরাত নিয়ে সমাজে সাধারণত দুই ধরনের ভুল দেখা যায়—
১️⃣ বাড়াবাড়ি
এই রাতকে কেন্দ্র করে মনগড়া রসম-রেওয়াজ, নির্দিষ্ট নিয়ম বানিয়ে নামাজ, মিছিল-মাহফিল, মাইকিং, হালুয়া-রুটি কেন্দ্রিক সংস্কৃতি ইত্যাদি।
২️⃣ ছাড়াছাড়ি
অন্য একটি দল বলে—
❌ শবে বরাতের কোনো ভিত্তি নেই
❌ সব হাদীস জাল বা দুর্বল
❌ এই রাতের কোনো ফযীলত নেই
👉 উভয় পথই ভুল।
ইসলাম ভারসাম্যের দ্বীন।
✅ সঠিক ও মধ্যপন্থী অবস্থান
✔️ শবে বরাতের (১৫ শাবানের রাত) ফযীলত সহীহ ও হাসান হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
✔️ কিন্তু এ রাতকে শবে কদরের সমতুল্য ভাবা ভুল
✔️ আবার একে সাধারণ রাত মনে করাও ভুল
📜 মূল হাদীস (সংক্ষেপে)
রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
আল্লাহ তাআলা ১৫ শাবানের রাতে বান্দাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।
📚 বর্ণনাকারী: মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.)
📖 ইবনে হিব্বান, বাইহাকী, তাবারানী প্রমুখ
🔎 বহু মুহাদ্দিস এটিকে সহীহ/হাসান বলেছেন
এমনকি শায়খ আলবানী (রহ.) একাধিক সূত্র মিলিয়ে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
🕯️ এ রাতের করণীয় কী?
এই রাতের আমল ব্যক্তিগত, সম্মিলিত নয়।
✔️ যা করা যাবে
নফল নামাজ (দুই রাকাত করে)
দীর্ঘ সেজদা
কুরআন তিলাওয়াত
দরূদ শরীফ
ইস্তিগফার
দোয়া
তওবা
অন্তর পরিষ্কার করা (হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ)
❌ যা প্রমাণিত নয়
নির্দিষ্ট ১০০ রাকাত বা বিশেষ সূরা নির্ধারণ
সমবেত বিশেষ নামাজ
সারারাত মাইকিং
মিলাদ, ওয়াজ-মাহফিলকে এই রাতের বিশেষ আমল বানানো
🕌 মসজিদে ভিড় করা?
ফরজ নামাজ অবশ্যই জামাতে।
কিন্তু এ রাতের নফল আমল ঘরে একাকী করাই উত্তম।
সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ জন্য বিশেষ সমাবেশের প্রমাণ নেই।
🌞 ১৫ শাবানের রোযা?
এই দিনের রোযা নিয়ে যে হাদীস আছে তা দুর্বল।
তবে—
✔️ এটি আইয়ামে বীয (১৩,১৪,১৫) এর অন্তর্ভুক্ত
✔️ শাবান মাসে বেশি রোযা রাখার সহীহ হাদীস আছে
26/01/2026
পোস্ট–১
নাসিরুদ্দীন আলবানী: বিতর্ক, বাস্তবতা ও প্রশ্ন
বর্তমান যুগে তথাকথিত আহলে হাদীস চিন্তাধারাকে নতুন করে আলোচনায় আনতে বড় ভূমিকা রেখেছেন মরহুম নাসিরুদ্দীন আলবানী। অথচ তার জীবন ও কর্ম পর্যালোচনা করলে বিস্ময়কর কিছু বাস্তবতা সামনে আসে।
আলবানী সাহেব ছিলেন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত। বসবাস করতেন সিরিয়ায়। তার পিতা নূহ নাজাতী রহ. ছিলেন হানাফী মাযহাবের একজন প্রসিদ্ধ আলেম। কিন্তু ছেলের বিতর্কিত চিন্তাধারা ও আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজ সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন।
আলবানী সাহেবের মতবাদ নিয়ে সিরিয়ার আলেম সমাজ ও সাধারণ জনগণ চরম অসন্তুষ্ট ছিল। এক পর্যায়ে তাকে সিরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। সেখানেও আলেম ও জনসাধারণের বিরোধিতার মুখে ১৯৯১ সালে সরকারী নির্দেশে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করতে বাধ্য হন। অবশেষে তিনি জর্ডানে আশ্রয় নেন এবং ১৯৯৯ সালে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তার কোনো নিয়মতান্ত্রিক উস্তাদ ছিল না। ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও গবেষণার ওপর নির্ভর করেই তিনি ফতোয়া ও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তার একটি আলোচিত কাজ হল হাদীসকে সহীহ ও যঈফ ভাগে সংকলন করা। কিন্তু এখানেই বড় আপত্তি রয়েছে।
তিনি যঈফ হাদীসের সাথে মউযূ (জাল) হাদীসকে একাকার করে একটি কিতাব সংকলন করেন—
سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة
অথচ যঈফ আর মউযূ এক জিনিস নয়।
মউযূ হাদীস হাদীসই নয়, বরং রাসূল ﷺ–এর নামে বানানো মিথ্যা।
আর যঈফ হাদীস হাদীসই, দুর্বলতা থাকে সনদে, হাদীসে নয়।
যঈফ হাদীস একাধিক সনদে এলে হাসান লিগাইরিহী হয়, হুকুম সাবেত হয়। এমনকি উম্মতের গ্রহণযোগ্যতার কারণে বহু যঈফ হাদীস মা’মূলবিহী হয়েছে। তাহলে যঈফ আর মউযূকে এক কাতারে ফেলা কতটা বৈজ্ঞানিক?
এই স্ববিরোধিতা ও পক্ষপাতমূলক তাহকীকের কারণে আজ আরব বিশ্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক কিতাব রচিত হয়েছে। এর মধ্যে তানাকুযাতে আলবানী গ্রন্থে তার একই সনদকে কখনো সহীহ, আবার মতবিরোধ হলে যঈফ বলার বহু উদাহরণ দলীলসহ তুলে ধরা হয়েছে।
হাদীসের খেদমত আবেগ দিয়ে নয়, উসূল ও আমানতের সাথে করতে হয়। নচেৎ খেদমতের নামে বিভ্রান্তিই ছড়ায়।
Big shout out to my newest top fans! Najmul Hasan Niloy
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Website
Address
Dhaka