Al-Zahra Academy

Al-Zahra Academy

Share

Al-Zahra Academy is an Online learning Platform only for women.

17/04/2024

আসসালামু আলাইকুম। মা-বোনদের জন্য স্পেশাল কোর্স "নারীদের জন্য যা জানা অপরিহার্য " আগামীকাল ১৮ এপ্রিল ২০২৪ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

🕓সময়ঃ
প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা হতে ৩:৩০ মিনিট।
এবং প্রতি শনিবার সকাল ১০ টা হতে ১১:৩০ পর্যন্ত।

🌟ক্লাসগুলো জুম অ্যাপের মাধ্যমে নেয়া হবে। তাই সবাই প্লে স্টোর থেকে জুম অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবেন। প্রত্যেকটি লাইভ ক্লাসের লিঙ্ক Whatsapp গ্রুপে যথাসময়ে দেয়া হবে।

সকলকে 🔴লাইভ ক্লাসে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

02/04/2024

রমজানুল কারিমের শেষ ১০ দিনের ১০টি মাসনুন আমল-

* রমজানের সাধারণ আমলগুলো এই দশকে আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে সম্পাদন করা।
* ইতিকাফ করা।
* ইবাদতের জন্য রাত্রিজাগরণ করা।
* পরিবারের সদস্যদের রাত্রিজাগরণে উদ্বুদ্ধ করা।
* কোমর বেঁধে ইবাদতে মশগুল হওয়া বা ইবাদতের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
* অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ইবাদতের জন্য অধিক পরিমাণ সাধনা করা।
* প্রতি রাতে বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদরের আশায় ইবাদত করা।
* শবেকদরের দোয়া পড়া। আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
* ঈদের চাঁদ অনুসন্ধান করা ও চাঁদ দেখার দোয়া পড়া।
* সাদকাতুল ফিতর আদায় করা।

25/03/2024
24/03/2024

শিডিউল পরিবর্তন!!
___________________

আল-জাহরা একাডেমি কর্তৃক শুরু হতে যাচ্ছে নারীদের জন্য স্পেশাল কোর্স!

🔲বিষয়: "নারীদের জন্য যা জানা অপরিহার্য"

🔲প্রশিক্ষকঃ শাইখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম মাদানী।

🔲কোর্সের মেয়াদঃ ০৩ মাস।

প্রতি সপ্তাহে ২টি করে ক্লাস হবে।
প্রতিটি ক্লাস ১:৩০ মিনিট (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) করে হবে ইনশাআল্লাহ।

🔲পরিবর্তিত ক্লাস শুরুর তারিখঃ ১৮ এপ্রিল ২০২৪

🔲সময়ঃ
প্রতি বৃহস্পতিবার- ০২:০০-০৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত
প্রতি শনিবার- সকাল ১০:০০-১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত।

🔲কোর্সটি যাদের জন্য :
সকল শ্রেণি-পেশার মা-বোনগণ কোর্সটি করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

🔲কোর্সে যা থাকছেঃ
♦২৪টি লাইভ ক্লাস।
♦ প্রতিটি ক্লাস শেষে Whatsapp গ্রুপে রেকর্ডেড ভিডিও প্রদান।
♦প্রতি মাসে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণ।
♦তৃতীয় মাস শেষে ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ।
♦ফাইনাল পরীক্ষায় যারা ৬০% বা এর উর্দ্ধে মার্ক পাবে, একাডেমির পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
♦ফাইনাল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত প্রথম ৩জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান।

🔲ক্লাস মাধ্যমঃ ZOOM Application

🔲কোর্স ফিঃ ৩০০৳ মাত্র।

🔲কোর্স ফি পাঠানোর মাধ্যমঃ
01841190881 (bkash/nagad/Celfin)

🔲কোর্সটিতে ভর্তি হতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্মটি পূরণ করে জমা দিন/Submit করুন। অথবা ছবির ডান পাশে Apply Now বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি সাবমিট করুন।
https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSciQLXC7FTrvb-6E7TsZUd6l3MRkJYtAQQ5wo5z-cagAIXo7w/viewform

কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কল করুনঃ
01619601371

10/03/2024

আমাদের আল-জাহরা একাডেমির প্রধান এডমিন জ্বরে আক্রান্ত থাকায় আমাদের ক্লাসটি যথাযথ তারিখে শুরু হয়নি। তাই আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

01/03/2024

জরুরী ঘোষণা!!
আগামীকাল (০২/০২/২৪) থেকে কোর্সটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশঃত এক সপ্তাহ পেছানো হলো। কোর্স শুরুর পরিবর্তিত তারিখ ০৯/০২/২০২৪। সকলকে লাইভ ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হলো। সবাইকে নিজ নিজ হোয়াটসএপ নম্বরে হোয়াটসএপ গ্রুপ লিঙ্ক পাঠানো হয়েছে, যদি এখনো কেউ গ্রুপে যুক্ত না হয়ে থাকেন, দয়া করে হোয়াটসএপ ইনবক্স চেক করবেন এবং গ্রুপে যুক্ত হয়ে যাবেন।

আগামী ৮/০২/২৪ তারিখ পর্যন্ত ভর্তির সময় বাড়ানো হলো, যারা এখনো ভর্তি হননি দ্রুত ভর্তি হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

-জাযাকুমুল্লাহ খাইর।

29/02/2024

ইতিমধ্যে যারা আল-জাহরা একাডেমির নারীদের জন্য স্পেশাল কোর্স: নারীদের জন্য যা জানা অপরিহার্য” কোর্সটিতে ভর্তি হয়েছেন সকলকে অভিনন্দন! আপনাদের প্রত্যেককেই Whatsapp গ্রুপ লিঙ্ক পাঠানো হয়েছে, অনুগ্রহ করে ইনবক্স চেক করবেন এবং দ্রুত গ্রুপে যুক্ত হয়ে যাবেন। বারাকাল্লাহু ফিকুম।

30/01/2024

আল-জাহরা একাডেমি কর্তৃক শুরু হতে যাচ্ছে নারীদের জন্য স্পেশাল কোর্স!

🔲বিষয়: "নারীদের জন্য যা জানা অপরিহার্য"

🔲প্রশিক্ষকঃ শাইখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম মাদানী।

🔲কোর্সের মেয়াদঃ ০৩ মাস।

প্রতি সপ্তাহে ২টি করে ক্লাস হবে।
প্রতিটি ক্লাস ১:৩০ মিনিট (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) করে হবে ইনশাআল্লাহ।

🔲ক্লাস শুরুঃ ০২ মার্চ ২০২৪

🔲সময়ঃ
প্রতি শনিবার- ১০:০০-১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত।
প্রতি বৃহস্পতিবার- ০২:০০-০৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত

🔲কোর্সটি যাদের জন্য :
সকল শ্রেণি-পেশার মা-বোনগণ কোর্সটি করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

🔲কোর্সে যা থাকছেঃ
♦২৪টি লাইভ ক্লাস।
♦ প্রতিটি ক্লাস শেষে Whatsapp গ্রুপে রেকর্ডেড ভিডিও প্রদান।
♦প্রতি মাসে অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণ।
♦তৃতীয় মাস শেষে ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ।
♦ফাইনাল পরীক্ষায় যারা ৬০% বা এর উর্দ্ধে মার্ক পাবে, একাডেমির পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
♦ফাইনাল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত প্রথম ৩জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান।

🔲ক্লাস মাধ্যমঃ ZOOM Application

🔲কোর্স ফিঃ ৩০০৳ মাত্র।

🔲কোর্স ফি পাঠানোর মাধ্যমঃ
01841190881 (bkash/nagad/Celfin)

🔲কোর্সটিতে ভর্তি হতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্মটি পূরণ করে জমা দিন/Submit করুন। অথবা ছবির ডান পাশে Apply Now বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি সাবমিট করুন।
https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSciQLXC7FTrvb-6E7TsZUd6l3MRkJYtAQQ5wo5z-cagAIXo7w/viewform

কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে কল করুনঃ
01619601371

29/01/2024

জরুরী ঘোষণা!

আল-জাহরা একাডেমি কর্তৃক শুরু হতে যাওয়া “নারীদের জন্য যা জানা অপরিহার্য” শিরোনামের কোর্সটির শুরু হওয়ার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

পরিবর্তীত তারিখ: 02 মার্চ 2024
এবং কোর্স ফি আরো কমানো হয়েছে।
এখন মাত্র ৩০০৳ টাকাতেই এই মূল্যবান কোর্সটিতে ভর্তি হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

28/01/2024

নারী শিক্ষা সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যেসব গুণের জন্য ইসলাম পৃথিবীর মানুষের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন হিসেবে পরিচিত, সমতা তার মধ্যে একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। ইসলাম নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা অত্যন্ত জোরের সাথে ব্যক্ত করেছে।[1] মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَمَن يَعۡمَلۡ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُونَ نَقِيرٗا ١٢٤ ﴾ [النساء: ١٢٤]

‘‘পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎ কাজ করলে ও মুমিন হলে তারা জান্নাতে দাখিল হবে এবং তাদের প্রতি অনু পরিমাণও জুলুম করা হবে না।’’[2] পরকালে জান্নাতের চির শান্তি লাভের উপায় হিসেবে দুনিয়াতে আমাদের জন্য নাযিল হয়েছে দ্বীন। সুতরাং ইলমে দ্বীন জানা প্রত্যেক নর নারীর উপর একান্ত জরুরী।[3] এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন,

﴿قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٩ ﴾ [الزمر: ٩ ]

‘‘বল! যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।’’[4]

জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান বিকাশের পৃষ্ঠপোষকতা মুসলিমদের জন্য অবশ্য করণীয় বা ফরয। নারী পুরুষ ভেদে ইসলামের শিক্ষা (জ্ঞান অর্জন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ইলম তলব করা প্রত্যেক মুসলিমের (নর নারী) জন্য ফরয।’’[5]

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা নারী পুরুষ সকল বিশ্বাসীকে লক্ষ্য করে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি শুধু জ্ঞানার্জনের তাকীদই দেননি, জ্ঞানার্জনের মর্যাদার বিষয়টিও আল্-কুরআনে একাধিকবার ব্যবহার করেছেন,

﴿يَرۡفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ دَرَجَٰتٖۚ ﴾ [المجادلة: ١١]

‘‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ্ তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন।’’[6]

জ্ঞানের মর্যাদা সম্পর্কে হাদীসে আরও বর্ণিত আছে, ‘‘যে ব্যক্তি ইলম তলব করার উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করেছে আল্লাহ তা‘আলা তার দ্বারা তাকে বেহেশতের পথ সমূহের একটি পথে পৌঁছে দেন।’’[7]

এ উক্তিটি ভেবে দেখার মত। কেননা জ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, সাধনা, ত্যাগ ও ধৈর্যের ফলে দ্বীনী জ্ঞান বিজ্ঞান সংরক্ষিত হয়ে অনাগত ভবিষ্যত বংশধরদের নিকট পৌঁছায়।[8]

নর নারী উভয়েরই বিদ্যা শিক্ষার অধিকার অবশ্যই আছে। আত্মিক উৎকর্ষ সাধন যা মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য এবং এর সাথে সঙ্গতি রেখেই জাগতিক উন্নতি ও কল্যাণ অর্জনের জন্য সে বিদ্যা ও জ্ঞান আদি নর নারীকে দেওয়া হয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করে চিন্তা, গবেষণা ও অনুশীলনের দ্বারা উত্তম জ্ঞান বুদ্ধিকে উত্তম কাজে লাগানোর স্বত্বাধিকার উভয়েরই আছে। বিদ্যা ও জ্ঞান অতি প্রয়োজনীয় বস্তু, এমনকি এটা ছাড়া মানুষ স্বীয় দ্বীনও সঠিকভাবে পালন করতে পারে না। তাই উত্তম দ্বীনী বিদ্যা ও জ্ঞানের বিষয় যদি সুদূর কোনো দেশেও থাকে, তবে সেখানে গিয়ে হলেও তা অর্জন করার তাকীদ রয়েছে।[9] আর দ্বীনের ইলম যারা হাসিল করেনি তাদের আমলও সঠিক হয় না।[10]

মহিলাদের প্রাথমিক শিক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ স্থান হলো গৃহ। তাই পিতামাতা যাতে কন্যাদেরকে এবং স্বামী যাতে স্ত্রীকে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে শেখায় এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, ইসলাম সেদিকে তাদের দৃষ্টি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছেঃ

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا ﴾ [التحريم: ٦]

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও।’’[11] এ আয়াতের অর্থ আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এভাবে করেছেনঃ

علموا أنفسكم وأهليكم الخير وأدبوهم

‘‘তোমরা নিজেরা শেখ এবং পরিবারবর্গকে শেখাও সমস্ত কল্যাণময় রীতি-নীতি এবং তাদের আদব শিক্ষা দাও এবং এসব কাজে অভ্যস্ত করে তোল।’’[12]

>
[1] .ড. মোঃ আজহার আলী, শিক্ষার ইতিহাস, (ঢাকা, বাংলা একাডেমী, ডিসেম্বর ১৯৮৬), পৃ. ২১১।

[2] সূরা আন্-নিসা : ১২৪।

[3] প্রিন্সিপাল মাওলানা আকবর, বেগম নূরজাহান, বাংলাদেশে মহিলা মাদ্রাসা আন্দোলন, (ঢাকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮), পৃ. ৬।

[4] সূরা আয্-যুমার : ৯।

[5] মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ, ইবনু মাজাহ্, কিতাবুল ইলম, হাদীস নং ২২৪।

[6] .সূরা মুজাদালাহ্ : ১১।

[7] .ইমাম মহিউদ্দীন আন্-নববী, কিতাবুল ইলম্, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩৪।

[8] .ফযিলা তাহের, মেয়েদের ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, মাসিক দারুস সালাম, ঢাকা, দারুস সালাম, ডিসেম্বর জানুয়ারী ১৯৯৯, পৃ. ১২।

[9] .‘সুদূর কোন দেশে গিয়ে হলেও বিদ্যা অর্জনের তাকীদ’ সংক্রান্ত বিষয়টির দলিল হিসেবে বলা হয়, ‘‘সুদূর চীনে গিয়ে হলেও জ্ঞানান্বেষণ কর’’ থেকে। এ কথা হাদীস হিসাবে আমাদের সমাজে প্রচলিত। প্রকৃতপক্ষে, এটি আদৌ হাদীস কি-না, হাদীস বিশারদগণ যুগ যুগ ধরে এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ এর সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বা‘য়ীফাহ, প্রথম খন্ডে ৪১৩ পৃষ্ঠায় এ ব্যাপারে লিখেছেন, ‘হাদীসটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নবী কারীম (সাঃ)-এ কথা বলেননি।’

[10] প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আকবর, বেগম নূরজাহান, পূর্বোক্ত, পৃ. ৭।

[11] .আল্-কুরআন, সূরা আত্-তাহরীম : ৬।

[12] .আল্লামা শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, ৫ম খণ্ড, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪৬।

16/01/2024

জ্ঞানচর্চায় মুসলিম নারীদের অবদান - ১
---------------------------------------------------------
জ্ঞান চর্চায় মহিলাদের মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর নাম সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।[1] তিনি কুরআন, হাদীস ইসলামী আইন প্রভৃতি বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। যে আট জন সাহাবী সর্বাধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তৃতীয়। অনেক বিশিষ্ট সাহাবী ও তাবিয়ী তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ‘আসমাউর রিজাল’ নামক গ্রন্থগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে এক হাজার সাহাবীর জীবন বৃত্তান্ত লেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫০ জন মহিলা। এ থেকে অনুমান করা যায় তৎকালে নারী শিক্ষার উপর কতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল।[2]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর মহিলার নিকট লিখন পদ্ধতি শিক্ষা করতেন।[3] বালাযুরী বলেন, আব্দুল্লাহর কন্যা আশ-শিফা ইসলামের পূর্বে লিখন পদ্ধতি শিখেছিলেন।[4] তিনি আরও বলেন, ইসলামের প্রাথমিককালে মক্কায় যে ১৭ জন লেখাপড়া জানতেন, তাদের মধ্যে ৫ জন মহিলা ছিলেন।[5] তিনি শুধু নারীদের নয় পুরুষদেরও শিক্ষয়িত্রী ছিলেন, বড় বড় সাহাবী ও তাবিয়ী তাঁর নিকট হতে হাদীস, তাফসীর ও জরুরী মাসায়েল শিখতেন। হাদীসে এসেছে, ‘‘আবু মুসা বলেন, আমরা রাসূলের সাহাবীগণ যখনই কোনো সমস্যায় পতিত হয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে জিজ্ঞাসা করেছি তখনই তাঁর নিকট থেকে সেই বিষয়ে ইলম্ লাভ করেছি।’’[6]

অপর একজন আয়েশা যিনি সা‘দের কন্যা ছিলেন, তিনি তার পিতার নিকট লেখাপড়া শিখতেন।[7]

মহিলাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ লাভের সঠিক, উপযুক্ত ও উত্তম ক্ষেত্র হচ্ছে তাদের ঘর ও পারিবারিক পরিবেশ। এ কারণে তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রথমত পিতা-মাতা ও স্বামীর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখানা নির্দেশের ভাষা এই- ‘‘তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গের নিকট চলে যাও, তাদের সঙ্গে বসবাস কর, তাদের জ্ঞান শিক্ষা দাও এবং তদনুযায়ী আমল করার জন্য তাদেরকে আদেশ কর।’’[8]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূণ্যশীলা স্ত্রীগণ সকলেই শিক্ষিত ছিলেন। মহিলা সাহাবীগণও শিক্ষিত ছিলেন। তাদেরই প্রজ্জ্বলিত শিক্ষার আলো সমস্ত মুসলিম জাহানের মহিলাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।[9] মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিরোধানের[10] পর তার অনুসারীগণ, ইসলামের খলিফাগণ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সম্রাটগণ মানুষের মাঝে ইসলামের মহাত্মা প্রচারকে সার্থক করে তোলেন। সমাজের উন্নতি ত্বরাণ্বিত করার মানসে নারীরা পুরুষদের সাথে তাদের কর্তব্য পালনে কর্মসূচী গ্রহণ করেন।[11]

পুরুষরা যেভাবে শিক্ষিত ও জ্ঞানী গুণী হয়ে কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক হয়েছিলেন, যেভাবে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা করে চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদিতে নিবেদিত প্রাণ হয়ে গবেষণা করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, তারকারাজীর তত্ত্ব ও তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় আবিষ্কার করে তাদের মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন, তেমনই পুরুষের সঙ্গে নারীরাও শিক্ষিত হয়ে সাহিত্যি, সংস্কৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের অনন্য অবদান রেখে গেছেন।[12]

রাজনীতির ক্ষেত্রে আরব জাহানে ইসলামের অনেক প্রতিভাবতী মহিলার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, যা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ। তাদের মধ্যে উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা অন্যতম। প্রথম ও দ্বিতীয় খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও ফারুকে আযম উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর সঙ্গে পরামর্শ করতেন এবং তার সিদ্ধান্তকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিতেন। শিফা বিনতে আব্দিল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এর সিদ্ধান্তকে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অনুমোদন করতেন। তিনি মহিলা বিষয়ক কোনো কোনো সরকারি কাজের দায়িত্ব শিফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে দিতেন।

কুরআনের তাফসীর বর্ণনা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনায়, হাদীসের ব্যাখ্যায় সারা বিশ্বে মুসলিম জননীগণ বিশেষতঃ উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সমস্ত মহিলা সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-দের তুলনায় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।[13]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ২২১০ খানা হাদীস বর্ণনা করেছেন[14]। আর ৩৭৮ খানা হাদীস উম্মূল মু’মিনীন উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া উম্মে আতিয়া, আসমা বিনতে আবু বকর, উম্মে হানী এবং ফাতিমা বিনতে কায়েস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রমুখ মহিলা বহু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফিকহ বিদ্যায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা কর্তৃক এত অধিক ফাতওয়া রয়েছে, যা একত্রিত করলে বৃহৎ গ্রন্থ হয়ে যেতে পারে।[15]

অনুরূপ উম্মে সালমা কর্তৃক বর্ণিত ফাতওয়াসমূহও একখানা পুস্তিকার আকার পেতে পারে। ফারায়েয বিষয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ও অন্যান্য মহিলা সাহাবী হাদীস, ফিকহ, তাফসীর, ফারায়েয, কিরাআত ইত্যাদি বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তারা অনেকে কুরআনের হাফিযা ছিলেন।[16]

হিন্দ বিনতে উবায়েদ, উম্মে ইমাম বিনতে হারিসা, রাবিতা বিনতে হায়্যান, উম্মে সা‘দ ইবনে রবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রমুখ মহিলা সাহাবী পবিত্র কুরআনের বেশিরভাগ আয়াতের হাফিযা ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্-কুরআনুল কারীম দারস দিতেন। সহীহ্ মুসলিমের শেষাংশে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা কর্তৃক তাফসীরের কতকাংশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এতদ্ব্যতীত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে শুরাইক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে আতিয়া, আসমা বিনতে আবু বকর, লায়লা বিনতে কায়েস, খাওলা বিনতে তবীব, উম্মে দারদা, আতিকা বিনতে যায়েদ, সাহল বিনতে সুহাইল, ফাতিমা বিনতে কায়েস, যায়নাব বিনতে আবু সলিমা, উম্মে আয়মান, উম্মে ইউসুফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রমুখ যথাক্রমে পূণ্যশীলা মুসলিম জননীগণ, খাতুনে জান্নাত এবং মহিলা সাহাবীগণও বহু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা একত্রিত করলে কয়েকখান সুবৃহৎ গ্রন্থ হতে পারে। মজলিসে বয়ান ও বক্তৃতায় আসমা বিনতে সাকান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যশস্বী ছিলেন। স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে আসমা বিনতে উমায়েস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা অনন্য ছিলেন। তাদের মধ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে কুলসুম বিনতে উক্‌বা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, করীমা বিনতে আল্-মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ভাল লেখাপড়া জানতেন এবং তারা গভীর জ্ঞানের অধিকারিণী ছিলেন।[17]

মুসলিম মহিলাগণ সাহিত্য চর্চায়ও অগ্রগামী হয়ে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন। অবশ্য ইসলামী যুগ থেকে আরবের নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সাহিত্য সাধনায় উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিদ্যমান ছিল। সেখানে জাকজমকের সাথে কবিতার মজলিস বসতো। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নিজে কবিদের আসরে প্রধান অতিথি হতেন অথবা সভাপতির আসন গ্রহণ করে আসরে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তার সুযোগ্য কন্যা উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা কবিতা রচনা করতেন। তিনি বহু কবিতা কণ্ঠস্থ করেছিলেন এবং কবিতা আবৃত্তি করতেন। অন্যদের মধ্যে খানসা, সওদা, সুফিয়া, আতিকা, উমামা, মুরদিয়া, হিন্দ বিনতে হারিস, যয়নাব বিনতে আওয়ান, আতিকা বিনতে যায়েদ, হিন্দ বিনতে আনাস, উম্মে আয়মান, করিলা, আবদারিয়া, কসবা বিনতে রাফে, মায়মূনা, বালাবিয়া, নেয়াম, রুকাইয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রমুখ মহিলা কবিতায় অতিশয় খ্যাতি লাভ করেন। খানসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এর মত প্রতিভাবান মহিলা কবি সে যুগে পৃথিবীর বুকে বিরল। তার কবিতা পুস্তকাকারে ছাপানো হয়েছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বিদূষী কবি, ঐতিহাসিক ও একজন শক্তিশালী বক্তা ছিলেন। কেবলমাত্র তাঁর বহুমুখী প্রতিভা বিভিন্ন ঐতিহাসিকের উদ্ধৃতি ও বর্ণনা থেকে নিয়ে তাঁর জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছে।[18]

মুসলিম নারী ও পুরুষগণ উভয়েই সাধারণ শিক্ষার পর অনেকেই কারিগরী বিদ্যার বিভিন্ন শিল্প কাজে ও বাণিজ্যে, সেলাইয়ের কাজে, দ্রব্যশিল্পে, চামড়া রং এর কাজে, পশু পালনে,এমনকি হিসাব কিতাবে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ঐ সময়ে প্রায় সকল আরব মহিলা সাধারণভাবে নিজ নিজ কাজে মহিলারা অভিজ্ঞ ছিলেন। মুসলিম জননী সওদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তায়েফের চামড়া প্রস্তুত করার পদ্ধতি জানতেন।[19]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে আরবের প্রায় সমস্ত তীব্ব বিদ্যার বিশেষজ্ঞরা তাঁর চিকিৎসার ব্যাপার যা আলোচনা করতেন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাই মনে রাখতেন। এই সময়ে ইবনে বালদা লতা-পাতা দ্বারা বর্তমান যুগের কবিরাজ হেকিমদের মত রোগের চিকিৎসা জানতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সংশ্রবে থেকে মুসলিম জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বিভিন্ন রোগের ওষুধ সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করে পরবর্তীকালে তা মুসলিম মহিলাগণকে শিক্ষা দেন। মহিলাগণ যাঁরা ইলমে তীব্ব ও রোগী শুশ্রুষায় পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন, তাদেরকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে মুজাহিদ সৈন্যদের সেবা-শুশ্রুষার কাজেও নিয়োগ করা হতো।[20] সাহাবী উরওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেছেন, ‘‘আমি উম্মূল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে অন্য কোনো মহিলাকে ইলমে তীব্ব ও অস্ত্রপচার বিদ্যার অতীব পারদর্শী হতে দেখিনি।[21]

মহিলা সাহাবীগণ তাঁদের যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা, উপলব্ধি ও দূরদৃষ্টি বলেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি মুসলিম জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়িম (র.) বলেছেনঃ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সকল সাহাবীর ফতোয়া সংরক্ষিত আছে তাঁদের সংখ্যা একশত ত্রিশের কিছু বেশী হবে। এদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাঁদের মধ্যে আবার সাতজনের ফতোয়ার সংখ্যা এত বেশী যে, আল্লামা ইবনে হাযমের মতে তাদের ফতোয়াগুলো পৃথকভাবে একত্র করলে প্রত্যেকেরই একটি করে বিরাট গ্রন্থ হয়ে যাবে। এই সাতজনের মধ্যে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর মত ব্যক্তির সাথে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাও অন্তর্ভুক্ত।

ফতোয়া দানকারী সাহাবীদের দ্বিতীয় সারিতে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ও উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর মত মহিলা সাহাবীও রয়েছেন।

ফতোয়া দানকারী তৃতীয় আরও একদল সাহাবী আছেন। তাঁদের ফতোয়ার সংখ্যা খুব কম। এসব সাহাবীদের মধ্যে হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু প্রমুখের মত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এই দলের মধ্যে উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, লায়লা বিনতে কায়েস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, আসমা বিনতে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে শরীফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, খাওলা বিনতে তাওরীত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, ফাতেমা বিনতে কায়েস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, যায়নাব বিনতে উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে আয়মান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উম্মে ইউসুফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, গামিদিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা প্রমুখ মহিলা সাহাবীগণও অন্তর্ভুক্ত আছেন।[22]

জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য ছোট ও বড় নারী ও পুরুষ এবং কাছের ও দূরের সব রকমের লোকই মহিলা সাহাবীদের শরণাপন্ন হয়েছেন। মুসলিম উম্মাহ এসব মহীয়িসী নারীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে তাদের সামনে সত্যকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। নিজেদের জ্ঞান-পিপাসা নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর কাছে কত লোক যে আসা-যাওয়া করতো আয়েশা বিনতে তালহার বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন:

كان الناس يأتونها من كل مصر.

‘‘প্রত্যেক শহর ও জনপদ থেকেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর কাছে লোক আসতো।’’[23]

হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায় যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা, উমর, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর এবং আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর মত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী সাহাবীদের ইজতিহাদী রায়েরও সমালোচনা করে তাঁদের চিন্তা ও ধ্যান-ধারণাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।

সাহাবীদের মধ্যে হাদীসের অনেক বড় বড় হাফিয ছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-ও তাঁদের একজন। আবূ হুরায়রা, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর এবং আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছাড়া আর কোনো সাহাবীর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা এত অধিক নয়।[24]

আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর মত পণ্ডিত ও ফিকহবিদ সাহাবীও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তাঁর নিজের এবং তাঁর মতই আরও অনেকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেছেনঃ

ما أشكل علينا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث قط فسألنا عائسة إلا وجدنا عندها منه علما.

‘‘আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা কোনো হাদীস নিয়ে সমস্যায় পড়লে সে বিষয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-কে জিজ্ঞাসা করতাম এবং তাঁর কাছ থেকে সে ব্যাপারে কোনো না কোনো জ্ঞান অবশ্যই লাভ করতাম।’’[25]

[1] উম্মূল মু’মিনীন, আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) ইসলামী জ্ঞানে ছিলেন অদ্বিতীয়া। এমনকি প্রাচীন আরবের অবস্থা এবং প্রাচীন আরবী কাব্য সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল। উরওয়া বলেন, তাঁর মত অধিক কবিতা মুখস্থকারী আমি আরবে আর কাউকে দেখিনি। তিনি সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়া। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২২১০। (মুফতী আমিমূল ইহসান, আসমাউর রিজাল, (ঢাকা, আল বারাকা লাইব্রেরী, ১৯৮৩), পৃ. ২২-২৩।

[2] মুফতী আমিমূল ইহসান, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭।

[3] আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশ‘আছ, কিতাবুত তিবিব, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৮০।

[4] বালাযুরী, ফতুহুল বুলদান, (কায়রো, ১ম সংস্কার, তা. বি.), পৃ. ৪৭২।

[5] আল্লামা শিবলী, সিরাতুন্নবী, (উর্দূ টেক্সট), (আলী গড়, ২য় খণ্ড, ১৩৭৫ হি.), পৃ. ৪০৯।

[6] ইমাম মহিউদ্দীন আন্-নববী, পূর্বোক্ত, পৃ. ৫৩৪।

[7] Tuta Khalil, The contribution of the Arabs to education, (New York, 1926), P. 79.

[8] মুহাম্মদ আব্দুর রহীম, নারী, পূর্বোক্ত, পৃ. ৫১-৫২।

[9] ফজলুর রহমান খান, ইসলামে শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাংলাদেশ, (ঢাকা , ১ম সংস্করণ, জানুয়ারী ১৯৯২), পৃ. ৮১।

[10] নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর ৬৩ বছর বয়সে ১১ হিজরীতে ১২ রবিউল আউয়াল, মুতাবিক ৮ই জুন, ৬৩২ খ্রীঃ সোমবার দ্বিপ্রহরে মসজিদে নববীর হুজরায় উম্মূল মু’মিননীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-এর জন্য নির্দিষ্ট গৃহে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান, ইসলামের ইতিহাস, (ঢাকা, গ্লোব লাইব্রেরী (প্রা.) লি., ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৯৯৫), পৃ. ১৩৬।

[11] ডা. মোঃ আযহার আলী, শিক্ষার ইতিহাস, পূর্বোক্ত, পৃ. ২১১।

[12] ফজলুর রহমান খান, পূর্বোক্ত, পৃ. ৮১।

[13] ইবনে সা’দ, ২য় খণ্ড, পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৬।

[14] মুফতী আমিমূল আহসান, তারিখু ইলমিল হাদীস, (ঢাকা, মুফতি মঞ্জিল, তা. বি.), পৃ. ২১।

[15] ইবনে কাইয়ুম জাওজিয়া, ১ম খণ্ড, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৩।

[16] ইবনে হাজার আস কালানী, ৯ম খণ্ড, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৪৭।

[17] আবুল হাসান আল্-বালাযুরী, ফতহুল বুলদান, (কায়রো, বৈরূত, দারুল মাকতাবাতিল হিলাল, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৮), পৃ. ৪৭৭-৪৭৮।

[18] ফজলুর রহমান খান, পূর্বোক্ত, পৃ. ৮৪-৮৫।

[19] .আবু আব্দুল্লাহ্ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৬৬।

[20] .ফজলুর রহমান খান, পূর্বোক্ত, পৃ. ৮৪-৮৫।

[21] .মুহাম্মাদ ইবনে সা‘দ, পূর্বোক্ত, পৃ. ৩৭৫।

[22] ইবনুল কাইয়্যেম আল জাওজিয়া, ইলামূল মুয়াককিয়ীন, ১ম খণ্ড, কুর্দঃ মাতবা‘আ ফায়জুল্লাহ আল কুর্দী, ১৩২৫ হিঃ, পৃ. ৯-১১।

[23] বুখারী, আল্-আদাবুল মুফরাদ, বৈরুতঃ দারুল বাশায়ের আল ইসলামিয়্যাহ্, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৯, পৃ. ৩৮২।

[24] ইবনু ইমাদ হাম্বলী, শাজারাতুয্ যাহাব, ১ম খণ্ড, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৩।

[25] তিরমিযী, জামিউত তিরমিযী, ২য় খণ্ড, আবওয়াবুল মানাকিব, প্রাগুক্ত, পৃ. ২২৭।

11/01/2024

আল-জাহরা একাডেমির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যঃ
১। কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ দ্বারা সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুযায়ী এই একাডেমী পরিচালনা করা।
২। সমাজে প্রচলিত শির্ক, কুফুর, বিদআত এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
৩। মা-বোনদের যেসব জিনিস জানা জরুরি তা তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া।
৪। মা-বোনদের শুধু শিক্ষা দেওয়াই উদ্দেশ্য নয় বরং তারা যেন অন্যদের নিকটও ইসলাম এর সঠিক বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন সেটাও একাডেমির উদ্দেশ্য।
৫। নারীদের ভূমিকা সমাজে কী হওয়া দরকার? সেই বিষয়ে তাদের চেতনাকে উজ্জীবিত করা।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Moinertek, Uttarkhan, Uttara
Dhaka
1230