09/10/2025
আগামীকাল ১০.১০.২০২৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৯ তম স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫।
চাকুরির বয়স থাকাকালীন সময়ে স্পেশাল বিসিএসের একটা সার্কুলার পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।
কারন স্পেশাল বিসিএসে ২০০ মার্কস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর সরাসরি ভাইভা।এর আরেকটি সুবিধা এখানে শুধু সেম সাবজেক্টধারীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়।
জেনারেল বিসিএসে কমপক্ষে ৩.৫/৪/৫ লাখ পরীক্ষার্থীর সাথে ২০০ মার্কস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুরু হয় একটা ক্রিটিকাল স্টেপ।
বাংলাদেশ ও বিশ্বে ঘটে যাওয়া রাজনীতি,অর্থনীতি,কূটনীতি,সমাজনীতি,ভৌগোলিক অবস্থান প্রভৃতি সম্পর্কিত মোটা মোটা বই অধ্যয়ন করতে হয়।
সব থেকে ক্রিটিকাল পরীক্ষা ইংরেজি।সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষায় ২০০ মার্কস এর ৪ ঘন্টার পরীক্ষা।যেটা দুর্ভেদ্য।অধিকাংশ পরীক্ষার্থী এখানে কম মার্কস তোলার কারনে উত্তীর্ন হতে পারেনা।
বিজ্ঞান পরীক্ষা তো আর্টস ও কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য আরও দুর্ভেদ্য।যারা কোন দিন জীববিজ্ঞান,পদার্থবিজ্ঞান,রসায়নবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেনি তাদের সেটা খুব অল্প সময়ে অধ্যয়ন করে পরীক্ষা দিতে হয়।গানিতিক যুক্তি পরীক্ষায় হায়ার ম্যাথের সাথে পরিচিত হতে হয়।
বাংলা ২০০ মার্কস ৪ ঘন্টা,ইংরেজি ২০০ মার্কস ৪ ঘন্টা, বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০০ মার্কস ৪ ঘন্টা,আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ১০০ মার্কস ৩ ঘন্টা,সাধারণ বিজ্ঞান ১০০ মার্কস ৩ ঘন্টা,গানিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০ মার্কস ৩ ঘন্টা।মোট ১১০০ মার্কস এর ২১ ঘন্টার পরীক্ষা।
এই ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা চলে টানা ১ সপ্তাহ জুড়ে।১টি বিষয়ের ১ দিনের গ্যাপ ছাড়া অন্য ৫ টি বিষয়ের পরীক্ষায় কোন দিনের গ্যাপ পাওয়া যায় না।
৪ ঘন্টার ২০০ মার্কস এর পরীক্ষায় প্রচুর স্টামিনা খরচ হয়।পরীক্ষা দিয়ে বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।যারা এই সময়টাতে কোন রকম প্রস্তুতির আশা না করে ঘুৃমাইতে পারে তারা পরেরদিন পরীক্ষায় ভালো করে।এই ছয়টা দিন বিসিএস রিটেন পরীক্ষার্থীর জীবনে কি ঝড় বয়ে যায় বিসিএস রিটেন পরীক্ষা দিয়েছে একমাত্র সে ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।
রিটেন পাশ করতে হলে তার ৫০% মার্কস তুলতে হবে তার একটা প্রেসার।শুধু সেটা না ভালো ক্যাডার পাইতে হলে ৫০% মার্কস তুললে হবে না তার একটা প্রেসার।এ সময় কত প্রসার ভর করে তার কোন ইয়ত্তা নাই।এই ছয়দিন সময়টা জীবনের এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মূহুর্ত যেটা আর নাইবা ব্যাখ্যা দিলাম।
এই অমানসিক নির্যাতনের অবর্ননীয় মূহুর্তগুলো স্পেশাল বিসিএসে থাকেনা।
এজন্য একজন যোগ্য বেকারের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ স্পেশাল বিসিএস।
যেহেতু ২০০ মার্কস এর পরীক্ষা।তারপর সরাসরি ভাইভা।এখানে "কাট মার্কস কত"বলে চিল্লাইলে হবে না।
জেনারেল ১০০ মার্কস এ কমপক্ষে নেগেটিভ বাদ দিয়ে ৬০-৬৫ মার্কস ও সাবজেক্টিভ ১০০ মার্কস এ কমপক্ষে নেগেটিভ বাদ দিয়ে ৭০ থাকলে সুপারিশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
স্পেশাল বিসিএসে কম দাগানোর সুযোগ নাই।কারন এর মাধ্যমে সরাসরি চাকরি পাওয়ার মার্কস অর্জন করতে হবে।১৩০+ মার্কস তোলা যায় ১৩১ টি সঠিক হলেও।তবে নেগেটিভ যাবেই ১০০% সিউর হয়ে দাগাইলেও।
আমি ১৬০-১৭০ টি দাগানোর পরামর্শ দিবো।
তবে যাদের ১৩০ + সঠিক মনে হলে নেগেটিভ যাবে এমন প্রশ্ন না দাগানোই ভালো।ভেবে চিন্তে দাগাইতে হবে।
স্পেশাল বিসিএস যারা ক্যাডার হবেন তাদের প্রথম ১/২/৩ বছর তুচ্ছতাচ্ছিল্যের স্বীকার হবেন।পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।তখন আপনারাও সুহৃদ হয়ে যাবেন জেনারেল বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের।কর্ম ব্যস্ততায় আপনারা যে স্পেশাল দিয়ে এসেছেন বাকিরা তা ভুলেই যাবে।আপনারা বাকিদের মত সকল সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান প্রাপ্ত হবেন।
আপনাদের জন্য অগ্রীম শুভকামনা রইলো।
......
🖋️অভিজিৎ বিশ্বাস।
বিসিএস(সাধারণ শিক্ষা)
ব্যাচ ৪৩ তম।।