13/06/2023
আপনি যখন দেখবেন মানুষ আপনাকে যা মনে করেছে আপনি আসলে তা নন, তখন নিজের ভেতর মারাত্মক অশান্তি আর বিশৃঙ্খলা বোধ করবেন। অনেকটা নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করার মতো। বিশ্বের নামকরা সেলিব্রিটিদের মধ্যে হতাশা, মাদকাসক্তি এবং আত্মহত্যার আধিক্যের দিকে খেয়াল করুন! তারা যখন আবিষ্কার করে বাইরের জগতের সামনে তার যে মহান রূপ উপস্থাপন করা হয়, সেটার সাথে তার একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের বিস্তর ফারাক আছে, তখনই একরাশ বিষণ্ণতা তাদের উপর জেঁকে বসে। তারা যে মেকি জীবনযাপনের ভান করছে, সেটি কেবল-ই একটি মিথ্যে ছলনা, একটি অলীক অভিনয়। এই তেতো অনুভূতি তাদেরকে কুরে কুরে খায়। নিজেরা বাস্তবে যা নয়, তারচেয়েও বড় করে যারা নিজেকে মানুষের সামনে হাজির করতে চায় তাদের সবার জীবনেই এই ব্যাপারটি আরেকটু ছোট পরিসরে ঘটে থাকে।
কখনও ঝরে যেও না, তারিক মেহান্না
25/03/2023
কিয়ামুল লাইল আদায়ের উদ্দেশ্যে ইশা থেকে ফজর পর্যন্ত পূর্ণরাত্রি জাগরণ করা সুন্নাহর বিপরীত। তবে রমযানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। রমযান মাসের সুন্নাহ হলো, সামর্থ্য থাকলে কিয়ামুল লাইলের জন্য পূর্ণরাত্রি জাগরণ করা। যে এই আমল করতে সমর্থ তার জন্য উত্তম হলো রাতে না ঘুমিয়ে দিনের বেলা ঘুমানো।
শাইখ আব্দুল আযীয আত তারিফী
সবুজ পাতার বন, পৃ ৬৩
19/01/2023
জীবনের সবচাইতে সুখের সময় গুলো ও শেষ হবে দুঃখের দিনের দিনের পরি সমাপ্তি ও ঘটবে। তবে দিনশেষে সেই বিজয়ী যে সুখের দিন গুলোতে আল্লাহকে স্মরন করে আর দুঃখের সময়তে ও আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থেকে সবর করে।
19/01/2023
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
“জীবনের স্বাদ অনুসন্ধান করো তিনটি জিনিসের মধ্যে: সালাত, কুরআন এবং জিকির। যদি এ তিনটির মাঝে জীবনের স্বাদ ও আনন্দ খুঁজে পাও তবে চালিয়ে যাও এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর যদি না পাও তবে আর কি! জেনে নাও, দুয়ার তোমার বন্ধ হয়ে আছে।”
[আবু নুয়াইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৪/৩১৮]
09/10/2022
এক লোক আবু দারদা রাদিআল্লাহু আনহুকে বললো _ আমাকে নসিহত করুন। তিনি বললেন : "তুমি সুখের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে স্মরণ করো, দুঃখের সময় তিঁনি তোমাকে স্মরণ করবেন।"
[জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৮৯]
20/08/2022
ঈমান হলো পরিচর্যার জিনিস। যত বেশি এর যত্ন নেওয়া হয়, এটি তত তাজা হয়। ঈমানের পরিচর্যার সবচে সহজ তরিকা হলো, অবসর সময়ে ও হাঁটতে চলতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর যিকর করা। হাদীসে একে ঈমান নবায়নের মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
©️ Abdullah Al Masud (হাফিঃ)
17/08/2022
হয়তো হুট করেই নির্জনে আমরা কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাব। সে গুনাহ আমাদের অজান্তেই সবার সামনে প্রকাশও করে ফেলব। নিজের গুনাহের ফল তো নিজেকেই বইতে হবে।
কিন্তু গুনাহের শাস্তি থেকে বাঁচার কি কোনো উপায়ই নেই?
হাঁ, আছে। ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) অনেকগুলো উপায়ের কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
“যখন কোনো মুমিন গুনাহ করে, দশ উপায়ে উক্ত গুনাহের শাস্তি থেকে সে মুক্ত হতে পারে :
১) সে তওবা করে আর তওবা করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে মাফ করে দেন।
২) কিংবা সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। তাই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।
৩) সে ভালো ভালো কাজ করে। আর সে ভালো কাজগুলো প্রকৃতিগতভাবেই খারাপ আমলগুলোকে মিটিয়ে দেয়।
৪) ওই ব্যক্তি জীবিত কিংবা মৃত থাকা অবস্থায় কোনো মুমিন ভাই তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করে।
৫) অথবা তাদের মধ্য থেকে কেউ তাকে উত্তম আমল উপহার দেয়।
৬) যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের দিন তার জন্যে শাফায়াত করবেন।
৭) যখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়ার জীবনে দুঃখ-কষ্ট দেন আর
সেগুলো তার গুনাহসমূহ মুছে দেয়।
৮) অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কবরের মধ্যে ফিতনায় ফেলেন আর গুনাহগুলো মাফ করে দেন।
৯) কিংবা আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা দিয়ে ফিতনায় ফেলেন আর তা তার গুনাহগুলো মিটিয়ে দেয়।
১০) আর যখন পরম দয়াময় তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন।”
ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) এরপর বলেন,
فَمَنْ أَخْطَأَتْهُ هَذِهِ الْعَشَرَةُ فَلَا يَلُومَنَّ إلَّا نَفْسَهُ
“যে এই দশটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, সে যেন কেবল নিজেকেই দোষারোপ করে।”
-মাজমু ফতওয়া : ১০/৪৫-৪৬
বই: হারিয়ে যাওয়া মুক্তো, পৃ: ৪১-৪৩