27/07/2018
❤️❤️❤️❤️❤️❤️ হিসাববিজ্ঞান❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️
🤔🤔মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন🤔🤔
মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন
হিসাববিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেনদেনের শ্রেণিবিন্যাস। নিম্নে লেনদেনের শ্রেণিবিন্যাস দেখানো হলো :
লেনদেনকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা : মূলধনজাতীয় ও মুনাফাজাতীয়।
অর্থাৎ লেনদেনকে আমরা নিম্নরূপে দেখাতে পারি।
মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি ও আয়
মুনাফাজাতীয় প্রাপ্তি ও আয়
মূলধনজাতীয় ব্যয়
মুনাফাজাতীয় ব্যয়
নোট : মূলধনজাতীয় আয় মূলধনজাতীয় প্রাপ্তির একটি অংশ। এ ছাড়া বিলম্বিত মুনাফাজাতীয় ব্যয়ের ব্যবহার আমরা করে থাকি। নিম্নে প্রতিটি আয়-ব্যয়ের ধারণা ও উদাহরণ দেওয়া হলো :
মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি : যেসব প্রাপ্তি অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং এক বছরের অধিক সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, তাই মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি। যথা : ১। ব্যবসায়ে মূলধন আনয়ন
২। ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ
৩। স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়
নোট : আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম, কলকবজা ও যন্ত্রপাতি, ভূমি ও দালানকোঠা ইত্যাদি স্থায়ী সম্পদ।
মূলধনজাতীয় আয় : স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও ওই সম্পদের বর্তমান মূল্য বাদ দিলে মূলধনজাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উদাহরণ :
একটি পুরনো যন্ত্রপাতি বিক্রয় করে ৮০,০০০ টাকা পাওয়া গেল। ওই যন্ত্রপাতির বর্তমান মূল্য বা লিখিত মূল্য (বহি মূল্য বা ইড়ড়শ ঠধষঁব) ৬৫,০০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে মূলধনজাতীয় আয় হলো (৮০,০০০-৬৫,০০০)= ১৫,০০০ টাকা।
আর ৮০,০০০ টাকা হবে মূলধনজাতীয় প্রাপ্তি।
নোট : বহি মূল্য (ইড়ড়শ ঠধষঁব) = সম্পত্তির ক্রয়মূল্য- অবচয়।
মুনাফাজাতীয় প্রাপ্তি ও আয় : যেসব প্রাপ্তি নিয়মিত, টাকার পরিমাণ ছোট, এক বছরের মধ্যেই উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়, তাই মুনাফাজাতীয় প্রাপ্তি।
যেমন : ক) পণ্য বিক্রয়, খ) সেবা থেকে আয়, গ) বাট্টাপ্রাপ্তি, ঘ) কমিশনপ্রাপ্তি, ঘ) বিনিয়োগের সুদ, ঙ) উত্তোলনের সুদ, চ) প্রদত্ত ঋণের সুদ, ছ) ব্যাংক জমার সুদ, জ) শিক্ষানবিশ সেলামি, ঝ) উপভাড়া, ঞ) প্রাপ্ত লভ্যাংশ।
মূলধনজাতীয় ব্যয় : যেসব ব্যয় অনিয়মিত, টাকার পরিমাণ বড় এবং এক বছরের অধিক সময় সুবিধা ভোগ করা যায়, ওই সব ব্যয় হলো মূলধনজাতীয় ব্যয়। মূলধনজাতীয় ব্যয় দ্বারা স্থায়ী সম্পদ অর্জিত হয়।
যথা : ক) আসবাবপত্র ও ফিটিংস, খ) কলকবজা ও যন্ত্রপাতি, গ) ভূমি ও দালানকোঠা, ঘ) মোটরগাড়ি, ঙ) মেশিন সংস্থাপন ব্যয়, চ) সম্পদ ক্রয়ের আমদানি শুল্ক/জাহাজ ভাড়া/পরিবহন খরচ।
মুনাফাজাতীয় ব্যয় : যেসব ব্যয় নিয়মিত, টাকার পরিমাণ ছোট, বছরের মধ্যেই উপযোগিতা, শেষ হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদনের জন্য সংঘটিত হয়, তাকে মুনাফাজাতীয় ব্যয় বলে।
মুনাফাজাতীয় ব্যয়কে নিম্নরূপে শ্রেণিবিভাগ দেখানো যায় :
ক) প্রত্যক্ষ ব্যয়
খ) পরোক্ষ পরিচালন ব্যয় :
i. অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয় ii. বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয়
গ) অপরিচালন ব্যয়।
প্রত্যক্ষ ব্যয় : ক) পণ্য ক্রয়, খ) ক্রয় পরিবহন, গ) মজুরি, ঘ) আমদানি শুল্ক, ঙ) জাহাজ ভাড়া, চ) ডক চার্জ, ছ) কারখানার ভাড়া ও বিদ্যুত্, জ) জ্বালানি খরচ (কয়লা, গ্যাস ইত্যাদি)
অফিস ও প্রশাসনিক ব্যয় :
ক) বেতন খ) অফিসের ভাড়া গ) বিদ্যুত্ খরচ ঘ) অফিস খরচ
ঙ) মেরামত খরচ, চ) ডাক ও তার ছ) মনিহারি জ) বীমা খরচ
ঝ) অবচয় খরচ ঞ) প্রাথমিক খরচের অবলোপন ও সুনামের অবলোপন।
বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয় :
ক) বিক্রয় পরিবহন খ) বাট্টা প্রদান
গ) কমিশন প্রদান ঘ) বিজ্ঞাপন
ঙ) ব্যাংকিং খরচ চ) অনাদায়ী পাওনা
ছ) ভ্রমণ খরচ
গ) অপরিচালন ব্যয় :
ক) মূলধনের সুদ খ) ঋণ বা ব্যাংক ঋণের সুদ গ) ব্যাংক জমাতিরিক্তের সুদ
ঘ) ব্যাংক চার্জ ঙ) শিক্ষানবিশ ভাতা চ) চুরি বা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি
স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি
অপরিচালন আয় :
ক) বিনিয়োগের সুদ খ) উত্তোলনের সুদ
গ) প্রদত্ত ঋণের সুদ ঘ) ব্যাংক জমার সুদ
ঙ) শিক্ষানবিশ সেলামি
চ) উপভাড়া ছ) প্রাপ্ত লভ্যাংশ
জ) স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়জনিত লাভ