Acconting Special

Acconting Special Grow your Accounting Skill

20/05/2026

একদিন বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছিল। আকাশ অন্ধকার হয়ে ছিল। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম। হঠাৎ দেখি মিনি এসে চুপচাপ আমার পাশে বসেছে। কোনো দুষ্টুমি না, কোনো শব্দ না। শুধু বসে আছে।
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
মিনি চোখ বন্ধ করে শান্ত হয়ে গেল।
সেদিন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়েছিল। মনে হয়েছিল, মানুষ সবসময় কথা বলেই ভালোবাসা প্রকাশ করে না। কিছু সম্পর্ক শব্দ ছাড়াও তৈরি হয়। মিনি কখনও কথা বলতে পারেনি, কিন্তু ওর নীরবতা অনেক মানুষের কথার চেয়েও বেশি সত্যি ছিল।
সময় যত যাচ্ছিল, মিনি আমাদের পরিবারের একটা অংশ হয়ে উঠছিল। বাসায় ফিরলেই দরজার সামনে এসে দাঁড়াত। আমি নামাজ পড়লে জায়নামাজের পাশে বসে থাকত। রাতে পড়তে বসলে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, বুঝতেই পারতাম না—কারণ মিনি এসে পাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকত।
একটা ছোট্ট প্রাণ কিভাবে মানুষের জীবনে এত মায়া তৈরি করতে পারে, সেটা মিনিকে না দেখলে হয়তো কখনও বুঝতাম না।
অনেক মানুষ ভাবে, প্রাণীদের ভালোবাসা খুব সাধারণ। কিন্তু সত্যি বলতে, তাদের ভালোবাসার মধ্যে কোনো অভিনয় নেই। তারা স্বার্থ বুঝে না, অবস্থান বুঝে না। শুধু বুঝে—কে তাকে নিরাপদ অনুভব করায়।
আর মিনির জন্য হয়তো আমি সেই নিরাপদ মানুষটাই ছিলাম।
সেদিন রাতে পড়ার টেবিলে বসে মিনির দিকে তাকিয়ে একটা কথা মনে হয়েছিল—
এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলো হয়তো সেগুলোই, যেখানে ভাষা লাগে না।
সমাপ্ত

20/05/2026

ভাঙা গোঁফের গল্প
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। চারপাশ অদ্ভুত নীরব। দূরে কোথাও কুকুর ডাকছিল, আর মাঝেমধ্যে শীতের বাতাসে টিনের চাল কেঁপে উঠছিল। পড়ার টেবিলে বসে আমি হিসাববিজ্ঞানের একটা অধ্যায় শেষ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সেদিন মনটা অস্থির ছিল। কেন জানি মনে হচ্ছিল, বাইরে কিছু একটা ঘটছে।
হঠাৎ খুব ক্ষীণ একটা শব্দ কানে এলো।
“মিউ...”
প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। আমাদের এলাকায় বিড়ালের ডাক নতুন কিছু না। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবারও সেই শব্দ।
“মিউ... মিউ...”
এবার উঠে বাইরে গেলাম। দরজা খুলতেই ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগল। চারপাশ অন্ধকার। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে সামনে তাকাতেই দেখি, সিঁড়ির কোণে ছোট্ট একটা বিড়াল গুটিশুটি মেরে বসে আছে। সাদা-ধূসর রঙের শরীরটা কাঁপছিল। চোখ দুটো বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে—ভয় আর অসহায়তায় ভরা।
সেদিনই প্রথম মিনিকে দেখি।
ওকে কোলে নিতে যেতেই একটু পিছিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, মানুষকে ও খুব একটা বিশ্বাস করে না। আমি ধীরে ধীরে হাত বাড়ালাম। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে থেকে অবশেষে ও নিজেই একটু সামনে এগিয়ে এলো। তখনই বুঝেছিলাম, এই ছোট্ট প্রাণটার ভেতরে অনেক ভয় জমে আছে।
আমি ওকে ঘরে নিয়ে এলাম।
একটা পুরোনো কাপড় বিছিয়ে দিলাম, একটু দুধ এনে সামনে রাখলাম। মিনি প্রথমে কিছুই খাচ্ছিল না। শুধু চারপাশে তাকাচ্ছিল। যেন নতুন এই জায়গাটাও ওর কাছে নিরাপদ মনে হচ্ছিল না। অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে দুধ খেতে শুরু করল।
সেই রাত থেকেই মিনির সাথে আমার গল্প শুরু।
দিন যেতে লাগল। মিনি ধীরে ধীরে আমার সাথে মিশে গেল। আমি পড়তে বসলে টেবিলের পাশে এসে বসত। কখনও খাতার উপর শুয়ে থাকত, কখনও কলম নিয়ে খেলত। মাঝে মাঝে এত দুষ্টুমি করত যে রাগ করতে যেয়েও হাসি পেয়ে যেত।
কিন্তু একটা বিষয় আমি খুব দ্রুত লক্ষ্য করলাম।
এলাকার একটা বড় কালো বিড়ালকে দেখলেই মিনি ভয় পেয়ে যেত। শুধু ভয় না—পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করত। তারপর দৌড়ে কোথাও লুকিয়ে পড়ত। প্রথমে বুঝতে পারিনি কেন। পরে একদিন পাশের বাসার এক ভাই বললেন, কয়েক মাস আগে ওই কালো বিড়ালটা মিনিকে খুব খারাপভাবে আক্রমণ করেছিল।
সেদিন রাতে মিনির দিকে তাকিয়ে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।
মানুষের মতো প্রাণীদেরও যে ট্রমা থাকে, ভয় থাকে, সেটা তখন গভীরভাবে বুঝেছিলাম। আমরা হয়তো ভাবি, ওরা শুধু খাবার আর ঘুম বোঝে। কিন্তু আসলে ওদেরও স্মৃতি আছে, কষ্ট আছে, ভালোবাসা আছে।
(১)

পড়ে দেখেন
24/01/2026

পড়ে দেখেন

22/01/2026

দুটি দেশ, এক লড়াই: ক্রিকেটের বিশ্বে নতুন শঙ্কা

বিশ্ব ক্রিকেটের মহাকাশে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় আধিপত্যের বিষয়ে অদৃশ্য চাপ ছিল। আইসিসির নীতি, টুর্নামেন্টের আয়োজন, আর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারতের প্রভাব সুস্পষ্ট। তবে এবার সেই ভারসাম্য ভাঙার হুঁশিয়ারি এসেছে—প্রথমে বাংলাদেশ, এবার পাকিস্তান।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তাদের সম্ভাব্য বর্জনকে ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ম, ন্যায়বিচার ও সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের প্রত্যাখ্যান একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কেবল খেলোয়াড়ি মনোভাব নয়, এটি ক্রীড়াজগতের নীতি ও স্বার্থের লড়াই।
এবার পাকিস্তানও একই লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জাতীয় সরকারের নির্দেশে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ঘোষণা করেছে—যদি বাংলাদেশ বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জন করবে। এটি শুধু দুটি দেশের রাজনৈতিক বা ক্রীড়াগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শক্তির ভারসাম্যকে নতুনভাবে পরীক্ষা করার লড়াই।
বিশ্বকাপ একটি বৈশ্বিক উৎসব, যা কোটি কোটি দর্শক, মিডিয়া এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়া একটি বিশ্বকাপ কল্পনাও করা যায় না। এ দুটি এশীয় দল ছাড়া প্রতিযোগিতা কার্যত অসম্পূর্ণ এবং তার ব্রডকাস্ট ও বাণিজ্যিক মূল্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি আইসিসির নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ওপরও প্রমাণ দেয়—একটি “বিশ্বকাপ” কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি তা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়াশক্তির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়।
এখন প্রশ্ন শুধু ক্রিকেটের নয়। এটি ক্ষমতা, প্রভাব, এবং ক্রীড়াজগতের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে অদৃশ্যভাবে চলা ভারসাম্য, নীতি ও সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রথমবার খোলাখুলিভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই অদম্য অবস্থান নিয়েছে, পাকিস্তানও নীরব থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
যদি এই দুই দেশ একসাথে স্থির সিদ্ধান্তে দাঁড়ায়, বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যত, তার নৈতিক ও বাণিজ্যিক ভিত্তি, এবং বিশ্বকাপের বিশ্বাসযোগ্যতা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হবে। এটি আর কেবল একটি খেলাধুলার ইস্যু নয়; এটি ক্ষমতা, ন্যায় ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার লড়াই, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব শতকরা নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের পরিপূর্ণতা নির্ধারণ করবে।
দুটি দেশ। এক ফ্রন্ট। নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

Address

Sanarpar
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Acconting Special posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category