সত্যের সন্ধানে – ১
[ হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) এর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ এর সত্যতা যাচাই ]
আজ সেই বিতর্কিত প্রশ্নটির উত্তর দিবো । বিতর্কিত প্রশ্নটি হলো হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুর কী নাকি নিজেকে খোদা দাবি করেছে ?
যারা এই রকম প্রশ্ন করে তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ শতাংশ ব্যক্তিরাই শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুর-কে বাস্তবে দেখেই নি । বেশিরভাগ মানুষরা অন্য মিথ্যা ব্যক্তির বানোয়াট কথায় বিশ্বাস করছে ।
আমরা আমাদের প্রশ্নতে আসি অনেকের মুখে যখন হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুরকে নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট কথা শুনি আমি তখন তাদের প্রশ্ন করি আপনারা কেন হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুরকে নিয়ে এতো বাজে কথা বলেন তখন তারা বলে [হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) নিজেকে খোদা দাবী করেছে ?] । এই প্রশ্নটার কোনো সত্যতা পাই নি যে হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) নিজেকে খোদা দাবি করেছে । তার পরিবর্তে এই বানোয়াট কথার উত্তর পেয়ে গিয়েছি সেই উত্তরটাই আজ আমি আপনাদেরকে বলবো ।
প্রথমতো হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুর এর আসল নাম ‘মাহবুব-এ-খোদা’ । এই নামের জন্যই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে নাকি নিজেই খোদা । ‘মাহবুব-এ-খোদা’ একটি নাম ‘মাহবুব’ অর্থ হলো ‘প্রিয়’ তাই বলা যায় ‘মাহবুব-এ-খোদা’ এর অর্থ হলো ‘খোদার প্রিয়’ অথবা ‘আল্লাহর প্রিয়’ ।
আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ তার নামের সাথে খোদা আছে, তার মানিই হলো সে খোদা দাবি করছে । কিন্তু সেটি একটি ভ্রান্তি ছাড়া কিছুই না । কারণ তার নামের সাথে খোদা আছে মানেই যে সে খোদা সেটা নয় । সেটা হলো তার নাম ।
মুসলমানদের নাম রাখতে হয় ইসলামিক নাম অনুসারে । যেমনঃ আব্দুর রহিম , আব্দুল বাসির, আব্দুস সাত্তার ইত্যাদি । মুসলিমদের নাম হতে পারে না মন্টু,জন্টু,রকি । তার নাম ‘মাহবুব-এ-খোদা’ যেটি একটি ইসলামিক নাম ।
দ্বিতীয়তো......... হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) নিজে নামাজ পড়েন এবং নিজের মুরিদদেরও বলেন নামাজ আদায় করতে । যদি সে আল্লাহ হতো তাহলে সে আবার কার জন্য নামাজ পড়বে? তাই এইটাই বলা যায় যে এই মিথ্যে অভিযোগটি বানোয়াটি বৈ অন্য কিছু নহে ।
যাদের হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (মাঃআঃ) হুজুর এর সম্পর্কে কোনো রুপ ভ্রান্ত ধারনা আছে তাদের বলছি আপনারা একবার তার দরবার শরীফে গিয়ে দেখে আসেন । তার সম্পর্কে জেনে আসেন দেখবেন আপনার ভ্রান্ত ধারনা ভেঙ্গে যাবে ।
- চলবে
এলমে তাসাউফ
Sufism is the path to get the Almighty. Its not a new age technology its the technology which uses by the Prophets and Sufis.
যার যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, তার সামনে সেসব কথা প্রকাশ করবে না।
-- ইমাম আলী (আ.)
পরিশুদ্ধরা ছাড়া কেউ আল্লাহকে পাবে না ।
- রুমী (রহঃ)
রাসূল নূর এর তৈরি-১
সূরা আল কাহফ (الكهف), আয়াত: ১১০
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُم
উচ্চারণঃ কুল ইন্নামাআনা-বাশারুম মিছলুকুম
অর্থঃ বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ
এই আয়াত মুখস্থ নেই এমন কোনো আলেম নেই । কিন্তু কেউ রাসূল (সা:) এর শানে কখনো এই আয়াতটা পরবে না।
সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ১৫
قَدۡ جَآءَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ نُوۡرٌ وَّ کِتٰبٌ مُّبِیۡنٌ ﴿ۙ۱۵﴾
উচ্চারণঃ কাদ জাআকুম মিনাল্লাহি নূরুওঁ ওয়া কিতা-বুম মুবীন।
অর্থঃ তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ।
এখানে নূর বা উজ্জল জ্যোতি বলতে ৬৫টা তাফসীর এর কিতাবের মধ্যে ৩৮টা তাফসীর এ বলা আছে এই নূর দ্বারা বোঝানো হয়েছে হুযুর (সা:) এর নূর। আশরাফ আলী থানবি (রহ:) এর একটি গ্রন্থে তিনি বলেছেন রাসূল (সা:) হাত,পা,নখ,দাঁত,থুথু,চুল ইত্যাদি সব ছিলো নূর এর।
কিন্ত বর্তমানে কিছু অন্যের বাড়ী খাওয়া হুযুররা বলে যে নূর এর থেকে মাটি সম্মানিত । তাদের জবাবে একটা কথাই বলবো।
আল্লাহ তায়ালা যখন আদম (আঃ) কে বানানো শেষ করে একটা মাঠে রাখলেন তখন মহান আল্লাহ তায়ালার ডান হাত মোবারক আদম (আঃ) এর পিঠে রাখলেন সাথে সাথে তার পিঠ থেকে একটি দল বের হলো যাদের চেহাড়া অতি উজ্জল। অতঃপর রাব্বুল আলামিন স্বীয় বাম হাত মোবারক আদম (আঃ) এর পীঠে রাখলেন এবং সাথে সাথে আরো একটি দল বের হলো যাদের চেহাড়া অতি কুৎসিত।
মহান আল্লাহ তায়ালা তখন আদম (আঃ) এর সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ আদম (আঃ) একটি নূর দেখতে পায় কৌতুহলবশত আল্লাহ কে জিঙ্গাসা করে যে
يا رب من حذ؟
হে আমার প্রভু কে সে?
তখন মহান আল্লাহ বলেন যে
সে হলো তোমার বংশধর আহমাদ । সে সবকিছু সৃষ্টিরও পূর্বে সৃষ্ট। জমিনবাসীদের কাছে তিনি মুহাম্মদ আর আরশে তিনি আহমাদ।
আদম (আঃ) বললেন হে প্রভু যেহেতু সে আমার বংশধর সেহেতু তাহলে আমারে সেই নূরটা দেন আমি তাকে আদর করি। তারপর আল্লাহ তায়ালা সেই নূর টাকে আদম(আঃ) এর মাথা মোবারক এ দিলেন অত:পর আদম(আঃ) কে সেজদাহ করা হলো
এর মাধ্যমেও কী প্রমাণ হয় না যে রাসূল (সাঃ) নূর এর তৈরি ছিলেন এবং তিনি বেমেসাল অর্থাৎ সবচেয়ে সম্মানিত । মাটি মর্যাদা পেয়েছে নূর এর জন্যই।
"কাদ্ব জাআকুম মিনাল্লাহি নুরু অয়া কিতাবুম মুবিন"(সূরা মায়েদ্বা, আয়াত নং-১৫)
অর্থঃ আমি ত্তোমাদের কাছে ২টি জিনিস প্রেরণ করেছি ১টি হলো নুর এবং আরেকটি হলো নুর সমতুল্য ১টি কিতাব।
এর মাধ্যমেই বোঝা যায় যে রাসুল্লাল্লাহ (সা:) ছিলেন নুর এর। আর নুর সমতুল্য কিতাব হলো আল-কুরআন।
যদি আমার হৃদয় চিরে দেখো ভাই
আমার ভিতরে মালিক ছাড়া আর কেও নাই
- জালাল উদ্দিন রুমি (রহঃ)
"ন্যায়কে ত্যাগ করলেও অন্যায়ের সমর্থন করো না ।"
-হযরত আলী (রাঃ)
মহান আল্লাহ তায়ালার আকার আছে-১
সূরা আল ইনশিকাক (الانشقاق), আয়াত: ৬
یٰۤاَیُّہَا الۡاِنۡسَانُ اِنَّکَ کَادِحٌ اِلٰی رَبِّکَ کَدۡحًا فَمُلٰقِیۡہِ ۚ﴿۶﴾
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহাল ইনছা-নুইন্নাকা কা-দিহুন ইলা-রাব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ।
অর্থঃ হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে।
কারো সাথে সাক্ষাতের প্রথম শর্ত হলো তার আকার থাকা আবশ্যক।
যদি মহান প্রভুর আকার না থাকে তাহলে সাক্ষাৎ কার সাথে ঘটবে। আর যদি সাক্ষাৎ নাই-ই বা ঘটে তাহলে তো মহা গ্রন্থ আল-কোরআন মিথ্যা হয়ে যাবে (নাউযুবিল্লাহ)।
এই আয়াত এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে মহান প্রভুর আকার আছে।
৬ষ্ঠ পর্ব
কালব পরিষ্কারের মাধ্যমেই একজন মানুষ ঈমানদার হতে পারে। এখন কথাটা এই খানে যে কালবটাকে কীভাবে পরিষ্কার করা যায়। এইজন্য করণীয় হলো সর্বপ্রথম মিথ্যা ত্যাগ করতে হবে কারণ মিথ্যা হলো সকল পাপের জননী। মিথ্যা কখনও একা একা প্রতিষ্ঠত হয় না এর সাথে একে একে আরো মিথ্যা অথবা পাপাচার যুক্ত হয়। তাই মিথ্যা ত্যাগ করা আমাদের ১ম করণীয়।
আমরা সবাই ইসলামের ৪টা স্তম্ব সম্পর্কে জানি। সেগুলো হলোঃ
১.নামাজ
২.রোজা
৩.হজ্জ
৪.যাকাত
১) নামাজ: নামাজ বা সালাত হলো আল্লাহর দরবারের নত হওয়া,সেজদা করা।আমরা জানি যে
"আসসালাতু মে'রাজুল মু'মিনিন"
অর্থ: সালাত হলো মুমিন ব্যক্তির জন্য মে'রাজ।
একদিন হযরত আলী (রা:) এর পিঠে তীর আঘাত করে এবং অনেক পন্থা অবলম্বন করার পরও তীর বের হয় নি কারণ তূর অনেক ভিতরে ডুকে যায় এবং যার জন্য হযরত আলী(রা:) প্রচন্ড ব্যাথায় অনুভব করে। তখন আর কোনো উপায় না পেয়ে সবাই হাল ছেড়ে দেয়। তখন হযরত আলী সবাইকে বলে যে যখন হযরত আলী (রা:) সালাত কায়েম করবে তখন ঐ তীর বের করতে। হযরত আলী (রা:) যখন সালাত কায়েম করা শুরু করে তখন সবাই ঐ তীরটাকে বের করতে পারে। এর একটাই কারণ তা হলো হযরত আলী যখন সালাত কায়েম করে তখন সে তার প্রভুকে দেখতে পারে এবং যার ফলে সে পার্থিব সব চিন্তা ভুলে যায়।
একটা ব্যাক্তি যখন তার প্রভুকে দর্শন করে তখন সে আর অনৈতিক কাজ করতে পারে না। কারণ তখন সে সবখানেই প্রভুকে দেখতে পায়। তাই সে আর কোনো খারাপ কাজ করতে পারে না।
এখন সালাত যদি নিজ প্রভুকে দেখার পথ হয় তাহলে সবাই কেন দেখতেপায় না ? মন আল্লাহর দিকে করে নামাজ আদায় করতে হয়। অন্য কোনো দিকে মনোকা্ঙ্কা গেলে সালাত হয় না ।
২. রোজা :
রোজা ফার্সি শব্দ । আরবীতো একে সিয়াম বলা হয় । সিয়াম অর্থ হলো সংযত, আত্মসংযম ইত্যাদি । আর সাধারণভাবে আমরা বলি সুবেহ সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার না করা । এখন কথা হলো পানাহার না করলেই কী আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন । আল্লাহ কী আমাদের না খাইয়ে খুশি হবেন ।
রোজা বা সিয়াম এর অর্থই হলো নিজের কু-রিপুদ্বয়কে সংযত রাখা । খারাপ কাজ, পাপাচার, অশ্লিলতা, মারামারি, হানাহানি, থেকে বিরত থেকে নিজেকে প্রভুর নিকট আত্মসমর্পন করা ।
-চলবে
৫ম পর্ব
৪.পশুর আত্মা:
যে আমাদেরকে পশুর মতো দয়াহীন,মায়াহীন,স্বার্থপর,অলসতা ইত্যাদি আচরণ করতে বাধ্য করে তাকেই পশুর আত্মা বলে।
৫.শয়তানের আত্মা:
যে আত্মা শয়তানের মতো ধোকাবাজী,আমানতকে খেয়ানত,মিথ্যা কথা বলা,নিজেকে বড় ভাবানো,নিফাকি করা ইত্যাদি করতে বাধ্য করে তাকেই শয়তানের আত্মা বলে।
৬.মানবআত্মা:
যে আত্মা মানবিকতা,মানবিক গুন,সবাইকে সাহায্য করা,অসহায়ের প্রতি সহায় হওয়া,খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা শিখায় তাকেই মানবআত্মা বলে।
মানবআত্মা হলো মুমিনের ১ম পরিচয়।
৭.ঐশ্বি জাত আত্মা:
এই আত্মার সম্পর্কে বর্ণনা দাওয়ার মতো জ্ঞান আমার নেই। কারণ এই আত্মাটাই হলেন বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান রাব্বুল আলামিনের।
এতোক্ষণ আমরা আত্মা সম্পর্কে জানলাম।আত্মার প্রকারবেদ এবং আচার আচরণ সম্পর্কে জানলাম।
পরমআত্মাকে পেতে হলে আমাদের মোট ৫ প্রকার আত্মাকে মুসলমান বানাতে হবে।
আমাদের পৃথীবিতে মোট ১৮ লক্ষ প্রণীর জাত। যার মধ্যে একটি হলো মানুষ। আর বাকী ১৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯ শত ৯৯টি প্রাণীর আচরণ মানুষের মধ্যে আছে....
এখন কথা হলো এতোগুলো আচরণ ত্যাগ করা যায় কীভাবে?
তার উত্তর হলো
“যখন কোনো ব্যাক্তি কোনো পাপ করে তখন তার মনে( কালবে) একটি কালো দাগ পরে যায়। তাই যতো পাপ করে ততো কালো হতে থাকে ক্রমাগত দেখা যায় তা কয়লার মতো কালো হয়ে যায়"
তাই আমাদের সর্বপ্রথম খারাপ চরিত্র ত্যাগ করো ১ম এ কালবকে পরিষ্কার করতে হবে।
-চলবে
৪র্থ পর্ব
আত্মা। আত্মা হলে প্রাণ বা সত্তা।আত্মা প্রধানত ২ প্রকার।যথা: (¡)জীবআত্মা,(¡¡)পরমাত্মা।
এই দুইটা সম্পর্কে আমরা অধিকাংশ মানুষ জানি।
এটাও জানা আছে যে একজনের ভিতর ৭টা সত্তা আছে।যথা:
(¡)জীবাত্মা,(¡¡)পরমাত্মা।
জীবাত্মাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যথা:
(!)হিংস্রজাত আত্মা (¡¡)পশুর আত্মা (¡¡¡)শয়তানের আত্মা।
অন্যদিকে পরমাত্মাকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়।যথা:
(¡)মানবাত্মা (¡¡)ফেরেশতা বা ঐশি শক্তির আত্মা।
৭ টি সত্তা হলো:
(¡)জীবাত্মা।
(¡¡)পরমাত্মা।
(¡¡¡)হিংস্রজাত আত্মা।
(¡v)পশুর আত্মা।
(v)শয়তানের আত্মা।
(v¡)মানবাত্না।
(v¡¡)ফেশেরতা বা ঐশিজাত আত্মা।
১ম.জীবাত্মা:
যে আত্মা ছাড়া চলাচল,কথাবার্তা,কাজ করা,শ্বাস নেওয়া,হৃদ স্পন্দন অর্থাৎ শরীর কাজ করা যায় না তাকে জীবাত্মা বলে।
এটাই সেই আত্মা যাকে মুসলমান বানাতে হয়।
২য়.পরমাত্মা:
যে আত্মা সম্পূর্ণ রাব্বুল আলামিন দ্বারা চালিত বা তিনি স্বয়ং কেই পরমাত্মা বলে।
৩য়.হিংস্রজাত আত্মা:
যে আত্মা লোভ,লালসা,হিংস্রতা,অহংকার,কাম,রাগ ইত্যাদি বহন করে তাকে হিংস্রজাত আত্মা বলে।
-চলবে
Click here to claim your Sponsored Listing.