18/10/2024
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলন, সাটডাউনের ভিতরের কারন।
আপনাদের সকলের জ্ঞাতার্থে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট পেশ করছি—
পল্লী বিদ্যুতের আন্দোলন সম্পর্কে ইতোপূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এনএসআই, DGFI, সকল ইউএনও, সকল থানা অফিসে পত্র দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।
বর্ণিত আন্দোলন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পটভূমিঃ-
২০১৩ সাল থেকে অন্তত কয়েক শতবার REB চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি/প্রতিবাদ লিপি দেওয়া হয়েছে, স্মারকলিপি দেওয়ার কারণে অন্তত ৩০ জনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে সর্বশেষ গত ৪ মে, ২০২৪ তারিখে টানা ৫ দিন কর্মবিরতি (বিদ্যুৎ সেবা ও জরুরি পরিষেবা চালু রেখে) পালন করা হয়।
মন্ত্রণালয় সমস্যা সমাধানের জন্য ১৫ দিনের সময় নেয়, সে আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করে সবাই কাজে ফেরে।
কিন্তু ২ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যাবস্থা না নেওয়ায় আবারও ১ জুলাই থেকে টানা ১০ দিন কর্মবিরতি (বিদ্যুৎ সেবা ও জরুরি পরিষেবা চালু রেখে) পালন পালন করা হয়। সেবারও মন্ত্রণালয় এর আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়।
মন্ত্রণালয় REB-PBS রিফর্ম কমিটি গঠন করে কমিটিকে ১ মাস সময় দেন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য, কিন্তু ১ মাস অতিবাহিত হলেও সেই কমিটির কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
গত ৬ আগস্ট কারফিউ চলাকালীন দুই জন জিএম ও ৪ জন DGM মহোদয়গণ কে শাস্তিমূলক বদলি করে।
এর প্রতিবাদে ৮ আগস্ট সারা দেশ থেকে লং মার্চ টু REB (ঢাকা) করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক এর মধ্যস্থতায় REB PBS এ একটি সমঝোতা মিটিং হয়, সেখানে ৬ টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যা REB চেয়ারম্যান মহোদয় নিজে মাইকে জনতার উদ্দেশ্য ঘোষণা করে এবং পরের দিন ই REB কে অফিস অর্ডার করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। অদ্যবধি সেই অফিস অর্ডার হয়নি।
সর্বশেষ গত ২২ই আগস্ট সেই মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত রিফর্ম কমিটির মিটিং থাকলেও REB র প্রতিনিধি সেখানে অংশ গ্রহণ করেনি। এতেও মন্ত্রণালয় REB কে জবাবদিহিতার আওতায় আনেনি।
এরই মধ্যে গত ১৬ -১৭/১০/২৪ তারিখ পর্যন্ত ২০ জনকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চাকুরী থেকে স্থায়ীভাবে অবসান করা হয়েছে।আলোচনার কোন সুযোগ তৈরী না হওয়ায় সাটডাউনের কর্মসুচি দেওয়া হয়।
প্রধান উপেদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী রবিবার আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে সাটডাউন কর্মসুচি তুলে নেওয়া হয়।
কিন্তু আজকে শুক্রবারে গ্রেফতারকৃতদের ০৬ জন কর্মকর্তার ০৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। যা সকল প্রকৌশলীগনের জন্য লজ্জাকর
স্বৈরাচার ও দূর্নীতিবাজ BREB, না ছাত্র সমন্বয়কদের মানছে না সেনাবাহিনীকে মানছে আর না মন্ত্রণালয়কে মানছে না!
তাই ছাত্র সমাজসহ সকল বিবেকবান জনগণকে স্বৈরাচারী ও দূর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান BREB এর বৈষম্যমূলক আচরণ, দুঃশাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন হতে সারা বাংলাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকে মুক্ত করে BREB এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণ সহ অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন এবং সকল চুক্তিভিত্তিক অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দাবি দুইটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।