Al Mufid Institute

Al Mufid Institute

Share

online educational Institute

04/06/2026

হজ শেষ।
ইহরাম খুলে রেখে হাজীরা ফিরছেন নিজ নিজ দেশে।
কিন্তু সেই ইহরামের গল্প কি সেখানেই শেষ?

হজ শেষে ফেলে রাখা ইহরাম…
সেটিই আবার হয়ে উঠছে ব্যাগ, বালিশ এমনকি স্মৃতিচিহ্নও। 🤍♻️

হজ শেষে হাজার হাজার ইহরাম পড়ে থাকে
কেউ রেখে যান, কেউ ফেলে যান।

কিন্তু এবার সেই ব্যবহৃত ইহরামগুলোকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর এক সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।

“Sustainable Ihram” নামের এই উদ্যোগে, হজযাত্রীদের ব্যবহৃত ইহরাম সংগ্রহ করে পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

এরপর সেই কাপড় থেকেই তৈরি হচ্ছে
👜 ব্যাগ
🤍 বালিশ
🧺 কভার
🎁 স্মারক উপহার

শুধু গত এক বছরেই ৫ হাজারেরও বেশি পণ্য তৈরি হয়েছে পুনর্ব্যবহৃত ইহরাম দিয়ে।

সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো
এটি শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই প্রকল্পে স্বল্প আয়ের পরিবারের ২৫ জন নারী সেলাই কাজের সুযোগ পেয়েছেন, আর তৈরি হয়েছে ৩০টি মৌসুমি কর্মসংস্থান।

আরও বড় বিষয় এখন পর্যন্ত ২১১ টনেরও বেশি ইহরামের কাপড় মাটিচাপা পড়া (landfill) থেকে রক্ষা করা গেছে, যা পরিবেশ দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতেও ভূমিকা রাখছে।

হজ দায়িত্ববোধেরও শিক্ষা দেয়।

তাই ইহরাম কিনতেও হই সচেতন।
অযথা প্রয়োজনের বেশি ইহরাম না কিনি, ব্যবহারযোগ্য থাকলে অপচয় না করি
আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখি। 🌍🤍

কারণ ইসলাম
আমানত রক্ষা করতেও শেখায়।

23/05/2026

#৯ই জিলহজ্জের রোযার ফজিলত :

🌷রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট আরাফাতের দিনের রোযা সম্পর্কে আশা করি যে,তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী একবছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
( তিরমিজি, হাঃ নং -৭৪৯)

🌷রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
" যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোযা রাখে তার লাগাতার দুই বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়"। ( সহীহ তারগীব, হাঃ নং- ১০১২)

🌷রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
" আল্লাহ তায়ালা আরাফার দিনে এতো অধিক পরিমাণ গুনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন যা অন্য কোনো দিন করেন না "।
( মুসলিম, হাঃ নং- ৩১৫৮)

💠 আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর শুরু লগ্ন থেকে ১২ টি মাস দিয়েছেন, এর মধ্যে ৪ মাস অধিক সম্মানিত(সূরা তাওবাহ)। এর মধ্যে আবার জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অধিক সম্মানিত, এর মধ্যে আরাফার দিন বিশেষ ফজিলত পূর্ণ দিন।

💠 হাদীস শরীফে এসেছে: " প্রথম দশকের প্রতি রোজার বিনিময়ে এক বছরের সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায় এবং প্রতি রাত ইবাদতের বিনিময়ে শবে কদরের সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায়" ।(ইবনে মাজাহ, হাঃ নং- ১৭২৮) এবং "শবে কদরের (এক রাত ইবাদত করা) হাজারো মাসের চেয়ে উত্তম (সূরা কদর)। সুবহানাল্লাহ! অনেক ফজীলত।

💠 তাই আমরা বাংলাদেশে যারা আছি, জিলহজ্জের প্রথম দশকের এই রোজাগুলো রাখতে পারি, বিশেষ করে ৯ ই জিলহজ্জের রোযা রাখতে পারি এবং রাত গুলো ইবাদতে কাটাতে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত গুলো করার তাওফিক দান করুন আমীন!

16/05/2026

কুরবানী সম্পর্কে যাবতীয় সকল মাসয়ালা :

১. কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
উঃ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২

✅ ফতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দে রয়েছে,
"قربانی ہر اس مسلمان عاقل بالغ مقیم پر واجب ہے جس کے پاس حاجت اصلیہ سے زائد نصاب کے بقدر مال ہو، چاہے سونا چاندی ہو یا نقدی یا مال تجارت۔ نصاب چاندی کا اعتبار کیا جائے گا جو 612 گرام 36 ملی گرام ہے۔"*

প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ মাল থাকলে কুরবানী ওয়াজিব। নেসাব রূপার হিসাবে ৬১২.৩৬ গ্রাম।[ফতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ, জি: ৬, স: ৩১০]

সেই হিসেবে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার মালিক হলেই কুরবানী ওয়াজিব। এটাই আজকের সঠিক হিসাব।

বিঃ দ্রঃ একাক এলাকায় একাক দাম। তাই দাম কম বেশি হতে পারে। তাই নিকটস্থ কোন জুয়েলার্সে গিয়ে সঠিক ভালো করে জেনে নিবেন।

২. নিসাবের মেয়াদ কত দিন?
উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?
উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।

৪. যদি নাবালেগ ছেলের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।

৫. বালেগ কিন্তু সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন নয় তবে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।

৬. যদি নাবালেগের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?
উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।

৭. দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে
তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।

৮. কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?

উঃ একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য।
কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া।

আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয়, তাহলে গোশত সহ যতো টাকার গোশত কম হয়েছে পুরোটাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন, ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে, গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।

৯. প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?
উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।

১০. রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?
উঃ ১০, ১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।

১১. কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?
উঃ- গরু, উট, মহিষ, দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।

১২. পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?
উঃ- না, পুরুষও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।

১৩. পশুর বয়স সীমা কত?
উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর
ভেড়া, দুম্বা ছাগল ১ বছর।
ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয়
যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে।
তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।

১৪. শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?
উঃ উট, গরু,মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই, তবে একা দেওয়া উত্তম। ছাগল, দুম্বা, ভেড়াতে একজন।

১৫. গোশত ভাগে কম বেশি হলে?
উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে?
উঃ কারো কুরবানী হবে না।

১৭. কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?
উঃ হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে।

১৮. শরীকদার-দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয়, তাহলে কি কুরবানী হবে?
উঃ না না না! কারো কুরবানী হবে না।

১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?
উঃ ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব, তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।

২০. কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?
উঃ রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।

২১. যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে?
উঃ না।

২২. রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ না।

২৩. দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ একটা দাত নেই এটা কোন ভাবেই হবে না, অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না।

২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?
উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে।
তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।

২৫. লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?
উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না। তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।

২৬. অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃনা তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।

২৭. কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?
উঃ ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না
তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে।

আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে।
দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।

২৮. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উঃ হ্যাঁ, গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। (কাযীখান ৩/৩৫০)

২৯. পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?
উঃ বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে।

৩০. জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?
উঃ সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!

৩১. পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?
উঃ এই পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে এখানে গরিব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে
ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।

৩২. আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?
উঃ হ্যাঁ হবে, তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।

৩৩. পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?
উঃ যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।

৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?
উত্তমঃ নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম।

৩৫. বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?
উঃ- হ্যা হবে।

৩৬. অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয়নি আবার অন্যজন অস্ত্র হাতে নিয়ে রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, জায়েজ আছে। তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার না বললে কুরবানী হবে না।একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।

৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?
উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।

৩৮. কুরবানীর পশু দ্বারা কেউ হাল চাষ করে ফেললে সেক্ষেত্রে করনীয় কি?
উঃ অন্য পশু দ্বারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।

৩৯. কুরবানির পশুর,দুধ পান করা যাবে কি?
উঃ না।

৪০. যদি পশুর জবাইর আগে এমন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?
উঃ সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে.
ভুলে খেয়ে ফেললে যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।

৪১. পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?
উঃ তার ওয়ারিশরা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে
করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে।
তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।

৪২. জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?
উঃ ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে।
সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।
এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।

৪৩. মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?
উঃ হ্যাঁ, করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন।

৪৪. তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?
উঃ হ্যা রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!

৪৫. অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?
উঃ না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।

৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)
উঃ হ্যাঁ, হবে তবে সেটা বড় কৃপনতার পরিচয়।

৪৭. গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?
উঃ না।

৪৮. জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?
উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।

৪৯. জবাই করার অস্ত্র কেমন হতে হবে?
উঃ দাড়ালো হওয়া উত্তম।

৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?
উঃ নিস্তেজ হওয়ার পর পশু।

৫১. এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?
উঃ যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?

৫২. কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?
উঃ হ্যাঁ, তাতে কোন সমস্যা নেই।

৫৩. পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?
উঃ ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
গরিব হলে লাগবে না।

৫৪. মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?
উঃ না।

৫৫. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?
উঃ ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।

৫৬. কুরবানী গোশত খাওয়া কি?
উঃ মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।

৫৭. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?
উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।

৫৮. হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না।

৫৯. পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?
উঃ- না।

৬০. নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?
উঃ উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য।
এটার গোশত সবায় খেতে পারবে।

৬১. খাসিকৃত পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ হ্যাঁ যাবে

৬২. বিদেশে অবস্থানে ব্যক্তির করনীয় কি?
উঃ উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে

৬৩. পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?
উঃ হ্যা, তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।

৬৪. জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?
উঃ উত্তম, হাদিয়া দেওয়া।

৬৫. কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?
উঃ যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না।

৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ হ্যা যাবে।

আল্লাহ সকলকে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

15/05/2026

জিলহজ্জ মাস ইসলামের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ মাসগুলোর একটি।
এই মাসের প্রথম ১০ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

১. জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

📌 রাসূল (সা.) বলেছেন:
“এই দশ দিনের (জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন) আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় কোনো আমল নেই।”
— সহিহ বুখারি: ৯৬৯

জিলহজ্জের আমলসমূহ:

বেশি বেশি যিকির করা (তাকবির, তাহলিল, তাসবিহ)
📌 কুরআন: “তোমরা নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো”
— (সূরা বাকারা: ২০৩)

নফল রোজা রাখা (১–৯ জিলহজ্জ)
📌 হাদিস: এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়

দান-সদকা ও ভালো কাজ করা
ইস্তিগফার ও তাওবা করা
কুরআন তিলাওয়াত করা

৯ জিলহজ্জ – আরাফার দিন

এই দিনটি বছরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিন।

আরাফার দিনের আমলসমূহ:

১. রোজা রাখা (হাজী না হলে)

📌 রাসূল (সা.) বলেছেন:
“আরাফার দিনের রোজা আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এটি আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবে।”
— সহিহ মুসলিম: ১১৬২

২. বেশি বেশি দোয়া করা
📌 রাসূল (সা.) বলেছেন:
“সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”
— তিরমিজি: ৩৫৮৫

৩. যিকির করা
→ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার

৪. ইস্তিগফার ও কান্না করে তাওবা করা
৫. কুরআন তিলাওয়াত করা
৬. নিজের, পরিবার ও উম্মাহর জন্য দোয়া করা

🌿 “এই দিনগুলো হারানো মানে আল্লাহর বড় রহমতের দরজা মিস করা…”

📌 রেফারেন্স:

সহিহ বুখারি: ৯৬৯

সহিহ মুসলিম: ১১৬২

জামে তিরমিজি: ৩৫৮৫

সূরা বাকারা: ২০৩

14/05/2026

জিলহজ্জ মাস শুরু হয়ে যাওয়া মানেই মুসলিমদের বিশাল বড় আমলের উৎসব শুরু হলো! সুবহানাল্লাহ,আল্লাহু আকবর!!

-চাঁদ দেখা মানেই কোরবানি করবেন এমন কেউ যেন চুল, দাড়ি, নখ, অবাঞ্ছিত লোম না কাটেন।

-জিলহজ্জের প্রথম দশদিন অর্থ্যাৎ এক থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা।

-৯ টি রোজা না রাখলেও আগামী সোমবার,বৃহঃস্পতিবার এবং বিশেষ করে আরাফার দিনে যেন অবশ্যই রোজা রাখা হয়। এই রোজার ফযিলত হচ্ছে পুর্বের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।

-বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা।
-আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা চাওয়া,তাওবা/ইস্তেগফার করা।

-দরূদ পাঠ করা,সর্বদা জিকির করা, বিশেষ করে তাসবিহ=সুবহানাল্লাহ, তাহমিদ=আলহামদুলিল্লাহ্‌, তাহলিল=লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাকবির-আল্লাহু আকবার জিকির করা।

-ফজরের অন্তত আধাঘন্টা আগে ওঠা এবং তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা।

-ইশরাক, চাশত, সালাতুদ দুহার নামাজ আদায় করা।

-সুরা বাকারার শেষ ২আয়াত পাঠ করা রাতে ঘুমানোর আগে

-সুন্নাহ অনুযায়ী সব কাজ করা।

-দান-সাদকা বাড়িয়ে দেয়া।

-বেশি বেশি করে বাবা মায়ের সেবা করা।আত্মীয় ও প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেয়া।তাদের হক আদায় করা।
সবার সাথে উত্তম আচরন করা।

-গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখা,আমল বাড়ানো এবং বেশি করে দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করা।

-হজ্জ ফরজ হলে হজ্জ আদায় করতে যাওয়া।
-আরাফার দিন দুয়া করা। এই দিনের দুয়া ইন শা আল্লাহ কবুল হবে।

-আরাফার দিন এই দুয়া অনেক বেশি করে পড়া -
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
'শ্রেষ্ঠ দুয়া হচ্ছে আরাফাত দিবসের দুয়া। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে:
‎لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

• ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের উপর তাকবিরে তাশিরিক বলা ওয়াজিব।
তাকবিরে তাশরিক-
আল্লাহু আকবার.. আল্লাহু আকবার.. আল্লাহু আকবার.. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহু আকবার.. আল্লাহু আকবার.. আল্লাহু আকবার.. ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

নিজে জানুন,অন্যকে জানান। নিজেরা আমল করি এরপর অনলাইন অফলাইন সবজায়গা প্রচার করি ইনশাআল্লাহ্।

12/05/2026

#জরুরী_ঘোষনা
বাংলাদেশের শাওয়াল ৩০শে হয়েছে , সৌদি আরবে ২৯ হয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশে ১৮ই মে হবে যুলকা'দা ২৯তারিখ। অর্থাৎ বাংলাদেশে আগামী ১৬ই মে সোমবারে সবাই নক চুল কেটে ফেলবো।
কিন্তু যারা সৌদি আরব আছেন তারা আগামী শনিবারেই নক+চুল কাটবেন।
আজকে ১২ই মে ২০২৬ বাংলাদেশে যুলকাদার ২৫ তারিখ, এবং সৌদি আরবে ২৩ তারিখ।
তবে যারা ঐ সময়ে উমরাহ করবেন, তাদের উমরাহ শেষ করে হালাল হবার জন্য চুল কাটবেন।

11/05/2026

🌷 কিয়ামতের (কঠিন) দিনে আল্লাহ তায়ালার কাছে যারা অধিক মর্যাদাবান হবেন:

আবূ সাঈদ খূদরী রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো: " কিয়ামতের দিন কোন বান্দাগন আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক মর্যাদাবান হবে? নবীজী সাঃ বলেন: ঐ সকল পুরুষ এবং নারীগণ যারা অধিক পরিমাণে জিকির আজকার করে ( তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক মর্যাদাবান হবে)।( তিরমিজি, হাঃ ৩৩৭৬)

11/05/2026

আপনার যেকোনো দোয়া কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ।

১. প্রথমে ৩ বার দরুদ শরীফ:
“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।” (৩ বার)

২. তারপর ৩৩ বার:
“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায্‌জ্‌যালিমীন।” (৩৩ বার)
(অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম।)

৩. এরপর ৩৩ বার:
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।” (৩৩ বার)
(অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।)

৪. শেষে আবার ৩ বার দরুদ শরীফ:
“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।” (৩ বার)

এই আমলটি ধৈর্য, বিপদ মুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী যিকির।

সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে।

08/05/2026

জীবনে বারবার ব্যর্থতা, হতাশা, অভাব, সমস্যা বা দুঃখের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন? এটা অনেকের জীবনেই ঘটে। কিন্তু ইসলামে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো সূরা ফাতিহা। এটি কুরআনের সারাংশ, নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং শিফা (আরোগ্য), বরকত ও দোয়া কবুলের সূরা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসে সূরা ফাতিহাকে "শিফার সূরা" বলা হয়েছে (সহীহ বুখারি)। অনেক আলেম ও বুজুর্গদের (যেমন হজরত জাফর সাদেক রহ.) বর্ণনায় এর বিভিন্ন আমল আছে, যা বিপদ, রোগ, অভাব, ব্যর্থতা দূর করে সফলতা ও রিজিক বাড়ায়। এগুলো সহীহ হাদিসভিত্তিক নয় সবসময়, বরং অনেকটা অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও আলেমদের উপদেশ। তবে বিশ্বাস ও ইখলাসের সাথে করলে আল্লাহ কবুল করেন।

সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত আমলগুলো (ব্যর্থতা-সমস্যা দূর করার জন্য)

১. সূরা ফাতিহা ৪১ বার পড়ার আমল (সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত)

▪️অজু করে নিন।

▪️কোনো শান্ত জায়গায় বসুন।

▪️প্রথমে ৩-১১ বার দরূদ শরীফ পড়ুন (যেমন: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ...)।

▪️তারপর সূরা ফাতিহা ৪১ বার পড়ুন (সঠিক তাজবিদে)।

▪️শেষে আবার ৩-১১ বার দরূদ পড়ুন।

▪️তারপর আল্লাহর কাছে দোয়া করুন: ব্যর্থতা দূর হওয়া, সফলতা, রিজিক, মনের শান্তি, যা চান তা বলুন।

▪️সময়: ফজরের পর, মাগরিব-এশার পর বা রাতের শেষ প্রহরে (তাহাজ্জুদের সময়) করলে বেশি ফজিলত।

▪️মেয়াদ: ৭, ১১, ২১ বা ৪১ দিন পর্যন্ত নিয়মিত করুন।

▪️উপকার: অনেকে বলেন—রিজিক বাড়ে, ব্যর্থতার চক্র ভাঙে, মনের অস্থিরতা কমে, দোয়া কবুল হয়।

২. সূরা ফাতিহার ৫ম আয়াত ভিত্তিক আমল (ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা’ঈন)

▪️এ আয়াতটি পড়ুন: إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
(অর্থ: আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য চাই।)

▪️২১ বা ৪১ বার পড়ুন (বা পুরো সূরা ফাতিহা ২১/৪১ বার)।

▪️এতে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখার তাকিদ আছে, যা ব্যর্থতার মূল কারণ (নিজের উপর বেশি ভরসা) দূর করে।

▪️২১-৪১ দিন করুন।

৩. সহজ দৈনিক আমল (দোয়া কবুলের জন্য)

▪️দরূদ ৩ বার।

▪️সূরা ফাতিহা ৭ বার।

▪️সূরা ইখলাস ৯ বার (বা ৩ বার)।

▪️শেষে দোয়া করুন।

▪️এটা অনেকে ব্যর্থতা, অভাব দূর করতে করে।

৪. গুরুত্বপূর্ণ কথা

▪️ইখলাস ও বিশ্বাস সবচেয়ে বড়। শুধু সংখ্যা নয়, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন।

▪️আমল করার সময় দোয়া করবেন: "ইয়া আল্লাহ! আমার জীবনের ব্যর্থতাগুলো দূর করে দাও, আমাকে সঠিক পথে রাখো, রিজিক বাড়িয়ে দাও, হতাশা দূর করো।"

▪️নিয়মিত নামাজ, ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ ১০০ বার), দরূদ পড়া চালিয়ে যান—এগুলো ব্যর্থতা ভাঙার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

▪️যদি সমস্যা খুব গভীর হয় (যাদু-বান-নজর লাগা মনে হয়), তাহলে সূরা ফাতিহা + আয়াতুল কুরসি + মুয়াওয়িযাতাইন (ফালাক-নাস) দিয়ে রুকইয়া করুন।

আল্লাহ আপনার সব ব্যর্থতা দূর করে সফলতার রাস্তা খুলে দিন। আমীন 🤲

08/05/2026

সূরা আদ দোহা যেদিন নাজিল হয় সেদিন একটা চমৎকার ঘটনা ঘটে।
জিবরাইল (আঃ) যখন নবী (সঃ) কে শিখাচ্ছিলেন-

ওয়া লাছাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা।

তখন নবী (সঃ) থেমে গেলেন। কোরআন নাজিলের সময় তিনি খুব কষ্ট পেতেন। ওনার উপর অনেক প্রেসার পড়ত। তিনি ঘেমে যেতেন। আরবে তখন অনেক বেশি গরম ছিল। এত কষ্টের মাঝেও তিনি জিবরাইল (আঃ) কে বললেন,

এই জিবরাইল থাম।থাম। আমার কিছু কথা আছে। তুমি সাক্ষী। আল্লাহ্‌ বলেছেন তিনি আমাকে খুশি করে ছাড়বেন। তাই আমি আল্লাহ্‌র কাছে কিছু চাইতে চাই।

জিবরাইল (আঃ) অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন,হে নবী আপনি কি চান আল্লাহ্‌র কাছে?

তখন তিনি বললেন, তোমাকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই,আমার একজন উম্মতও যদি জাহান্নামে থাকে তাহলে আমি আল্লাহ্‌র উপর খুশি হব না। না না না। সবাইকে জান্নাতে না নেয়া পর্যন্ত আমি আল্লাহ্‌র উপর খুশী হব না।

তিনি এমন এক সৃষ্টি যিনি এই উম্মতের জন্য অসীম মায়া নিয়ে দুনিয়ায় এসেছেন।

মারা যাবার আগে ওনার চোখে পানি। আজরাইল (আঃ) ওনার বুকে হাত দেয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন।নবী(সঃ) এর অনুমতি ছাড়া জান কবজ করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করে দিছেন।

জিবরাইল (আঃ) তখন নবী(সঃ) কে বললেন, হে নবী,আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।আপনি কি যেতে চান না?

তখন তিনি বললেন,না।আগে আল্লাহ্‌কে জিজ্ঞেস কর আমি না থাকলে আমার উম্মতকে দেখে রাখবে কে?

তখন আল্লাহ্‌ জিবরাইল(আঃ) কে বললেন, আমার নবীকে বল আমি তার উম্মতকে একা রাখবো না।। আমি তাদেরকে দেখে রাখবো। আমি তাদেরকে আগলে রাখবো।

আল্লাহ্‌ তাঁকে যে ওয়াদা করেছেন তা আজও আছে। হাশরের মাঠেও থাকবে।

আল্লাহ্‌ আমাদের একা রাখেন নাই। যে কোন বিপদে তিনি আমাদের ছায়া দেন।

জীবনে কত ঝামেলায় পড়লাম। কত কি গেল জীবনের উপর দিয়ে। কিন্তু আল্লাহ্‌ কোন না কোন ভাবে একটা উপায় বের করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে একা করেন নি। তিনি আমাকে নিঃস্ব করেন নি। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Dhaka