কেতাব

কেতাব

Share

❝বই কিনে কেউ কোনদিন দেউলিয়া হয় না।❞

-সৈয়দ মুজতবা আলী

25/10/2025
24/03/2025

"একদা রাজা তাঁর সভাসদ বীরবলকে প্রশ্ন করলেন, বলোতো বীরবল, অবিদ্যা কি ?

বীরবল উত্তর দিলেন, জাহাঁপনা, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমাকে ৪ দিন ছুটি দিতে হবে, ফিরে এসে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব !

রাজা রাজি হয়ে তাঁকে ৪ দিন ছুটি দিলেন। বীরবল এক মূচির কাছে গিয়ে বললেন, ভাই এক জোড়া জুতো বানিয়ে দাও।

মূচি বলল, ঠিক আছে হুজুর, মাপটা দিন।

বীরবল বললেন, ওসব মাপ টাপ ছাড়ো, এক হাত লম্বা আর এক বিঘৎ চওড়া জুতো বানাও, আর ওতে কিছু হীরে জহরত জুড়ে দাও। সোনা আর রুপোর সুতো দিয়ে সেলাই করো, টাকার চিন্তা করো না, যা দাম হবে তাই পাবে, দরদাম করব না।

মূচি বলল, ঠিক আছে, কিছু টাকা আগাম দিন, আর ৩ দিন বাদে এসে নিয়ে যাবেন।

তৃতীয় দিন পুরো টাকা দেওয়ার আগে বীরবল মূচিকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিলেন যে ও এই জুতোর গল্প কারও কাছে কখনও করবে না।

তারপর বীরবল একপাটি জুতো নিজের কাছে রেখে অন্য পাটিটা একটি প্রার্থণালয়ের সামনে ফেলে দিলেন।

ভোরবেলা প্রার্থণালয়ের তত্বাবধায়ক এসে ঐ একপাটি জুতো আবিষ্কার করলেন। তত্বাবধায়ক চিন্তা করলেন, এত বড় জুতো কখনও কোন মানুষের পায়ে হতে পারে না, আর যা হীরে জহরত লাগানো তাতে নিশ্চয়ই রাত্রে সৃষ্টিকর্তা এসেছিলেন, এবং বাইরে ভুল করে এই একপাটি জুতো ফেলে গেছেন।

উনি প্রথমে জুতোর পাটিটা মাথায় ঠেকালেন, তারপর বার বার জুতোটা কে চুমু খেতে লাগলেন। পরে এলাকার আরও অনেক লোক এলে তত্বাবধায়ক সকলকে এই সৃষ্টিকর্তার জুতো-র পাটি পাওয়ার গল্প বললেন। সকলেই বলল, নিশ্চয়ই এই জুতো সৃষ্টিকর্তারই হবে, মানুষের পায়ে এত বড় জুতো হতেই পারে না, আর প্রার্থণালয়ের বাইরে যখন পাওয়া গেল তখন ভুত বা প্রেতাত্মার ও নয়। সবাই মিলে জুতোর পাটি বারবার মাথায় ঠেকাতে আর চুমু খেতে লাগল। শেষ পর্যন্ত জুতোর কথা রাজার কানে গেল......রাজার আদেশে সেই জুতো দরবারে পেশ হল।

রাজাও স্বীকার করলেন, এ জুতো সৃষ্টিকর্তারই হবে। তিনিও বারবার মাথায় ঠেকিয়ে আর চুমু খেয়ে বললেন, এই জুতো প্রার্থণালয়ের কোন পবিত্র স্থানে রাখা হোক।

পরের দিন বীরবলের ছুটি শেষ হল, উনি সভায় এসে রাজাকে কে সালাম ঠুকে মাথা নিচু করে বসে রইলেন।

রাজা প্রশ্ন করলেন, কি হল রাজা বীরবল, তুমি এমন বিরসবদন কেন ?

বীরবল বললেন, জাহাঁপনা, আমার বাড়ি থেকে একপাটি জুতো চুরি গেছে।

একপাটি জুতো ? রাজা প্রশ্ন করলেন।

হ্যাঁ, আমার প্রপিতামহের একপাটি জুতো চুরি গেছে, চোর একপাটি ফেলে গেছে।

ঐ একপাটি জুতো কি তোমার কাছে আছে ? রাজার প্রশ্ন।

হ্যাঁ, আমার কাছে আছে - বীরবল অন্য পাটিটা বের করে দেখালেন।

দেখেই তো রাজার মাথা ঘুরতে আরম্ভ করল, নিজের কপালে করাঘাত করে হুকুম করলেন প্রার্থণালয় থেকে জুতোর পাটি নিয়ে আসতে। তারপর বললেন, আমরা তো এটাকে সৃষ্টিকর্তার জুতো মনে করে কত মাথা ঠেকিয়ে, চুমু খেয়ে, চেটে চেটে চকচকে করে তুলেছি !

বীরবল বললেন, জাহাঁপনা, একেই বলে অবিদ্যা। এই ভারতবর্ষ একদিন এমনি অবিদ্যায় ছেয়ে যাবে। অনেক মানুষের বুদ্ধিলোপ হবে। তারা ধূর্ত মানুষকে ভগবান জ্ঞান করবে এবং দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করবে।

বর্তমানে বোধহয় সেই সময় এসেছে এবং সমাজে সেটাই হতে আরম্ভ হয়েছে।"

16/02/2025

হুমায়ূন আহমেদ তার 'লীলাবতী' উপন্যাস টি উৎসর্গ করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ কে। উৎসর্গপত্রে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন,

কবি, আমি কখনো গদ্যকার হতে চাইনি। আমি আপনার মতো একজন হতে চেয়েছি। হায়, এত প্রতিভা আমাকে দেয়া হয়নি।

হুমায়ূন আহমেদ কবি হতে চেয়েছিলেন এ কথা নিরেট সত্য। তাঁর কিছু প্রমাণ আমরা তার জীবনীগ্রন্থ গুলো থেকে জানতে পারি। হুমায়ূন প্রথম কবিতা লিখেছিলেন স্কুলের ম্যাগাজিনের জন্য তিনি যখন দশম শ্রেণির ছাত্র। মজার বিষয় ছিলো তিনি লিখেছিলেন একটি ইংরেজি কবিতা। নিন্দুকেরা বলে বসতে পারেন বাংলা ভাষায় না লিখে তিনি হঠাৎ মাইকেল মধুসূদন হওয়ার চেষ্টা কেন করলেন? বিষয়টি কিন্তু তা নয় স্কুল ম্যাগাজিনের দায়িত্বে যে স্যার ছিলেন তাঁকে হুমায়ূন আহমেদ বাংলায় গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী সবই লিখে জমা দিয়েছে। প্রতিটি রচনা পড়েই তিনি বলেছেন, মোটামুটি অখাদ্য। স্যার তখন তাকে বললেন তোর যখন এত আগ্রহ, তুই বরং ইংরেজিতে যা ইচ্ছা লিখে নিয়ে আয়, ছেপে দেব। ইংরেজি সেকশানে কোনো লেখা জমা পড়ে নি।

হুমায়ূন আহমেদ ইংরেজিতে যে কবিতাটি লিখেছিলেন তার নাম 'God'. কবিতাটা ছাপা হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের ছবিসহ। ছবির নিচে লেখা Humayun Ahmed Class X Section B. কবিতার প্রথম কয়েকটি লাইন নিচে দিলাম—

Let the earth move
Let the sun shine
Let them to prove
All are in a line

Move এর সঙ্গে prove এর অন্তর্মিল। Shine এর সঙ্গে line, স্কুল-ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবার কয়েকদিন পরের ঘটনা। তাঁদের ক্লাসের ইংরেজির শিক্ষক এক কপি স্কুল-ম্যাগাজিন হাতে ক্লাসে ঢুকলেন, এবং হুমায়ূন কে মহালজ্জায় ফেলে তার লেখা কবিতা পড়ে শোনালেন। তিনি তার ছাত্রের ইংরেজি কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ। কবিতা পাঠ শেষ হবার পর তিনি বললেন, হুমায়ূন, তুই ইংরেজি কবিতা লেখার চর্চা ছাড়বি না। আমি দোয়া দিলাম।

স্কুল ম্যাগাজিনের পর পত্রিকাতেও হুমায়ূন আহমেদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো হুমায়ূন আহমেদ তখন পুরো পরিবারের সাথে বরিশালের পিরোজপুরে। সময় কাটে না। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যায় থানার সামনে মুক্তিবাহিনীর মিছিল মিটিং হয় সেখানে গিয়ে দুই ভাই জড়ো হন। এক দুপুরে সোফায় বসে বসে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা কঠিন পরিশ্রম করে বারো লাইনের একটা কবিতা রচনা করে ফেললেন। ঘটনার সমাপ্তি শুধু কবিতা লিখেই শেষ করেননি। খাম ডাকটিকিট কিনে আনলো। দৈনিক পাকিস্তান-এর মহিলা পাতার সম্পাদিকাকে একটা চিঠি লিখলো-

প্রিয় আপা,
সালাম জানবেন। আমার নাম মমতাজ আহমেদ শিখু।
আমি একটি কবিতা পাঠালাম…

মমতাজ আহমেদ হুমায়ূন আহমেদের ছোটবোনের নাম। সে তখন ক্লাস টেনে পড়ে। কী সর্বনাশ! পরের সপ্তাহেই কবিতাটা ছাপা হয়ে গেল। হুমায়ূন আহমেদের পাঠকরা কিন্তু তার জীবনের প্রথম লেখা কবিতাটার দু’টা লাইনের সঙ্গে পরিচিত। কারণ এই দুটা লাইন তিনি শঙ্খনীল কারাগার- বইতে ব্যবহার করেছেন।

দিতে পারো একশ ফানুস এনে
আজন্ম সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।

প্রথম কবিতা ছাপা হয়ে যাওয়া কবির জন্যে বিরাট ব্যাপার। হুমায়ূন সোফায় বসে কাব্যচর্চা করতেই থাকলেন এবং দৈনিক পাকিস্তান এ বেশ কিছু মমতাজ আহমেদ শিখুর কবিতা ছাপা হয়ে গেল। হুমায়ূনের এক সহপাঠী বন্ধু (এখনকার বিখ্যাত কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা) চটি একটা কবিতার সংকলন নিজ খরচায় বের করলেন। সেখানেও তিনি হুমায়ুনের একটা কবিতা ছাপলেন। কয়েকটা লাইন তুলে দিচ্ছি,

রঙিন সুতার ছিপ ফেলে এক প্রজাপতি ধরতে গিয়ে
উল্টে পড়ে এই উঠোনেই।
মাগো, তোমার খুন হয়েছে বিশ বছরের যুবক ছেলে

এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদ পরবর্তী তে লেখক হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার পরেও তার কিছু কবিতা আমরা তার বিভিন্ন বইতে পাই। যেমন তিনি 'কবি' নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। তিন ব্যর্থ কবির গল্পকথা। আতাহার এবং সাজ্জাদের জবানি তে আমরা কিছু কবিতার লাইন পাই এছাড়াও 'বাসর' বইতেও তার লেখা কিছু লাইন পড়েছিলাম। হুমায়ূন আহমেদ এক জায়গায় লিখেছিলেন,

কবিতা না লিখলেও কিছু গদ্য তো লিখেছি! যদিও একজন গদ্যকার কবির পদধূলিরও নিচে থাকেন। সমারসেট মমের একটি উদ্ধৃতি দেই।

The crown of literature is poetry. It is its end and aim. It is the sublimest activity of the human mind. It is the achivement of beauty and delicacy. The writer of prose step aside when the poet passes.

শেষ লাইনটা ভয়াবহ—’একজন কবি যখন যাবেন তখন একজন গদ্যকার পথ ছেড়ে দিয়ে একপাশে দাঁড়াবেন।’

এত সম্মান কবিদের!!!!

(মিনহাজ সরদার এর ওয়াল থেকে নেয়া)

#কেতাব #হুমায়ূন_আহমেদ

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address

Dhaka