কল্যাণীয়াসু,
তোমার পত্র পেয়েছি সেদিন নব বর্ষার নবঘন-সিক্ত প্রভাতে। মেঘ মেদুর গগনে সেদিন অশান্ত ধারায় বারি ঝরছিল। পনের বছর আগে এমনি এক আষাঢ়ে এমনি এক বারিধারায় প্লাবন নেমেছিল, তা তুমিও হয়তো স্মরণ করতে পারো। আষাঢ়ের নব মেঘপুঞ্জকে আমার নমস্কার। এই মেঘদূত বিরহী যক্ষের বাণী বহন করে নিয়ে গিয়েছিল কালিদাসের যুগে, রেবা নদীর তীরে, মালবিকার দেশে, তার প্রিয়ার কাছে। এই মেঘপুঞ্জের আশীর্বাণী আমার জীবনে এনে দেয় চরম বেদনার সঞ্চার। এই আষাঢ় আমায় কল্পনার স্বর্গলোক থেকে টেনে ভাসিয়ে দিয়েছে বেদনার অনন্ত স্রোতে। যাক, তোমার অনুযোগের অভিযোগের উত্তর দেই। তুমি বিশ্বাস করো, আমি যা লিখছি তা সত্য। লোকের মুখে শোনা কথা দিয়ে যদি আমার মূর্তির কল্পনা করে থাকো, তাহলে আমায় ভুল বুঝবে-আর তা মিথ্যা।
তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করিনা-এ সকল আমি অন্তর দিয়ে বলছি। আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি, তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশমানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না।
আমি ধুমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না।তোমার যে কল্যাণ রূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার আঞ্জলি দিয়েছিলাম, সে রূপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দারের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে। অন্তরের সে আগুন-বাইরের সে ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি ।
তুমি ভুলে যেওনা আমি কবি, আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি। অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয়। আমার আঘাত বর্বর কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়। আমার অন্তর্যামী জানেন (তুমি কি জান বা শুনেছ জানিনা) তোমার বিরুদ্ধে আজ আমার কোন অনুযোগ নেই, অভিযোগ নেই, দাবীও নেই।
তোমার আজিকার রূপ কি জানিনা। আমি জানি তোমার সেই কিশোরি মুর্তিকে, যাকে দেবীমূর্তির মতো আমার হৃদয় বেদীতে অনন্ত প্রেম, অনন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। সেদিনের তুমি সে বেদী গ্রহণ করলেনা। পাষাণ দেবীর মতই তুমি বেছে নিলে বেদনার বেদিপাঠ … জীবন ভরে সেখানেই চলেছে আমার পূজা আরতি। আজকার তুমি আমার কাছে মিথ্যা, ব্যর্থ; তাই তাকে পেতে চাইনে। জানিনে হয়ত সে রূপ দেখে বঞ্চিত হব, অধিকতর বেদনা পাব, তাই তাকে অস্বীকার করেই চলেছি।
দেখা? না-ই হ’ল এ ধূলির ধরায়। প্রেমের ফুল এ ধূলিতলে হয়ে যায় ম্লান, দগ্ধ, হতশ্রী। তুমি যদি সত্যিই আমায় ভালবাস আমাকে চাও ওখান থেকেই আমাকে পাবে। লাইলি মজনুকে পায়নি, শিরি ফরহাদকে পায়নি, তবু তাদের মত করে কেউ কারো প্রিয়তমাকে পায়নি। আত্মহত্যা মহাপাপ, এ অতি পুরাতন কথা হলেও প্রেম সত্য। আত্মা অবিনশ্বর, আত্মাকে কেউ হত্যা করতে পারেনা। প্রেমের সোনার কাঠির স্পর্শ যদি পেয়ে থাকো, তাহলে তোমার মতো ভাগ্যবতী আর কে আছে? তারি মায়া স্পর্শে তোমার সকল কিছু আলোয় আলোময় হয়ে উঠবে।
দুঃখ নিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গেলেই সেই দুঃখের অবসান হয়না। মানুষ ইচ্ছা করলে সাধনা দিয়ে, তপস্যা দিয়ে ভুলকে ফুল রূপে ফুটিয়ে তুলতে পারে। যদি কোনো ভুল করে থাক জীবনে, এই জীবনেই তাকে সংশোধন করে যেতে হবে; তবেই পাবে আনন্দ মুক্তি; তবেই হবে সর্ব দুঃখের অবসান। নিজেকে উন্নত করতে চেষ্টা করো, স্বয়ং বিধাতা তোমার সহায় হবেন। আমি সংসার করছি, তবু চলে গেছি এই সংসারের বাধাকে অতক্রম করে উর্ধ্ব লোকে। সেখানে গেলে পৃ্থিবীর সকল অপূর্ণতা, সকল অপরাধ ক্ষমা সুন্দর চোখে পরম মনোহর মূর্তিতে দেখা যায়।
… হঠাৎ মনে পড়ে গেল পনর বছর আগের কথা। তোমার জ্বর হয়েছিল, বহু সাধনার পর আমার তৃষিত দুটি কর তোমার শুভ্র ললাট স্পর্শ করতে পেরেছিল; তোমার তপ্ত ললাটের স্পর্শ যেন আজো অনুভব করতে পারি। তুমি কি চিয়ে দেখেছিলে? আমার চোখে ছিলো জল, হাতে সেবা করার আকুল স্পৃহা, অন্তরে শ্রীবিধাতার চরণে তোমার আরোগ্য লাভের জন্য করুন মিনতি। মনে হয় যেন কালকের কথা। মহাকাল যে স্মৃতি মুছে ফেলতে পারলেন না। কী উদগ্র অতৃপ্তি, কী দুর্দমনীয় প্রেমের জোয়ারই সেদিন এসেছিল। সারা দিন রাত আমার চোখে ঘুম ছিল না ।
যাক আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষে রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে, তোমার ক্ষমতা নেই সে পথ থেকে ফেরানোর। আর তার চেষ্টা করোনা। তোমাকে লিখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক। যেখানেই থাকি বিশ্বাস করো আমার অক্ষয় আশির্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে। তুমি সুখি হও, শান্তি পাও, এই প্রার্থনা। আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস করো, আমি তত মন্দ নই, এই আমার শেষ কৈফিয়ৎ।
ইতি-
নিত্য শুভার্থী
নজরুল ইসলাম
সংগৃহীত
Beauty of Nature
Exploring the beauty of everyday life.
20/05/2026
অরিজিনাল...
জায়গাটি কি আপনার পরিচিত?
পেটের দায়ে চুরি করা মানুষকে পিটিয়ে মারতে সমাজ যতটা আগ্রহী,
হাজার কোটি টাকা লুট করা চোরদের সামনে ততটাই নীরব।
সমস্যা শুধু অপরাধে না, বিচারবোধেও।
আর প্রেয়সীর নামে খুদায় করা হাত দেখে শুধু হাসি পেল! আচ্ছা অনুভব হলো কি কারো?
14/05/2026
মাশরাফির বিন মুর্তজা ও নড়াইল — নাম দুটি একে অপরের পরিপূরক।
চাকরির প্রয়োজনে ঢাকায় থাকা হয়। পেশাগত কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। যারা জেলার বাইরে থাকেন, তারা হয়তো বিষয়টি আরও ভালোভাবে অনুভব করতে পারবেন। কিছুদিন আগেও ব্যক্তিগত পরিচয়ে নিজের জেলার নাম বললে পাশের জেলার নাম উল্লেখ করে চিনিয়ে দিতে হতো। অথচ এখন “নড়াইল” বললেই মানুষ মুচকি হেসে বলে ওঠেন— “ও… নড়াইল এক্সপ্রেস, মাশরাফির এলাকা!”
প্রতিবারই এই কথার উত্তরে এক ধরনের গর্ব আর স্বস্তি অনুভব করি।
নড়াইলের অনেক গুণী মানুষ দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে মাশরাফির বিন মুর্তজা-র অবদান নিঃসন্দেহে অনেক বেশি।
তিনি চাইলে উন্নত দেশে বিলাসবহুল জীবন বেছে নিতে পারতেন, যেমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কিন্তু তিনি নড়াইলকে নিয়েই ভেবেছেন এবং নিরলসভাবে নিজ জেলার উন্নয়নে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক কারণে তার প্রতি কারও মতভেদ থাকতে পারে, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু নড়াইলের মানুষ হিসেবে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে।
প্রিয় Mashrafe Bin Mortaza অভিমান নয়।
আপনি হয়তো অভিমান করেও থাকতে পারবেন না— কারণ নড়াইল যে আপনার মমতার বন্ধন, ভালোবাসার জায়গা। আর নড়াইলবাসীর হৃদয়ে আপনার জন্য যে ভালোবাসা, তা কোনো পরিচয়ের সীমায় আবদ্ধ নয়।
11/05/2026
লিচুর মৌসুম চলছে। সুস্বাদু এই ফল খাওয়ার সময় শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা খুবই জরুরি।
অসাবধানতাবশত লিচুর বিচি গলায় আটকে শ্বাসরোধ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
👨👩👧👦 তাই অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধঃ
✅ ছোট শিশুদের একা লিচু খেতে দেবেন না
✅ আগে থেকেই বিচি বের করে দিন
✅ খাওয়ার সময় পাশে থাকুন
✅ দ্রুত খাওয়া বা দৌড়াদৌড়ি অবস্থায় খেতে নিষেধ করুন
সচেতনতা হোক নিরাপদ শিশুর সুরক্ষা। ❤️
#লিচু #সতর্কতা #শিশু_নিরাপত্তা #অভিভাবক #সচেতনতা #বাংলাদেশ
বৃষ্টি ভেজা দিন
10/05/2026
🚆 সুখবর ট্রেন যাত্রীদের জন্য!
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন-এ চালু হয়েছে ফ্রি Wi-Fi নেটওয়ার্ক।
এখন ট্রেনের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কাটবে আরও সহজে — ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া, কাজ কিংবা বিনোদনে। 😊📶
যাত্রীসেবাকে আরও আধুনিক ও আরামদায়ক করতে এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। 🇧🇩
>>কানেক্ট করতে QR কোড কমেন্ট বক্সে দেখুন।
ধন্যবাদ।
#কমলাপুর_রেলস্টেশন
10/05/2026
Kawran Bazar Signal, Dhaka
Click here to claim your Sponsored Listing.