প্যারেন্টিং পাঠশালা - Parenting School

প্যারেন্টিং পাঠশালা - Parenting School

Share

Parenting is not about perfection; it's about love and effort.

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে আমাদের সন্তান। আর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কত কষ্টই না করি আমরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে, সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেক ছেলেমেয়েই মা-বাবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে যে, সঠিক সংশোধন প্রক্রিয়া না জানার কারণে এবং তা সন্তানদের উপর প্রয়োগ না করার কারণে সন্তান অবাধ্য হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আামদের নিরাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, সন্তানে

12/02/2024

🔰কীভাবে বুঝবেন শিশুর কৃমি হয়েছে, সমাধান কী?

কৃমি শিশুদের অতি প্রচলিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা এ সমস্যায় ভোগে। দূষিত ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খোলা খাদ্যদ্রব্য, মলমূত্র এবং মাটি থেকে মূলত কৃমি ছড়ায়। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের কৃমির মধ্যে গুঁড়া কৃমি, গোলকৃমি ও ফিতা কৃমির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়।

আকারে খুব ছোট হলেও একটি কৃমি প্রতিদিন মানুষের অন্ত্র থেকে শূন্য দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নিতে পারে। দীর্ঘদিন শরীরে কৃমি থাকলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। কৃমির সংক্রমণের কারণে অরেক সময় বড়রাও ভোগান্তিতে পড়েন। কৃমি-সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমেই জানা দরকার এটি কেন হয়?

🔰কৃমি কেন হয়?
১. বিশুদ্ধ পানি পান না করা।
২. খাবারের আগে ও মলত্যাগের পর সাবান ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে হাত না ধোয়া।
৩. বাইরের খোলা ও অপরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া।
৪. খালি পায়ে চলাফেরা করা।
৫. স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার না করা।
৬. সঠিক নিয়মে রান্না না করা খাবার খাওয়া।

🔰যেভাবে বুঝবেন
১. বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া।
২. পেটে অস্বস্তি এবং গ্যাস হওয়া।
৩. পেট ব্যথা, ক্ষুধামন্দা ও বদহজম।
৪. মলদ্বারের চারপাশে চুলকানো।
৫. পাতলা পায়খানা (ডায়রিয়া)।
৬. আমাশয় (পায়খানার সাথে মিউকাস ও রক্ত যাওয়া)।
৭. দুর্বলতা ও ক্লান্তি বোধ করা।
৮. রক্তস্বল্পতা দেখা দেওয়া।
৯. ওজন কমে যাওয়া।
১০. ঘন ঘন সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া হওয়া।
১১. ত্বকে চুলকানি বা অ্যালার্জি হওয়া।

🔰কৃমি হলে যা করবেন
কৃমির সমস্যা ওষুধের মাধ্যমে দূর করা যায়। কিন্তু নানা ভুল ধারণার কারণে অনেকে কৃমির ওষুধ খেতে চান না। শিশুদেরও খাওয়াতে চান না। চিকিৎসকের পরামর্শে বয়স ও ওজন অনুযায়ী বাচ্চাকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। একই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। তবে দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে খাওয়াতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

🔰কৃমি না হওয়ার জন্য যা করবেন
১. প্রতিবার খাবারের আগে এবং টয়লেটের পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
২. পান করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
৩. শাকসবজি, ফলমূল খাবারের আগে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
৪. মাছ-মাংস সঠিক নিয়মে রান্না করতে হবে।
৫. স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে।
৬. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭. কৃমির সমস্যা থাক বা রনা থাক, নিয়মিত ছয়মাস পরপর পরিবারের সব সদস্যের একসঙ্গে কৃমিনাশক সেবন করতে হবে।

🔰যেসব ধারণা ভুল
১. চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে কৃমি হয়।
২. শীতকালে, গরমকালে, আকাশে মেঘ থাকলে কৃমিনাশক খাওয়ানো যায় না।
৩. গর্ভবতী মাকে কৃমিনাশক খাওয়ানো যায় না।

তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

26/01/2024

'বাবা' নামটির সাথে যেমন নির্ভরতা ও বিশ্বাসের জায়গা জড়িয়ে থাকে, তেমনি বন্ধু হিসেবেও কিন্তু এই মানুষটি হতে পারেন অসাধারণ! তাই সন্তান লালন পালনে, মায়ের পাশাপাশি বাবাকেও নিজস্ব দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে।

সকল বাবা-মা’ই কিন্তু নিজেদের সেরাটা দিয়ে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সন্তানের সুশিক্ষা, আদর্শ লালন-পালন ইত্যাদি বিষয় সুনিশ্চিত করতে সদা উদ্বিগ্ন ও তৎপর থাকেন। কারণ বাচ্চাকে দেখাশুনা করা মোটেও কোনো সহজ নয়। এর জন্য একান্ত প্রয়োজন ধৈর্য ও মমতা। তাই সন্তানের লালন-পালন শুধু মায়ের একার দায়িত্ব নয়, বাবারও এতে সমান দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। কর্মজীবনে আমাদের ব্যস্ততা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও ব্যস্ত সময় পার করে যতটা সম্ভব আপনার স্ত্রীকে সন্তান লালন পালনে সাহায্য করুন। তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিন! দেখবেন সংসার জীবনে সুখী হতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন পড়ে না।

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

23/01/2024

মা-বাবার যেসব ভুলের কারণে সন্তান জেদি ও রাগী হয়ে ওঠে

একটা সময় ছিল যখন সন্তান লালন-পালন করা নিয়ে মা-বাবাকে খুব একটা চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন করা মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়। তাই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কখনও কখনও যেমন কঠোর হতে হয়, তেমনি কখনও কখনও আবার ভালোবাসা দিয়েও তাদের মন জয় করতে হয়।

তবে কর্মব্যস্ত এ জীবনে অধিকাংশ মা-বাবা ছোটখাটো যেকোনো বিষয় নিয়ে সন্তানের উপর রেগে গিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করেন কিংবা বকাবকি করেন।

এটা জানলে অবাক হবেন আপনি যতই আপনার সন্তানকে ভালোবাসেন না কেন, আপনার হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি ও বকাবকি শিশুর মনে রাগ ও জেদের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার নিজের ভুলগুলো মেনে নেওয়া খুবই জরুরি। আর তা না হলে যত দিন যাবে শিশু আরও রাগী ও জেদী হয়ে উঠবে। তখন আপনার শাসন-বারণেও কাজ হবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সন্তানের সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করার অভ্যাসগুলো পরিবর্তন আনা জরুরি।

চলুন, এবার জেনে নেওয়া যাক আপনার কোন কোন ভুলে শিশু আরও জেদি হয়ে ওঠে ও কিভাবে তার সমাধান করবেন-

শিশু নির্যাতন: আপনি যদি সন্তানের সাথে নম্র গলায় কথা না বলেন এবং সব সময় বকাবকি বা চিৎকার চেঁচামেচি করেন তাহলে সন্তান ও আপনার ব্যবহার অনুকরণ করার চেষ্টা করবে। একই সাথে আপনার রাগ ও জেদ শিশু মনেও রাগ ও জেদের জন্ম দেবে। এভাবে ধীরে ধীরে শিশু অবাধ্য ও জেদী হয়ে ওঠবে। মনে রাখবেন, আপনি যদি সবার সাথে সম্মানের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে সন্তান ও আপনার কাছে থেকে ইতিবাচক আচরণ শিখবে।

মেজাজ শৃঙ্খলা: আপনার সন্তান যদি রাগান্বিত হয় তবে তার রাগ কমার কিছুক্ষণ পরেই তাকে শান্ত করতে হবে। শৃঙ্খলা সম্পর্কে উপদেশ ও জ্ঞান দিতে হবে। আপনি যদি তাকে খারাপ মেজাজে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন তবে সে আরও বেশি বিরক্ত হবে। তাই প্রথমে নিজেকে শান্ত করে এরপরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে হবে এবং শৃঙ্খলার জ্ঞান দিতে হবে।

একঘেয়েমি: আপনি যদি সারাদিন শিশুর সামনে বারবার একই বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকেন, তাহলে সে বিরক্ত হয়ে যাবে এবং আরও জেদি হয়ে উঠবে। তাই একই বিষয় নিয়ে শিশুকে বারবার জেরা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর তা না হলে তাদের মেজাজ আরও বিগড়ে যেতে পারে।

বাড়ির পরিবেশ: যদি আপনার বাড়িতে নেতিবাচক পরিবেশ থাকে এবং সারাক্ষণ মারামারি, ঝগড়া-ঝাঁটি বা উত্তেজনা দেখা দেয়, তাহলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব শিশুর উপরেও পড়ে। এ ধরনের শিশুরা ঘরে এবং ঘরের বাইরেও রাগ করে থাকে এমনকি মানুষের সঙ্গে খারাপও আচরণ করতে পারে।

বাবা-মায়ের আচরণ: যদি মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলে ও শিশুদের সামনে একে অপরের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাহলে শিশুর ব্যক্তিত্ব ভালোভাবে গড়ে ওঠে। আর তাই আপনি যদি আপনার সন্তানকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান তাহলে আপনি আপনার স্ত্রীকে সন্মান করুন।

তুলনা করা: যখন কোন অভিভাবক তাদের সন্তানদের একে অপরের সঙ্গে তুলনা করে তখন সন্তানের মনে রাগ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই সন্তানকে ছোটো করে তুলনা না করে বরং তাকে উৎসাহ দিন। তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। দেখবে আপনার এই সামান্য অনপ্রেরণাই তার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন বয়ে আনবে।

নেতিবাচক কথা বলা: আপনি যদি সব সময় সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাহলে শিশুর মনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শিশু ও সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই সববিষয়ে অভিযোগ না করে এর সমাধান বের করার চেষ্টা করুন।

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

31/12/2023

🔰নবজাতক শিশুর যত্নে যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে🔰

পরিবারে নতুন অতিথি আসলে আমাদের খুশির সীমা থাকে না। সবাই প্রস্তুতি নিতে থাকে নতুন শিশুর আগমন উপলক্ষে। এতকিছুর মাঝেও থাকে শত রকমের চিন্তা। কীভাবে যত্ন নিব, কখন কী করবো, কী করলে ভাল হবে সহ শত শত প্রশ্ন! শিশুর যত্নে খাওয়া থেকে শুরু করে গোসল ও ঘুমসহ সব কিছুর প্রতিই আমাদের যত্নশীল হতে হয়। আর নতুন বাবা-মায়েদের জন্য নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়াটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিংও বটে। তো চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক, নবজাতক শিশুর যত্ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা।

🔰নিজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
শিশুর সংস্পর্শে আসার আগে নিজের হাত ভালোভাবে পরিস্কার করে নিন। সবসময় হাত ধোয়া সম্ভব না হলে জীবাণুনাশক হ্যান্ডওয়াশ অথবা ইনস্ট্যান্ট হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। এতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি অকেটাই কমে যাবে। শিশুকে কোলে নেবার সময় পরিবারের অন্যান্যদের হাত ধুয়ে নিতে উৎসাহিত করুন।

🔰শিশুকে খাওয়ানোর সময়
শিশুকে সঠিক সময়ে খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতক শিশুকে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর খাওয়ানো উচিত। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে ৮-১২ বার শিশুকে দুধ খাওয়াতে হতে পারে। শিশুর প্রথম ৬ মাসে শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। মায়ের দুধে রয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি, যা শিশুর বেড়ে ওঠা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। অনেক সময় বাচ্চারা বিভিন্ন কারণে মায়ের বুকের দুধ পায়না কিংবা খেতে পারেনা। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শিশুকে ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে হবে এবং কেনার আগে অবশ্যই দুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ, সঠিক পরিমাণ এবং দুধের গুণগত মান যাচাই করে নিতে হবে। আর যদি কেনা দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশুর কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়, তৎক্ষণাৎ শিশু ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

🔰বেবি বার্প বা শিশুকে ঢেঁকুর তোলানো
প্রতিবার খাওয়ানোর পর বিশেষ এক পদ্ধতিতে শিশুদের ঢেঁকুর তোলানো হয়। যাকে ইংরেজিতে বেবি বার্প বলে। বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় বাতাসও গিলে ফেলে এবং এর ফলে পেটে গ্যাস জমে যেতে পারে। আবার এই কারণে শিশুর পেটে ব্যথাও হতে পারে। শিশুর পেটের এই অতিরিক্ত বাতাস বের করে দেওয়া যায় শিশুকে ঢেঁকুর তোলানোর মাধ্যমে। এর জন্য শিশুকে আপনার বুকের কাছে এক হাত দিয়ে ধরে রেখে তার চিবুক আপনার কাঁধে এলিয়ে দিন। এরপর আপনার অন্য হাত দিয়ে খুব আস্তে আস্তে তার পিঠে টোকা দিতে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত শিশু ঢেঁকুর তুলছে।

🔰শিশুর জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন
দুধ খাওয়ার কারণে শিশুর জিহ্বায় সাদা একটি আস্তরণ পড়তে দেখা যায়। শিশুর জিহ্বায় সাদা এই আস্তরণকে বলে ওরাল থ্রাস। ওরাল থ্রাস পরিষ্কার না করলে শিশুদের জিভে ঘা হয়ে যেতে পারে। তাই এটি পরিষ্কারে নরম শুকনো কাপড় ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন মুছে দিন ছোট্ট সোনামণির জিভ।

🔰নবজাতকের নখ কাটা
ছোট শিশুদের নখ খুব দ্রুত বড় হয়ে থাকে এবং এটি খুব ধারালো হয়ে থাকে। ফলে নিজের নখের আঁচড়েই শিশুর ত্বকে লাগতে পারে গভীর আঁচড়। শিশুদের ত্বক খুবই সেনসিটিভ হয়, তাই আঁচড় থেকে ত্বকে ঘা হবার সম্ভাবনাও থাকে৷ তাই নিয়ম করে শিশুদের নখ সুন্দর করে কেটে রাখতে হবে৷ শিশু ঘুমিয়ে গেলে সাবধানে নখগুলো কেটে দিতে হবে। এতে নড়াচড়ার বা কেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না ৷ নখ কাটতে বেবি নেইলকাটার বা কাঁচির মতো বেবি নেইল ক্লিপার ব্যবহার করুন। তবে যেটাই ব্যবহার করুন না কেন ব্যবহারের আগে তা জীবাণুনাশক মেশানো পানিতে একবার ধুয়ে নিন৷ বাচ্চাদের নখ সাধারণত নরমই থাকে তবে শক্ত মনে হলে গোসলের পরপরই নখ কাটুন৷

🔰শিশুর চোখের যত্ন
শিশুদের চোখের প্রায়ই ময়লা দেখা যায়। বাচ্চার চোখের ময়লা পরিষ্কার করতে ভুলেও খালি হাত ব্যবহার করা যাবে না। কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে নিন। এবার হালকা করে চেপে পানি ঝরিয়ে বাচ্চার চোখ আলতোভাবে মুছে নিতে হবে।

🔰শিশুদের কান ও নাক পরিষ্কার রাখা
বাচ্চাদের কান ও নাক পরিষ্কার করার জন্য কটন বাডস ব্যবহার করুন। বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে সতর্কতার সাথে কান ও নাক পরিষ্কার করে দিন। খেয়াল রাখুন কানের পর্দায় বা নাকের খুব বেশি ভেতরে যেন আঘাত না লাগে। পরিষ্কার করার আগে কটন বাডসে হালকা অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিতে পারেন। অনেক সময় শিশুদের নাকে সর্দি বা ময়লা জমে বন্ধ হয়ে যায়, এর ফলে শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং দুধ টানতে চায় না। সুতরাং এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

🔰মালিশ করা
শিশুর শরীর মালিশ করা তাদের জন্য উপকারী। এটি শিশুকে ঘুমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন ও হজম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শিশুকে গোসল করানোর আগে হাতে অল্প পরিমাণে বেবি অয়েল বা লোশন দিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। এতে শিশুর শরীরের ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হবে এবং আরাম অনুভব করবে। ফলে শিশুদের ঘুমেও ভালো প্রভাব পড়ে।

🔰সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আনা
শিশুকে নিয়মিত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আনা জরুরি। দাদী-নানীদের আমল থেকেই দেখা যায়, সকাল বেলা উঠে বাচ্চাদের সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ রাখা হয়। সূর্যের আলোতে আছে ভিটামিন-ডি। এটি শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

🔰গোসল করানো
নবজাতককে গোসল করানোর কাজটি খুবই সাবধানতার সাথে করতে হয়। কেননা শিশু যদি বেশি নড়াচড়া করে, তাহলে শিশুর কানে, নাকে কিংবা চোখে পানি অথবা সাবান চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নবজাতককে গোসলের পূর্বে প্রয়োজনীয় সব জিনিস নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। শিশুর জন্য অল্প উষ্ণ পানি, বেবি সোপ বা বডি ওয়াশ, নরম তোয়ালে, বেবি লোশন বা ক্রিম, নতুন ডায়পার এবং শিশুর পরনের জন্য পরিষ্কার কাপড় হাতের কাছেই রাখুন। গোসলের সময় আলতো ভাবে শিশুর ত্বক পরিষ্কার করুন এবং গোসল শেষে নরম তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নিন। এরপর বেবি অয়েল কিংবা শিশুদের বিশেষ বডি লোশন হালকা মাস্যাজ করে দিন। চেষ্টা করবেন দুপুর ১২টার মধ্যেই বাচ্চাকে গোসল করিয়ে ফেলতে।

🔰ডায়পার পরানো
নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়ার আরেকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডায়াপার পরিবর্তন করা। শিশুরা যেহেতু দুধ বা ফর্মুলা খেয়ে থাকে, তাই দিনে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ টি ডায়পার চেঞ্জ করা লাগতে পারে। তাই খেয়াল করে সময় মতো ডায়পারটি বদলে দিতে হবে। ভেজা কিংবা নোংরা ডায়পার শিশুর জন্য খুবই ক্ষতিকর। ডায়পার ভেজা থাকলে শিশুদের ঠান্ডা লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া অপরিষ্কার ডায়পার শিশুর ত্বকে র‍্যাশ কিংবা ফুসকুড়ির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া ডায়পারের কারণে র‍্যাশ হলে বেবি ডায়পার ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। আর ডায়পার চেঞ্জ করার পর শিশুর ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিন।

🔰বেবি ওয়াইপস
নবজাতক শিশুর জন্য ভালো মানের বেবি ওয়াইপস ব্যবহার করুন। অনেক সময় কিন্তু ভালো মানের বেবি ওয়াইপস ব্যবহার না করার কারণে শিশুর র‍্যাশ বা ইচিং হতে পারে। খেয়াল রাখবেন বেবি ওয়াইপসের কারণে শিশুর কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।

🔰নবজাতকের পোশাক
নবজাতকের পোশাক নির্বাচনে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক নির্বাচন করুন। সিনথেটিক বা মোটা কাপড়ের ব্যবহারে শিশুর ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুকে পোশাক পরানোর আগে খেয়াল রাখুন কোনো পোকা বা ময়লা আছে কি না।

🔰কোমল ডিটারজেন্ট
শিশুর জন্য নতুন কেনা পোশাক এবং চাদর ব্যবহারের আগে সব সময় ধুয়ে নিতে হবে। জীবাণুমুক্ত করার জন্য মৃদু এবং কোমল ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

সর্বপরি, নবজাতকের আবহাওয়া থেকে শুরু করে অনেক কারণে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই না ঘাবড়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী ছিল। আর অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, শিশুর ব্যবহারের প্রত্যেকটি পণ্য যেন অথেনটিক হয়।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ও সুন্দর থাকবেন। আপনার সোনামণি বেড়ে উঠুক পরম যত্নে ও নিরাপদে।

ছবি- পেস্কেলস

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

12/12/2023

দেশব্যাপী ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু

আজ থেকে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তাদের মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে দেওয়া হবে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। আর ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে দেওয়া হবে লাল রঙের ক্যাপসুল। তবে অসুস্থ শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ার প্রকোপ কমায়, অন্ধত্ব দূর করে। এ জন্য শিশুদের বাড়ির পাশের কেন্দ্রে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।

ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালে এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি জন্মের পরপর নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানো, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো; শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

25/11/2023

শিশুদের কোন বয়সে কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত?

একটি শিশু যতক্ষণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে সময় কাটায় করে সেটিই তার স্ক্রিন টাইম। মোবাইল, টিভি, ট্যাব যেকোনো কিছুই হতে পারে। শিশুরা লার্নিংয়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট বয়সে কিছুক্ষণ শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বা মজার কার্টুন, ছড়া-গান এসব দেখতেই পারে। তবে স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রে শিশু কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে বা সেটা তার বয়সের উপযোগী কিনা এসব বিষয় মাথায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে অধিকাশং পরিবারেবাবা-মা দু'জনেই চাকরি করেন। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা যেটা ফেস করতে হয় তা হলো সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা। যার পরিণতি শিশুর অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম- যা অনেক সময় অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যায়!

এটা যে শুধু চাকরিজীবী বাবা-মাদের জন্য চিন্তার বিষয়, তা কিন্তু নয়। গৃহিণী মায়েরা যারা সারাদিন বাসায় থাকছেন, তাদের জন্যও বটে। দেখা যায়, সংসার সামলানো, রান্নাবান্না, টুকটাক কাজ এসবের জন্য অনেক সময় বাচ্চাদের হাতে বিভিন্ন ডিভাইস তুলে দিতে হয়, যাতে তারা কিছুক্ষণ স্থির থাকে। শহরে তো অনেক জায়গায় বাইরে খেলার কোনো সুযোগ নেই। তো ঘরবন্দি বাচ্চার একমাত্র বিনোদন বা সময় কাটানোর উপায় হলো এসব ডিভাইস।

কোন বয়সে কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করতে পারবে?

★ 'The American Academy of Pediatrics' এর মতে, ১৮ মাসের কম বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম একদমই অ্যালাউ করা উচিত না। শুধু আত্মীয়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কিছুক্ষণ তাকে অ্যালাউ করা যেতে পারে, তবুও সেটি বেশি সময় ধরে নয়।

★ যাদের বয়স ১৮-২৪ মাস তারা শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে কিছুটা সময় স্ক্রিন টাইম শেয়ার করবে এবং অবশ্যই সেটি হতে হবে তার বয়সের জন্য উপযোগী কনটেন্ট।

★ ২-৫ বছর বয়সি বাচ্চাদের ১ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম রাখা যেতে পারে এবং সেটা লার্নিং বা এডুকেশনাল প্রোগ্রাম।

★ ৬ বছর কিংবা তার বেশি বয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাবা-মা টাইম ফিক্সড করে দেবেন এবং তার ওপর নজর রাখতে হবে যে সন্তান তার বাইরে অন্য কোনো হার্মফুল কনটেন্ট দেখছে কিনা।

শিশুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব

বর্তমান যুগে এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখান থেকে বের হওয়া খুব সহজ নয়। শিশু থেকে বড়রাও দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টার স্ক্রিনে সময় পার করে। এটা এক ধরনের নেশার মতো। একটু একটু করে অনেকটা সময় চলে যায় এর পেছনে। বাচ্চাদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, চলুন জেনে নেয়া যাক-

ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা: কার্টুন বা গেমসে বেশি মনোযোগ দিলে আপনার শিশু সময়মতো ঘুমাতে চাইবে না। আর অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর ভিশনে আর স্লিপিং প্যাটার্নে ব্যাঘাত ঘটায়।

খাবার চিনতে না শেখা: একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন, স্ক্রিন টাইমের জন্য বাচ্চা বুঝতে পারে না খাবারের স্বাদ বা কতটুকু সে খাচ্ছে। খাবার খাওয়ার সময় হাতে ডিভাইস তুলে দেওয়াটা খুবই কমন। এতে তার মনোযোগ খাবারের চেয়ে স্ক্রিনের দিকে বেশি থাকে! ফলে অনেক বাচ্চা খাবার চিনতেও শেখে না। স্ক্রিনের প্রতি আর্কষণ থাকায় ঠিকমতো খাবার খেতে চায় না, মাঝেমধ্যে খাবার গ্রহণে অনীহাও দেখা যায়।

আচার ব্যবহারে পরিবর্তন: শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। ডিভাইসে যে কার্টুন বা ভিডিও চলছে তা থেকে প্রতিনিয়ত বাচ্চারা শিখছে। এতে তার সমগ্র আচার আচরণে পরিবর্তনও আসছে। কখনো কখনো সে জেদ দেখায়, রাগ করে, বেশি হাইপার হয়ে যায়। অর্থাৎ তার পারসোনালিটি বিল্ডআপের টাইমেও এই জিনিসগুলো বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে কম সময় কাটানো: যেসব বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম বেশি তারা পরিবারের সঙ্গে কম সময় কাটাতে চায়। সোশ্যাল বন্ডিং কম হওয়ার কারণে তাদের মানসিক বিকাশ দেরিতে হয়। এই বাচ্চারা বাইরেও যেতে অনীহা প্রকাশ করে এবং অন্যকারো সাথে ভালোভাবে মিশতে পারে।

স্পিচ ডিলে: এটি একটি মারত্মক সমস্যা এবং দিনে দিনে এটি আরও প্রকট হচ্ছে। স্ক্রিন টাইম শিশুদের অ্যাকটিভিটি কমিয়ে দেয়। কম চলাফেরার কারণে তাদের ওয়েট বেড়ে যেতে পারে আর সেটি অন্যান্য শারীরিক সমস্যাকে ট্রিগার করে। সারাদিন টিভি বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে স্পিচ প্রবলেম, কানে কম শোনা, ডাকলে রেসপন্স না করা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এক কথায়, শিশুর শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে এক প্রকার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া: স্ক্রিন টাইমের প্রতি বেশি আর্কষণ বাচ্চার বই পড়া, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তার ক্রিয়েটিভিটি কমে আসে। নতুন কিছু করতে সে অনীহা প্রকাশ করে।

ভয় পাওয়া বা ট্রমা: সোস্যাল মিডিয়াতে এখন শিক্ষণীয় কনটেন্টের পাশাপাশি অনেক হার্মফুল কনটেন্টও খুব সহজলভ্য। আপনার শিশু ভুলবশত এমন কিছু কনটেন্ট দেখলো যেটি তার ব্রেইনে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে। ভয়ের কিছু দেখে থাকলে সে সহজে সেই সিচুয়েশন থেকে বের হয়ে আসতে নাও পারে এবং এভাবে শিশু ট্রমার শিকার হওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। এই ভয় বা ট্রমা তার মানসিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটাবে, এটা খুবই স্বাভাবিক।

তাহলে কি কিছুই শিখছে না: অনেক প্যারেন্টস ভিডিও বা কার্টুনকে বাচ্চার কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ভেবে থাকেন। এটা আসলে পুরোপুরি ঠিক নয়। কিছু ভিডিও থেকে শেখা যায়, যেমন- কারো সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে সালাম বা 'হ্যালো' বলা এবং শেষে 'বাই' বলা। এগুলো টুকটাক শব্দ তারা ক্যাচ করে ফেলে। কিন্তু পরিপূর্ণ বিকাশ হয় না বা ভাষা শিখে ফেলে না এই বয়সেই, কারণ এটি একতরফা কথোপকথন (one way communication)। আপনার শিশু স্ক্রিনে কী হচ্ছে শুধুই সেটাই দেখতে পারছে কিন্তু কোনো ভাব বিনিময় হচ্ছে না। ফলাফল স্পিচ ডিলে হয়ে যাচ্ছে।

স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের কৌশল: শিশুকে সময় দিন। শিশুরা কিছুটা বিরক্ত করবেই। শিশু বিরক্ত করলেই সাথে সাথে তার হাতে ডিভাইস তুলে দেবেন না। এতে তার মাঝে যে কোনো কিছু সহজে পাওয়া যায়, এই মনোভাব কাজ করে। পরবর্তী সময়ে না পেলে তার মধ্যে জেদ কাজ করে।

শিশুর বিকাশে সহায়ক হবে এমন খেলনা তুলে দিন। যেমন- বিল্ডিং ব্লকস বা আঁকাআঁকি বাচ্চারা বেশ পছন্দ করে। সেই সঙ্গে অবশ্যই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাচ্চাদের জন্য আলাদা ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, সেটা দিতে পারেন। অযাচিত ভিডিও ব্লক করে দিন। কিডস ফ্রেন্ডলি সেটিংস দিয়ে রাখুন মোবাইলে। বাচ্চাকে আদরের পাশাপাশি সঠিক উপায়ে শাসন করাটাও জরুরি। যেন সে বুঝে কোনটি তার জন্য ভালো, আর কোনটি খারাপ। তবে কিছু বাচ্চাকে এক্সট্রা কেয়ার দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হয়। আপনার বাচ্চাকে অবজার্ভ করুন সে কীভাবে রিঅ্যাক্ট করে। তাকে আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যান। ছুটির দিনে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দিন। চিড়িয়াখানা, পার্ক, প্লেগ্রাউন্ড এসব জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন তাতে তার স্ক্রিন টাইমের প্রতি আগ্রহ কমবে।

বাসার ছোটখাটো কাজে বাচ্চাকেও সঙ্গে নিন, যাতে তার কাজ শেখার প্রতি আগ্রহ জাগে। কাজ সা পারলেও তাকে উৎসাহ দিন। যেমন- কাপড় ভাঁজ করা, গাছে পানি দেওয়া, রান্না বা বেকিংয়ের সময় ছোট ছোট জিনিস এগিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। প্রয়োজেনে তাকে তার কাজের জন্য পুরস্কৃত করনি। এখন অনেক প্রি স্কুল বা চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠান আছে। আপনার সাধ্য অনুযায়ী বাচ্চাকে কিছু সময় সেখানে রাখতে পারেন। এতে দিনের অনেকটা সময় সে স্ক্রিন টাইম থেকে বিরত থাকবে। নতুন নতুন জিনিস শিখবে। সর্বোপরি নিজেকে পরিবর্তন করুন। আপনি নিজেই যদি ডিভাইসে আসক্ত থাকেন তাহলে আপনার শিশুকে কীভাবে বিরত রাখবেন? তাই বাচ্চার সামনে অপ্রয়োজনে ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

কর্মজীবী বাবা-মায়েদের করণীয়: বাবা-মা দু'জনই যদি চাকরি করেন, তাহলে এটা নিশ্চিত করুন- সারাদিন যে বাচ্চার দেখাশুনা করছে সে যেন বাচ্চার হাতে মোবাইল বা স্মার্ট ফোন না দেয়। বাচ্চারা বয়স অনুযায়ী কিছুক্ষণ টিভি দেখতেই পারে, তবে সারাদিন নয়! বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ছবি আঁকা এগুলোতে অভ্যস্ত করুন তাকে। অবসরে আপনার বাচ্চাকে কোয়ালিটি টাইম দিন এবং তার সাথে বেশি বেশি গল্প করুন।

শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি শিশুর ভালোভাবে বেড়ে উঠার সঙ্গে আপনার নিজের, সমাজের ও দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম যাতে অন্তরায় হয়ে না দাাঁড়ায় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক প্রতিটি শিশু।

#প্যারেন্টিং_পাঠশালা

24/11/2023

সতর্কতা: শিশু বাচ্চাদের উপর চিনির ক্ষতিকর প্রভাব

চিনি একটি মিষ্টি এবং স্বাদু পদার্থ। তবে শিশু বাচ্চাদের খাবারে অধিক পরিমাণ চিনি ব্যবহার করলে এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, দু’বছরের কম বয়সি শিশুদের খাদ্য তালিকায় কোনও রকম চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার রাখা একেবারই উচিত নয়। এই বয়সে বেশি চিনি খেলে পরবর্তী কালে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং টাইপ-টু ডায়াবিটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই বয়সি শিশুদের শর্করা যুক্ত খাবার খাওয়ালে তা তাদের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুখাদ্যে চিনির ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে।

চিনির অত্যধিক ব্যবহারের প্রভাব:
শিশুর শারীরিক সমস্যা: অত্যধিক চিনির ব্যবহারে শিশুদের শারীরিক অবস্থা প্রভাবিত হতে পারে। সম্ভাবনামতে হার্টের সমস্যা, মুখ এবং দাঁতের সমস্যা, এবং অন্যান্য অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
শিশুর পুষ্টির অসম্পূর্ণতা: শিশুখাদ্যে অত্যধিক চিনি ব্যবহৃত হলে এটি শিশুদের পুষ্টির অসম্পূর্ণতা তৈরি করতে পারে এবং শারীরিক বা মানসিক উন্নতিতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ডায়াবিটিস এবং ওবেসিটি: চিনি অত্যধিক ব্যবহারের ফলে শিশুদের মধ্যে ডায়াবিটিস এবং ওবেসিটি এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দাঁতের ক্ষতি: চিনি দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। শিশুখাদ্যে অত্যধিক চিনি শিশুর দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

তবে শিশুদের খাদ্যতালিকা থেকে মিষ্টি জীতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। শিশুরা কেক, চকলেট বা পেস্ট্রি এসব খেতে চাইবেই। এসব খাবারে আমাদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে যেমন নজর রাখতে হবে এবং তেমনি তাদের পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খেতেও অনুমতি দিতে হবে। আর এই ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্ব আপনার।

শিশুর জন্য বাইরে থেকে কিছু খাওয়ার জিনিস কিনলে, তাতে চিনির মাত্রা কতখানি সেই বিষয় সতর্ক থাকতে হবে। নিজে বাড়িতে শিশুর জন্য খাওয়ার বানালে তাতে চিনি না দেওয়ার চেষ্টা করুন। আর একান্তই না পারলে যথাসম্ভব কম দেয়ার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, দু’বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা কী খাচ্ছে, তার উপরেই তাদের খাদ্যাভাস তৈরি হয়। তাই ছোটবেলা থেকেই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে, বড় বয়সে গিয়েও সেই খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে।

13/11/2023

নবজাতককে খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম

জান্মের পর থেকে নবজাতকের বয়স ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই একমাত্র ও আদর্শ খাবার। ছয় মাস পর থেকে শিশুর পুষ্টিচাহিদা পূরণে, তথা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। তবে দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো দুধ বা কৌটার দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। মায়ের দুধে প্রায় সব ধরনের খাদ্য উপাদানই মজুত থাকে। এ ছাড়া জন্মের পরপর হলুদ রঙের যে শালদুধ বের হয়, তা নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

মায়ের দুধ সহজপাচ্য, বিশুদ্ধ এবং এতে রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান থাকে বলে নবজাতকের যেকোনো সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। মায়ের দুধ পানকারী শিশুদের হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্থূলতা, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, কানের প্রদাহ, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা (ডায়রিয়া, বমি), SIDS (Sudden Infant Death Syndrome) ইত্যাদির আশঙ্কা কম। যেসকল মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ পান করান, তাঁদেরও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্তন ও জরায়ুর ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। কিন্তু বাজারের যেসব শিশুখাদ্য পাওয়া যায়, সেগুলো মায়ের দুধের মতো এতটা সুরক্ষা দিতে পারে না। ফলে শিশুর নানা রকম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

নবজাতককে দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ রাখা জরুরি:

১. নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাকেও সুষম খাবার খেতে হবে।
২. প্রতিবার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে মাকে এক থেকে দুই গ্লাস পানি অথবা অন্য কোনো তরল খাবার খেতে হবে।
৩. বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় কোনো রকম তাড়াহুড়া করা যাবে না। প্রশান্ত মনে, ধৈর্যসহকারে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে।
৪. বসে বসে খাওয়াতে চাইলে মায়ের পিঠের পেছনে এবং কোলের নিচে বালিশ নিয়ে আরাম করে বসতে হবে। শুয়ে শুয়ে খাওয়াতে চাইলে শিশুকে মায়ের দিকে পাশ ফিরিয়ে এমনভাবে শোয়াতে হবে, যেন মা হাত দিয়ে শিশুর পশ্চাদ্দেশ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেন।
৫. শিশুর নাক যেন চাপে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৬. বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় একটি স্তন থেকেই ভালোভাবে খাওয়াতে হবে। কারণ, প্রথম দিকে পাতলা দুধ এবং পরে আস্তে আস্তে ঘন দুধ বের হতে থাকে।
৭. দুই ঘণ্টা পরপর শিশুকে বুকের দুধ দিলে ভালো হয়। রাতে ঘুমানোর সময় একটানা চার ঘণ্টা বিরতি দিলেও কোনো সমস্যা নেই।
৮. কর্মজীবী মায়েরা কর্মস্থলে থাকাকালীন শিশুর যাতে বুকের দুধের অভাব না হয়, সে জন্য দুধ সংরক্ষণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কাজ থেকে ফিরে যতবার শিশুকে দুধ খাওয়াবেন, ততবার পাম্প করে ফ্রিজে দুধ সংরক্ষণ করবেন। তবে ফ্রিজ থেকে বের করে সরাসরি ঠান্ডা দুধ শিশুকে দেওয়া যাবে না। একটি পাত্রে গরম পানিতে দুধের পাত্র রেখে নেড়েচেড়ে শিশুর খাওয়ার জন্য সহনীয় করতে হবে।

07/11/2023

শিশুর ঘুমের সমস্যা: কারণ ও করণীয়

ঘুম প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি অত্যাবশ্যকীয় এবং অপরিহার্য বিষয়। শিশুদের জন্য ভালো মানের ও পর্যাপ্ত ঘুম আরও বেশি প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, বিভিন্ন ধরনের আচরণগত ও আবেগীয় সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুর মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যেতে পারে ও কর্মদক্ষতা কমে যেতে পারে। শিশু বেশি বেশি খাওয়া শুরু করতে পারে এবং মুটিয়ে যেতে পারে। ঘটতে পারে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনাও।

যদিও শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যাগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়। তবুও কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের ঘুমের সমস্যা দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এবং তাদের সার্বিক সুস্থতায় তাৎপর্যপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব রাখে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১-৫ বছর বয়সের শিশুদের মাঝে শতকরা ২৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের ঘুমের সমস্যায় ভোগে। ঘুমের সমস্যাগুলো বিভিন্ন মাত্রায় ও বিভিন্ন রূপে হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুচিকিৎসা ও সুপরামর্শে ভালো হয়। বয়স অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর দৈনিক কত ঘণ্টা স্বাভাবিক এবং গুণগত মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন সেটি আগে জানা প্রয়োজন।

বয়স অনুযায়ী শিশুর প্রয়োজনীয় ঘুমের সময় তালিকা নিম্নরূপ-

» ১-৪ সপ্তাহ : ১৬-১৭ ঘণ্টা
» ১-৪ মাস : ১৬-১৭ ঘণ্টা (রাতের ঘুমে পরিমাণ বাড়তে থাকে)
» ৪ মাস-১ বছর : ১৪-১৫ ঘণ্টা
» ১-৩ বছর : ১২-১৪ ঘণ্টা (রাতেই বেশি ঘুমায়, দিনে অল্প সময়ের জন্য ঘুমায়)
» ৩-৬ বছর : ১১-১২ ঘণ্টা
» ৭-১২ বছর : ১০-১২ ঘণ্টা
» ১৩-১৮ বছর : ৬-৮ ঘণ্টা

শিশুদের ঘুমের সমস্যাকে মূলত: ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ডিসসমনিয়া, প্যারাসমনিয়া।

ডিসসমনিয়া: এটি ইনসমনিয়া এবং হাইপারসমনিয়ার মাঝে অন্তর্ভুক্ত। ইনসমনিয়া হলো ঘুমাতে যাওয়ার পর সহজে ঘুম না আসা, মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়া অথবা একেবারেই ঘুম না হওয়া ইত্যাদি। যা কয়েকদিন থেকে সপ্তাহ, অথবা কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। এটি শিশুর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে এবং শিশুর মাঝে সতেজ অনুভূতির অভাব তৈরি করে। ফলে শিশুর মাঝে দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব থাকে। মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা (ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ, অ্যালার্জি বা চুলকানি রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, হাড় এবং মাংসপেশিতে ব্যথা, গলা-বুক জ্বলা, দাঁত ব্যথা ইত্যাদি), মানসিক রোগ (ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি), ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি ইনসমনিয়ার কারণ হতে পারে।

এছাড়া কিছু স্নায়ুবিকাশজনিত রোগ যেমন- অটিজম, অ্যাসপারজারস সিনড্রোম, লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি, হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার ইত্যাদিও শিশুদের ইনসমনিয়ার কারণে হতে পারে। আপনজনদের (বাবা, মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি অথবা গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যাকারী) কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ভয়, স্কুলে পড়ার চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ, বুলিং, ভাই-বোন বা বন্ধুর সঙ্গে কলহ, নতুন স্থানে গমন, নতুন রুটিন ইত্যাদি শিশুদের মানসিক চাপের কারণ হতে পারে এবং এগুলো থেকে শিশুদের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো গান, গল্প না শুনলে শিশুর ঘুম আসে না, নির্দিষ্ট কোনো আপনজনের নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে আদর করা, জড়িয়ে ধরা, কোলে নেওয়া ইত্যাদির অভাববোধ করলেও শিশুরা ঘুমাতে পারে না। এবিষয়গুলো মাঝে মাঝে হলেও তেমন ক্ষতি নেই, কিন্তু এটি যদি বেশিদিন চলতে থাকে তাহলে অবশ্যই তা ঘুমের সমস্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

হাইপারসমনিয়া: হাইপারসমনিয়া হলো রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও দিনের বেলায় ঘন ঘন ঘুমানো অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকা এবং ক্লান্তবোধ করা। ভোরে বা সকালবেলা ঘুম থেকে জাগতে কষ্ট হওয়া। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, নারকোলেপ্সি, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম ইত্যাদি হাইপারসমনিয়ার কারণ হতে পারে।

প্যারাসমনিয়া: ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে বা ধাপে, ঘুমের মাঝে অথবা ঘুম এবং সজাগ অবস্থার মাঝামাঝি পর্যায়ে সংঘটিত কিছু আচরণ বা শারীরবৃত্তীয় কাজের উপস্থিতি থাকলে সেটিকে বলা হয় প্যারাসমনিয়া। যেমন- নাইটমেয়ার, নাইটটেরর, স্লিপ ওয়াকিং, ব্রুক্সিজম, স্লিপ ইন্যিউরেসিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম ইত্যাদি।

নাইটমেয়ার: এটিকে ড্রিম অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার বা স্বপ্নোদ্বেগ রোগও বলা যায়। এ ক্ষেত্রে শিশু স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা তাকে ভীত, উদ্বিগ্ন এবং অস্থির করে তোলে। ঘুমের র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) ধাপে এটি ঘটে। এ ক্ষেত্রে শিশু রেম স্লিপ থেকে সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় ফিরে আসতে পারে এবং স্বপ্নের বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারে। দিনের বেলায় ঘটে যাওয়া কোনো ভীতিকর অবস্থা থেকে অথবা উদ্বেগজনিত কারণে (কোনোকিছু থেকে অথবা কারও কাছ থেকে ভয়-ভীতি পেলে) এটি ঘনঘন হতে পারে। ৫-৬ বছর বয়সের শিশুদের মাঝে এটি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। আঘাত-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত রোগ, জ্বর, মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ এবং মাদকের প্রত্যাহারজনিত কারণেও এমন হতে পারে।

নাইটটেরর: এটি সাধারণত নন-রেম স্লিপে ঘটে। ঘুমাতে যাওয়ার ৯০ মিনিট পর অথবা প্রতি ৯০ মিনিট অন্তর অন্তর শিশুর ঘুম ভেঙে যায়, সে শোয়া থেকে ওঠে বসে, কখনও দাঁড়িয়ে যায়, কখনও ঘুমন্ত অবস্থায় হাঁটে, প্রচণ্ড অস্থির এবং আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। কখনও বা জোরে জোরে কান্নাকাটি করে। শিশুর হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। শিশু বুঝতে পারে না তার কী করতে হবে। কয়েক মিনিটের মাঝেই শিশুটি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায় এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে শিশু স্বপ্নে কী দেখেছে তা মনে করতে পারে না বা করলেও খুব কম মনে করতে পারে। এটি নাইটমেয়ারের চেয়ে কম পরিলক্ষিত হয়।

স্লিপওয়াকিং: শিশু ঘুমের মাঝে হাঁটে। এটি নন-রেম স্লিপের গভীর পর্যায়ে (স্টেজ ৩-৪) হয়। সাধারণত রাতের প্রথমার্ধে হয়। ৫-১২ বছরের শিশুদের মাঝে সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়। যাদের এ সমস্যা রয়েছে তাদের মাঝে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১৫ জন শিশু অন্তত একবার ঘুমের মাঝে হাঁটে। মাঝে মাঝে বড় হওয়ার পরও এ সমস্যা থেকে যায়। এটি পারিবারিক বা বংশগতভাবেও হতে পারে। ঘুমের মাঝে অধিকাংশ শিশু সত্যিকার অর্থে কিন্তু হাঁটে না। তারা ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়, নড়াচড়া করে, সাধারণত চোখ খোলা রেখে চারপাশে হাঁটে, কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় না এবং তাদের ঘুম থেকে জাগানো খুব কঠিন হয়ে যায়। সাধারণত তারা আবারও বিছানায় ফিরে যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়। এরা রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কী কী করেছিল তা পরদিন মনে করতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরা নিজের এবং অন্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ, নিজের অজান্তে নিজের এবং অন্যের জন্য ক্ষতিকারক কিছু করে ফেলতে পারে। তাই তাদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেমন- দরজা-জানালা তালাবন্ধ রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা ইত্যাদি।

স্লিপ অ্যাপনিয়া: একজন শিশু যদি ঘুমের মাঝে ১০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় শ্বাস নিতে না পারে তাহলে তা খুবই ভীতিকর। শিশুটি জোরে জোরে নাক ডাকছে, মুখ খোলা রেখে ঘুমাচ্ছে, দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকছে। বেশিরভাগ শিশু জানেই না তারা এমন করছে। শিশুদের টনসিল, এডেনয়েড, কানের সংক্রমণের কারণেও রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফলে শিশু দিনের বেলায় ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, পড়াশোনা এবং অন্যান্য কাজে মনোযোগ দিতে পারে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে, আচরণগত সমস্যা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম: যদিও এটি বড়দের রোগ হিসাবে পরিচিত তবুও শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে। শিশুরা বলতে পারে ‘পায়ে পোকা হাঁটছে’ বা ‘পা ঝিঁঝি করছে’ এমন অনুভূতির কথা। পায়ের মাঝে অস্বস্তি অনুভূতি থেকে রেহাই পেতে তারা বিছানায় ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে, আর এতে পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

স্লিপ ইন্যিউরেসিস বা বেড ওয়েটিং: শারীরিক কোনো সমস্যা বা রোগ না থাকা সত্ত্বেও পাঁচ বছর বয়সের পরেও যদি কোনো শিশু প্রায় প্রতিদিনই ঘুমের মাঝে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে তাহলে তার স্লিপ ইন্যিউরেসিস আছে বুঝতে হবে। সাধারণত ছেলেদের মাঝে এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ পরিবর্তনের জন্য কন্টিনজেন্সি (শর্তসাপেক্ষ) ম্যানেজমেন্ট বা স্টার চার্ট মেথড ভালো কাজ করে। বেল অ্যান্ড প্যাড সিস্টেম সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং কার্যকর। ব্লাডার ট্রেইনিং, ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে চা, কফি ইত্যাদি না খাওয়া, সন্ধ্যার পর কম পানি খাওয়া, ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ব্লাডার খালি করা ইত্যাদি। সবগুলো পদ্ধতি একসঙ্গে অনুসরণ করলে শতকরা ৯৯ জন রোগী তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি লাভ করে। এছাড়া ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টসের মাঝে ইমিপ্রামিন ভালো কাজ করে।

ব্রুক্সিজম: অনেক শিশু ঘুমের মাঝে দাঁতে দাঁত পেষা বা দাঁত খিঁচার মতো শব্দ করে। অনেকেই মনে করেন পেটে কৃমি হলে এমনটি হয়। আসলে শিশুর মানসিক চাপ, উদ্বেগ অথবা দাঁতের কোনো সমস্যা থাকলে এমন হয়। এতে ঘুম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এটিকে ঘুমের সমস্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দাঁত, জিহ্বা, চোয়াল, গালের ভেতরের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এ সমস্যাটি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে।

ঘুমের সমস্যা দূর করতে পরামর্শ
» শিশুর জন্য ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুকে পরিচিত, পরিচ্ছন্ন এবং আরামদায়ক বিছানা দিতে হবে। শোবার ঘরটা কিছুটা অথবা পুরোপুরি অন্ধকার রাখতে হবে এবং শান্ত, নীরব ও কোলাহলমুক্ত ঘরে ঘুমাতে দিতে হবে।
» স্বাস্থ্যসম্মত ঘুমের জন্য ঘুমের রুটিন তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জাগতে হবে এবং বিছানা ছাড়তে হবে।
» নিয়মিত ব্যায়াম, খেলাধুলা করতে হবে।

যা যা করা যাবে না
» ঘুমাতে যাওয়ার আগের ৪-৫ ঘণ্টা সময়ে ব্যায়াম করা, ভারি কাজ করা, চা, কফি পান করা যাবে না।
» বিছানায় বসে রেডিও শোনা, টিভি দেখা, মোবাইল চালানো, গল্পের বই পড়া, গেম খেলা যাবে না।
» দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমানো যাবে না।
» রাত ৯টার পর ভারি খাবার খাওয়া যাবে না।
» শিশু ঘুমিয়ে পড়লে বা ক্লান্ত মনে হলে বা চোখে ঘুম ঘুম ভাব থাকলে তাকে কোলে নিয়ে বসে থাকা যাবে না, তাকে তার বিছানায় শুইয়ে দিতে হবে।

সর্বোপরি, শিশুর শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Dhaka