।
BNMPC Bangla Language & Literature Club
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from BNMPC Bangla Language & Literature Club, Education, Birshrestha Noor Mohammad Public College, Peelkhana, Dhaka.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্লাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত, সৃজনশীলতা ও মাতৃভাষার ভালোবাসার এক প্রাণমঞ্চ।
.
17/04/2026
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস
১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল—বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার, যা মুক্তিযুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রূপ দেয়। মুজিবনগর দিবস তাই বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার দৃঢ় ঘোষণার দিন।
এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর অনুপস্থিতিতে উপররাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেন তাজউদ্দীন আহমদ। এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতৃত্ব প্রদান করেন।
মুজিবনগর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ, যা মুক্তিযুদ্ধকে সর্বদলীয় রূপ দিতে গঠিত হয়। এই পরিষদের সদস্যরা ছিলেন—
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি - ন্যাপ),
প্রফেসর মোজাফফর আহমদ (ন্যাপ - মুজাফফর),
কমরেড মণি সিংহ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি),
অধ্যাপক আবুল কাসেম (জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী ধারার প্রতিনিধি),
হুমায়ুন কবির (প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা),
এবং আতাউর রহমান খান (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি)।
১০ই এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (বর্তমান মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার কার্যক্রম শুরু করে। এই ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বৈধতা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। তারা সশস্ত্র সংগ্রামকে সুসংগঠিত করা, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়, শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান এবং একটি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বিজয়ের পথ সুগম করে।
ঐতিহাসিক এই দিনে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্লাব গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে সেই গৌরবময় মুহূর্তকে এবং শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের সকল মহান নেতা ও অবদানকারীদের। তাঁদের প্রজ্ঞা, ত্যাগ ও নেতৃত্ব আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তিকে চিরস্থায়ী করেছে।
13/04/2026
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”
জীর্ণতার গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুনের অগ্নিস্নানে মানবমনে জাগাও নির্মল আনন্দের বাণী।
বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির আত্মার নবজাগরণ, সংস্কৃতির শাশ্বত পুনর্জন্ম। পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি আমাদের ঐতিহ্য, চেতনা ও পরিচয়ের দীপ্ত প্রতীক। বৈশাখের প্রখর রৌদ্র যেমন মুছে দেয় অতীতের মলিনতা, তেমনি নববর্ষের আগমনী বার্তা আমাদের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে আশার দীপশিখা—নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা আর নতুন পথচলার প্রত্যয়।
“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা”—
এই চিরন্তন আহ্বানেই আমরা বরণ করি নতুন বছরকে।
বাংলা সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় বৈশাখের রঙিন উপস্থিতি অনির্বচনীয়। কখনো তা কবিতার ছন্দে, কখনো গানের সুরে, আবার কখনো উপন্যাসের বর্ণনায় ফুটে ওঠে বাঙালির প্রাণের উৎসব।
“আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর”—
এই চিরন্তন সুরেই প্রতিধ্বনিত হয় নববর্ষের অমলিন আনন্দধারা।
গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ, মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণিল আবহ, পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্য আর লাল-সাদা সাজে সজ্জিত প্রাণের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৌন্দর্যের এক অনুপম প্রতিচ্ছবি।
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্লাবের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
শুভ নববর্ষ! 🌺
১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
31/03/2026
অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, 'Science Spark Presents 1st National Freedom Fiesta'-তে BNMPC Bangla Language & Literature Club 'সেরা ক্লাব পার্টনার' (Best Club Partner) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। 🥇
এই অসাধারণ আয়োজনের অংশ হতে পারা এবং এমন একটি সম্মাননা অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমাদের উপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য Science Spark-কে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
আমাদের এই অগ্রযাত্রা ও সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ আমাদের সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও সদস্যদের! 💫
31/03/2026
⭕বিএনএমপিসি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্লাবের কার্যনির্বাহী পর্ষদ (সেশন ২০২৬-২০২৭ ) সদস্য পদে নিয়োগ চলছে।
আবেদনকারী সকলকে অবশ্যই ষষ্ঠ - দ্বাদশ শ্রেণির মাঝে অধ্যায়নরত হতে হবে।
♦কোন পদে কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন তা পদের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
⭕ আগামী ৬ই এপ্রিল,২০২৬ইং সোমবার আগ্রহী সকলকে স্বশরীরে দুপুর ১২টা থেকে ১২টা৪০ এর মধ্যে কলেজের বাংলা ভার্সন লাইব্রেরীতে ক্লাবের প্রতিনিধিদের কাছে হাতে লেখা আবেদন পত্র এবং সিভি জমা দিতে বলা হলো।
🔹🔹নিম্নে কার্যনির্বাহী পদসমূহ নিয়ে বিস্তারিত দেওয়া হলো :
১. সভাপতি (President)
ক্লাবের মূল কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত সভাপতি নেবেন। একজন সভাপতির অবশ্যই তার কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং কার্যনির্বাহী পদের সদস্যদের সর্বদা একত্রে ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সভাপতির মুখ্য ভূমিকা কাম্য।
♦এই পদে শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন
২. সহ - সভাপতি (Vice-president)
ক্লাব সভাপতির নেওয়া সিদ্ধান্ত সুমূহ ও সকল ধরনের কাজ সঠিক ভাবে পরিচালনার কাজ সহ সভাপতির। একজন সহ সভাপতির ক্লাবে ভূমিকা অপরিসীম সেক্ষেত্রে তার ও দায়িত্বশীল হওয়া একান্ত কাম্য।
♦এই পদে শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন
৩. সাধারণ সম্পাদক (General Secretary)
একটি ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদক। ক্লাবের প্রধান কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ করতে হবে। জরুরী ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া লাগতে পারে সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে পারদর্শী হতে হবে।
♦ এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন।
৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (Joint General Secretary)
ক্লাবের সকল বিভাগীয় কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সেগুলোর গতিশীলতা বজায় রাখা এই পদের প্রধান কাজ। সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি ক্লাবের নীতিনির্ধারণী ও সাংগঠনিক কাজগুলো যৌথভাবে তদারকি করা এবং ক্লাবের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। এছাড়া যেকোনো ইভেন্ট বা জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ক্লাবকে এগিয়ে নিতে তাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
৫. সাংগঠনিক সম্পাদক (Organizing Secretary)
ক্লাবের কোনো ইভেন্টের যাবতীয় সকল কার্যক্রম কিভাবে কি পরিচালনা করা হবে কিভাবে করলে সুবিধা বা ভালো হবে সেটি প্ল্যান করার দায়িত্ব সাংগঠনিক সম্পাদক এর। এছাড়াও ইভেন্টে সকল কাজ ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে কিনা সেই দিকেও তার খেয়াল রাখতে হবে। ক্লাব থেকে প্রচারিত সকল ইভেন্টকে সফলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদক মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
৬. পাবলিক রিলেশন সম্পাদক (Public Relation Secretary)
এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ কারণ ক্লাবের অন্যতম বিভাগ হলো PR। এই বিভাগের মুলকাজ কোনো ইভেন্টে এর সময় সকল ধরনের কমিউনিকেশনের কাজ সম্পাদন করা। এছাড়াও ক্লাবের পেজ থেকে পোস্ট যাওয়া শিকল পোস্টের রিয়েক্ট কমেন্ট চেক ও পোস্টের রিচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিভাগ পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পাবলিক রিলেশন সম্পাদক এর। এ ক্ষেত্রে ইভেন্টে এর সময় সকল ইমেইল আদান প্রদান ও ইভেন্টে অথরিটি CA/CR ইত্যাদি তাকেই ম্যানেজ করতে হবে। এই পদের ব্যক্তির অবশ্যই কর্মনিষ্ঠা হতে হবে।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
৭.লেখনী সম্পাদক (Writing Secretary)
ক্লাবের অন্যতম আরেকটি বিভাগ হচ্ছে লেখনী বিভাগ। ক্লাবের লেখালেখির অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় সকল কাজ এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত তাই প্রবন্ধ লেখনী সম্পাদক এর মূল কাজ এই বিভাগ পরিচালনা করা। এই বিভাগের অন্যতম কাজ হলো ক্লাবের পেজ থেকে পোস্ট হওয়া পোষ্টারের ক্যাপশন রেডি করা।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে জানতে হবে , গল্প , ক্যাপশন লিখতে জানতে হবে।
♦ভালো নেতৃত্ব দিতে হবে, অবশ্যই কর্মনিষ্টা ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
**সহ লেখনী সম্পাদক (Assistant Writing Secretary)
ক্লাবের অন্যতম আরেকটি বিভাগ হচ্ছে লেখনী বিভাগ। ক্লাবের লেখালেখির অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় সকল কাজ এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। তাই সহকারি লেখনী সম্পাদকের কাজ সকল কাজে লেখনী সম্পাদক-কে সহায়তা করা।
♦এই পদে ষষ্ঠ হতে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে জানতে হবে , গল্প , ক্যাপশন লিখতে জানতে হবে।
♦অবশ্যই কর্মনিষ্টা ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
৮. আইটি সম্পাদক (IT Secretary)
PR বিভাগের মতোই আর ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো IT। ক্লাবের বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও পোস্টার, ক্লাবকতৃক কোনো ইভেন্টে পোস্টার , ব্যানার ট্রফি ইত্যাদির ডিজাইন করা আইটি এর কাজের অন্তর্ভুক্ত। ক্লাবের ভিডিও ইত্যাদি তৈরি আইটি সম্পাদক এর অন্যতম কাজ। এছাড়াও আইটি বিভাগ ম্যানেজমেন্টে তার মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।এই ক্ষেত্রে মূলত ভিডিও শুটিং এ পারদর্শী ব্যক্তিগণ আমন্ত্রিত। বিভিন্ন ধরনের আউটডোর বা ইন্ডোর ইভেন্টে রিলস বা শর্ট ভিডিও ইত্যাদির জন্য সুন্দর ভিডিও ক্যাপচার করা এই পোস্টের দায়িত্ব বলা যায়।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦এই পদে আবেদনকারীর অবশ্যই ক্যানভা / ফটোশপ / ইলাস্ট্রেটর এ পারদর্শী হতে হবে।
**সহ আইটি সম্পাদক (Assistant IT Secretary)
এটি ও আইটি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি পদ। এই ক্ষেত্রে মূলত ভিডিও শুটিং এ পারদর্শী ব্যক্তিগণ আমন্ত্রিত। বিভিন্ন ধরনের আউটডোর বা ইন্ডোর ইভেন্টে রিলস বা শর্ট ভিডিও ইত্যাদির জন্য সুন্দর ভিডিও ক্যাপচার করা এই পোস্টের মূল দায়িত্ব বলা যায়।
♦এই পদে ষষ্ঠ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦নিজের ক্যামেরা থাকতে হবে।
১০.বিভাগীয় প্রতিনিধি ইনচার্জ (Section Ambassador Incharge)
ক্লাবের কলেজ শাখার সবচেয়ে এক্টিভ সদস্যরা হচ্ছেন সেকশন এম্বাসেডর। তাদেরকে ক্লাবের কাজের প্রতি আগ্রহী করা, তাদের কাজ করতে সহায়তা করা এবং তাদের কাজের তত্ত্বাবধায়ন করা সেকশন অ্যাম্বাসেডর ইনচার্জের কর্তব্য।
♦এই পদে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦ভালো নেতৃত্ব দিতে হবে অবশ্যই কর্মনিষ্টা ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
১১. বিভাগীয় দূত ইনচার্জ (Section Envoy Incharge)
ক্লাবের স্কুল শাখার সবচেয়ে এক্টিভ সদস্যরা হচ্ছেন সেকশন এনভয়। তাদেরকে ক্লাবের কাজের প্রতি আগ্রহী করা, তাদের কাজ করতে সহায়তা করা এবং তাদের কাজের তত্ত্বাবধায়ন করা সেকশন এনভয় ইনচার্জের কর্তব্য।
♦এই পদে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
♦ভালো নেতৃত্ব দিতে হবে অবশ্যই কর্মনিষ্ট ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
⭕ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্লাবের অফিসিয়াল জিমেইল এড্রেস এ ছবিসহ আবেদনপত্র এবং সিভি জমা দিতে পারবেন।
31/03/2026
শব্দজট খুলে ফেলো,
বুদ্ধির দোলা দিলো।
শব্দের গুছিয়ে দাও সারি,
কমেন্টে উত্তর দিতেই পারি!🤔
31/03/2026
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার, এক অর্থে অনেক প্রকাশ...
(প্রতিশব্দ)
31/03/2026
তোমার পড়া উচিত!
তুমি কি কখনও ভেবেছো, এক ঝাঁক জোছনার আলো কিভাবে একটি সাধারণ গ্রামের রাতকে অদ্ভুত রোমাঞ্চময় করে তুলতে পারে? হুমায়ূন আহমেদের তেতুল বনে জোছনা ঠিক তেমনই এক গল্পের ভুবন খুলে দেয়। বইটি পড়লে মনে হবে তুমি শুধু গল্পের চরিত্রদের অনুসরণ করছ না, বরং তাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছ, তাদের আনন্দ, ভয়, আশা সবকিছু অনুভব করছ।
এই বইয়ে রয়েছে গ্রামের জীবনের সরলতা, মানুষের অন্তরের গভীর আবেগ, আর এমন কিছু রোমান্টিক মুহূর্ত যা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যিক বর্ণনা এমনভাবে জড়িয়ে ধরে যে গল্প শেষ করার পরও তার মায়াময় বাতাসের সুবাস মনে থাকে। প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন পাঠককে নতুন আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যায়—আর শেষ পর্যন্ত তুমি চাইবে এই জোছনার আলো নিজের চোখে দেখার মতো প্রাণবন্ত অনুভব করতে।
31/03/2026
তোমরা কি জানো?
পৃথিবীতে এমন অনেক রেসিপি বই ও রান্নার গ্রন্থ আছে যেগুলো শুধু খাদ্যের নির্দেশই নয়, সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ব্যক্তিগত গল্পও বয়ে নিয়ে আসে? সাধারণ রেসিপি বইয়ের বাইরে, কিছু গ্রন্থকে আজ সাহিত্য বা কুলিনারি লিটারেচার হিসেবেও দেখা হয়—কারণ এতে রয়েছে একেকটি রান্নার রেসিপির সাথে খাবারের গল্প, সামাজিক ব্যঞ্জনা, এবং লেখকের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি পাঠযোগ্য ন্যারেটিভ।
বিশেষ গবেষণা ও বইগুলো যেমন কনজাম্পশন অ্যান্ড দ্য লিটারারি কুকবুক (এটি রান্নার বইকে পাঠ্য ও সাংস্কৃতিক পাঠ হিসেবে নিয়ে আলোচনা করে) দেখায় কিভাবে রান্নার গ্রন্থগুলো পাঠকের সাথে কেবল স্বাদ নয়, ভাষা, সমাজ ও ইতিহাসও শেয়ার করে। আরও আছে এমন বই যেমন দ্য আর্টিস্টস্ অ্যান্ড রাইটার্স্ কুকবুক—এখানে বিখ্যাত শিল্পী, কবি ও লেখকরা নিজেরা রেসিপি, স্মৃতি, গল্প সব মিশিয়ে দিয়েছেন—এগুলো রান্নার বই হলেও ভেতরে লিপ্ত সাহিত্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার রঙ-তুলির মতো।
এছাড়া ইংরেজি ভাষায় কাফকা’স সূপ নামে একটি অনন্য বই আছে, যেখানে বিভিন্ন বিখ্যাত সাহিত্যিকদের লেখার শৈলিতে রেসিপি লেখা হয়েছে—প্রায় একধরনের সাহিত্য-রান্নার খেলা!
আবার কিছু বই, যেমন বুকস দ্যাট কুক: দ্য মেকিং অফ আ লিটারারি মিল, মূলত আমেরিকান সাহিত্যের মধ্যে খাদ্য তথা রান্না-সংক্রান্ত লেখা ও গল্পগুলোকে সাজিয়ে কুকবুকস-এর চরিত্রকে সাহিত্যিক রূপে তুলে ধরে।
এই সব উদাহরণ আমাদের দেখায় যে রেসিপি বই আজ শুধু “সেদ্ধ করো, ভাজো” খণ্ড দাবি নয়—বরং এটি ফুড রাইটিং বা কুলিনারি লিটারেচার নামে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক দিকও পেয়েছে যেখানে খাবার, স্মৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা আর গল্প সবই মিলে এক গভীর পাঠ্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
31/03/2026
২০৫৬: শিউলি ফুলের ঘ্রাণ
২০৫৬ সাল। ইউনাইটেড বেঙ্গলের রাজধানী এখন ঢাকা-কলকাতা যুগ্ম করিডোর। চারদিকে নিওন আলোর ঝলকানি আর ভাসমান ড্রোন-রিকশার ভিড়। মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণ বিজ্ঞানী অয়ন তার ল্যাবে বসে হিমশিম খাচ্ছিল। সে এমন একটা যন্ত্র তৈরি করেছে যা মানুষের স্মৃতির 'সুগন্ধ' আলাদা করতে পারে।
অয়ন যন্ত্রটার নাম দিয়েছে— 'স্মৃতি-আতর'।
সেদিন বিকেলে অয়নের কাছে এক বৃদ্ধ এলেন। পরনে ধবধবে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। নাম অমরেশ বাবু। তিনি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, "বাবা, আমার স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে দশ বছর। এখন নিজের স্মৃতিগুলোও ঝাপসা হয়ে আসছে। তুমি কি আমাকে আমার বিয়ের দিনের সেই শিউলি ফুলের গন্ধটা ফিরিয়ে দিতে পারো?"
অয়ন বৃদ্ধের মাথায় একটা নিউরো-হেলমেট পরিয়ে দিল। কম্পিউটারের পর্দায় হাজার হাজার স্মৃতির গ্রাফ ভেসে উঠল। অয়ন খুঁজতে লাগল ১৯১০-এর দশকের সেই বিশেষ মুহূর্ত। হঠাৎ একটা সিগন্যাল স্থির হলো।
অয়ন অমরেশ বাবুকে বলল, "একটু অপেক্ষা করুন।"
সে ল্যাবের পেছনের সিন্থেটিক গার্ডেন থেকে কিছু রাসায়নিক কণা আর ন্যানো-পার্টিকেল মিশিয়ে একটা ছোট কাঁচের শিশি তৈরি করল। বৃদ্ধের হাতে শিশিটা দিয়ে বলল, "খুলুন।"
ছিপিটা খুলতেই সারা ঘরে এমন এক সুবাস ছড়িয়ে পড়ল যা এই যান্ত্রিক যুগে প্রায় অসম্ভব। শিশির ভেতর থেকে শুধু শিউলি ফুলের গন্ধ নয়, ভেসে এল ভোরের হালকা কুয়াশা, ঢোলের শব্দ আর সেই নববধূর চন্দনের হালকা ঘ্রাণ।
অমরেশ বাবুর চোখে জল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, "ঠিক এইরকম... এইরকমই ছিল সেই সকালটা।"
অয়ন দেখল, বৃদ্ধের চোখের মণি স্থির হয়ে গেছে। যন্ত্রের স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে তার মস্তিষ্কের ডোপামিন লেভেল এক লাফে অনেক উপরে উঠে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই অয়ন একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করল। যন্ত্রটা বৃদ্ধের বর্তমান সময়ের স্মৃতিগুলোকে ডিলিট করতে শুরু করেছে!
সে তাড়াতাড়ি অমরেশ বাবুকে থামিয়ে দিয়ে বলল, "অমরেশ বাবু, এটা বন্ধ করুন! এই তীব্র স্মৃতি আপনার বর্তমানের অস্তিত্ব মুছে দিচ্ছে। আপনি এখনই সব ভুলে যাবেন!"
বৃদ্ধ হাসলেন। এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি। তিনি বললেন, "ভুলে যাওয়াই তো ভালো দাদু। বর্তমানের এই লোহার শহর, এই কৃত্রিম অক্সিজেন— এসব দিয়ে আমি কী করব? তার চেয়ে ওই সুবাসের মধ্যেই না হয় থেকে যাই।"
অমরেশ বাবু আবার শিশিটা নাকের কাছে ধরলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি যখন ল্যাব থেকে বেরিয়ে গেলেন, অয়ন দেখল বৃদ্ধ তাকে আর চিনতেই পারছেন না। তিনি অয়নকে জিজ্ঞেস করলেন, "খোকা, এটা কি কোনো পার্ক? আমি বোধহয় রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি।"
অয়ন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার আবিষ্কৃত 'স্মৃতি-আতর' সফল হয়েছে, কিন্তু তার দাম অনেক বেশি। সে বুঝল, মানুষ অতীতে ফিরতে চায় ঠিকই, কিন্তু ফেরার রাস্তাটা সবসময় একমুখী হয়।
সেদিন রাতেই অয়ন তার ল্যাবের সব 'স্মৃতি-আতর' ধ্বংস করে দিল। ডায়েরিতে শুধু লিখে রাখল: "বাঙালি আবেগ দিয়ে বিজ্ঞান চলে না, কারণ বিজ্ঞান নির্মম, আর বাঙালি স্মৃতিতে বাঁচতে ভালোবাসে।"
31/03/2026
অগ্নিঝরা মার্চ 🇧🇩
(২১-৩১ মার্চ, ১৯৭১)
আমাদের স্বাধীনতার সূর্যোদয় কেবল ২৬শে মার্চে হয়নি; তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল অগ্নিঝরা মার্চের প্রতিটি রক্তঝরা দিনে। ৭ই মার্চের ভাষণের পর বাঙালি যখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, তখন মার্চের শেষ দশ দিন ছিল পাকিস্তানি জান্তার চরম বিশ্বাসঘাতকতা আর বাঙালির চূড়ান্ত প্রতিরোধের এক মহাকাব্য।
২১শে মার্চ: বঙ্গবন্ধুর অনড় অবস্থান ও কুচক্রীদের আনাগোনা
বাংলাদেশ: এদিন বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার মধ্যে ৭০ মিনিটব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৪ দফা দাবিতে অটল থাকেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামরিক শাসন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো আপস হবে না। জয়দেবপুরে কারফিউ ভেঙে জনতা রাজপথে নামে। মওলানা ভাসানী চট্টগ্রামে এক জনসভায় ঘোষণা করেন, "বাঙালি এখন শুধু স্বাধীনতা চায়।"
পশ্চিম পাকিস্তান: জুলফিকার আলী ভুট্টো এক বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে এদিন ঢাকায় আসেন। তিনি দাবি করেন যে, আওয়ামী লীগকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। মূলত ভুট্টো ও ইয়াহিয়ার এই গোপন বোঝাপড়া ছিল আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ, যাতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আরও সৈন্য বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
২২শে মার্চ: অধিবেশন স্থগিত ও গণহত্যার ব্লু-প্রিন্ট
বাংলাদেশ: এদিন বঙ্গবন্ধু, ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ইয়াহিয়া খান পুনরায় ২৫শে মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে বাঙালির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় এবং ছাত্ররা চূড়ান্ত লড়াইয়ের শপথ নেয়।
পশ্চিম পাকিস্তান: করাচি থেকে আসা 'এমভি সোয়াত' জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে গোলাবারুদ খালাস করতে শুরু করে। সামরিক কর্মকর্তারা ক্যান্টনমেন্টে বসে 'অপারেশন সার্চলাইট' এর নীল নকশা বা গণহত্যার চূড়ান্ত মানচিত্র অনুমোদন করেন।
২৩শে মার্চ: ঐতিহাসিক 'প্রতিরোধ দিবস' ও পতাকার মিছিল
১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ ছিল পাকিস্তানের তথাকথিত 'প্রজাতন্ত্র দিবস'। কিন্তু বাঙালির কাছে এটি হয়ে ওঠে 'প্রতিরোধ দিবস'। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই দিনটিকে পাকিস্তান দিবসের বদলে 'প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে পালনের ডাক দেয়।
৩২ নম্বরে জনসমুদ্র: সকাল থেকেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এক জনারণ্যে পরিণত হয়। হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে সেখানে জমায়েত হতে থাকেন। সবার হাতে ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত নতুন পতাকা। বঙ্গবন্ধু তাঁর বাড়ির ছাদে নিজ হাতে এই পতাকা উত্তোলন করেন। এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ—কারণ সরকারিভাবে তখনো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি, অথচ নেতার বাড়িতে পাকিস্তানের বদলে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছিল।
ছাত্রদের কুচকাওয়াজ: এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এবং পল্টন ময়দানে 'জয় বাংলা বাহিনী'র সদস্যরা কুচকাওয়াজ করেন। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী এবং আবদুল কুদ্দুস মাখন এই কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু অভিবাদন গ্রহণ করে বলেন— "মুক্তিকামী মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।"
বিদেশি মিশনসমূহে পতাকা: ঢাকার প্রতিটি সরকারি ভবন, হাইকোর্ট, এমনকি বিদেশি দূতাবাসগুলোতেও (ব্যতিক্রম ছিল পাকিস্তান ও চীন দূতাবাস) এদিন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়। ব্রিটিশ ও সোভিয়েত কনস্যুলেটেও এদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা পতপত করে উড়ছিল। এটি ছিল বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির চূড়ান্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
২৪শে মার্চ: ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা
বাংলাদেশ: এদিন কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদ জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকো।" চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে বাধা দেয় এবং ব্যারিকেড তৈরি করে। সেখানে সেনাবাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাঙালি শহীদ হন।
পশ্চিম পাকিস্তান: আলোচনার নাটক শেষ করে ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করার প্রস্তুতি নেন। রাও ফরমান আলী ও খাদিম হোসেন রাজা মিলে গণহত্যার চূড়ান্ত তালিকা ও ঢাকা শহর দখলের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেন।
২৫শে মার্চ: কালরাত ও নীল নকশার বাস্তবায়ন
২৫শে মার্চের সকালটি শুরু হয়েছিল এক থমথমে অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা দিয়ে। একদিকে আলোচনার নাটক চলছিল, অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্টে চলছিল গণহত্যার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
আলোচনা ভন্ডুল ও প্রহসন: সকালবেলা আওয়ামী লীগ ও ইয়াহিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি খসড়া শাসনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা আলোচনায় অনুপস্থিত থাকেন। বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদ বুঝতে পারেন যে ইয়াহিয়া আলোচনার পথ বন্ধ করে যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছেন।
গণহত্যার কুশীলব ও দায়িত্ব:
১. ইয়াহিয়া খান: এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা এবং সুপ্রিম কমান্ডার।
২. টিক্কা খান: গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পুরো অপারেশনটির তদারকি করার।
৩. খাদিম হোসেন রাজা: ১৪ ডিভিশনের জিওসি হিসেবে তিনি 'অপারেশন সার্চলাইট' এর মূল পরিকল্পনাটি লিখেছিলেন।
৪. রাউ ফরমান আলী: তিনি ঢাকার ভেতরের গণহত্যার (বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পিলখানা) মূল দায়িত্ব পালন করেন।
ইয় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ: কোনো ঘোষণা ছাড়াই সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ইয়াহিয়া খান অতি গোপনে ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। তিনি নির্দেশ দিয়ে যান— "আমি নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পরেই যেন অপারেশন শুরু হয়।" তাঁর বিমানটি করাচিতে অবতরণ করার পরেই রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার ওপর ট্যাংক ও ভারী কামান নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অপারেশন সার্চলাইট ও কালরাত: রাত ১১টার পর থেকেই পিলখানায় ইপিআর এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আক্রমণ শুরু হয়। পুলিশ ও ইপিআর সদস্যরা সামান্য অস্ত্র নিয়ে বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভারী কামানের সামনে টিকতে পারেননি। এরপর সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ও জগন্নাথ হলে ঢুকে শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে হত্যা করে। মধ্যরাতে ঢাকার আকাশ আগুনের কুণ্ডলীতে লাল হয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধুর শেষ বার্তা ও গ্রেপ্তার: রাত ১২টা ২০ মিনিটে (অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর এই বার্তাটি ইপিআর (EPR) এর ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানি কমান্ডো বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ৩২ নম্বরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু শেষ মুহূর্তেও দেশের মানুষকে প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়ে যান।
২৬শে মার্চ: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রভাত
বাংলাদেশ: ২৬শে মার্চের ভোরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন) প্রচারিত হতে থাকে। বিকেলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এম. এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
পশ্চিম পাকিস্তান: করাচিতে পৌঁছে ইয়াহিয়া খান রেডিওতে এক দাম্ভিক ভাষণ দেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে 'দেশদ্রোহী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন— "মুজিব এবার শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আমি তাকে গ্রেপ্তার করেছি এবং তাকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।" তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং দেশজুড়ে সেনাশাসন জারি করেন।
২৭শে মার্চ: কালুরঘাট ও মেজর জিয়ার ঘোষণা
বাংলাদেশ: চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এদিন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এই ঘোষণাটি সারা দেশে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যুদ্ধের মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন স্থানে মানুষ দা, কুড়াল ও লাঠি নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিহত করতে শুরু করে।
ঐতিহাসিক ঘোষণাটি ছিল নিম্নরূপ:
"I, Major Ziaur Rahman, do hereby declare on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh.
I further declare that we have already formed a resistance government under the leadership of Sheikh Mujibur Rahman and we shall fight until the last drop of our blood to liberate our motherland.
Victory is ours. Joy Bangla!"
বাংলা অনুবাদ:
"আমি, মেজর জিয়াউর রহমান, আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।
আমি আরও ঘোষণা করছি যে, আমরা ইতিমধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করেছি এবং আমাদের মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে আমরা রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করে যাব।
বিজয় আমাদেরই। জয় বাংলা!"
বিশ্ব গণমাধ্যম: এই ঘোষণার পর বিশ্ব গণমাধ্যম নিশ্চিত হয় যে, বাংলাদেশে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে 'বাংলাদেশ' নামটি তখন ন্যায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে পাকিস্তান যাতে কোনো সৈন্য পাঠাতে না পারে, সে জন্য ভারত সরকার কড়া নজরদারি শুরু করে।
২৮শে মার্চ: বিশ্ব গণমাধ্যমে গণহত্যার খবর
বাংলাদেশ: কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে বাঙালির সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। বিদেশি সাংবাদিকরা (যেমন সায়মন ড্রিং) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে গণহত্যার ছবি ও খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রচার করতে শুরু করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় বিশ্ববিবেক।
২৯শে মার্চ: ভারতের সমর্থন ও সীমান্ত লড়াই
বাংলাদেশ: ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন। সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার বাঙালি যুবক ভারতে গিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গেরিলা দল গঠিত হয়।
৩০শে মার্চ: বিমান হামলা ও ধ্বংসস্তূপ
বাংলাদেশ: পাকিস্তান বিমানবাহিনী ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বিমান হামলা শুরু করে। বিভিন্ন বাজার ও জনবসতি আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের দিকে এবং ভারতের সীমান্তের দিকে রওনা হয়। শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম বড় শরণার্থী সংকট।
৩১শে মার্চ: বিশ্ববিবেকের জাগ্রত হওয়া ও প্রতিরোধের সংকল্প
বাংলাদেশ: মার্চের শেষ দিনে সারা দেশ একটি বিশাল বধ্যভূমিতে পরিণত হয়। কিন্তু বাঙালির মনোবল ছিল অটুট। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের বীজ এই রক্তঝরা মার্চেই বপন হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন: জাতিসংঘে এই গণহত্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে এই রক্তপাত বন্ধের জন্য কড়া চিঠি পাঠায়। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে 'বাংলাদেশ' নামটি তখন ন্যায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
অগ্নিঝরা মার্চ 🇧🇩
মার্চের এই রক্তঝরা দিনগুলোই ছিল ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের রক্ত আর নেতাদের আপসহীন নেতৃত্বই অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ছিনিয়ে এনেছিল মহান বিজয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Address
Dhaka