01/02/2025
Mimosa Mowla Nupur
post
শিক্ষাক্রম ও কিছু ভাবনা'
-মিমোসা নূপুর
যেকোনো নতুন কিছু শুরু করার পর সেটা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হবে সেটা স্বাভাবিক। আর সেটা যখন শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে হয়,সেখানে পক্ষে বিপক্ষে অনেক রকম মতামত আসবেই।কিন্তু সমস্যা হল যখন ইচ্ছাকৃত ভাবে এই নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে একের পর এক মিথ্যা বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।একই সাথে আমরা চাচ্ছি বিশ্ব পরিমন্ডলের সাথে যুগোপযোগী হয়ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠুক,আবার সে-ই আমাদেরই একটা অংশ জেনে বা না জেনে অকারণ নানা ধরনের তর্ক বির্তক করছি।
একটা নতুন শিক্ষাক্রম যারা প্রনয়ণ করেছেন,নিশ্চয়ই তারা রাম শাম যদু মধু টাইপের কোন সাধারণ মানুষ নয়।তারা রীতিমতো দীর্ঘ গবেষণা করে অনেক রকম আলোচনা, বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন রকম কর্মশালা করেই এই বিষয়গুলোকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আমি বলছিনা যে এই শিক্ষাক্রম নিয়ে কোন তর্কের অবকাশ নেই।বরং উন্নত দেশগুলোর মত করে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজাতে গিয়ে বেশ একটা গোলকধাঁধায় ঘুরছে শিক্ষা।যেখানে এতদিন প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি এবং মুখস্থ নির্ভর একটা ব্যাপার চলমান ছিল,সেখানে হুট করে সম্পূর্ণ নতুন একটা কারিকুলামের ধাক্কা অনেকেই যে নিতে পারবে না,সেটা সহজেই অনুমেয়।
তবে এখন আসলে যে ব্যবস্থাটা প্রচলন করার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা হল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক একটা শিক্ষা ব্যবস্থা। যেখানে একজন শিক্ষার্থী পুঁথিগত শিক্ষার চেয়ে বেশি করে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় যেন সহজে আয়ত্ত করতে পারে,সেটার উপরে জোর দেয়া হচ্ছে।
যেখানে এতদিন শিক্ষাব্যবস্থা ছিল প্রায় কোচিং বাণিজ্য নির্ভর,সেখানে এখন চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজেক্ট,এসাইনমেন্ট ইত্যাদির উপরে বেশি জোর দিতে।এতে শিক্ষার্থীদের ভেতরে অহেতুক কোচিং নির্ভরতা যেমন কমে আসবে,তেমনি অসুস্থ একটা প্রতিযোগিতা থেকেও শিক্ষার্থী তথা অভিভাবকরাও মুক্তি পাবে।
যেহেতু অনেকদিন বাদে একটা আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে তাই এর সুফলতার জন্য অন্তত কয়েকটা বছর অবশ্যই সময় দিতে হবে।সেই সাথে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ করে তুলবার প্রয়াস নিতে হবে।
একইসাথে সকল অভিভাবকদেরও ধৈর্য্য নিয়ে এই শিক্ষাব্যবস্থার সাথে একাত্ম হতে হবে।আমরা যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি আমরাও চাই আমাদের আজকের প্রজন্ম যেন পরবর্তীতে বিশ্ব মন্ডলে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বিশ্বাস করুন,একজন বাবা বা মায়ের যেরকম খুশি লাগে তাদের সন্তানের সফলতায়;ঠিক সেই খুশিটাই একজন শিক্ষক হিসাবে আমাদেরকেও ছুঁয়ে যায়।শুধু প্রয়োজন একটা সঠিক দিক নির্দেশনার।তাই অকারণ সমালোচনা না করে গঠনমূলক আলোচনা করুন।তাতেই আমাদের এই নতুন শিক্ষাক্রমটাই একদিন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।