09/07/2021
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
সংক্ষেপে ঢামেক বা ডিএমসি। মেডিকেলে পড়তে চাওয়া বাংলাদেশের হাজারো ছাত্রছাত্রীর স্বপ্নের ঠিকানা। প্রতি বছর হাজারো প্রতিযোগীর মাঝে অল্পসংখ্যক কিছু ভাগ্যবান শিক্ষার্থীই এখানে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে তাদের আজন্ম লালিত ‘ডাক্তার’ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার সুযোগ লাভ করে।এই পোস্টটি আমাদের প্রাণপ্রিয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস নিয়ে।
১৯৩৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম বৃটিশ সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখে নি। যুদ্ধ শেষ হলে ১৯৪৫ সালে Major W. J. Virgin এর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়,সেই কমিটির সুপারিশক্রমে ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ যাত্রা শুরু করে।প্রতিবছর ১০ জুলাই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়,যা পরিচিত "DMC Day" হিসেবে
আজ,১০ জুলাই, ২০২১ সেই ৭৬তম ডিএমসি ডে ♥️
ব্যাচের নামকরণে K
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছিল এই উপমহাদেশের একাদশ মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রত্যেকটি ব্যাচের নামের প্রথমে রয়েছে ইংরেজি বর্ণমালার একাদশ বর্ণ K যা দ্বারা বোঝায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ উপমহাদেশের ১১তম মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।যেমন,বর্তমান ব্যাচ পরিচিত K-77 নামে।
অবস্থান
ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মহানগরীর বকশীবাজার এলাকায় অবস্থিত। এর পশ্চিমপাশে রয়েছে বুয়েট, পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । হাসপাতাল বহির্বিভাগের পাশেই রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
হাসপাতাল ভবন
হাসপাতালের জন্যে ব্যবহৃত মূল ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে,নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সচিবালয় হিসেবে।
ঢাকা মেডিকেল দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। ২ হাজার ৬০০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় চার হাজার। প্রতিদিন বহির্বিভাগ চিকিৎসা নেন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষ। জরুরি বিভাগ ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
ক্যাম্পাস
কলেজ সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে 'পরমাণু বিল্ডিং' নামক সুউচ্চ ভবনটি। হাতের বাঁয়ে পড়বে মনোরম পরিবেশ সমৃদ্ধ কলেজ অডিটোরিয়াম ভবন।
তারপরেই আপনি এসে পড়বেন বিখ্যাত মিলন চত্বরে।এখানেই শুয়ে আছেন শহীদ ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন। তার নামানুসারেই এই চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে।প্রতিদিন হাজারো গল্পের সাক্ষী হয় এই মিলন চত্বর। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, জন্মদিন উদযাপন থেকে শুরু করে প্রেমিক যুগলের সময় কাটানো- সবই একে ঘিরে। তাই এই চত্বরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর এক পাশে রয়েছে একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স এবং অপরপাশে মেয়েদের ডাঃ আলীম চৌধুরী হল। একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্সের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে আরেকটি চত্বর নাম 'সবুজ চত্বর'।
বর্গাকৃতির এই কমপ্লেক্সে রয়েছে দু'টি সুবিশাল লেকচার গ্যালারী, বিষয়ভিত্তিক ডিপার্টমেন্ট সমূহ, একটি ক্যাফেটেরিয়া, একটি রিডিং রুম, একটি লাইব্রেরী, পাঁচটি পরীক্ষার হল, দু'টি কনফারেন্স রুম, নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে কমনরুম, একটি টিচার্স লাউঞ্জ এবং একটি ডিসেকশন হল। এছাড়া অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের রুম ছাড়াও রয়েছে কলেজ অফিস।
হল পরিচিতি
ঢাকা মেডিকেল কলেজের দু'টি হল রয়েছে। ছেলেদের জন্য শহীদ ডা: ফজলে রাব্বী হল এবং মেয়েদের জন্য শহীদ ডা: আলীম চৌধুরী হল।
ছাত্রদের বকশীবাজার মোড়ের বর্তমান হলটি নির্মিত হয় ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালে। ১৯৭২ সালে যার নামকরণ করা হয় ‘শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বি’র নামে।এই হলে একটি মূল ভবন ও ৩ টি ব্লক।এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য রয়েছে ‘শহীদ ডাঃ মিলন ইন্টার্নি হোস্টেল’।
জাতীয় রাজনীতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ:-
১৯৫২ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র রূপে আবির্ভূত হয়।ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনারটি হোস্টেলের দরজার সামনেই নির্মাণ করা হয়।বর্তমান কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটিও হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে অবস্থিত।এরপর ষাটের দশকের সকল ছাত্র আন্দোলনে ঢামেকের সক্রীয় অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তিনভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে- এক ভাগে যারা ঐ সময়ে কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের তৎপরতা, আরেকভাগে এই কলেজ থেকে পাশকৃত চিকিৎসকদের একটি অংশ যাঁরা অন্যান্য হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে কর্মরত ছিলেন কিনতু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন এবং শেষভাগে যারা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন।মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম ডাঃ মোঃ ফজলে রাব্বি, ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরী,ডাঃ হাসিময় হাজরা
ডাঃ গোপাল চন্দ্র সাহা,নীপা লাহিড়ী প্রমুখ।
৯০ এর দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন ডা:মিলন।বর্তমানে ইন্টার্র্নি হল এবং অডিটোরিয়ামটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
♦️বিশিষ্ট প্রাক্তনি-
যারা এ পর্যন্ত ডিএমসি থেকে পাস করে গেছেন তাদের অনেকেই এখন দেশ বিদেশের নামকরা ডাক্তার।মুলধারার বাইরে কিছু প্রাক্তনের অবদান তাদের বিখ্যাত করেছে।এমন কিছু প্রাক্তন-
# ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম, বীর প্রতীক।
# গোলাম মাওলা, ভাষাসৈনিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ।
# এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশের ১৪-তম রাষ্ট্রপতি।
# আব্দুল মালিক, জাতীয় অধ্যাপক, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, স্বাধীনতা পুরষ্কারপ্রাপ্ত (২০০৪, চিকিৎসাবিদ্যা)
# দিপু মনি, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী(২০১৯-), পররাষ্ট্রমন্ত্রী(২০০৯-২০১৩)
♦️যা কিছু বিস্ময়কর-
হসপিটালের নতুন সংযোজন শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ।
আবার পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে সবার পরিচিত নাট্যকার এজাজ
এক নজরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
প্রতিষ্ঠা:১৯৪৬
ক্যাম্পাস: ২৫ একর
শিক্ষার্থী:প্রতি ব্যাচে ২২০ জন
বর্তমান অধ্যক্ষ : Prof. Dr. Md. Titu Miah
প্রাতিষ্ঠানিক অধিভুক্তি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শয্যা সংখ্যা:২৬০০
বর্তমান ব্যাচ: কে-৭৮(K-78)