24/09/2021
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ভূতের গল্প কয়েকটি অনুবাদ করলাম,
১। জাফর সাহেব তার মেয়ে মিতুকে গুড নাইট জানিয়ে চলে যাওয়ার সময় মিতু বলল,বাবা আমার খুব ভয় করছে,খাটের নীচে ভুত লুকিয়ে আছে / জাফর সাহেব মুচকি হাসলেন,মেয়ের ভয় ভাঙানোর জন্যে খাটের নীচে তাকিয়ে দেখলেন অবিকল তার মেয়ের মত একটি মেয়ে বসে আছে,নীচ থেকে মেয়েটি বলল,বাবা,খাটের উপর কে জানি শুয়ে আছে /
২। আমার বিড়ালটা সবসময় আমার দিকে এক নজরে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকতো / একদিন আমি ভালো করে লক্ষ্য করলাম,আসলে সে আমার দিকে নয় / আমার মাথার ঠিক পিছনে কারো দিকে তাকিয়ে থাকে /
৩। আমি আমার খাটের নীচে একটি লাশ পেলাম / ব্যাপারটা অদ্ভুত কারণ আমি দুটো লাশ লুকিয়ে রেখেছিলাম /
৪। আজ ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম আমার ফোনের গ্যালারিতে ঘুমন্ত আমি'র একটা ছবি আছে / অথচ আমি একা থাকি /
৫। ঘড়িতে ১২.০৭ বাজে আর ভয়ংকর সেই মেয়েটি তার লম্বা নখগুলো আমার বুকের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়েছে আর অন্য হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরেছে / আমি চিৎকার দিয়ে জেগে উঠে কিছুটা স্বস্তি পেলাম,"স্বপ্ন ছিল" / কিন্তু ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম ১২.০৬ বাজছে,সঙ্গে সঙ্গে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম /
৬। কাচে নক করার শব্দ শুনতে পাচ্ছি অনেকক্ষণ ধরে / জানালাগুলো ভাল করে চেক করে দেখলাম / ভাল করে শুনতে গিয়ে বুঝলাম আওয়াজটা ড্রেসিং টেবিলের আয়না থেকে আসছে /
৭। তুলির মা ছাদ থেকে ডাক দিলেন,"কাপড়গুলো নিয়ে যা, বৃষ্টি আসছে !" তুলি ছাদের দিকে যেতেই তার মা খপ করে হাত ধরে ফেললেন। ভয়ার্ত গলায় বললেন,"ছাদে যাস না,ডাকটা আমিও শুনেছি !"
৮। পৃথিবীর সর্বশেষ মানুষটি তার রুমে বসে আছে / হঠাৎ দরজায় কে যেন নক করলো !
গল্প গুলোর কয়েকটি ইংরেজি সাহিত্যিকদের গল্প, বাস্তব ঘটনার সাথে সামঞ্জস্য থাকতে পারে নাও পারে।
19/08/2021
বুয়েটের শিক্ষকেরা জানান, বুয়েট চিন্তা করে, তাদের সব শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা সমান নয়। এখানে অনেকে টিউশনি করেও নিজের পড়াশোনার খরচ চালান। আবার কেউ কেউ অন্য খণ্ডকালীন কাজ করেও পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।
সবার কথা চিন্তা করে ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইনে নিজস্ব ই-মেইলে দেওয়া ফরমের মাধ্যমে জরিপ চালানো হয়। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয় কোন শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সংযোগ কেমন? ভালো স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ আছে কি না? আবার ইন্টারনেট কেনার সামর্থ্য আছে কি না। সেখানে ৩৭০ জন শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের অনলাইনে ক্লাস করার মতো ভালো ডিভাইস নেই।
বুয়েট সেই শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে কোনো সুদ ছাড়াই ৩০ হাজার করে টাকা দেয়। এভাবে শতভাগ শিক্ষার্থী স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের আওতায় আসেন এবং অনলাইনে ক্লাসের উপযুক্ত হন।
ক্লাস করতে গেলে ইন্টারনেটের ডেটা কিনতে সমস্যা আছে—এমন ১ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তিনটি মুঠোফোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ চালু করে ৬২৫টি সিম দেওয়া হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যাতে তাঁরা ফ্রি ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারেন।

কোন এলাকায় কোন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো বা ইন্টারনেটের গতি ভালো, তা জরিপের মাধ্যমে জেনে সেই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের সেই কোম্পানির সিম দেওয়া হয়। আবার ইন্টারনেটের গতি যদি কোনো এলাকায় ভালো না হয়, তাতে ওই অভিযোগের ওপর নির্ভর করে সেই এলাকায় ইন্টারনেটের গতি উন্নতি করার কথাও জানানো হয়।
একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও ভালো ডিভাইসের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বুয়েট শিক্ষকদের বিনা সুদে ১৩৩ জন শিক্ষককে ৪৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদানের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে অনলাইন ক্লাস শুরু করে বুয়েট।
বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের ইউপিএস ও পাওয়ার ব্যাংক কেনার জন্য বিনা সুদে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, যেহেতু করোনায় বুয়েটের বৈদ্যুতিক বিলের পরিমাণ ও আরও কিছু খরচ কমে যায়, তাই সিদ্ধান্ত হয় বেঁচে যাওয়া এসব খরচ দিয়ে যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপকার হয়, এমন কাজে লাগানো হবে।
14/08/2021
করপাস যাদুঘর হল হিউম্যান বায়োলজি ইন্টারেক্টিভ যাদুঘর, নেদারল্যান্ডসের ওগস্টজেস্টের নিকটে অবস্থিত।
জাদুঘর
"মানবদেহের মধ্য দিয়ে যাত্রা" হিসাবে বিলিত এই জাদুঘরটি স্থায়ী ও পরিবর্তনশীল সংগ্রহের সংমিশ্রনের মাধ্যমে শিক্ষা এবং বিনোদন উভয়ই সরবরাহ করে।
The Corpus Museum is a human biology interactive museum, located near Oegstgeest in the Netherlands. The museum Billed as "a journey through the human body",the museum provides both education and entertainment through a combination of permanent and variable collections.
17/07/2021
মস্তিষ্কঃ
আমাদের ব্রেইন ডমিনেন্স এরকম, (চিত্রের মত)
বাম হেমিস্ফিয়ার লজিক, এনালাইসিস, গণিত পারদর্শিতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। আর ডান হেমিস্ফিয়ার শিল্পীসুলভ সৃজনশীলতা, ইমোশনাল-সোশ্যাল ইন্টেলিজেন্স এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আপনার মস্তিষ্ককে যত বেশি কাজে লাগাবেন, আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি কাজ করবে…যেমন সবজি কাটার ছুরিটি দিয়ে যত বেশি কাটা কাটা করবেন ছুরিটি তত বেশি ধার হবে। মানুষের মস্তিষ্ক একটি বিস্ময়কর ক্ষমতা, এই ক্ষমতা স্নায়ু নমনিয়তা হিসাবে পরিচিত হয়। অধিকার উদ্দীপনার সঙ্গে আপনার মস্তিষ্ক নতুন স্নায়বিক পথ গঠন করে ও উপস্থিত সংযোগ পরিবর্তন করে। এবং নতুন কোন শেখার বিষয় স্মৃতি আসে যখন নিজেই পুর্ণনির্মাণ মস্তিষ্ক এর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা অধিকারী হবেন। আপনি আপনার জ্ঞানীয় ক্ষমতার বৃদ্ধিতে নতুন তথ্য জানতে পারেন, যা স্নায়ু নমনিয়তা শক্তি বৃদ্ধি করবে।
মস্তিষ্ককে সজাগ রাখাঃ
মস্তিষ্কে নতুন অভিজ্ঞতা দিলে যেমন -কোন নতুন কিছু স্পর্শ, দেখা বা শুনলে এর ফলে এসব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ গুলির সাথে যুক্ত হয়ে এদের মধ্যকার সংযোগ বৃদ্ধি ঘটায় এবং নাটকীয় ভাবে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উল্টো হাতে ব্রাশ করাঃ
আপনি ডান হাতে ব্রাশ করলে এখন থেকে বাম হাতে ব্রাশ করবেন বা বাম হাতে করলে এখন থেকে ডান হাতে ব্রাশ করার অভ্যাস করুন।এতে করে আমাদের মস্তিষ্কের উপর করটেক্সের বিভিন্ন অংশের দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটে।
চোখ বন্ধ করে গোসল করাঃ
আমাদের হাত আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংগবিন্যাস পর্যবেক্ষন করতে পারে যা আমাদের চোখ দেখতে পারে না।তাই মস্তিষ্কে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য চোখ বন্ধ করে গোসল করুন।
সকল কার্যক্রমে পরিবর্তন আনাঃ
আমরা প্রতিদিন যে কাজগুলি বেশি করি, মস্তিষ্ক সেই কাজ গুলির নির্দেশনা বেশি পায় বা বেশি অনুশীলন করে। তাই মস্তিষ্ককে নতুন কাজ দিতে হবে।নতুন কিছু পেলেই মস্তিষ্ক আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে।
পরিচিত জিনিস গুলি উল্টে রাখুনঃ
আমরা কোন জিনিস যখন ঠিকভাবে দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই ক্ষেত্রে কম সাড়া দেয়।কিন্তু যখনই সেগুলি উল্টো ভাবে দেখি তখন মস্তিষ্ক সেগুলির আকার,বর্ন বিশ্লেষণ করতে থাকে।তাই আপনার চোখের সামনের জিনিস গুলি উল্টো করে রাখুন। যেমন -দেয়ালের পারিবারিক ছবি,টেবিলে রাখা ঘড়ি।
পাজল বা ওয়ার্ডঃ
গবেষণায় দেখা যায় যাদের নিয়মিত পাজল সমাধান, স্ক্রাবল, সুডোকো মেলানোর অভ্যাস রয়েছে তাদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। যখন খেলা হয় তখন মস্তিস্কের স্মৃতি এলাকাগুলো সহ পুরো মস্তিস্কের সমস্ত স্নায়ুগুলো সক্রিয় হয় যা কিনা স্মৃতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এছাড়াও তাদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা জনিত সমস্যাও হয় না। তাই সময় পেলেই এইধরনের খেলা খেলে নিন। এইসব গেম প্রায়ই বুদ্ধিজীবী কার্যকলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে মস্তিষ্কের লক্ষ্যপূর্ণ এলাকায় উদ্দীপিত করতে পারেন।
08/07/2021
স্কুল বুলিংঃ Anorexia Nervousa ঃ হারিয়ে গেলো মিষ্টি ছেলেটা
সামিন, আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিও
সামিন, তোমার কষ্ট আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। তোমার মত এত ভদ্র, নম্র ছেলে যে মনে মনে এত কষ্টে ছিলে, আমরা কেউ জানতে পারিনি। তাই এনোরেক্সিয়ার মতো মারাত্মক এক রোগে তুমি আক্রান্ত হয়ে গেলে। শেষ পর্যন্ত তোমাকে আমরা হারিয়ে ফেললাম গত ২৬শে জুন, রাত এগারোটায় ইউনাইটেড হাসপাতালে।
সামিন আমার ছোট বোনের দেওর মিলনের ছেলে, দশম শ্রেণীর ছাত্র। আইডিয়াল স্কুল, বনস্রি শাখায় পড়তো। সে ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত অমায়িক আর ভীষণ অনুভূতি প্রবণ আন্তরিক ছেলে। কাউকে কষ্ট দেওয়ার কথা সে ভাবতেই পারতো না।
অথচ, তার এই স্বভাবই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। স্কুলে তাকে অনেক বুলিইং এর শিকার হতে হয়। সে বরাবর নাদুসনুদুস সুদর্শন দেখতে ছিল। প্রমিত ভাষায় বাংলা বলতো। পড়াশোনায় ভালো ছিল। আর যায় কোথায়! সহপাঠীদের বুলিইং এর টার্গেটে পরিনত হল এই নিরীহ, নরম সরম সামিন। কাউকেই সে প্রতিবাদ করে কিছু বলতে পারতো না।
এমনকি স্কুলের শিক্ষিকা পর্যন্ত উপহাস করতে ছাড়েননি। একবার ক্লাসে ফুটবল টিম গঠনের জন্য ছাত্রদের আহবান করা হল। সামিনও নাম দিতে গেল। শিক্ষিকা এমনভাবে তাকে অপমান করলেন পুরো ক্লাসের ছাত্ররা হো হো করে হেসে উঠলো। তিনি একবারও ভেবে দেখলেন না, কচি মনের ছেলেটা কতটা লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। মা'কে সে বলেছিল তার মরে যেতে ইচ্ছে করেছিল।
তাই প্রায়ই সে স্কুলে অনিয়মিত হয়ে গেল। এক পর্যায়ে সে ওজন কমাবার জন্য হন্যে হয়ে উঠে পড়ে লাগলো। ইন্টারনেট ঘেঁটে কিটো ডায়েট করা শুরু করে দিল। অতি অল্প সময়ে ৪০ কেজি ওজনে নেমে এল। ততদিনে তার eating disorder শুরু হয়ে গেছে। সারাক্ষণ ভয়ে থাকে তার ওজন বেড়ে যাবে। জোর করে খেলে তার বমি হয়ে যায়। অনেক ডাক্তার দেখানো হলো। ডায়াগনোসিস হলো anorexia nervosa - এক অদ্ভুত রোগ। আমাদের দেশের জন্য বিরল রোগ।
বাবা মায়ের পাগল পারা অবস্থা। কেউ বললো ভারতের বেঙ্গলোরে চিকিৎসা আছে। হায়! ভারতে যাওয়ার উপায় নাই। লক ডাউন চলছে, সেখানে চলছে মৃত্যুর মিছিল। এখানেই চিকিৎসা চলছিলো
।কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। সামিন সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল। সামিন ভালো থেকো তুমি। মহান রব্বুল আলামীন, তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই। আর কোন সামিন যেন অকালে ঝরে না যায়। বয়োসন্ধিকালের ছেলে মেয়েদের প্রতি সহানুভূতিশীল হই। তাদের মনের কষ্ট গুলোকে বুঝতে চেষ্টা করি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ সবার দায়িত্ব আমাদের কোমলমতি সন্তানদের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
© নাজনীন হোসাইন
06/05/2021
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ২০২০-২১ সেশন।
নাম,রোল বা পজিশন জানা থাকলে সার্চ করার মাধ্যমে সহজেই তার রেজাল্ট বের করা যাবে।
MAT 20-21 Result .pdf
18/04/2021
আজ বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Adapting to change, sustaining care in a new world’।
সারা পৃথিবীতে প্রতি ১০ হাজার জনে একজন হিমোফিলিয়াসহ অন্যান্য রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছে। শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন রোগীর সংখ্যা আরো বেশি। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি লাখে ২০ জন মানুষ হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত।
➡️ হিমেফিলিয়া কী?
হিমোফিলিয়া একটি বংশানুক্রমিক জিনগত রোগ। মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা আছে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় কাজ করে রক্তের অণুচক্রিকা এবং বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর। এদের মধ্যে বিশেষ দুটি ফ্যাক্টর কম মাত্রায় উৎপাদিত হলে রক্তের জমাট বাঁধায় সমস্যা দেখা দেয়। এ রকম পরিস্থিতিতে শরীরের অভ্যন্তরে নিজে নিজেই রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। একেই বলে হিমোফিলিয়া।
মূলত মেয়েরা এই রোগের জিন বহন করে, পুরুষরা আক্রান্ত হয়। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে মেয়েরাও আক্রান্ত হতে পারে।
হিমোফিলিয়া দুই ধরনের—হিমোফিলিয়া এ, হিমোফিলিয়া বি। শতকরা ৮৫ ভাগ হিমোফিলিয়া রোগী হিমোফিলিয়া এ-তে আক্রান্ত। হিমোফিলিয়া বি-এর আরেক নাম ক্রিসমাস ডিজিজ।
➡️লক্ষণঃ
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণই হলো হিমোফিলিয়ার প্রধান লক্ষণ।
শিশুদের খতনা করার পর অনেক সময় দেখা যায় রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। দাঁত পড়ার সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অনেকের দেখা যায় হামাগুড়ি দেওয়ার কারণে হাঁটু ফুলে যায় অথবা সামান্য আঘাতে গিড়া ফুলে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বা দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না।
রোগের মাত্রা ও রোগের মেয়াদ অনুযায়ী প্রকাশ পেতে পারে আরো কিছু লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে অস্থিসন্ধিতে রক্তক্ষরণের কারণে অস্থিসন্ধির কর্মক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। এমনকি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যেটা খুবই মারাত্মক। এতে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারলে এবং সে অনুযায়ী সতর্ক থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকিটা কমানো যায়। রক্তক্ষরণের মাত্রা নির্ভর করে রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান (ফ্যাক্টর ৮ ও ৯) কেমন পরিমাণে উপস্থিত আছে তার ওপর।
➡️পরীক্ষাঃ
রক্তের ফ্যাক্টর দুটির পরীক্ষা।
রক্তের জমাট বাঁধার ক্ষমতা পরীক্ষা।
➡️চিকিৎসাঃ
হিমোফিলিয়ার স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। শিরাপথে ইনজেকশনের মাধ্যমে সেই ফ্যাক্টর শরীরে প্রবেশ করানোই মূল চিকিৎসা। রক্তক্ষরণের কারণে অস্থিসন্ধিতে সমস্যা দেখা দিলে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। নিয়মিত চিকিৎসা নিলে এবং সাবধানতার সঙ্গে জীবনযাপন করলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।
হিমোফিলিয়া রোগীদের বিশেষ কিছু সাবধানতা মেনে চলতে হয়। শরীরে আঘাত লাগতে পারে এ রকম কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ না করা, যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের পর রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া, ব্যথানাশক ওষুধ বা রক্ত তরল করে এ রকম ওষুধ (যেমনঃ এসপিরিন) না খাওয়া ইত্যাদি।
হিমোফিলিয়ার চিকিৎসা ও ওষুধ বাংলাদেশে সম্ভব হলেও খুব একটা সুলভ নয়। সচেতন হলে এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। তাই হিমোফিলিয়া সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা একান্ত জরুরি।
14/04/2021
আসসালামুআলাইকুম।
পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়েছে,আমাদের সবার পরিবারেই ডায়াবেটিস এর রোগী কম বেশি রয়েছেন
রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের বড় চিন্তার বিষয় থাকে
রোজার সময় ওষুধ কখন খাবো এবং খাদ্য তালিকা কি হবে...করোনার কারনে অধিকাংশ প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া হয়তো অনেকের জন্য একটু কঠিন হয়ে গিয়েছে তাই রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের শিডিউল এবং খাদ্য তালিকার ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা....
🔍🔍পবিত্র #রমাযান_মাসে ডায়াবেটিস রোগীরা কিভাবে ঔষধ(💊)/ইনসুলিন (💉)নিবেন🤔??
✅ যারা মুখে খাবার ঔষধ💊 নিচ্ছেন(ট্যাবলেট💊 খান) ⤵
১.★আপনি যদি Metformin জাতীয় ঔষধ যেমন(Comet/Informet/Glymin/Daomin/Formet)
অথবা (Glitazone/Diaglit/Diatus/Glucozon)
অথবা DPP4 inhibitor (Sitagil,Sitagil-M,Vildapin,Vildapin plus,Linaglip,linax,Linaglip-M)জাতীয় ঔষধ
অথবা SGLT-2 inhibitor(Empa,Empaglif,Jardian,jardiance) এ জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকেন তাহলে #ডোজ_পরিবর্তন_করার_দরকার_নেই----
Just, আগে আপনি সকালে যে ডোজ খেতেন সেটা এখন ইফতারির পর নিবেন আর আগে রাতে যেটা নিতেন সেটা এখন থেকে সাহরীর সময় খাবেন।
★কেউ যদি ১বেলা খান এ ধরনের ঔষধ, যেমন মনে করেন সকালে খান তাহলে আপনি এখন সেটা শুধূ ইফতারির পর খাবেন।
২.★ এবার যারা উপরের ঔষধ গুলোর সাথে /আলাদাভাবে শুধু Sulphonylurea জাতীয় ঔষধ যেমন (Dimerol/Secrin/Amaryl/Losucon/Consucon/Gliclid/Comprid/CompridXR/Diamicron MR)এগুলা খান তাদের ক্ষেত্রে একটু ডোজ পরিবর্তন করতে হবে।যেমন-
★যারা এ জাতীয় ঔষধগুলো ২ বেলা নিতেন তারা সকালের ডোজটা নিবেন ইফতারির সময়( Same dose) আর আগে রাতে যে ডোজটা নিতেন সেটা সাহারীর সময় নিবেন ৫০% (মানে আগে রাতে যে ডোজ নিতেন রমযান মাসে এখন ভোর রাতে নিবেন তার অর্ধেক(half dose).
★আর যারা ১ বেলা শুধূ সকালে এ জাতীয় ঔষধগুলো ব্যবহার করতেন তারা Same dose ইফতারির সময় নিবেন।No ডোজ পরিবর্তন।
💣💣এবার #যারা_ইনসুলিন 💉নেন তারা কিভাবে কি করবেন??
১. ★যারা Premixed Insulin বা ২ বেলার ইনসুলিন নেন (বাজারে যেটা Mixtard 30/70,Maxsulin 30/70,Insulatard 30/70, Ansulin 30/70,Diasulin 30/70 নামে পাওয়া যায়)
তারা আগে সকালে যত ইউনিট ইনসুলিন নিতেন সেটা Same dose এ ততো ইউনিট ই নিবেন ইফতারির ১৫-২০ মিনিট আগে বা কিছুক্ষন আগে
,আর আগে রাতে যতো ইউনিট নিতেন সেটার অর্ধেক ডোজ নিবেন সাহরীর সময় খাবার ১৫-২০ মিনিট আগে।
যেমন মনে করেন, আগে আপনি সকালে নিতেন ১৮, আর রাতে নিতেন ১২---সেটা এখন রমাযান মাসে নিবেন ইফতারির আগে ১৮, আর সাহরির সময় নিবেন ১২ এর অর্ধেক ৬.
২.★যারা উপরের ইনসুলিনের সাথে অতিরিক্ত রাতের বেলা Long Acting Insulin (যেমন,Inslulin lantus,Vibrenta,Levemir) ব্যবহার করেন
তাদের জন্য এই ১ বেলার ইনসুলিন আপনি আগে রাতে যত ইউনিট নিতেন এখন রমাযান মাসে সেটা ১৫-৩০% ডোজ কমিয়ে ইফতারির সময় নিতে হবে।
যেমন,মনে করেন আপনি Insulin Vibrenta ১০ ইউনিট আগে রাতে নিতেন,এখন সেটা ইফতারির সময় ১৫-৩০% ডোজ কমিয়ে ৬-৮ ইউনিট নিতে হবে।
৩.★যারা Short acting/Ultra short acting মানে ৩ বেলার ইনসুলিন ব্যবহার করেন (Actrapid/Ansulin R/Humulin R/Diasulin R নামে যেগুলো)
তাদের জন্য দুপুরের ডোজটা বাদ দিতে হবে,আগে সকালে যত নিতেন সেটা এখন নিবেন ইফতারির সময়,আর রাতে যত নিতেন সেটার ৫০% নিবেন সাহরির সময়(অর্ধেক)।
যেমন মনে করেন,আগে সকালে ১২+দুপুরে ১২+রাতে ৮ নিতেন।---এখন সেটা হবে ইফতারির সময় ১২,সাহরির সময় নিবেন ৪ ইউনিট।
💥💥 #শেষ_কথাঃ💥💥
সব সময় মনে রাখবেন,
১.রমযান মাসে ডায়াবেটিস রোগীর রোযা রাখতে কোনো অসুবিধা নেই।
২.যদি রক্তে গ্লুকোজের পরিমান ৩.৯ এর কম অথবা ১৬.৬ এর বেশি পাওয়া যায় তাহলে রোযা ভেন্গে ফেলতে পারবে।
৩.হাইপার গ্লাইসেমিয়া সবসময়ই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চেয়ে ভালো।
Dr. Nahid Kamal Sumon