09/11/2025
@প্রিয় অভিভাবকদের তরে ভাইস প্রিন্সিপাল বাণী@
---------------ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله...
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ!
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন—
"يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ"
(সূরা মুজাদালা: ১১)
অর্থাৎ, “আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও জ্ঞান অর্জন করেছে তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন।”
মাদরাসা সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে সন্তানরা শুধু জ্ঞানের নয়, চরিত্রেরও উন্নতি ঘটায়। আমরা চাই, অভিভাবকেরা যেন সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় আরও উৎসাহী হন, নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নেন এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা করেন।
________________________________________
সন্তানের দ্বীনী তালীমে অভিভাবকের দায়িত্ব
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“كلكم راعٍ وكلكم مسؤول عن رعيته”
(সহীহ বুখারী)
অর্থাৎ, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করবে।”
তাই সন্তানদের নামাজ, আদব, কুরআন তেলাওয়াত ও দ্বীনি জ্ঞানে পারদর্শী করা অভিভাবকের এক বড় দায়িত্ব। সন্তানকে শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের সফলতার জন্যও প্রস্তুত করা উচিত।
________________________________________
কোরআন শিক্ষার বরকত
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ”
(সহীহ বুখারী)
অর্থাৎ, “তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে এবং তা শিক্ষা দেয়।”
সন্তানদের কোরআন শেখার সুযোগ করে দেওয়া মানে তাদের জীবনে আলো জ্বালানো। অভিভাবকদের উচিত ঘরে কোরআন তেলাওয়াতের পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেন সন্তানরা কুরআনের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
________________________________________
চরিত্র গঠন ও আদব শিক্ষা
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ,
শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়; চরিত্র ও আদবই শিক্ষার আসল সৌন্দর্য।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ”
(আল-মুয়াত্তা)
অর্থাৎ, “আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্র পরিপূর্ণ করার জন্য।”
সন্তানকে সত্যবাদী, বিনয়ী, পরিশ্রমী ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার ও মাদরাসা একসাথে কাজ করতে হবে।
________________________________________
দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষার ভারসাম্য
আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا”
(সূরা কাসাস: ৭৭)
অর্থাৎ, “আল্লাহ যা দিয়েছেন তা দ্বারা আখিরাত কামনা করো, কিন্তু দুনিয়ার অংশ ভুলে যেও না।”
আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা যেন দ্বীন ও দুনিয়া — উভয় দিকেই দক্ষ হয়। তারা যেন দুনিয়ার অগ্রগতিতে থেকেও ঈমান, আমল ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
________________________________________
নামাজ ও আমলের প্রতি যত্নশীলতা
নবী ﷺ বলেছেন—
“العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة، فمن تركها فقد كفر”
(তিরমিজি)
অর্থাৎ, “আমাদের ও তাদের মাঝে পার্থক্যের চিহ্ন হলো নামাজ; যে নামাজ ত্যাগ করে, সে কুফরির পথে চলে যায়।”
তাই সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করুন, আমল-আখলাকের দিক থেকে তাদেরকে উত্তম উদাহরণ বানান।
________________________________________
মাদরাসা ও অভিভাবকের সহযোগিতা
প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ,
মাদরাসা একা কোনো শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ বানাতে পারে না— অভিভাবকই এই প্রচেষ্টার সহযাত্রী।
যদি আপনারা সন্তানদের পড়াশোনা, নামাজ, আদব, সময়ানুবর্তিতা ও কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে আগ্রহ দেখান, তাহলে ইনশাআল্লাহ তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।