02/08/2026
নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র এক নজরে! | সংজ্ঞা, বিবৃতি, সমীকরণ, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ |
Physics with Palash Sir
📝
পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক বিষয় হলো নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র (Newton's Second Law of Motion)। এই পোস্টে এই সূত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য, সংজ্ঞা, গাণিতিক প্রতিপাদন, বাস্তব প্রয়োগ এবং সীমাবদ্ধতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। শিক্ষার্থীরা এই পোস্টটি থেকে খুব সহজেই বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারবে। নিচে নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র কাকে বলে?
কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার এর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে, বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেই দিকে ঘটে। অর্থাৎ, বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর গতির অবস্থার পরিবর্তন হয় না, আর বল প্রয়োগ করলে যে ত্বরণ সৃষ্টি হয় তা প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক।
২. গতির দ্বিতীয় সূত্রের বিবৃতি
নিউটনের গতির মূল বক্তব্য অনুযায়ী—
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক।
বল যেদিকে প্রয়োগ করা হয়, বস্তুর ত্বরণ বা ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকেই ঘটে।
৩. গাণিতিক ব্যাখ্যা ও প্রতিপাদন (F = ma)
ধরি,
কোনো বস্তুর ভর = m
বস্তুর আদি বেগ = u
নির্দিষ্ট সময় t পর বস্তুর শেষ বেগ = v
বস্তুর আদি ভরবেগ p_1 = mu
বস্তুর শেষ ভরবেগ p_2 = mv
তাহলে, নির্দিষ্ট সময় t-এ বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন = (mv - mu) = m(v - u)
অতএব, একক সময়ে ভরবেগের পরিবর্তনের হার = \frac{m(v - u)}{t}
আমরা জানি, ত্বরণ a = \frac{v - u}{t}। সুতরাং, ভরবেগের পরিবর্তনের হার = ma।
যদি বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল F হয়, তবে গতির দ্বিতীয় সূত্রানুসারে
চিত্র
নির্দিষ্ট ভরের (m) গাড়ির টি t সময়ে u বেগ থেকে v বেগে পৌঁছায়।
লেখচিত্র (Graph): বল (F) এবং ত্বরণ (a) এর মধ্যকার লেখচিত্র একটি মূলবিন্দুগামী সরলরেখা হয়, যার ঢাল বস্তুর ভর (m)-কে নির্দেশ করে।
৫. বাস্তব জীবনের প্রয়োগ (Applications)
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রের বহু ব্যবহার রয়েছে। যেমন:
ফুটবল কিক করা: ফুটবল খেলার সময় খেলোয়াড় বলে যত জোরে কিক করেন (বল প্রয়োগ করেন), বলটি তত বেশি দ্রুত ও দূরে এগিয়ে যায়।
ক্রিকেট বল ধরা (Catching a cricket ball): ফিল্ডার যখন দ্রুতগামী ক্যাচ লুফে নেন, তখন হাত দুটিকে একটু পেছনে টেনে নেন। এর ফলে সময় (t) বৃদ্ধি পায় এবং হাতের ওপর বলের আঘাত বা বলের হার কমে যায়।
রকেটের উৎক্ষেপণ: রকেট থেকে প্রবল বেগে গ্যাস নির্গত হওয়ার মাধ্যমে বিপরীতমুখী বল প্রযুক্ত হয়, যা নিউটনের গতির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সূত্রের সম্মিলিত ফল।
গাড়ির ব্রেক ও নিরাপত্তা: চলন্ত গাড়িতে ব্রেক কষে এর বেগ ও ভরবেগের পরিবর্তন ঘটিয়ে গাড়ি থামানো হয়।
৬. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Important Facts)
বল পরিমাপের সমীকরণ: নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র থেকেই আমরা বল পরিমাপের মূল সমীকরণ (F = ma) পেয়ে থাকি।
জড়তার পরিমাপ ভর: বস্তুর ভর যত বেশি হয়, তার জড়তাও তত বেশি হয় এবং তাকে সরাতে বা থামাতে বেশি বলের প্রয়োজন হয়।
দিক: প্রযুক্ত বল (F) এবং সৃষ্ট ত্বরণ (a) সর্বদা একই দিকে ক্রিয়াশীল হয়।
৭. সীমাবদ্ধতা (Limitations)
নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রের কিছু নির্দিষ্ট পরিধি বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
এটি শুধুমাত্র জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে (Inertial Frame of Reference) নিখুঁতভাবে প্রযোজ্য।
বস্তুর বেগ যদি আলোর বেগের (c) তুলনামূলকভাবে অনেক কম না হয় (অর্থাৎ বেগ আলোর বেগের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে), তবে ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স বা নিউটনীয় বলবিদ্যা সরাসরি কার্যকর থাকে না, তখন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রয়োজন হয়।
এটি মূলত ম্যাক্রোস্কোপিক বা স্থূল বস্তুর গতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অতিক্ষুদ্র কোয়ান্টাম স্তরে এর রূপ পরিবর্তিত হয়।
আশা করি এই পোস্টটি আপনাদের পদার্থবিজ্ঞান প্রস্তুতিকে আরও বেশি শাণিত করবে। ফিজিক্সের এমন আরও সুন্দর ও সহজ পাঠ পেতে আমাদের পেজের সাথে যুক্ত থাকুন! 💙
🏷️
নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র
Newton's Second Law in Bangla
Physics with Palash Sir
পদার্থ বিজ্ঞান প্রস্তুতি
F = ma explanation
SSC & HSC Physics Tutorial