10/11/2023
আমাদের দেশে আমরা এই যে গ্রামে গেলেই বাঁশঝাড় দেখি, এগুলো হতে কিন্তু খুব বেশি সময় লাগে না, মোটামুটি দ্রুতই বেড়ে ওঠে বাঁশগুলো। চীনা বাঁশের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও এরকম না! চীনা বাঁশের কাহিনী টা একটু আলাদা।
ধরো তুমি একটা চীনা বাঁশের বীজ বপন করলে। এরপর তোমাকে সেই বাঁশটাকে পানি দিতে হবে, সার দিতে হবে, অনেক যত্ন ও করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, অন্যান্য গাছের মতো চাইনিজ বাঁশের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় পানি, উর্বর মাটি, সূর্যের আলো।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এতো কিছু করার পর দেখা যায় প্রথম বছরে চারার নামগন্ধ নেই, সেটি বাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। প্রথম বছর যায়, দ্বিতীয় বছর যায়, তৃতীয় বছর যায়, চতুর্থ বছর ও যায়, অনেকেই মনে করতে থাকে বীজটা মরে গেছে, বাঁশ হবার সম্ভাবনা নেই, তখন মোটামুটি সবাই আশা ছেড়ে দেয় বাঁশ হবার।
চমক দেখা যায় এর পরপরই। পঞ্চম বছরের দেখা গেল ছোট্ট একটা চারার মত উঠেছে সেইখান থেকে। পরের দিন থেকেই তুমি দেখলে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে চীনা বাঁশগুলো! এক ফিট, দুই ফিট করতে করতে দেখা গেল ০৬ সপ্তাহে ৯০ ফুট দানবে পরিণত হয়েছে চীনা বাঁশগুলো, ৯০ ফুট মানে প্রায় ৯ তলা বিল্ডিং সমান!
তাহলে কি আমরা বলবো যে চীনা বাঁশ গাছ মাত্র ০৬ সপ্তাহে ৯০ ফুট লম্বা হয়েছে, না-কি ৯০ ফুট লম্বা হতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে, অবশ্যয় চীনা বাঁশ ৯০ ফুট লম্বা হতে সময় লেগেছে পুরো পাঁচ বছর, চীনা বাঁশের গাছ থেকে এই শিক্ষাটা আমাদের জীবনেও নেয়া যেতে পারে, এই পাঁচ বছরে চীনা বাঁশ কিন্তু থেমে থাকেনি, তারা মাটির তলে শক্ত ভিত গড়ে তারপরেই মাথা তুলে দাড়িয়েছে। আমাদের ধৈর্য, বিশ্বাস, অধ্যবসায়,দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা সাফল্যের শিক্ষা দেয় ......চীনা বাঁশ......