25/07/2026
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রস্তুতি
আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই ২০২৫ সালে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২২টি পদের বিপরীতে লোকবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা না হলেও, শীঘ্রই উক্ত পদে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পোস্টে উক্ত পদের পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সাধারণত দুইভাবে লোকবল নিয়োগ করা হয়- (১) সহকারী শিক্ষক পদ হতে পদোন্নতির মাধ্যমে, এবং (২) সরকারি নিয়োগের মাধ্যমে। সর্বশেষ প্রণীত নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে, মোট শূন্যপদের ৮০% পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০% সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণযোগ্য। তন্মধ্যে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া আবার সাধারণত দুইভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে- (১) বিসিএস ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য হতে নন ক্যাডার পদে সুপারিশের মাধ্যমে , এবং (২) বিপিএসসি কর্তৃক স্বতন্ত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে। ২০২৫ সালে বিপিএসসি কর্তৃক প্রকাশিত স্বতন্ত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে লোকবল নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সূত্র মারফত।
এবার আসি উক্ত পদের পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টনের আলোচনায়। উক্ত পদের নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে- লিখিত ও ভাইভা। লিখিত পরীক্ষায় ৯০ মার্কের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। তন্মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য থেকে ২৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য থেকে ২৫, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান থেকে ২০, এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) থেকে ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উক্ত পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাশ মার্ক রাখা হয়েছে ৫০%; প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ করে নেগেটিভ মার্কিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বরের বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং তন্মধ্যে সর্বনিম্ন পাশ মার্ক রাখা হয়েছে ৫০%। উল্লেখ্য যে, সর্বনিম্ন পাশ মার্ক ৫০% নির্ধারণ করা হলেও, প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলায় বিদ্যমান শূন্যপদ অনুযায়ী কাটমার্ক নির্ধারিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ উপজেলা অনুযায়ী কাটমার্ক কম-বেশি হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এবারে উক্ত পদের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। প্রথমে বিগত প্রশ্ন দেখতে হবে কোনো জব সল্যুশন বই থেকে। এ সংক্রান্ত পিডিএফ ফাইলও চাইলে দেখতে পারেন; অনলাইনে সার্চ করলেই পাবেন। এজন্য বিপিএসসি কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পরীক্ষার বিগত প্রশ্ন দেখতে হবে; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের প্রশ্নের পাশাপাশি। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি , সাধারণ জ্ঞান এবং গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশের জন্য , আপনি যেসব বই চাকরির প্রস্তুতির জন্য পড়ে থাকেন, সেগুলো ভালো করে পড়াই যথেষ্ট। এর জন্য এই স্বল্প সময়ে নতুন কোনো বই বা শিট না পড়াই উত্তম। সাধারণ জ্ঞান অংশে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ভালো করে পড়তে হবে। তন্মধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি ও বিধিমালা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একইসাথে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা উদ্যোগ, সম্মেলন, পুরষ্কার, আয়োজন (যেমন: ফুটবল বিশ্বকাপ) ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। এর পাশাপাশি নিজের অবস্থান ও ভুল-ত্রুটি যাচাইয়ের জন্য অনলাইনে লাইভ এমসিকিউ বা অনুরূপ কোনো ভালো প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে পারেন। এটা আপনার প্রস্তুতিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা রাখি। একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, বিগত প্রশ্ননির্ভর প্রশ্ন আসে বলে এসব প্রশ্নে যথাসম্ভব ভুল করা যাবে না।
আজ এ পর্যন্ত-ই। কারো কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট বা মেসেজ করতে পারেন।
সকলের জন্য শুভ কামনা।